বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ............। ছোট্ট একটি মেয়ে। বর্তমানে দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।বয়স??? এই তো পঞ্চদশ। ক্লাস ওয়ান থেকে সেভেন পর্যন্ত আমার লাইফটা খুব সুন্দর ভাবেই এগোচ্ছিল। বিপত্তি বাঁধল ক্লাস এইটে পদার্পণ করে। ক্লাস এইটে আমি নতুন একটি স্কুলে ভর্তি হই। সেখানে গিয়ে আমি আমার আগের ক্লাসমেটদের আই মিন যাদের সাথে আমি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছিলাম তাদের সাথে দেখা হলো।তারা এই স্কুলে পড়ে। নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ, মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ করে আমি এখানকার ইংলিশ টিচারকে খুব ভয় পেতাম। তিনি আমাকে মিষ্টি করে ডাকলেও আমি ভয় পেতাম। আর ধমক দিয়ে ডাকলে তো কথাই নেই। আমার ক্লাসমেটরা আমাকে বললো, দেখ এই স্যার কে সবাই একটু ভয় পায় বাট পড়া শিখে আসলে স্যার কিছুই করে না।তারপর আস্তে আস্তে একটু নরমাল হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। প্রথমে আমি ক্লাস রোম থেকে বের হতাম না কখনো।তারপর সবার সাথে এডজাস্ট হয়ে স্কুলের ভিতর ঘোরাঘুরি শুরু করে দিলাম।
একদিন ক্লাসের সময় স্যার ক্লাস নাইনের দুইটা ছেলেকে ডাকলো।তারা নাকি জেএসসিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।তো একটু পরে ওই দু'জন আসলো। একজনের নাম নিশাত, তার রোল ১। আরেকজনের নাম প্রান্তর, তার রোল ২। ছেলে দুইটি দরজার সামনে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়াল।সবাই ফিসফিস করে বলছে, ওই যে ক্লাস নাইনের ফার্স্ট বয় এন্ড সেকেন্ড বয়, দু'জন নাকি খুব ভদ্র। সবার নজর তাদের দিকে। স্যার তাদের ভিতরে ডাকলো।
স্যারঃ তোমরা দু'জন খুব ভালো রেজাল্ট এনে দিয়েছো। আমাদের এবং তোমাদের পরিশ্রম সার্থক করেছ। এবার তোমাদের নতুন মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে মিশন শুরু করো।
নিশাতঃ জ্বী, স্যার। অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
প্রান্তরঃ ইংশাআল্লাহ, আমাদের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি থাকবে না।
স্যারঃ তোমাদের সবগুলো নোটপেপার কালকে আমার কাছে জমা দিও।এইটের সবাইকে ওগুলো কপি করে দেব।
নিশাতঃ ওকে, স্যার।
স্যারঃ আচ্ছা যাও।
ওরা চলে যাওয়ার পর স্যার বললো ওদের ফলো করো। যেমন ভদ্র তারা তেমনি সুন্দর তাদের ব্যবহার।
ক্লাস শেষ হওয়ার পরে সবাই ওদের নিয়ে কথা বলছে। আমি মনে মনে ভাবছি, এই প্রান্তর টা কি সেই ছোটবেলার প্রান্তর যে আমাকে বৃত্তি পরীক্ষায় হেল্প করেছিল। (আসলে যখন আমি ক্লাস থ্রিতে পড়তাম তখন একটা বৃত্তি পরীক্ষা দিই।ফোরে যারা পড়ে তারাও এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।তো আমি পরীক্ষা দিতে গেলাম।গিয়ে দেখি আমার একপাশে একটা ছেলে বসেছে, আমার সিট মাঝে আর আরেকপাশে আরেকটা মেয়ে।ছেলেটা চতুর্থ শ্রেণীর, মেয়েটাও চতুর্থ শ্রেণীর, আমি শুধু তৃতীয় শ্রেণীর। বেঞ্চগুলো ছোট ছিল।পাশের মেয়ে আমাকে বলে ওদিকে যাও, আমি পড়ে যাচ্ছি। আমি ওই ছেলেকে বললাম, ওদিকে যাও আমি পড়ে যাচ্ছি। ছেলেটা বললো, তুমি তো মাঝখানে তাহলে পড়বে কেমন করে।আমি বললাম, ওহ স্যরি।ওই মেয়েটা নাকি পড়ে যাচ্ছে। ছেলেটা বললো, আমি ওদিকে গেলে তো আমি ও পড়ে যাব।তো তিনজন খুব কষ্ট করে বসলাম।তারপর পরীক্ষা শুরু হলো। আমি সব প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করেছি বাট একটি প্রশ্নের উত্তর পারি না। মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম, সেও পারে না। লেখা বাদ দিয়ে বসে আছি।ছেলেটিঃ পরীক্ষা শেষ তোমার??? আমিঃ না। ছেলেটিঃ তাহলে বসে আছ কেন? আমিঃ একটি প্রশ্নের উত্তর পারি না।ছেলেটিঃ কোন প্রশ্ন? আমিঃ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম কী?? ছেলেটিঃ থার্মোমিটার।তারপর আমি এটা লেখলাম।এমা প্রশ্ন উল্টিয়ে দেখি ওপাশেও কিছু প্রশ্ন।তাও আবার হিন্দু ধর্মের। আমি এবার কী করি।ছেলেটিকে বললাম, এই ভাইয়া দেখ না এসব কী প্রশ্ন, আমি তো এসব পারি না। ছেলেটা বললো, এসব তোমার জন্য নয়। তুমি তো মুসলিম। এগুলো হিন্দুদের জন্য।তারপর আর কি, পরীক্ষা শেষ। আসলে সেই ছেলেটার নামও প্রান্তর ছিল।) আমি আমার ক্লাসমেটদের জিজ্ঞেস করলাম ক্লাস নাইনের প্রান্তরের বাসা কোথায়।তারা বললো কাজীবাড়ির ওদিকে।তারপর বুঝলাম এটাই সেই প্রান্তর।এখন কত বড় হয়ে গেছে। আমাদের ক্লাসের অনেক মেয়েরাই প্রান্তরকে খুব পছন্দ করে। আমারো এখন ওর সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাতে শুরু করলো। মনে মনে ঠিক করলাম ওর সাথে কথা বলব। কিন্তু কী বলব। ভাবলাম বৃত্তি পরীক্ষায় হেল্প করার জন্য ধন্যবাদ বলব। কিন্তু এতো দিন পর?? প্রায় চার বছর।ও তো আমাকে চিনবেই না। নিশ্চয় টাস্কি খেয়ে যাবে। ঠিক করলাম কাল সকালে স্কুলে এসেই ওর সাথে কথা বলব।............................. তারপর......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now