বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার ইজ্জতের ফালুদা!

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X এই রাতুল,কি করিস ---- মিস করি ---- কি আজিব! কাকে মিস করিস? ---- তোকে মিস করি|আবার কাকে!! ---- হিহি মাথাটা গেছে তাই না? ---- নারে মাথা ঠিক আছে আমার|তবে কি জানিস ,এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে যে আমি কি করি,ঠিক তখনি আমি উত্তরে বলি ,মিস করি|প্রশ্নটা যে করে তার কথাই বলে দেই যে তাকে মিস করি| ---- এত আপসেট হবার কি আছে,জীবনটা তো থমকে দাড়ানোর জন্য নয়,একটা ব্রেক আপ জীবনের সব সংগা বদলে দিতে পারে না|হয়ত ও তোর ভাগ্যে ছিল না বা নাই| কথা গুলো খুব মনযোগ দিয়ে শুনছিল রাতুল,কিন্তু ওর চোখে পানি ছল ছল করছিল| অবনি হাতটি ধরে টান দিয়ে বল্লো ,উঠতো এক সাথে লাঞ্চ করি|আরে ওঠো না প্লিজ| ক্লাশ শেষে অবনী আর রাতুল এস্যাইনমেন্ট এক সাথেই করতো| এটা ওদের পুরানো অভ্যাস|ওরা ভাল বন্ধু,তবে মাঝে রাতুলের সাথে অনির রিলেশনের কারনে মাঝে মাঝে সময় কম দিত|দুই বছরের রিলেশন বনিবনা হচ্ছিল না বলে ব্রেক আপ করে দুজনে|যদিও রাতুল কম্প্রোমাইজ করতে চেয়েছিল|কিন্তু অনির আদোও আগ্রহ ছিল না রিলেশনটা টিকিএ রাখার| সেই দিন অবনী ক্যাম্পাসে আড্ডা মারছিল বন্ধুদের সাথে,এমন সময় রাতুল এসে বল্লো, ---(মাথায় একটা চড় মেরে) তোকে ই মিস করছিলাম,কই থাকিস সারা দিন| --- ওই বান্দর,আমার মাথায় মারলি কেন,জানিস না আমার মাইগ্রেন প্রবলেম আছে|মাথায় ব্যাথা হয় প্রচুর| ----এহ কি আল্লাদিরে বাবা,ওই উচু উচু হিল গুলো পড়ে যে হাটিস তাতে ও তো মাথায় ব্যাথা লাগার কথা,কারন ওটা কিন্তু মাথায় ব্যালেন্স রাখতে হয়| --- এহহহ তুই আবার মেয়ে গবেষক হলি কবে থেকেরে| ----আরে তোর সাথে মিশতে মিশতে শিখে গেছি|উল্লুক ---তুই ভাল্লুক,কালো কালো লোম ওয়ালা| হু ---তাহলে তুই মহিলা ভাল্লুক ,হিহি --- রা..তু..ল --- কি !কি! বল? --- নাহ কিছু না,আজ লাইব্রেরীতে যাব না,বাসায় যাব|তুই পারলে আমার টাস্কটা একটু বুঝে নিস|কাল তোর কাছ থেকে বুঝে নিব| ---ওকে চল তোকে বাসায় পৌছে দেই| ---কি করে তোর বাইকে করে? --- হুম,কেন কোন প্রব্লেম? ---এহ শখ কত,আমি তোর বাইকে চড়ব আর তুই একটু পর পর ব্রেক করবি সাইকেল তাইনা|ছেলেদের সাইকোলজি আমার জানা আছে|যা যা ---দেখ তুই একটু বেশি ই বলছিস| ---এহ আমি বুঝি দেখিনি ,তুই অনি কে নিয়ে প্রায় ই সাইকেলে ঘুড়ে বেড়াতি,আহা কত্ত কি দেখলাম,হু| --- ওই ওই হু ইজ অনি? তোরা মেয়েরা রা কথায় কথায় আলপিন না দিয়ে থাকতে পারিস না|গত এক বছরে দেখেছিস কাউকে আমার লাইফে?তবুও কেন পুরনো ঘটনা টেনে আনিস|আমি কি এক বার ও মনে করেছি কোন কিছু,হুদাই মেজাজ টা খারাপ করে দিস| কয়েক দিন পরের ঘটনা, সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল ক্লাশ শেষ হতে হতে|সি এন জির জন্য অনেক ক্ষন ওয়েট করার পর ও অবনী ব্যার্থ হলো|রাতুল যাচ্ছিল ,অবনীকে দেখে বাইকটা থামালো, --- কি রে এখনো দাড়িয়ে, ---(বিরক্ত ভাব নিয়ে অবনী) পাচ্ছি নাতো কিছু এখানে| --- আমি কি ওয়েট করি তোর সাথে|চিন্তা করিস না কিছু একটা পেয়ে যাবো| আরো ত্রিশ মিনিট দু জন দাড়িয়ে ছিল,তবু ও কিছু পাওয়া গেলো না|এবার অবনী বল্লো,-- তুই আমাকে মেইন রাস্তা পর্যন্ত দিয়ে আসবি প্লিজ| ---আরে মেয়েদের আমি আমার বাইকে চড়াই না| ---ওই খাটাস ,আমার কিন্তু সব মনে আছে ,ঢং না করে নিয়ে যাবি কি না বল| ---নিতে পারি খোটা দিবি নাতো|রাস্তার অবস্থা তো জানিস,পরে সবার সামনে তুই আমার ইজ্জতের ফালুদা বানাবি|হু ---হা হা ,আরে কিছু ই বলব না,এবার নিয়ে চল ,বান্দর| বাইকে চড়ার আগে রাতুল প্রশ্ন করলো এর আগে কখনো বাইকে চড়েছিস,তখন অবনী মাথা নাড়িয়ে না সম্মতি জানায়| দু তিন মিনিটের মাথায় রাতুম মেইন রাস্তায় চলে আশে|ওখানে ওয়েট করে ও কিছু পাওয়া গেলো না| তারপর রাতুল বল্লো --- চল তোকে বাসায় দিয়ে আসি,সি এন জি এখানে ও পাবি না মনে হচ্ছে| কিছুক্ষন চুপ থেকে অবনী সম্মতি দিল ,কিন্তু বল্লো --রাতুল ,আমার তো ভয় লাগে বাইকে চড়তে,কত্ত দুরের পথ ,যদি আমি পরে যাই| ---আরে গাধী পড়বি কেন!আমি আছি না|আর শোন তুই চাইলে বাইকের পেছনের অংশ ধরে বসবি,আর ওটায় কমফোর্ট না হলে আমাকে ধরে বসিস| ---ওক্কে| কিছু পথ যাবার পরে ,অবনী বল্লো, ---রাতুল,মনে হচ্ছে পিছলে পড়ে যাবো| কথাটা শোনা মাত্র রাতুল বাইকটা থামালো| ---পড়বি না গাধী ঠিক করে বোস,আর বেশি ভয় লাগলে আমাকে ধরে বস| কিছু পথ যাবার পরে অবনী হাত টা রাতুলের কাধ থেকে নামিয়ে কোমড়টা জড়িয়ে ধরে বসলো| আচমকা কেপে উঠলো অবনী, একটা ছেলের খুব কাছাকাছি এই প্রথম| অন্য রকম একটা ভাল লাগা,বাতাসে রাতুলের বডি স্প্রের ঘ্রান নাক ছুয়ে যাচ্ছে,যেন মাতাল করার জন্য যথেস্ট দায়ী| খুব ইচ্ছে করছিল রাতুলের পিঠে অবনীর মাথাটা রাখতে,কিন্তু লজ্জায় তা আর রাখা হলো না| কিন্তু এ অনুভুতিটা ছিল হঠাত ভাল লাগা বা প্রেমে পড়ার|যা কখনো কাউকে বলে বোঝানো যায় না| বি:দ্র: যে কোন ব্রেক আপ মানেই নতুন কোন প্রেম বা ভালবাসার গল্প শুরু|


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার ইজ্জতের ফালুদা!
→ আমার ইজ্জতের ফালুদা!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now