বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"আল্লাহর ভয়ে"

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md. Nurnobi (০ পয়েন্ট)

X গল্পঃ #আল্লাহর_ভয়ে লেখকঃ Md. Nurnobi #পর্ব_০১ পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইল আব্দুস সালাম বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা রহমত সাহেবের ইচ্ছে ছিল সালামকে মাদ্রাসায় পড়াবেন। তার ইচ্ছে ছিল ছেলেকে হাফেজ কিংবা আলেম বানাবেন। কিন্তু সালামের সা রহিমা বেগমের ইচ্ছে তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। তাই মার ইচ্ছাতেই সালামকে তার বাবা এলাকার স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। সালামের বাবার সবসময় ভয় ছিল তার ছেলে কখনো বিপথে চলে যাবে না তো? সালাম তার বাবার সমস্ত ধারনা মিথ্যে করে দিয়ে জিবন পরিচালিত করতে লাগল। সালাম ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ইসলামিক বিষয়ে আগ্রহ বেশি। সালাম ইন্টার পাশ করে অনার্স করছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। তার ভার্সিটির আজ প্রথম দিন। ভার্সিটিতে পা রাখতেই অস্থিরতা ঘিরে ধরল সালামকে। ভার্সিটির প্রত্যেকের গেটআপ, ফ্যাশন, এসব দেখে তার নিজেকে খুবই ক্ষীণ মনে হতে লাগল। সবাই যেখানে এসেছে অনেক দামি পোশাক আশাক সাথে একেক জনের একেক স্টাইল। সেখানে ও খুব সাদাসিধা পোশাকে। এতসব অস্থিরতা নিয়ে অনেক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর অধ্যক্ষ এলেন। নবিন বরণ অনুষ্ঠান শেষে সবাই সেদিনের মত বিদায় নিল। সালামের দৈনন্দিন রুটিনের একটা অংশ ছিল বিকেলে আসর নামাজের পরে নদীর পারে ঘুরতে যাওয়া। বিকেলের ফুরফুরে বাতাস তার হৃদয়ে ছোয়া দিয়ে যেত। যথারীতি সে আজকেও গেল বিকেলে। আজকে সে একটু অবাক হল। সাধারণত নদীর ধারে এসময় কোনো মানুষ আসে না। তাহলে ওটা কে কালো কিছু পড়ে আছে!! না ওটা কোনো মানুষ নয় মনে হয়। স্থিরভাবে দাড়িয়ে আছে অনেক্ষণ। মরে মনে ভাবল সালাম। সালামের এখন একটু ভয় ভয় করতে লাগলো। ওটা কি আসলেই কেউ দাড়িয়ে আছে? সালাম দেখার জন্য একটু এগুতে লাগল। হঠাৎ করে কালো কিছু পড়া বস্তুটা নড়ে উঠল আর সালামের তিকে তাকালো। সালামের বুকটা ধপ করে উঠল। পরক্ষণে বুঝতে পারল তার নিজের চেয়েও বেশি আতংকিত দেখাচ্ছে ওই এক জোড়া চোখকে। সালাম এতক্ষণে বুঝতে পারল এতক্ষণের স্থির বস্তুটা আসলে কালো বোরকা ও হিজাব পড়া একটা মেয়ে। সালাম একটু পিছিয়ে এসে বলল স্যরি। আমি মনে করেছিলাম আপনি মানুষ না, মানে আপনি অন্য কিছু। মেয়েটিঃ আসলে আমি এখানে নতুন। কালকেই এসেছি। মানে ভার্সিটিতে পড়ার কারনে আসতে হয়েছে। আর আপনিতো ওই ভার্সিটিতেই পড়ছেন মনে হয়!! সালামঃ হ্যা। আপনিও ওখানে? মেয়েটিঃ হ্যা। সালামঃ আমা............( হঠাৎ মাগরিবের আজান কানে এলো সালামের। সালাম বললঃ আচ্ছা এখন আসতে হবে। মেয়েটিঃ আমারও সালাম মাগরিবের নামাজ পড়ে নিল। সালাম বাসায় আসতেই তার বাবা জিজ্ঞেস করল বাবা তোর ভার্সিটির অবস্থা কেমন? সালামঃ কয়েকদিন গেলেই বুঝতে পারব বাবা। সালাম ওর রুমে চলে গেল। হঠাৎ বিকেলের কথা মনে পড়তেই সালামের একটু হাসি পেল। পরদিন সালাম ভার্সিটি গেল। ক্লাসে ঢুকেই আবার অসস্থিতে পরল। ক্লাসে ছেলেরা তো আছেই মেয়েরাও কেউ কোনো প্রকার পর্দা করেনি। একেক জন একেক রকম করে আরো সেজে গুজে এসেছে। সালামের অবচেতন মন কাউকে খুজছে। সালাম আশেপাশে তাকালো। ভাবছে অন্তত একজনের তো পর্দা করা উচিত ছিল। কিন্তু কোথয় সে? আর কিছু না ভেবে সালাম আনমনা হয়ে বসে থকল। এমন সময় স্যার আসল। স্যার সবার নাম জিজ্ঞেস করল। একে একে সবার পরিচয় পর্ব শেষ হল। এমন সময় ক্লাসের বাইরে থেকে আওয়াজ আসল... may i come in sir! সালাম এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল,, আওয়াজ শুনেই চমকে উঠল। এ তো সেই মেয়েটাই মনে হয়! পূর্ণ পর্দা করা। আগের মতো শুধু চোখ দুটোই দেখা যাচ্ছে। পূরো ক্লাসে একমাত্র ওই যে পর্দা করেছে। মেয়েটি এসে বসল। ক্লাস শেষ পুরো ক্লাসে সালাম মাথা নিচু করেই কাটিয়ে দিল। বাইরে বেরিয়ে একেকজন একেক কাজ করতে লাগল। সালাম সোজা বাড়ির পথ ধরল। এমন সময় মেয়েটা সালামের সামনে এসে দাড়াল। মেয়েটাঃ আসসালামু আলাইকুম। সালাম চমকে উঠল। এরকম মেয়েও আছে এখানে? মেয়েটিঃ আমার নাম সিদ্রাতুল মুনতাহা। আপনি? সালামঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম আমি আব্দুস সালাম। সিদ্রাঃ আসুন! সালামঃ হ্যা? হ্যা। সিদ্রাঃ ভার্সিটিতে তো আপনিই একমাত্র আছেন যে হয়তো অহংকার মুক্ত! আর উত্তম আচরন কারি! সালামঃ হয়তো। সিদ্রাঃআপনি নামাজ পড়েন? সালামঃ ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পড়ি। নিশ্চয় আপনিও? সিদ্রাঃ হ্যা। সালামঃ ভার্সিটিতে তো আপনিই একমাত্র ব্যাতিক্রম। সিদ্রাঃ তাইতো দেখছি। তাছাড়া এখন এটাই স্বভাবিক। এই মডার্ন যুগে এসে কারো সময় আছে রাসুল সাঃ এর কথা মানার! সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত। বেপর্দায় চলার সময় এটাও মনে থাকে না যে তারা অন্যায় করছে, পাপ করছে। তাদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক মনে হয়। সালামঃ আপনার অসস্থি লাগে না, পুরো ভার্সিটিতে আপনি একা পর্দা করেন? সিদ্রাঃ রাসুল সাঃ এর দেখানো পথে চলতে আমার কোনো অসস্থি কিংবা লজ্জ্বা নেই। তাছাড়া এতেই বরং নিজেকে নিরাপদ মনে হয়। বেপর্দায় চলে, বিভিন্ন জায়গায় নিজের ছবি প্রচার করলে সাময়িক ভাবে সেলিব্রেটি পাওয়া যায়। তবে তা পাহাড় পরিমাণ গুনাহের বিনিময়ে। সেলিব্রিটি হয়ে বাইরের দৃষ্টিতে মনে হয় সম্মান বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে সম্মান কমছে। কিন্তু এখন এসব কেউ বুঝে না। সালামঃ যথার্ত বলেছেন। মানুষ যদি একটু মন দিয়ে ভাবত তাহলেই বুঝতে পারত। আচ্ছা এখন তো আমাদের যেতে হবে। এখন আসরের সময় হয়ে এসেছে। সিদ্রাঃ ও হ্যা। চলুন। সিদ্রা আর সালামের এতক্ষণের আলোচনায় ওদেরি ক্লাসের আরো কয়েকজন শামিল ছিল তা তারা টেরই পায়নি..…................... (চলবে) রাসুল সাঃ বলেছেন, জাহান্নামের অধিকাংশ হবে নারী।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "আল্লাহর ভয়ে"
→ "আল্লাহর ভয়ে"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now