বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার জানপাখি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X সময় ৩.৪০ ট্রেন চলে আসবে একটু পরেই,,,,, . নীল: এখন থেকে missing time start. নিমিন: হুমমমম। নীল: ভাবোতো এখন আমি তোমার পাশে নেই। নিমিন:নাহ্! যতক্ষন পাশে আছো এটা আমি ভাবতে পারবনা। নীল: এখন একটু ভাবো কষ্ট হলে আমার দিকে তাকিয়ে মন ভালো হয়ে যাবে। আর আগে থেকে ভাবলে, আমি চলে যাওয়ার পর বেশী কস্ট হবেনা। নিমিন তাকিয়ে আছে নীলের দিকে। আর ভাবছে তুমি চলে গেলে আমি খুব একা হয়ে যাই। আমার ভালো লাগেনা কিছু। . . কথা হচ্ছিল নীল আর নিমিনের মাঝে। দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে। নিমিন একটু বেশীই ভালোবাসে নীলকে। ওদের ভালোবাসার শুরুটা ছিল খুব অদ্ভুত। কি করে হলো ওদের দেখা? তাহলে ফিরে যাই দের বছর আগে। তখন নিমিন ইন্টার ১ম বর্ষ আর নীল অনার্স ১ম বর্ষ ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট ছিল। নিমিনের ইয়ার চেন্জ এক্সাম হচ্ছে। সেদিন নিমিন কি মনে করে যেন এপ্রোন না পরে ফরমাল ড্রেসে এক্সাম হলে যায়। এপ্রোন ওদের কলেজ ড্রেস। যথারীতি ক্লাসে স্যার আসে আর যারা ড্রেস আনিনি তাদের সাসপেন্ড করে হল থেকে। রাগে গজগজ করতে করতে নিমিন হল থেকে বেরিয়ে আসে। রাস্তায় এসে আম্মুকে ফোন দিয়ে তারাতারি এপ্রোনটা নিয়ে কলেজে আসতে বলে দেয়। রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে দাড়িয়ে আছে নিমিন। এমন সময় নীলের আগমন, . . নীল: কোনো সমস্য হয়েছে তোমার? (ইসস জনদরদি) নিমিন: হ্যা! আসলে আমি এপ্রোন আনিনি তাই এক্সাম দিতে দিচ্ছেনা। (করূণ কন্ঠে) নীল: ওহহ আচ্ছা। কোথায় সীট পরেছে তোমার দেখি কি করা যায়। নিমিন: আপনি পারবেননা। অনেককেই বের করে দিয়েছে। (বিরক্ত হয়ে) নীল: ok আমি বাইক আনছি বাসা থেকে এপ্রোন নিয়ে আসবে চলো। (সেই ভাব) নিমিন: সরি আমার আম্মু আসছে। (আরে বাপ চিনিনা জানিনা ওনার বাইকে করে বাসায় যাবে মনে মনে বল্লাম) তবু বাইক আনতে চলে গেল। এর মধ্যে আম্মু চলে আসে এপ্রোনটা নিয়ে হলে চলে যায় নিমিন। . এক্সাম শেষে নিমিন দেখে ছেলেটা তার দিকেই আসছে। এ্যাস কালার একটা টিশার্ট গলাই একটা গামছা পেচানো। মনে মনে ভাবে এই ছেলে আমার পিছু নিল কেন আবার। নিমিন নীলকে দেখেই হেসে দেয়। তারপর হাটতে হাটতেই কথা হয় ওদের মাঝে। আর তখন ই নিমিন জানতে পারে নীল র সম্পর্কে। নিমিন খুব শান্ত স্বভাবের একটা মেয়ে। ওর কোনো ফ্রেন্ড ছিলনা।তাই নীলকে ওর খুব ভালো লেগে যায়। তাইতো নীল চাওয়া মাত্রই নাম্বারটা নীলকে দিয়ে দেয়। এরপর ওদের প্রতিদিন কথা হতো। নীল নিমিনকে প্রোপজ করে নিমিন ও রাজি হয়ে যায়। আর রাজি হবেই না কেন নিমিন ও যে নীল কে ভালোবেসে ফেলেছে। চলতে থাকে ওদের হাসি কান্না রাগ অভিমানী ভালোবাসা। . . ওদের মধ্যে ঝগড়া হতো বেশী বেশী। কারন নীল ছিল বান্দর টাইপ পোলা (কেউ আবার নীলকে বলোনা তাইলে কিন্তু সেই রাগ করবে আর নীল রাগ করলে নিমিনের খুব কষ্ট হয়)। এত্তগুলা মেয়ে ফ্রেন্ড ছিল আর সবাইকে পটাইতে চেষ্টা করত। আর তাতেই শুরু হতো ঝগড়া। কিন্তু নিমিন জানে নীল যতই বাদরামী করুক নিমিনকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে। তাইতো নিমিন নীলকে ছাড়া অন্য কাউকে চিন্তা করতে পারেনা তার জীবনে। আর সেই ভালোবাসার জোরেই নিমিন পেরেছে নীলকে শুধরে দিতে। . . নিমিনের বাসা থেকে প্রাই বিয়ের জন্য চাপ দিত নিমিনকে। যেটা নীল একদম সহ্য করতে পারতনা। নীল কান্না করত নিমিনকে হারানোর ভয়ে। তখন নিমিন বুঝাতো আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবনা। হয় তোমার হব আর তা না হলে মরে যাব। নীল ভাবে ওকে কিছু একটা করতে হবে। নিমিনকে হারানোর ভয়ে নীল ঢাকায় চলে যায়। একটা জব এর জন্য। দুরত্ব বারলেও ভালোবাসা কমেনি ওদের মাঝে। নিমিন ভাবে বাদরটা যদি হারিয়ে যায়। তাই নীল এসে নিমিন কে বিয়ে করে নেয় লুকিয়ে। নতুন করে পথ চলা। বিয়ের দুমাস পরেই নীলের একটা জব হয় একটা প্রাইভেট হসপিটালে। সেখানে জয়েন দেওয়ার আগে নীল আসে তার দুস্টু বউ টাকে দেখতে। . আজ নীল চলে যাচ্ছে। স্টেশনে বসে আছে ওরা দুজন। সেখানে কথা হচ্ছে ওদের মাঝে। ট্রেন চলে এসেছে এবার বিদায় পালা। নীলের চোখ টলটল করছে জলে। সেই চোখে বেশীক্ষন তাকাতে পারছেনা নিমিন। তার ও কান্না চলে আসছে। একটু পর নীলকে নিয়ে ট্রেনটা সাই সাই করে চলে গেল। নিমিনের খুব কস্ট হচ্ছে। চোখের পানি আটকে রাখতে পারছেনা।...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার জানপাখি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now