বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার মায়াবতী বান্ধবী(পর্ব১০)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Eshrat Jahan (০ পয়েন্ট)

X পরদিন আমি স্কুলে গেলাম।মাঠের মধ্যে ঢুকেই চোখ গেলো রাতের দিকে।আজও হয়তো যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।রাতের কাছে যেয়ে বললাম,"কিরে আজও অপেক্ষা করছিস?" সে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,"হুমম।করছি।" আমি বললাম,"চল ক্লাসে যাই।" রাত বলল,"চল।" আমরা ক্লাসে গেলাম। বিকেলে আমি বিকেলে খালার বাড়ি গেলাম।খালাতো বোনের সাথে সাক্ষাৎ করতে।আমার খালাতো বোনের নাম নোসিন।যার কথা আগেও একবার বলেছিলাম।তাদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম।নোসিন খুলে দিল।আমি জুতো খুলে ভেতরে গেলাম।ভেতরে ঢুকেই সোজা নোসিনের রুমে গেলাম। "এই নোসিন।" "কি?" "চল বাইরে যায়।" "চল।" আমি আর নোসিন বাইরে গেলাম।আমরা দুইজন মেঘলা আর রিতাকে ডাক দিয়ে নোসিনদের ছাদে গেলাম।অনেক মজা করলাম।নোসিন বলল,"একজন এরকম করে হাটে।" আমরা সবাই হেসে উঠলাম।একটা ছোট বাবু এলো।খুব সুন্দর দেখা যায়।আমরা বাবুটার কাছে গেলাম।এই বাবু তার বড় ভাইয়ের সাথে এসেছে।নোসিন মৃদু হাততালি দিয়ে বলল,"ভাইয়া।" বাবুটা দাঁত বের করে সুন্দর করে হাসে।তার হাসি দেখে আমরা সবাই হেসে উঠলাম।তখনই ওই পিচ্চি হাসি থামাল।মনে হয় আমাদের হাসি দেকগে ভয় পেয়েছে।সন্ধ্যার আজানের আগেই বাড়িতে এলাম। পরদিন আজ একটা বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছি।মার্কেটের ওই দিক দিয়ে যাচ্ছি।দেখলাম একটা ছোট মেয়ে একটা জামা কেনার জন্য জিদ করছে।কিন্তু তাদের এত টাকা নাই।শেষ পর্যন্ত ওই মেয়েকে জামা কিনে দিলো না।তার মা শুধু বোঝাচ্ছে তাঁদের এত টাকা নাই।তা ডিওখও আমার খুব কষ্ট লাগলো।জামাটার দাম ৫০০০ টাকা।আমি ঐ মেয়েটার বই পর্যন্ত গেলাম।তারপর আমার বাড়িতে গেলাম।বাড়িতে কেউ নেই।৫০০০ টাকা নিয়ে মার্কেটে গেলাম ওই জামার জন্য।জামা কিনে ওই মেয়েটার হাতে তুলে দিলাম।জামাত পেয়ে মেয়েটা খুব খুশি হলো।তাই মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,"এই জামাটা।" আমি বললাম,"এই জামাটা আমি নিজে কিনে এনেছি।" তার মা জামাটা হাতে নিয়ে বলল,"তুমি আবার কিনতে গেলে কেন?" আমি চুলে হাত দিয়ে বললাম,"মানুষের কষ্ট দেখলে আমার কষ্ট হয়।ও জামা কিনতে চাইছে ওই অনেক ইচ্ছা এসব জামা কেনার।সে ইচ্ছা নিয়েই গেসে।তাই ভাবলাম জামাটা আমিই কিনে দেই।" তার মা ভেতরে জিতে বললেন।আমি ভেতরে গেলাম।ছোট বাড়ি।কিছুক্ষন পর চলে এলাম। আজকে আমার বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়া হলো না।বাড়িতে যাওয়ার সময় কবর খানার ঐদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম একা একা।আমার ভয় করে না এই দিক দিয়ে আসতে।এ।আর এসবের কোনো ভয় নেই।অথচ একসময় খুব করতো।ক্লাস ফাইভে মনের মধ্যে কি ঢুকে গেলো যে ওই ভয়টা চলে গেসে।রাতে একলা একলা বাইরে গেলেও কোনো সমস্যা নাই।ওই সময় আরো ভালো লাগে।আমি একদিন রাত ১১:৩০ টা পর্যন্ত বাড়িতে একা ছিলাম।আমার বড় চাচী সেদিন অসুস্থ ছিলেন।তাই আব্বু আম্মু দেখরে হাসপাতালে গেসিলেন।ভাইয়া তো বাইরে থাকে।কবরখানার দিকে চোখ গেলো।দেখলাম একটা কবরের সামনে নিলডাউন হয়ে একটা ছেলে কাঁদছে।মনে প্রশ্ন জাগলো কার কবর যে এভাবে কাঁদছে।দেখে মনে হলো ছেলেটি কলেজে পড়ে।আমি কাছে যেয়ে দাঁড়ালাম।ছেলেটি আমাকে দেখে চোখ মুছে বলল,"তুমি কে?এখানে কেন?" আমি তার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে বললাম,"এটা কার কবর?" ছেলেটি পাঁচ সেকেন্ড পর বলল,"এটা, এটা আমার মার কবর।" ছেলেটির চোখ দিয়ে পানি বের হলো।পানি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে গেল।আমি কিছু বললাম না।শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে তার যাওয়া দেখলাম।তারপর বাড়িতে গেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now