বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আলির মৃত্যু
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)
X
আজ কে যে ঘটনা টি শেয়ার করব তা ঘটে ছিল আমার রুম মেট বড় আপুর কাকার সাথে।উনি যে রকম বলেছিলেন আমি ঠিক তেমন ভাবেই লিখলাম। তখন ১৯৯২ সাল।কাকা বিয়ে করেন,কাকার বউ টি ছিল খুব সুন্দরি র তাই তাকে সবাই তারা বলে ডাকত।কাকা পেশায় ছিলেন জেলে।মাছ ধরে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।তো বিয়ের তিন বছর হয়ে গেলেও কাকিমার কোনন বাচ্চা হয় নি।আর সে সময় খুব অভাব দেখা দেয়।তাই অভাব মেটাতে কাকা কাকি কে নিয়ে পাড়ি দেন অন্য গ্রামে।সেখানে তারা যে জায়গায় থাকতেন সেটা খুব ভাল জায়গা ছিল না।কাকা সেখানে একটা বিশাল বাগান আর বাড়ি পাহারা দিতেন।রাত দিন।এই জন্য অই বাড়ি র মালিক তাদের বাসা তেই থাকার ঘর দিয়েছিলেন।সেখানে কাকা কাকি থাকত।ওই বাসা থেকে কিছু দূরে নদি আর তার পাশেই আগে শশ্মান ছিল।কিন্তু এখন আর সেখানে মরা পোরানো হয় না।তা ছাড়া আশে পাশে আর কোন বাড়ি ঘর নেই।সেখান থেকে ১০ মিনিত হাটলে তবে বাজার আর বাড়ি ঘর।কিন্তু বেতন বেশি বলে কাকি খুতখুত করলেও কাকা কোথাও যাবে না ঠিক করেছিল।তো সেই সময় একদিন,রাতে কাকা কাকি গভীর ঘুমে ছিল।কিছুক্ষণ পর কাকার বাথরুম চাপে আর কাকা উঠে বাথরুমে যান এসে লাইট জ্বেলে দেখেন কাকি বিছানায় নেই।দোরে বাহিরে যান আর কিছুক্ষণ খুঁজাখুঁজি করার পর অই শশ্মান ঘাট এর কাছে কাকির অচেতন দেহ টা খুজে পান।তিনি কাকি কে কোলে করে রুমে নিয়ে আসেন।জ্ঞান ফিরলে কাকি কে তিনি জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি ওখানে গেছিলেন এত রাতে একা একা।উত্তরে কাকি বলেন বাথরুম থেকে এসে তুমিই তো বললে চলো বাহির থেকে একটু ঘুরে আসি তাই গেছিলাম আর ওই শশ্মানের কাছে যেতে চাইলে।বললাম ভয় লাগে যাব না তা তুমি শুনলে না তারপর জোর করে ওখানে নিয়ে গেলে।এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। কাকা তখন বুজতে পারেন যে ঘটনা কি হইছে।তিনি কাল বিলম্ব না করে পর দিনই কাকি কে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।এরপরই হয় সমস্যা।মাঝে মাঝেইই কাকি কাকার মতন কাওকে দেখতে পেতেন আর তার সাথে কথা বলতেন যেখানে যেতে বলতেন চলে যেতেন।আর কিছুক্ষন পর উনাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়াযেত। এইসব দেখে ভয় পেয়ে কাকা এক হুজুর কে বাড়ি আনেন উনি দেখে বলেন তোর বউ কে একটা বদ জ্বিনের পচ্ছন্দ হয়ছে।সে তোর বউ কে চায় তাই তোর রুপ ধরে আসে।আমি বাড়ি বন করে দিলাম আর কোন সমস্যা হবে না হলে জানাস আর বউ কে একা রাখিস না।ওটা শশ্মানের বদ জ্বিন।আবার আসতে চাইবে মেয়ে টার কাছে।তাই সন্ধ্যার পর অশুচি কোনন জিনিস বাহির থেকে ঘরে আনবি না এই বলে উনি চলে গেলেন।কাকি এসব শুনে বেশ ঘাবড়ে যান কিন্তু কাকা তাকে সামলে নেন।সেদিনের পর কিছুদিন আর কোনন সমস্যা হয় নি।এরপর কাকি প্রেগন্যান্ট হন।তো সেই খব্র শুনে কাকা মাছ বউ এর জন্য বাজার থেকে বড় মাছ কিনতে যান। মাছ নিয়ে আসতে আসতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়। মাছ যে আশ টে জিনিস তা সে দিন উনার মনেই ছিল না।কাকিও মাছ ধুয়ে রান্না করেন।কাকা আদর করে বউকে মাছে মাথা খেতে বলেন।কাকি মাথা টা খায়।কিন্তু কাকা খেতে গিয়ে দেখেন যে পাতিলে কোনন মাছ নেই।তিনি খুব ভয় পেয়ে যান আর সাথে সাথে তার মনে পরে যে হুজুর মানা করেছিলেন।কিন্তু তখন আর তিনি কি করবেন হুজুরের কাছে গিয়ে দেখেন যে হুজুর নাকি কোথায় গেছেন।তো তিনি বাড়ি আসলেন এসে দেখেন যে তার একটা ছেলে হইছে।ভারি সুন্দর দেখতে ছেলে।নাম রাখলেন আলি।তো দিন দিন আলি বড় হতে লাগল।কিন্তু আলির ব্যবহার টা ছিল কেমন কেমন? সে সব সময় বাড়ির বাহিরে থাকতে পচ্ছন্দ করত।খেলত একা একা।যখন ওকে কেউ আলি বলে ডাকত সে সাড়া দিত না নিজের যা ইচ্ছে হত তাই করত।আর ও অন্যান্য সব বই পড়ত কিন্তু আরবি পড়তে বললে পরত না খালি কান্না করত আর মায়ের কাছে চলে যেত। সবাই ভাবত ছেলে ছোট তাই এমন করে।তো এমনি দিন যেতে লাগল।আলি মুসলমানের সন্তান তাই ধম মতে তাকে সুন্নাতে খাতনা করানো হয়।সে কিছু তেই করতে চাইছিল না জোর করে করানো হয়।কিন্তু সাত দিন যেতে না যেতেইই আবার আগের মতন হয়ে যায়। এটা দেখে কাকা কাকি দুজনেই ভয় পায়।তো তারা ব্যাপার টা কি তা দেখার জন্য আবার ছেলে কে জোর করে সুন্ননাতে খাতনা করায় কিন্তু সাত দিন পর আবার সেই একি অবস্থা হয়।ভয় পেয়ে কাকা আবার সেই হুজুর কে খুজে বাড়িতে আনেন।ছেলে হুজুরকে দেখেই রুমে পালিয়ে যায়। কিন্তু কাকা তাকে জোর করে ধরে হুজুরের সামনে বসান হুজুর বলে তেল পড়া জাতিয় কিছু হাতে নিয়ে আলির সামনে গিয়ে বলেন তুমি কে ছেলে কথা বলে না।এরপর হুজুর আলির গায়ে তেল টা ছুড়েন সাথে সাথে চিৎকার করে আলি।বলে দিস না দিস না।আমি গণেশচন্দ্র.হুজুর বলল তুই এখানে কেন?
-আমি শশ্মানে থাকতাম।তারা কে দেখে আমার ভালো লাগে তাই ওর সাথে দেখা করতে আসতাম করিমের রুপ ধরে।কিন্তু ওর গলায় তাবিজ থাকায় আমি কয়েক বার চেষ্টা করেও ওকে নিতে পারি নি।কিন্তু ওই দিন মাছের সাথে ভর করে আমি এসছিলাম আর সেই মাছ খেয়ে বাচ্চা দেয় আর সেই থেকে আমি এখানে আছি।
-তো আলি বললে ছেলে সাড়া দিত না কেন?
-আমি ভর করেছিলাম তাই সাড়া দিতে দিতাম না আমি হিন্দু মুসলমান নাম রাখল কেন?
আর আমি হিন্দু তাই সুন্নাতে খাত্না করালে আমিই সেটা নষ্ট করে দিতাম।
-যা করেছিস করেছিস এখন এখান থেকে আলি কে ছেড়ে চলে যা।
-আমি যাব না যদি জোর করেন তবে ফল খুব খারাপ হবে।।
হুজুর কোন কথা না শুনে সমানে তেল পরা আর কি কি জানি আলির গায়ে ছিটাতে লাগলেন।কিছুক্ষন পর আলি অজ্ঞান হয়ে।যায়। আর সাথে সাথেই বাড়ির সামনের কাঠাল গাছের একটা ডাল ধপ করে ভেঙে পরে।কিন্তু আলির আর জ্ঞান ফিরে নি।সে দুই দিন অচেতন ছিল।তারপর মারা যায়। মরার পরে তার সারা মুখ শরির কালো হয়ে গেছিল।আর নাক দিয়ে অনবরত রক্ত পরছিল।ছেলের শোকে বছরখানেক পরে কাকিমাও মারা গেছিলেন আর সেই থেকে করিম কাকা পাগল।।।।
ঘটনা টা শুনে বিশ্বাস হয় নি আমার কিন্তু উনার বাড়ি গিয়ে ওই কাকাকে দেখে এসছিলাম বদ্দ পাগল উনি শুধু বলতেন হায় হায় কেন আমি শশ্মান পারে থাকতে গেছিলাম কেন সন্ধ্যার পর মাছ আনছিলাম।
খুব খারাপ লেগেছিল উনাকে দেখে।
এই ছিল ঘটনা। আপনাদের কেমন লাগল বলবেন কিন্তু।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now