বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আকাশের চাঁদ

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ASMAUL HOSEN (০ পয়েন্ট)

X মাত্র ১৪বছর বয়স মে‌য়েটার। ৯ম শ্রেণীতে_ চো‌খে হাজা‌রো স্বপ্ন... মানুষ মরে যাওয়ার পর যেমন তার নাম হয়_ "লাশ" ঠিক তেমনি, এখন এই মেয়েটার নাম_ "ধর্ষিতা" মেয়েটার বড় ভাইয়া আর ভাবী আজও স্কুলে যাওয়ার সময় চুলের ফিতাটা বেধে দিয়েছিল.... ভাবী নিজের হাতে স্কুল ড্রেস টা ধুয়ে ইস্ত্রি করে পড়িয়ে দিয়েছিল মেয়েটাকে। কিন্তু,,, স্কুলের ড্রেসটা এখন রক্তলাল! বড় ভাইয়ার ছোট্ট ৪ বছরের ছেলে টা আজ সকালেও ফুপী ফুপী বলে বার বার কোলে উঠেছিল মেয়াটার। কিন্তু,,, এখন ছেলেটা তার মায়ের কোলের আড়ালে দাড়িয়ে। ভীত একটা চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে, হয়তো চিড়িয়াখানার কোনো জন্তুকেও এভাবে কেউ কখনও দেখে নি! মানুষের জমাট সারা বাড়িময়। দেখছে অর্ধনগ্ন মেয়েটার উদাস চোখের চাহনি টা.. মেয়েটার মা জ্ঞান হারিয়েছে! বাবা নির্বাক, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে খোলা আকাশে! বাবার চোখের মাঝে একটাই প্রশ্ন: "বিধাতা, কি পাপ করেছিলাম? কেন এমন শাস্তি দিলে...?" মেয়েটাকে আনা হয় পুলিশ স্টেশনে, কেস করার জন্য... পুলিশ টার চোখেও লোভ স্পষ্ট। পুলিশ টা বার বারই জিজ্ঞেস করে_ "কি করেছিল? কতক্ষন করেছিল? কিভাবে করেছে?" যেন ক্ষুধা যাচ্ছে না পুলিশটার। যদি একবার মেয়েটাকে খুলে দেখতে পেত হয়ত শান্তি পেত সে, ক্ষুধা মিটত সকল প্রশ্নের...! বড় ভাইকে আর মেয়েটাকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করার জন্য... মেয়েটা আর ভাই চলে যায় হাসপাতালে। পুলিশ আধা-খাওয়া সিগারেটে আবার টান দেওয়া শুরু করে, যে সিগারেট টা ধরিয়ে দিয়েছিল ধর্ষকদের মাঝে একজন...! পুলিশের অপূর্ন ইচ্ছা গুলোর স্বাদ মিটিয়ে নেয় ডাক্তার-বাবু! দুই আঙুল দিয়ে চলে কুমারী পরীক্ষা... মেয়েটা কাঠের পুতুলকেও হার মানায় সেই মূহুর্তে!!! মেয়েটা বাড়ি আসে। মেয়েটার ঘর‌ে মা ছাড়া আর কেউ ঢোকে না... কে জানে, হয়ত‌ো ঘেন্নায়! যে বাবা বলত_ "আম্মাজান, পরীক্ষায় প্রথম হইলে তোমারে কম্পিউটার কিইন্না দিমু" সেই বাবা আজ খোঁজ নেয়না, মেয়েটা খেয়েছে কিনা...! ভাইয়ের ‌সেই ছোট্ট ছেলেটা, কোনো ভাবে মেয়েটাকে দেখলে লুকিয়ে পড়ে। এখন সে আর ফুপীর কাছে চকলেটের আবদার করে না...! মেয়েটার ৯০বছর বয়সি বৃদ্ধা দাদী, যে হয়ত কিছুদিনের মাঝেই চলে যাবে ওপারে। সেও মেয়েটাকে দেখলে মুখ বাকিয়ে বলে ওঠে_ "গলায় দড়ি দিতে পারিস না মুখপুরী...?" পাশের বাড়ির কাকী, যে কখনও ক‌ঠিন অসুখ করলেও দেখতে আসত‌ো না। আজ সে তিনবেলা নিয়ম করে আসে। কাকী একা আসে না, সাথে আরো ২-৩ জন করে নিয়ে আসে_ "ধর্ষিতা" নামক মেয়েটাকে দেখানোর জন্য...! আজ মেয়েটার বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছে... এবার মেয়েটাকে শেষ বারের জন্য দেখতে...! জানাযা তে অবশ্য বেশি মানুষ আসে নি...! আত্মহত্যা করা মানুষের জানাযা তে, কেই বা আসতে চায়...??? যে মেয়েটা আজ আত্মহত্যা করল_ সে কারো বোন, কারো মেয়ে, কারো ফুপী, কারো আত্মীয় বা কা‌রো ক‌লিজার টুকরা... ধর্ষকরা তো শুধু মেয়েটাকে গৃহবন্দি করল। কিন্তু,,, মেয়ে টাকে খুন করলাম তো আমি, আপনি, আপনারা...! মেয়েটা কি চেয়েছিল...? _একটু সহানুভূতি? _সুন্দর ব্যবহার? _একটু আশা দেখানোর মানুষ? আচ্ছা খুব দামী কিছু তো চায়নি... কিন্তু,,, আমাদের ব্যর্থতা! আমরা তাকে দিতে পারিনি, দিয়েছি শুধুই অপমান...! আজ সে ধর্ষিত হয়েছে, কালও ধর্ষিত হবে...! বলা যায়,,, হয়‌তো কাল আপনার বোন, আপনার মেয়ে, আপনার ভাগ্নি, আপনার ভাস্তি, আপনার মাও হতে পারে পত্রিকার শিরোনাম...! আমি সকল ধর্ষকের উন্মুক্ত শাস্তি দেখতে চাই,, তাদের মুন্ডুচ্ছেদ দেখতে চাই,, আর একটু সহানুভূতি দিতে চাই,, একটু আশা দিতে চাই, ঐ মেয়েগুলোকে... অাসুন একটু ফি‌রে দেখা যাক,,, >>>যখন ধর্ষণ করা হচ্ছিল, এত‌ো মানুষ দেখে পূর্নিমার মা ধর্ষকদের বলছিলো_ "বাবারা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো, ও মরে যাবে...!" >>>আমাকে একফোটা পানি দাও, তাকে বলা হল_ পানির বদলে শরীরের ঘাঁম খা... (মৃত্যুপথযাত্রী সিলেটের রাজন) >>>আমি বাঁচতে চাই, আমি বাঁচতে চাই... যেভাবেই হোক আমাকে বাঁচাও...! আমার দুধের সন্তানটার কি হবে...! (রাজনীতির আগুনে দগ্ধা হয়ে এভাবেই বাঁচার আকুতি চিৎকার করে জানিয়েছিলেন মৃত্যু পথযাত্রী গার্মেন্টস শ্রমিক_ শায়লা...) >>>আমার সন্তান কে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও! আমি আর কখনো আসবোনা... তোমাদের পায়ে ধরি, আমাকে ছেড়ে দাও..... (অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত হায়েনাদের পায়ে ধরে এভাবেই আকুতি জানিয়েছিল পহেলা বৈশাখে টিএসসির মোড়ে লাঞ্চিত বোনটি...) >>>ওরা আমাকে দুদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষন করেছিল! হাতে ধরেছি পায়ে ধরেছি কিন্তু আমাকে তারা ছাড়েনি... বারবার আমি জ্ঞান হারেয়েছি... (বুক ভরা হাহাকার নিয়ে কেঁদে কেঁদে নালিশ করছিলো মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা কাশ্মীরের ধর্ষিতা বোনটি...) >>>অসভ্য ভারতীয়দের কাঁটাতারে দুদিন ধরে ঝুলেছিল আমার বোন_ "ফেলানী"... (তাঁর আত্মচিৎকার এই অসভ্য মানবতার দুয়ারে কষাঘাত করেনি...) >>>আমাদেরকে জোর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হলো... এ অর্থলিপ্সু মালিকদের ঘৃণ্য রাজনীতির বলি হলাম আমরা.... (রানা প্লাজার শ্রমিকরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই চিৎকার করেছিল...) >>>ওদের দুজন পা ধরেছে, একজন চুল, আরো কয়েকজন............... ভয়ে আমার শরীর নিথর হয়ে এলো, শত চেষ্টা করেও একটু চেঁচাতে পারলাম না, পারলাম না নিজেকে বাঁচাতে! বিসন্ন অন্ধকারে কালো মুখোশ! পশুর শরীরের বিচ্ছিরি গন্ধ! পালা ক্রমে শেয়াল, কুকুর আর হায়নার হুঙ্কার! অসহায় হরিণির সর্বস্ব লোপাট! আমায় বিবস্ত্র করা হল! টেনে হিচড়ে তুলে নেয়া হল চুল! হায়নার বিষাক্ত দাঁতে ক্ষত-বিক্ষত হল আমার শরীর...! -অামার বোন তনুর কথা বলছিলাম আর কি,,,,, >>>অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রিশার কথা আর কি বলব? সুন্দরী হওয়াই তার অপরাধ ছিল, পেটের মাঝখান টায় ধারালো ছুরির আঘাতে ভুরিটা একদম বের হয়ে আসে, ৩দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে হেরে যায় রিশা...! ↼ ↼ ↼ ↼ ↼ না ভাই আমি আপনাকে আইয়ামে জাহিলিয়াতের কোন রগ-রগা কাহিনী বলতেছিনা... তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের বর্ণনা অনুযায়ী মধ্যযুগীয় কোন বর্বরতার কথাও বলছিনা... *বলছি এ সভ্য দুনিয়ার কথা... *বলছি এ বাংলাদেশের কথা... *বলছি আমার মায়ের হাহাকারের কথা... *বলছি আমার বোনের আত্মচিৎকার এর কথা....! তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় তার ধারাবাহিকতায় রিশাকে খুন হতে হয়েছে... সেদিন তনু/ আজ রিশা/ কাল আমরা_ এভাবে আর কত??? ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।' “রাষ্ট্রযন্ত্র যদি তনু-আফসানা-মিতুদের হত্যার বিচার করত, তাহলে হয়ত আমাদের কোমলমতি ছাত্রী এম সি কলেজের খাদিজার রক্ত ঝরত না।” আমি আওয়ামীলীগ বুঝিনা, বিএনপি বুঝিনা! আমি আমার বোনের ইজ্জতের নিরাপত্তা চাই... আমি গনতন্ত্র বুঝিনা, রাজতন্ত্র বুঝিনা! আমি আমার মায়ের ইজ্জতের প্রতিশোধ চাই... আমি চাই না, এই নির্যা‌তিত মানুষগু‌লোর র‌ক্তের উপর দাঁড়ি‌য়ে প‌রি‌চিত হয় সভ্য মানব জা‌তি হি‌সে‌বে...! অা‌মি চাই না, এই নির্যাতিত মানুষগুলোর রক্তের উপর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক সোনার বাংলা...! অা‌মি চাই,, একদল অ‌ভিযাত্রী, একদল তরুণ দামাল অ‌ভিযাত্রী। যারা দূর কর‌বে_ এই নৃশংসতা, জয় কর‌বে সকল লোভ-লালসা। তা‌দের হা‌তে ধ‌রেই প‌রি‌চিত হ‌বো সভ্য মানব জা‌তি হি‌সে‌বে,,, তা‌দের হা‌তেই প্র‌তি‌ষ্ঠিত হ‌বে সোনার বাংলা...! সেই অ‌ভিযাত্রী অার কেউ নয়, >>>অা‌মি, অাপ‌নি, অাপনারা... সক‌লে অটুট থাকুন নিজ নিজ জায়গায়। ১‌কোপ দি‌য়ে‌ছে দে‌খেই দৌঁড় না, অা‌রেক কোপ দেওয়ার অা‌গেই বাঁচান খা‌দিজার ম‌তো হাজা‌রো ভাই-‌বোন‌কে। খমতার দাপ‌টের কা‌ছে মাথা নত কর‌ে তামাশা দেখা নয়, এগি‌য়ে যান। দেখ‌বেন অাপনার পেছ‌নে হাজা‌রো জনতাও একই প‌থের অ‌ভিযাত্রী। এটা অামা‌দের দা‌য়িক্ত্ব, এটা অামা‌দের মানবতার প্রশ্ন। এটাই হোক অামা‌দের সোনার বাংলা গড়ার অ‌ঙ্গিকার। অা‌মি অামার বাংলায় সেই সন্তান‌দের দেখ‌তে চায়_ যারা অন্যা‌য়ের প্র‌তিবা‌দে সবার অা‌গে যায়। অা‌মি অামার বাংলায় সেই সন্তান‌দের দেখ‌তে চায়_ যারা নি‌জের না, দে‌শের জন্য দে‌শের মানু‌ষের জন্য জীবন গ‌ড়ে। দরকার নাই সেই সকল কাপুরুষদের, যারা অন্যা‌য়ের কা‌ছে মাথা নত কর‌ে। দরকার নাই সেই সকল কাপুরুষ‌দের, যারা নি‌জে‌দের মা, বো‌ন, ভাই‌য়ের সম্মান নি‌য়ে খেলা কর‌ে। জীবনটা শুধু নি‌জের জন্য না,,, জীবনটা সেই মা‌টির, ‌যে মা‌টির বু‌কে ফের প্রভা‌তের নিশ্চয়তায় ঘুমা‌তে যাও। জীবনটা শুধু অামার, অামার প‌রিবা‌রের জন্য না,,, যে দে‌শের হাওয়া গা‌য়ে মে‌খে বড় হ‌য়ে‌ছো সেই দে‌শের, যে দে‌শের মানু‌ষের সহায়তায় বেঁ‌চে অা‌ছো সেই দে‌শের মানু‌ষের। অার কো‌নো খা‌দিজা, তনু, রিশা নয়,,, অার কো‌নো সাগর-রু‌নি, রাজন নয়,,, এবার ঘু‌রে দাঁড়াবার পালা, এবার অাঁধার-কা‌লো দূরীকর‌ণের পালা। অান‌বোই নতুন ভোর, গড়‌বো সোনার বাংলা অন্যা‌য়ে রু‌খে দাঁড়া‌নোই হোক, জীব‌নের মন্ত্রণা!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আকাশের বুকে রূপালী চাঁদ
→ আকাশের চাঁদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now