বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাসেল তৃশাকে বলল
-খালা কোথায় রে?
-কেন?
-এমনি। ঘুরতে এলাম যতক্ষণ তাহলে খালার সাথে দেখা
করে যাই।
-দেখ ওইদিকে আছে মনেহয়।
.
রাসেল খালার কাছে এসে বলল
-কেমন আছেন?
-ভাল আছি। তুই তো আমাদের বাসায় আসিসই না।
-এর আগের সাপ্তাহেও তো এলাম।
-তাও তো অনেকদিন। তুই এসে ভালই হয়েছে। আমার
বাজার করে এনে দিতে পারবি?
-পারবো না কেন?
-আচ্ছা যা। এই নে টাকা।
.
বাড়িতে এসে রাসেল বাজার দিয়ে বলল
-খালা আমি চলে গেলাম।
-চলে যাবি কেন? থাক কিছু সময়।
-অত থাকতে হবে কেন?আমি কি তোমার জামাই নাকি?
-জামাই না হোস। তারচেয়ে কম কিসে?
-জামাই তো না। আমি চলে গেলাম।
.
রাসেল বাড়িতে শুয়ে ভাবছে খালাকে বলার কথা।
খালাকে বলল "আমি কি তোমার জামাই"। তবুও খালা
কিছু মনে করলো না। রাসেল তৃশাকে মনে মনে
ভালবাসলেও কোনদিন বলা হয় নি সেই কথা। মনের
মাঝে চেপে রেখেই তাকে নিয়ে অনেক ধরনের কল্পনা
করা হয়ে গিয়েছে।
.
আজ তৃশার বিয়ে। বিয়েটা তৃশা আর তার বাবা মায়ের
ইচ্ছামত হচ্ছে। তাই এই বিয়েতে কোন বাধা নেই। বিয়ের
প্রায় সব দায়িত্ব রাসেলের উপরে পরেছে। অতিথি
আপ্যায়ন থেকে সব ধরনের কাজ।
.
তৃশার বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। রাসেল তৃশার দিকে
তাকিয়ে আছে। তৃশা অনায়াসেই কবুল বলল। রাসেলের
দিকে একবার ফিরেও তাকাল না। আর তাকিয়েই বা কি
হবে। রাসেল তো তাকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে ঘর
বেধেছে। বাস্তবে যার রুপ দিতে পারে নি।
.
তৃশার বিয়ে হয়ে এখন তার বরের সাথে শ্বশুরবাড়ি চলে
যাচ্ছে। বিয়েতে যতই রাজি থাকুক বাবা-মা আর নিজের
বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় চোখে পানি আসেই তৃশা
কাঁদছে। আর তাকে জড়িয়ে ধরে বাবা-মা ক কেঁদে
যাচ্ছে।
.
অন্যদিকে রাসেল নিরবেই চোখের পানি ধরাচ্ছে সবার
আড়ালে। যেটা শুধু রাসেল দেখছে। আর সবাই বুঝতেও
পারছে না। একসময় তৃশা বরের সাথে শ্বশুরবাড়ি চলে
যাচ্ছে। আর রাসেল তার দিকে তাকিয়ে চলে যাওয়া
দেখছে। মনে হচ্ছে বুকটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
.
রাসেল ঘুম থেকে জেগে দেখলো শরির ঘামে ভিজে
গিয়েছে। আর প্রচুর পানি পিপাসা পেয়েছে। তাহলে
রাসেল এতক্ষন সপ্ন দেখছিল। জেগে দেখা সপ্ন
দুঃখের
হলেও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ঘুমের মাঝে দেখা সপ্ন
বারাবার তাড়া করে বেড়ায়।
.
ফোন হাতে নিয়ে তৃশার ফোন নাম্বার বের করলো। তখন
রাত ২.০৭ মিনিট বাজে। একবার ভাবছে এতরাতে
তৃশাকে ফোন করা ঠিক হবে নাকি। এদিকে মনও মানছে
না।
.
শেষে তৃশাকে ফোন করলোই। অনেক্ষন বাজার পরে তৃশা
ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল
-এত রাতে কিরে?
-তুই কোথায়?
-বাসায়।
-কি করছিস?
-এত রাতে মানুষ কি করে? ফোন রাখ আমি ঘুমাবো।
মাঝরাতে ফোন করেছিস কেন?
.
তৃশা ফোন কেটে দিতেই রাসেল বসে ভাবছে। এবারে
মনেহয় তৃশাকে মনের কথাগুলো জানানো উচত। তাতে যা
হওয়ার তাই হবে।
.
তৃশা সকালবেলা রাসেককে দেখে বলল
-কিরে এত সকালে তুই কেন?
-কাল রাতে ফোন দিয়েছিলাম কেন? জানতে চাইবি
না?
-হ্যা। বল। এত রাতে কি কারনে ফোন দিয়েছিলি?
-একটা কথা বলার জন্য।
-কি এমন কথা? যে রাতে ফোনে বলতে হবে। এখন বল।
-আমি এত তোদের বাড়িতে কেন আসি জানিস?
-কেন?
-তোকে দেখার জন্য।
-আমাকে দেখার কি আছে? আমার কি নতুন রুপ হয়েছে?
-তা হয় নি।কিন্ত্য তোর প্রতি আমার প্রেম হয়েছে।
আর
এই প্রেমকে আমি ভালবাসায় রুপ দিতে চাই। ভালবাসবি
আমায়?
-না। ভাগ। আমি তোকে ভালবাসবো না।
-কেন?
-এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন করতে আসবি না।
রাসেল কিছু না বলেই তৃশার সামনে থেকে চলে আসলো।
.
আজ কয়েকদিন রাসেল তৃশাদের বাসায় আসে না। কোন
ফোনও করে না রাসেল। তৃশার মনেহল রাসেলের খবর
নেয়া দরকার। মায়ের কাছে গিয়ে বলল
-মা রাসেল আমাদের বাসায় আসে না কেন?
-ও নাকি পাগলামি শুরু করেছে। খাওয়াদাওয়া বাদ
দিয়ে অসুস্থ হয়ে পরে আছে।
-বাহ। তাহলে পাগলটাকে দেখতে যেতে হয়। তুমি থাকো
মা। আমি আসছি।
.
তৃশা রাসেলের রুমে এসে দেখে সব জিনিসপত্র ভাঙচুর
করা। আর সবকিছু এলোমেলো ভাবে পরে আছে। খালার
কাছ থেকে জানতে পারলো কি কারনে যেন রাসেল
এমন পাগলামি শুরু করেছে।
.
তৃশা রাসেলের রুমে গিয়ে রাসেলকে বলল
-কিরে। কিসের পাগলামি শুরু করেছিস?
-আমি যাই করি। তাতে তোর কি? তোকে আসতে বলেছে
কে?
-না এসে কি আর পারি?
-কেন এসেছিস?
-তোর পাগলামি ছুটাতে।
-আমার পাগলামি ছুটাতে হবে না। তুই যা।
-যদি তোকে ভালবাসি তাহলে পাগলামি যাবে তো?
-কি বললি!! আবার বল।
-পাগলামি শুরু করার সাথে সাথে কানও গেছে নাকি?
আমি তোকে ভালবাসি।
-শেষমেশ ভালবাসলি?
-না বেসে উপায় আছে? না জানি আবার কি পাগলামি
করিস।
-আমাকে বিয়ে করবি?
-তোকে ভালবাসার কথা ছিল। বিয়ে করার কথা ছিল
না। আমি তোকে বিয়ে করবো না।
-তুই না করলি। আমি তোকে বিয়ে করলেই হবে।
-তাহলে আমার স্বামি হবি?
-হলে ক্ষতি কি?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now