বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মনে আছে কি সেই প্রথম
দেখা?
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো
সেদিন।আমি আর সোহা
রাস্তার একপাশ দিয়ে
হেটে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ
ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো।
আশেপাশে আশ্রয়
নেওয়ার মত কোন
জায়গা ছিলো না।
কিছুদূরে টিনের ছাউনি
দেওয়া এক ছোট্ট
চায়ের দোকানে গিয়ে
আশ্রয় নিলাম আমরা।
কিছুক্ষণ পর
আধভেজা অবস্থায় তুমিও
এলে আশ্রয় নিতে। বৃষ্টি
তার আপন ছন্দে ঝরে
চলছে। আমি একমনে
বৃষ্টির সৌন্দর্য
দেখছিলাম। হঠাৎ মনে
হলো কেউ আমার দিকে
তাকিয়ে আছে। আমি
আশেপাশে চোখ বুলাতেই
দেখতে
পেলাম,অপরিচিত সেই
ছেলেটি আড়চোখে আমার
দিকে তাকিয়ে আছে।
সেই ছেলেটি তুমি
ছিলে।
তোমার এই অদ্ভুত
চাহনি আমার কাছে
সেই মুহূর্তে অসস্তিকর
ছিলো।
তাই সোহাকে ইশারায়
তোমাকে দেখিয়ে
দিয়েছিলাম।
সোহা তোমার দিকে
তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে
ইশারায় বলেছিলো "কি"
তুমি সাথে সাথে চোখ
নামিয়ে নিয়ে
আমাদেরকে অবাক করে
দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে
ভিজতে চলে গেলে।আমি
অবাক হয়ে সেদিন
তোমার চলে যাওয়ার
পথে তাকিয়ে ছিলাম।
পরেরদিন অনুষ্ঠান
ছিলো কলেজে।সবাই
স্টেজ এর সামনে বসে
অনুষ্ঠান দেখায় মত্ত
ছিলো।আর আমি স্টেজ
থেকে কিছুটা দূরে
একটি চেয়ারে বসে
কানে হেডফোন গুজে
আপনমনে গল্পের বই
পরছিলাম।
হঠাৎ দুটো ছেলে আমার
সামনে এসে হাতে
তালি বাজিয়ে বললো,
- আপু এখানে একা একা
বসে না থেকে অনুষ্ঠান
এ যোগ দিন।
আমি উঠে তাদের পাশ
কাটিয়ে অনুষ্ঠান এর
দিকে এগিয়ে যেতেই
তুমি পাশ থেকে কাপা
কাপা গলায় বললে
"আয়ায়ায়ামমরা কি ব ব
বন্নন্ধু হতে পারিই"
গলা কাপছিলো তোমার।
আমি বলেছিলাম," আমি
ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব
করি না"
এটা বলেই চলে
এসেছিলাম।হয়ত তুমি
তখন অসহায় দৃষ্টিতে
আমার চলে যাওয়ার
দিকে তাকিয়ে ছিলে।
কিন্তু পরের দিন থেকে
তুমি নিয়ম করে আমার
দিকে তাকিয়ে থাকতে।
দুদিন পরে এসে আবার
আমায় বললে
"আমরা কি ক্লাসমেট
হতে পারি"
আমি অবাক চোখে
তাকিয়ে বলেছিলাম,
"আমরাতো একই ক্লাসে
পরি,নতুন করে কিভাবে
ক্লাসমেট হবো"
তুমি বললে"না তা
নয়,তুমিতো সাইন্স এ আর
আমি কমার্স এ"
আমি বললাম"এটাকে কি
ক্লাসমেট বলে না"
তুমি তখন ঘাসের দিকে
তাকিয়ে উত্তর
খুঁজছিলে।
এরপর থেকে প্রতিদিন
আমাকে হোস্টেল পর্যন্ত
এগিয়ে দেওয়া যেন
তোমার চাকরীতে
পরিনিত হয়েছিলো।
এগিয়ে দেওয়া বললে
ভুল হবে ফলো করতে
আমায়।যদিও আমি বুঝতে
পারতাম তবুও পিছনে
ফিরে তাকাতাম না।
কেনো জানি মনে হতো
পিছনে তাকালেই তুমি
উল্টো দিকে দৌড় দিবে
এবং ঠিক তাই
করেছিলেও তুমি,সেদিন
পিছনে ফিরে তোমার
দিকে এগিয়ে আসতেই
দৌড় দিয়েছিলে তুমি।
খুব হেসেছিলাম
সেদিন।
কিছুদিন পরে হাতে ফুল
নিয়ে কাপা কাপা
পায়ে এগিয়ে
আসছিলে,আমাকে দেখতে
পেয়ে ফুলটি পিছনে
লুকিয়েছিলে।। আমার
কাছে আসতেই তুমি কিছু
বলার আগেই আমি
বলেছিলাম
"আমি ফুল ছিড়া পছন্দ
করি না"
আমি স্পষ্ট বুঝতে
পারছিলাম তোমার হাটু
কাপছিলো।
পরেরদিন তুমি এসে
বলেছিলে "আচ্ছা
ফুলকপি ছিড়লেও কি
রাগ করবে"
আমি তোমার কথা শুনে
চোখগুলো বড় করে
তোমার দিকে
তাকিয়েছিলাম। তুমি
আমার তাকানোটাকে
রাগ ভেবে সেদিন
আবার পলায়ন
করেছিলে।
তুমি আসলেই হাদারাম
একটা, তুমি আমার নিরব
সম্মতিটা বুঝতেই
পারতে না।বারবার
এসে কিছুটা উদ্ভট
ভাবে কথা বলতে আর
আমি কিছু বলার আগেই
পালিয়ে যেতে।খুব
হাসি পেতো তোমার এই
কাণ্ডকারখানা দেখলে।
এক পিচ্চি বাচ্চার
হাতে প্রেম পত্র
পাঠিয়েছিলে, কিন্তু
কার উদ্দেশ্যে দিচ্ছো
সেটা উল্লেখ করো নি।
পিচ্চি বাচ্চাটি
সোহার হাতে প্রেমপত্র
ধরিয়ে দিয়েছিলো।
পরেরদিন সোহা যখন
তোমাকে আটকিয়ে
প্রেমপত্রের কথা
জিজ্ঞেস করছিলো তখন
তুমি কাপা কাপা কন্ঠে
ইশারায় আমাকে
দেখিয়ে দিয়ে
বলেছিলে "আমি ওকে
দিতে বলেছিলাম"
সোহা বলেছিলো"ও টা
কে?"
প্রায় ৭বার এই প্রশ্ন
করার পর তুমি আমার
নাম নিয়েছিলে।
সোহা সাথে সাথে
বলেছিলো,"প্রেমপত্র
দেওয়ার শাস্তি
তোমাকে পেতে হবে"
তুমি ভয়ে ভয়ে
বলেছিলে"কি শাস্তি"
সোহা বলেছিলো,"তুমি
এখনি হাটু গেড়ে বসে
ওকে প্রপোজ করবে
নইলে এই প্রেমপত্র
প্রিন্সিপাল স্যারকে
দিবো"
আমি অবাক হয়ে সোহার
দিকে
তাকিয়েছিলাম,সোহ
া আমায় ইশারায় চুপ
করতে বলেছিলো।হয়ত
আমার মনটাও তাই
চেয়েছিলো।তাই তখন
কিছুই বলি নি।
তুমি অনেক্ষন সময়
নেওয়ার পর আমার
সামনে হাটু গেড়ে
বসেছিলে,
আরও সময় নিয়ে তুমি
কাপা কাপা গলায়
বলেছিলে
"আমিইইইইইই"
প্রায় ৩ মিনিট
আমিতেই আটকে ছিলে।
সোহা একটা ধমক
দেওয়ার সাথে সাথে
চোখ বন্ধ করে এক
নিঃশ্বাস এ বলেছিলে,
"প্রথম দিন থেকেই
তোমাকে খুব
ভালোলাগে, তাই
প্রতিদিন তোমার পিছু
নেই,ভালোবেসে
ফেলেছি তোমাকে,
চাইলেও ভালো না
বেসে থাকতে পারবো
না, খুব ভালোবাসি
তোমায়"
কথাগুলো বলেই চোখ
বন্ধ অবস্থায় দুহাত
দিয়ে গাল ঢেকে
রেখেছিলে।হয়ত
ভেবেছিলে আমি
তোমাকে থাপ্পড় দিবো।
আমি তখন কোমরে দুহাত
দিয়ে চোখ পিটপিট
করে তোমার দিকে
তাকিয়ে ছিলাম আর
পাশে সোহা হাসছিলো।
তুমি চোখ খুলে গালে
হাত দিয়ে রেখেই
দাঁড়িয়ে গেলে।সোহা
হাসতে হাসতে বললো,
"মিম,ট্রিট চাই কিন্তু।
আমার জন্যই ৬ষ্ঠ বারে
এসে ঠিকমতো প্রপোজ
করতে পেরেছে।"
তুমি তখন কিছুটা অবাক
ও জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে
তাকিয়েছিলে,
আমিও হেসে সোহাকে
বলেছিলাম,
"যে প্রপোজ
করেছেট্রিট তার
কাছেই নিস।
আমার কথা শুনে তোমার
মুখে রাজ্য জয়ের হাসি
ছিলো।এর পর থেকেই শুরু
হলো আমাদের পথচলা।
বেচে থাকুক এ
ভালোবাসা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now