বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজও-তুমাই-ভালোবাসি-(পর্ব-১)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান NaDira-Afrin-MagLa (০ পয়েন্ট)

X তিথির চোখ দুটির কোণায় পানি জমে আছে... না পারছে চোখের পানি ধরে রাখতে না পারছে গাল গড়িয়ে বিন্দুমাত্র পানিটি ফেলতে... হয়তো পানিটি পরলে বুকের কিছুটা কষ্ট হালকা হবে তিথির... কিন্তু এ ভরা কেফেতে এতলোকজনের মাঝে কিভাবে ফেলবে সে চোখের জলটি... কিন্তু আর সইতে পারছে না সে... ওঠে সেখান থেকে জোরে জোরে হাটতে লাগল তিথি... পিছন থেকে তার বান্ধবীরা ডাকছে কিন্তু তিথি যেন তার কানে এখন কিছুই শুনতে পারছে না... এখান থেকে গেলেই বোধহয় তিথির মন কিছুটা শান্তি পাবে... মিথিলাঃ এই তিথি কই যাচ্ছিস... আরে শুন... নিলাঃ উফফ এ মেয়েটা... ওর জন্য আমরা শপিং এ আসলাম আর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন.... নিশিঃতোরা চুপ করবি... তোরা বস আমি যেয়ে দেখছি ওর কি হয়েছে... নিলাঃহম... তুই ই যা... নিশি উঠে নিলার পিছনে গেল... কেফে থেকে বের হয়ে দেখে তিথি চোখ মুছতে মুছতে রিকশায় উঠে যাচ্ছে... রিকশাটা অনেকটা এগিয়ে যাওয়ায় নিশি রিকশাটি থামাতে পারে নি... নিশিও আরেকটি রিকশা নিয়ে তিথির পিছু ছুটে গেল... তিথি বাসার সামনে রিকশা থামিয়ে দরজা খুলে... তিথির মা কতটা বার তিথিকে পিছন থেকে ডাকে কিন্তু তিথি শুনেও না শুনার মতো চলে যায় নিজের রুমে.... পিছনে নিশিকে আসতে দেখে তিথির মা নিশিকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করে... তিথির মাঃ কিরে মেয়েটার কি হল.. এত মেহমান এতবার ডাকলাম একবার ও শুনলো না সবাই কি বলবে বলতে... নিশিঃআন্টি আমি ঠিক জানি না... তিথির মায়ের মাথায় কিছুটা চিন্তার ছাপ পরে গেল... নিশি তা দেখে বলল... নিশিঃউফফ আন্টি চিন্তা কর না তো আমি দেখছি... তিথির মাঃ হ্যাঁ তুই ই দেখে আয়... নিশি দরজা খুলা পেয়ে ধীর পায়ে ভিতরে ডুকল... ডুকেই থমকে গেল... তিথি বিছানার এককোণে পা ভাজ করে পায়ে হাঁটু হাতদিয়ে আঁকড়ে রেখে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে সে... নিশি তিথিকে এভাবে দেখে দৌড়ে গিয়ে সামনে যেতেই থেমে গেল আবার পিছনে ফিরে এসে দরজার লক লাগিয়ে আবার তিথির কাছে যায়... যেয়েই পাশে বসে তিথির কাধে হাত রাখে নিশি... নিশিঃকি হয়েছে তোর... (মুখে চিন্তার ভাব নিয়ে) তিথি মুখ তুলে দেখে নিশি... সে কিছু না বলেই নিশিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে... জড়িয়ে আবার ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে... নিশিঃতিথি বলবি কি হয়েছে... আমার খুব ভয় করছে... তিথি খানিকটা মুখ তুলে নিশির দিকে তাকালো... নিশিকে ছেড়ে হাত দিয়ে চোখে বয়ে যাওয়া জলগুলো মুছে ফেলল... কিছু না বলেই উঠে বারিন্দায় চলে গেল... নিশিও তার পিছু পিছু ছুটে গেল.... তিথি বারিন্দায় গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে... তিথির বাসা দোতলায় আর উপর মাসটা নভেম্বর এর মাঝামাঝি হওয়ায় কিছুটা উষ্ণ হাওয়া বইছে... যা যেমন তিথির চুলগুলো উড়াচ্ছে তেমনই চোখের জলগুলোও শুকিয়ে দিচ্ছে... তিথি আনমনে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে... নিশি তিথির খানিকটা দুরত্ব রেখে দাড়িয়ে বলল... নিশিঃকি হয়েছে কিছু কি বলবি... কেফে থেকে এভাবে পালিয়ে আসলি কেন.. তিথিঃ সেখানে আজ আবার ওকে দেখলাম.... নিশিঃ কাকে... তিথিঃযাকে নিজের মন,আত্মা, ভালবাসা সব বিলিয়ে দিয়েছিলাম... নিশিঃও কেফেতে ছিল... তিথিঃহ্যাঁ... আমাদের সামনের টেবিলে একটা মে..মেয়ের সাথে ব..বসে ছিল... নিশিঃমেয়ের সাথে.... তোর জীবন নষ্ট করে শান্তি পাই নি যে... তিথিঃমেয়েটাকে চিনি ওর ফ্রেন্ড .... নিশিঃ(কথা থামিয়ে) তিথি আর কতো... তিথি চুপ হয়ে গেল... ঠিকই তো কি বলবে সে... আর কতো.... আর কতো কষ্ট সহ্য করবে সে একটি মানুষের জন্যে... নিশি আবার বলা শুরু করল... নিশিঃচার বছর কম না তিথি... এখন ওর কথা চিন্তা করছিস... ভুলে গেছিস কিভাবে অন্যমেয়ের জন্য তোর জীবন তছনছ করল সে... তাও ওকে কিভাবে ভালবাসিস তুই... চার বছর কিভাবে একটি মানুষকে এভাবে ভালো বাসতে পারিস তুই... কিভাবে সম্ভব যে তোর জীবন নিয়ে খেলা করল তাকে তুই তোর জীবন থেকেও বেশি ভালোবাসিস.. তিথিঃএটাকেই তো ভালবাসা বলে... নিশিঃতুই আজও... তিথিঃহম...আজও... #আজও_ভালবাসি.... নিশিঃতিথি ভুলে যা না... যে ভালবাসাটাকে তোর ঘৃণা করার কথা আজ সে ভালবাসাটিকেই মনের মধ্যে আটকে রেখেছিস... প্রথম ভালবাসাটা সবার পূরণ হয় না তিথি... আর হারানো প্রথম ভালবাসাটাকে জীবনে আটকে রাখা একটা বোকামি.... তিথিঃ যে ভালবাসা আমাকে প্রথম ভালবাসার অনুভূতি শিখিয়েছে তাকে ঘৃণা করতে বলছিস... জানিস এ অনূভুতিটা কতটা স্পেশাল... কারণ জীবনে প্রথম কাওকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্খা থাকে... এ স্বার্থপর দুনিয়ার বাইরে কিছু নিস্বার্থ অনুভূতি.... কিছু চাওয়া পাওয়া থাকে না থাকে তো শুধু ভালবাসার মানুষটির সাথে জীবন কাটানোর ইচ্ছা.... প্রথম কাওকে নিয়ে হাজারো সপ্ন বাধে এই না বুঝা মন... নিশিঃমানে কি তিথি ভালবাসা কি ভুলা যায় না... আমি কি ভুলি নি... নতুন জীবন শুরু করি নি... তিথিঃকরেছিস... প্রথম ভালোবাসা ভুলেও গেছিস... কারণ রায়হান ভাইয়ার ভালোবাসার কাছে হার মেনে নিয়েছিস... সে তার ভালবাসা দিয়ে বাধ্য করেছে তোকে... কিন্তু আমি তো আর কাওকে পেলাম না যে আমাকে আমার ভালবাসা ভুলাবে... নিশিঃতুই সুযোগ দিলেই তো... তিথিঃ কি করব বল... আমার মন যে মানে না... আজও চোখের সামনে ওর চেহেরা ভাসে... আজও কানের মাঝে ওর আওয়াজ গুজে... আজও মন শুধু ওকেই ভালবাসে... আমার কি দোষ এতে তুই ই বল... ভালবাসা যে এমন এক জিনিস যা নিজের ইচ্ছায় হয় না... শুধু হয়ে যায়... তাহলে ইচ্ছা হলেই কিভাবে ভুলি তুই ই বল.... নিশিঃএখনও এ কথা বলছিস কিভাবে তুই... চারদিন পর তোর বিয়ে.... বিভোর ভাইয়ার কথা একটিবার ভাব... তিথিঃকিছুটা হেসে... যার কথা বলছিস সেও যে অন্য কাওকে ভালবাসে... তা কি বলবি... নিশিঃমানে...(অনেকটা অবাক হয়ে) তিথিঃগতকাল দেখা হয়েছিল তার সাথে... আমিই বলেছিলাম... আমার ভালবাসার সম্পূর্ণ কাহিনী তাকে শুনালাম... নিশিঃতুই পাগল নাকি... এসব কেন... তিথিঃ(কথা থামিয়ে) জরুরি ছিল... বিয়েটা যে সারাজীবনের বাধন... মিথ্যা দিয়ে শুরু করতে চাই নি আমি... এ সম্পর্কের প্রথম ভিত্তিই হল বিশ্বাস... আর এত বড় কথা লুকিয়ে বিশ্বাস অর্জন করাটা সম্ভব নয়... নিশিঃআর বিভোর ভাইয়া... তিথিঃসেও আমার কথা শুনার পর বলল... সে অন্য একটা মেয়েকে ভালবাসে... গত ছয় বছরের রিলেশন... কিন্তু ওর বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে... আর বিভোর তার বাবার সামনে কিছু বলতে অচল... নিজের বাবার সামনে ভালবাসাটার পক্ষ নেওয়া তার জন্য সম্ভব না... তাই বিয়ে করছে... নিশিঃআমার তো মাথায় কিছুই ডুকছে না... তোরা দুজনই অন্য কাওকে ভালবাসিস... তোরা সংসার করবি কিভাবে... তিথিঃভালবাসা ছাড়াও হাজারো সংসার টিকে তা নয় কি... নিশিঃনাহ... অবশ্যই না... কেন নিজের জীবনের সাথে খেলা করছিস তিথি... একজন সামনে এগোলেই তো অন্যজনকে আলগে রাখতে পারবে কিন্তু এখানে তো তোরা দুজনেই অন্য কাওকে মনে বেঁধে রেখেছিস... তিথিঃআমি খেলছি না রে ভাগ্য তো আমার সাথে ৪ বছর আগেই খেলে নিয়েছে... আমার খেলার কোন প্রশ্নই তো আসে না...(নিশির দিকে ফিরে) নিশিঃ(তিথির কাছে গিয়ে গালে হাত দিয়ে) পিছুটান ধরে রাখিস না রে সামনে এগিয়ে যা... নতুন হাজারো সপ্ন তোর জন্য অপেক্ষায় আছে... বিয়ে করছিস... নতুন জীবন শুরু কর... নিজের ভালবাসা দিয়ে বিভোর ভাইয়াকেও তার প্রথম ভালবাসা ভুলা... তিথি কিছু না বলে একটি হাসি দিল সে হাসিটা উওর হিসেবে নিশি হ্যাঁ ধরলেও তিথির হাসিটি ছিল কথা না এগোনোর জন্য... কারণ বললেই তো আর ভুলা যায় না প্রথম ভালোবাসা... দেখতে দেখতে চারটি দিন কেটে গেল... আজ তিথির বিয়ে... আজ সে নতুন জীবনে পা দিবে... আজ কেন জানি তার এ ভয়টা লাগছে না যে সে তার ভালবাসাটিকে ছেড়ে নতুন কারো সাথে সংসার বাধবে বরং এ নিয়ে চিন্তায় আছে তার ২৩ বছরের ঘরটি ছেড়ে চলে যাবে... চলে যাবে নতুন পরিবারে... কেমন হবে তার নতুন পরিবার... বিভোর,ওর মা,ওর বাবা,ওর বড় ভাই, ভাবি... ভালো হবে তো নাকি... সে কি নতুনভাবে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে... পারবে কি সে সবার মন জয় করতে আর যদি না পারে... আসলে এ ভয়টি তিথির একার তো নয়... সকল মেয়েদেরই এই চিন্তাটি জীবনে একবার তো আসেই... মেয়েদের জীবনটাও অদ্ভুত তাই না... একটি জীবনে তাল মিলাতে না মিলাতেই অন্য জীবনে প্রবেশ করতে হয় তাদের... কখনো মেয়ে হওয়ার দায়িত্ব পালন, তো কখনও বোন হয়ে, কখনও বউ হয়ে কর্তব্য পালন, তো কখনও ঘরের লক্ষী হয়ে, আর মা তা তো বলার ই নেই... সবাইকে ভালোবাসতে বাসতে... সবার চিন্তা করতে করতে... সবাইকে সামলাতে সামলাতে নিজেকেই সে ভুলে যায়... কিন্তু তার সহ্য করা লাগে... কারণ এসব মিলিয়েই যে তার জীবন.... তিথির ঘোর ভাঙলো নিশির ডাকে... নিশিঃকিরে কই হারিয়ে গেলি.... তিথিঃহম... নাহ... কোথাও না... নিশিঃতোকে পুরো আকাশ থেকে নামা পরী লাগছে...(পিছন থেকে দুকাধে হাত দিয়ে আয়ানার দিকে তাকিয়ে বলল) একটিবার মুখ তুলে দেখ.... তিথি আলতো করে মুখটি তুলে তাকালো আয়নায়... আবার যেন ঘোরে হারিয়ে পরল... কত সপ্ন বেধেছিল তিথি... বউ সাজবে... যাকে ভালবাসে শুধুমাত্র তার জন্য... কিন্তু আজ... আজ সে বউ ঠিকই সেজেছে শুধু মানুষটি আর সে মানুষ নয়... বদলে গেছে মানুষটি... অপূর্ণ রয়ে গেল তার সপ্ন... তার সকল ইচ্ছে... তার প্রথম ভালবাসা... ভাবতেই চোখ বেয়ে গাল গড়িয়ে পানি পরে গেল তিথির.... নিশিঃকাঁদছিস কেন... আবার তুই... তিথিঃ(কথা থামিয়ে) বিয়ের দিন... সব কিছু ছেড়ে চলে যাবো ভাবতেই কান্না এসে পরল আর কি... নিশিঃওহ এ কথা আমিও না কি ভাবি... বলেই নিশি তিথিকে জড়িয়ে ধরল... নিশিঃ খুব মিস করব তোকে... তিথিঃআমিও... টুট...টুট.... ড্রেসিংটেবিলের উপর রাখা ফোনটির আওয়াজ শুনে তিথি আর নিশি দুজনেই সে দিকে তাকালো... নিশি তিথিকে ছাড়তেই তিথি দেখল একটি ম্যাসেজ এসেছে... তিথি ম্যাসেজটি ওপেন করল.... (বিঃদ্রঃদয়া করে ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন প্লিজজজজজজজ )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now