বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের কথা । তখন মানুষ আল্লাহর নবীদের কথা মেনে চলতো । সত্য কথা বলতো , ওয়াদা পালন করে চলতো । বনী ইসরাইল গোত্রে একজন লোক বাস করতো, তার নাম রুবাইয়্যা । সে বিদেশের বন্দরে বন্দরে ব্যবসা করতো । একবার বানিজ্যে যাবার আগে কিছু স্বর্ণমুদ্রার প্রয়োজন পড়লো । সে ভাবতে লাগলো কিভাবে কিছু স্বর্ণমুদ্রা ধার পাওয়া যায়। তার মনে পড়ে গেল উদার ব্যক্তি সোলায়মানের কথা । পরদিন সকালে সে ধনী সোলায়মানের বাড়িতে উপস্থিত হলো । কিছুক্ষণ কথা বার্তা বলার পর রুবায়্যা বলল , দেখুন আমি বানিজ্যে যাচ্ছি । আমার কিছু স্বর্ণমুদ্রার খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে । যদি আমাকে একহাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার দেন , এক বছর পর আমি তা আপনাকে পরিশোধ করব । সোলায়মান বললেন ধার দিতে রাজি আছি , তবে জামিনদার কে হবে ? রুবায়্যা বলল আল্লাহই আমার জামিনদার । এ কথা বলার পর সোলাইমান রুবায়্যাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার দিলেন ।
ঘ
একহাজার স্বর্ণমুদ্রা আর মালামাল নিয়ে রুবায়্যা বানিজ্যে যাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল । জাহাজে চড়ে বিদেশে পাড়ি জমাল । বন্দরে বন্দরে মালামাল বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করল । দেখতে দেখতে ধার নেওয়া স্বর্ণমুদ্রা ফেরত দেওয়ার দিন কাছে এসে গেল । রুব্যায়া বাড়ি ফেরার জন্য বন্দরে এসে জাহাজ খোঁজ করতে লাগলো , কিন্তু দেশে যাবার মত কোনো জাহাজ সে পেলো না । স্থল পথে আসবার মতো কোনো যানবাহন ও ছিলো না । অবশেষে সে এক টুকরো কাঠ যোগাড় করলো । সে কাঠখানা ছিদ্র করে তাতে একহাজার স্বর্ণমুদ্রা ও একটি চিঠি ভরে ছিদ্র বন্ধ করে দিলেন । রুবায়্যা আসমানের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল , হে আল্লাহ ! তুমি জানো আমি সোলায়মানের কাছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার নিয়েছিলাম । সে আমার কাছে জামিন চেয়েছিলো , আমি বলেছিলাম আমার জামিনদার আল্লাহই যথেষ্ট । এতে সে রাজি হয়ে আমাকে একহাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার দিয়েছিল ।
আমি নির্দিষ্ট তারিখে তা দেওয়ার অঙ্গীকার ও করেছিলাম । কিন্তু যানবাহন না পেয়ে ধার শোধ করার জন্য যেতে পারছিনা তাই তোমার উপর ভরসা করে কাঠের খন্ডটি সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছি । এ কথা বলে , কাঠের খন্ডটি সমুদ্রে ফেলে দিলেন । তারপর রুব্যায়া সমুদ্র তীর থেকে ফিরে এসে যানবাহন খোঁজ করতে লাগলো ।
এদিকে নির্দিষ্ট দিনে পাওনাদার সোলায়মান বন্দরে এসে উপস্থিত হলো । জাহাজের খোঁজ করতে লাগলো । কোনো জাহাজে রুব্যায়াকে খুঁজে পেলো না । মন খারাপ করে ফিরে যাওয়ার পথে ভাবতে লাগলো , রুব্যায়া ফিরে এলো না কেন ? সে কি স্বর্ণমুদ্রা ফেরত দিবে না । আবার ভাবলো , রুব্যায়া তো এমন ধরনের লোক নয় যে , সে টাকা মেরে দিবে । এরকম সাত পাঁচ ভেবে হাঁটছিল । এমন সময় সমুদ্র তীরে এক খন্ড কাঠ দেখতে পেলো । রান্নার জন্য কাঠটি কাজে লাগবে মনে করে বাড়িতে নিয়ে এলো । কুঠার দিয়ে কাটার সময় , চিঠি আর এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা বেরিয়ে এলো । সোলায়মান চিঠি পড়ে জানতে পারলো , রুব্যায়া স্বর্ণমুদ্রা গুলো তার জন্য পাঠিয়েছে । স্বর্ণমুদ্রা পেয়ে সে খুব খুশি হয়ে , আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলো । কিছু দিন পর রুব্যায়া দেশে ফিরে এলো । এসেই সোলায়মানের বাসায় উপস্থিত হলেন । সোলায়মান তাকে সরবত খেতে দিলো । সোলায়মান একবারও স্বর্ণমুদ্রার কথা বললো না । রুব্যায়া নিজেই বলতে লাগলেন , জনাব নির্দিষ্ট দিনে আপনার স্বর্ণমুদ্রা ফেরত দেওয়ার জন্য জাহাজ খোঁজ করেছিলাম , কিন্তু কোনো জাহাজ পাইনি । তাই নিরুপায় হয়ে আপনার দেওয়া স্বর্ণমুদ্রা ওয়াদামতো দিতে পারিনি । আপনি একহাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে ঋনের দায় থেকে আমাকে মুক্ত করুন । একথা বলে রুব্যায়া একহাজার স্বর্ণমুদ্রা ভরা একটি থলে সোলায়মানের দিকে বাড়িয়ে ধরলো । সোলায়মান স্বর্ণমুদ্রা না নিয়ে বললো , আপনি কাঠের খন্ডে যা আমার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন , আমি তা পেয়েছি । একথা শুনে রুব্যায়া আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলো এবং খুশি মনে বাড়ির দিকে চললো ।
শিক্ষাঃ আল্লাহর উপর ভরসা করলে আল্লাহ তার প্রতিদান এভাবেই দেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now