বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার ধার্মিক স্বামী
????
..
কখনো ভাবিনি আমার হুজুর টাইপের কারো সাথে বিয়ে হবে। আমার ইচ্ছা না থাকা সত্তেও পরিবারের চাপে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। আমি মর্ডান মেয়ে আর বিয়ে করবো কিনা হুজুরকে, ভাবতেই কেমন যেনো সংকোচবোধ হচ্ছিলো। এমনিতেই বিয়ে করতে ইচ্ছা করছিলো না তাতে আবার এক বান্ধবি এসে বললো ,,,
..
--- বান্ধবিঃ কিরে রিয়া তুই হুজুরকে বিয়ে করলি আর পাত্র খুজে পাসনি।
..
আরেক ভাবি এসে কানে ফিসফিস করে বললো ,,,
..
--- ভাবিঃ তোর বরেরতো সারা মুখেই দাড়ি, কিস করবি কোথায়।
..
খুব বিরক্ত লাগছিলো ওদের কথায়। ইচ্ছা করছিলো এখনি আসন থেকে উঠে যাই। হটাৎ পায়ের ঠক ঠক আওয়াজে ঘোমটার ফাক দিয়ে আর চোখে দেখলাম একজন লোক আসতেছে। তার বেশভুষ্যা আর গঠন দেখে বুঝলাম উনি আমার স্বামী। অনিচ্ছা থাকা সত্তেও উঠে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম। থাক থাক বলে আমার ২বাহুতে হাত দিয়ে তুলে বিছানায় বসালো আর বললো ,,,
..
--- স্বামীঃ আসসালামু আলাইকুম। তোমার নাম কি?
..
সালামের জবাব নিলাম। খুব ইচ্ছা করছিলো বলতে, আমার নাম না জেনেই আমাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু নাম বললাম ,,,
..
--- আমিঃ রিয়া।
--- স্বামীঃ সুন্দর নাম। কিন্তু তুমি কি জানো রিয়া নামের অর্থ কি?
..
মেজাজটা খারাপ হওয়ার উপক্রম। বললাম ,,,
--- আমিঃ না।
--- শুনো আরবিতে রিয়া শব্দের অর্থ অহংকার। আর মানুষকে যে জিনিসগুলা ধ্বংস করে দেয় তার মধ্যে রিয়া অন্যতম। তাই আজ থেকে আমি তোমাকে মীম বলে ডাকবো।
..
নাহ আর মেজাজটা ঠিক রাখতে পারছিনা। বাসর রাতে আমার স্বামী আমাকে অর্থ শেখাচ্ছে কারো মাথা ঠিক থাকার কথা? তাও আবার নাম পালটে মীম? একটু বিরক্তসুরে বললাম ,,,
..
--- আমিঃ আপনার যেটা ভালো লাগে সেটাই ডাকিয়েন।
..
বুঝতে পারছে মনে হয় আমি যে বিরক্ত নিয়ে বললাম কথাটা। তারপর ওনি বললো ,,,
--- স্বামীঃ তোমার মনে হয় খারাপ লাগছে তুমি ঘুমিয়ে পর।
--- আমিঃ আচ্ছা।
..
ঘুমটা ভাঙ্গলো গুন গুন আওয়াজে। কান খাড়া করে আওয়াজটা শুনতে চেষ্টা করলাম, বুঝলাম কেউ কোরআন পড়ছে। তাকিয়ে দেখলাম আমার স্বামী। তার সুমধুর কন্ঠে কোরআন তেলোয়াত শুনতে ভালোই লাগছিলো। তাই একটু উঠে বসলাম। আমাকে উঠে বসতে দেখে তেলোয়াত বন্ধ করে বললো ,,,
..
--- স্বামীঃ আসসালামু আলাইকুল। শুভ সকাল। ঘুমটা কেমন হলো?
..
সালাম নিয়ে বললাম ,,,
--- আমিঃ জ্বী ভালো হয়েছে।
..
এভাবেই কাটছিলো দিনগুলা। এর মাঝে উনি আমাকে নানাভাবে নামাজ পড়ার কথা বলতো। এত ধৈর্য্য আর এতো ভালো করে বুঝিয়ে বলতো যে আমি নিজেই খুব অবাক হয়ে যেতাম। তার সব চেষ্টাকে সফল করে একদিন নামাজ পড়া শুরু করলাম। দেখলাম তার মুখটা খুশিতে ভরে উটেছে। তার হাসি মাখা মুখটা দেখতে ভালোই লাগতো। নামাজ ৫ ওয়াক্ত হলেও আমি ৪ ওয়াক্ত পড়তাম। ফজরের নামাজ পড়তাম না। খুব আলসেমি লাগতো। উনি আমাকে ডাকতেন শুনেও জাগতাম না। এটা উনি বুঝতে পেরেছিলো যে আমি ইচ্ছা করেই উঠি না। তাই আমাকে কাছে ডেকে পাশে বসিয়ে বললো ,,,
..
--- স্বামীঃ দেখো তুমি এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে ঘুমাও। তাহলে দিনের ৩ ভাগের ১ ভাগ তুমি ঘুমিয়ে কাটাচ্ছো। যদি তোমার আয়ু কাল ৬০ বছর হয় তাহলে তুমি ৩ ভাগের এক ভাগ মানে ২০ বছর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছো। আল্লাহতো তোমাকে এই দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে কাটাতে পৃথিবীতে পাঠায়নি।
..
তারপর অনেকগুলা ভালো ভালো কথা আর কোরআনের বাণী শুনালেন। এতো ভালো কথা শুনিয়েছিলেন যে শুনে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিলো। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আমি ১ ওয়াক্ত নামাজও কাজা করিনি। সর্বদাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। আজ আমি অনুতপ্ত নয় বরং গর্ববোধ করি আমার স্বামীর জন্যে। সত্যিই আমি খুব ভাগ্যবতী। কথায় বলে সাত জনম।পূর্ণ্য করলে এরকম স্বামী পাওয়া যায়।
..
আল্লাহ সবাইকে সুবুদ্ধি দিক। আমীন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now