বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজও তাকে ভালোবাসি(সুমু)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এস এম মোরশেদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X আমি মোরশেদুল একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করি।আমার এক চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়।ভাইয়ের বিয়েতে একটা মেয়েকে দেখে আমার ভীষণ পছন্দ হয়।দেখতে ওতোটা ফর্সা না হলেও দেখতে ছিল অনেক মায়াবী।এক কথায় বলতে আমি ওর প্রেমেই পড়ে যাই।যাকে হয়তো বলে লাভ এট ফার্স্ট সাইট।তাই ওর সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলাম।ওর সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম যে ও আমার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হয়। ও আমার চাচাত ভাইয়ের আপন ভাগ্নির ননদ। দু:সম্পকে হলেও আমার ও ভাগ্নি।প্রথম দিনই ওর সাথে বন্ধত্ব পূর্ণ সম্পর্ক হয়ে যায়।কিন্তু খারাপ লাগে যে ও আমার ভাগ্নি হয়।ও কি আমাকে ভালোবাসবে।যদি প্রপোজ করি দেখা গেলো চর-থাপ্পর খেলাম।তারপরও দেখি পটাতে পারি কি না।এক আপুর মাধ্যমে ওর নাম্বার যোগার করলাম। তারপর ফোনে ১ম কয়েক দিন পরিচয় গোপন করে কথা বলি।কিছু দিন পর আমার একটা কথায় আমায় চিনতে পেরে যায়।প্রথম কয়েকদিন ও আমাকে ফোন দেয়নি আমিও দেয়নি।তার কিছুদিন পর ও আমাকে ফোন করে।বন্ধুত্বটা ভালোই চলছিলো। জবের কারনে রাতে বেশী কথা বলতাম অনেক । ও অনেক রাত জাগত।একদিন আমি ওকে বলে তুমি প্রেম করলেই পারো আরো বলি আমার দুটো ফেন্ড তোমাকে পছন্দ করে (আমার ২টা বন্ধু ওকে পছন্দ করত অনেক আগে থেকে) জানতাম কারন আমাদের গ্রাম ওর গ্রাম পাশাপাশি। তখন ও বলে আমি একজন কে ভালোবাসি। আমি বলি কে সে উওর টা শুনার পর আমি তো ঘোরের মধ্যে পড়ে যাই।এ আমি কি শুনছি।কারন ও আমার নাম বলেছিল ও নাকি বিয়ের দিন থেকে আমাকে পছন্দ করে। আমি তখন বলি এটা সম্ভব না কারন তুমি আমার ভাগ্নি হও। ও তখন বলে আপন কেউ তো না(তাও তো ঠিক)। ওর যুক্তির কাছে আমি পরাজিত হয়েছি কেননা আমি ওকে ভালবাসি। তারপর শুরু হয় দুটো মনের পথচলা। মাঝেমাঝে মজা করে ও আমাকে মামা ডাকত আমি ও খালা ডাকতাম। ভালো চলছিল দিন গুলি অনেক সুখে। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা ফোনে কথা বলতাম এবং প্রতিমাসে আমরা দেখা করতাম আমি ঢাকা থেকে বগুড়া শুধু দেখা করার জন্য যেতাম।চাকরির জন্য আমি ঢাকা থাকতাম।দেখা নাকরলে ও রাগ করত আমি বাড়ি গেলে যে কয়দিন বাড়ি থাকি প্রতিটা দিন দেখা করতে হতো কেননা ও বলত আমার জন্য এসে অন্য কাজ করবা তা হবে না।হুম তাইতো ওর সাথে আর পরিবারের সাথে দেখা করতেই বগুড়াতে যেতাম। বগুড়ার এমন কোন দর্শনীয় জায়গা নেই যে যেখানে আমরা যাইনি। খুব ভালোবাসতাম ওকে।হঠাৎ আমাদের মাঝে কালশাপ হয়ে দাড়ায় ওর পুলিশে এপলাই করা। আমি নিষেধ করি কিন্তু ওবলে বাবার খুব ইচ্ছা আমি চাকরি করি। আর বলে লাইন দাড়ালে তো চাকরি হয় না। তবু আমার মন শায় দেয় নি শুধু বলে ছিলাম তোমার যা মন চাই তাই কর। চাকরি টা হয়ে যাই ওর কেননা ও মাঠে তালিকা সহ প্রত্যেক টা বিষয়ে ফার্স্ট হয়। আমি বলতাম তুমি চাকরি টা করো না। ও বলত আমার বাবার ইচ্ছা আমাকে পুরন করতে হবে আর যখন তোমাকে বিয়ে করব তখন না হয় চাকরি টা ছেড়েদিব। আমিও তখন রাজি হয়ে যাই।কারণ ওর খুশি মানেই তো আমার খুশি।ওকে খুশি করতেই রআআজি হয়ে যাই। জানুয়ারি মাসে ওর কার্ড আসে ফ্রেবুয়ারি তে ট্রেনিং ও আমাকে জানায় । আমি তখন বলি ট্রেনিং গিয়ে ভুলে যাবা না তো আমায়। তখন ও বলে তুমি কাল বাড়ি আসো আমি বলি সাত দিন আগেই তো আসলাম আমার কাছে টাকা নাই। ও টাকা বিকাশ করে এবং পর দিন আমি বাড়ি যাই ওর সাথে দেখা করি। ও বলে তোমার চারটা বন্ধুকে ফোন করে আসতে বলো। আমি বলি কেন।ওর নাম ছিল সুমাইয়া ।আমি ওকে সুমু বলেই ডাকতাম। সুমু : আসতে বলছি আসো। আমি তখন আমার বন্ধুদেরকে নিয়ে আসি। ও তখন বলে আমাকে আজকে এবং এখনই বিয়ে করতে হবে। আমি না বলি কিন্তুু ও বলে ভয়টা তুমি পাচ্ছো সেটা যেন তুমি আর না পাও এজন্য আজকে বিয়ে করব। আমি বলি বিয়ে করতে হবে না আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। ও তখন বলে আমি করিনা আমি চলে গেলে যদি তুমি অন্য কারো হও। ওর জেদের কাছে হার মেনে আমি সেদিন বিয়ে করি। তার পর সাত দিন আমি বাড়ি থাকি এবং অনেক ঘুরাঘুরি করি সব ওর পছন্দের জায়গায়। তারপর আমি ঢাকায় আসি আর ও ট্রেনিং এ যায়। ট্রেনিং যাবার দিন অনেক কান্না করে আমি অনেক কান্না করি। ওদের ফোন ব্যবহার করতে দিত না ক্যাটিন থেকে মাঝে মাঝে ফোন দিত আমাকে।আর কান্না করত আমি বলতাম। তুমি চলে আসো। ও বলত এসেছি যখন ট্রেনিং করেই যাবো। আমি শুধু ওর ফোনের অপেক্ষায় থাকতাম। ২মাস আমাদের কথা মধ্যে কথা হত। তারপর ও আমাকে আর ফোন দিত না। বাড়িতে আমার বিয়ের কথা বলে মেয়ের মামা সরকারি চাকরি দিবে আমাকে। আমি রাজি হইনা।আমি তো মিলাকে ভালোবাসি।কিন্তু বাবার কাছে কিছু বলতে পারিনা বাবা খুব রাগি।বাবাকে পপ্রচুর ভয় পাই।আমি শুধু বলেছিলাম নিজ যোগ্যতায় সরকারি চাকরি হবার পর বিয়ে হবে। সবাই রাজি হয়। আমি চাকরির পরীক্ষায় দেই না আমি জানতাম চাকরির টা আমার হবে কেননা মেয়ের মামা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে চাকরি করে। আমার খাতা পাওয়া যায়নি বিধায় বিয়েটা হয়নি। কুরবানি ঈদের ২ দিন আগে শুনি ও বাড়িতে এসেছে ঈদের ছুটিতে।আমি ওর বাড়ির নাম্বারে ফোন দেই ও বলে আমি তোমার সাথে পরে কথা বলব। আমি শুধু বললাম ঠিক আছে। তার ৮ দিন পর ও আমাকে ফোন দেয় এবং যা বলে তা শুনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। বলেছিল যে আমাকে তুমি ভুলে যাও আমি বাবা মার ইচ্ছা ছাড়া তোমার কাছে যেতে পারবোনা বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। আমি বললাম তোমার বাবা মাকে বুঝিয়ে বলব ও বলে আমি বলতে পারবো না। আমি বললাম আমি বলি ও যা বলেছিল তারপর আমি আর কথা বলিনি ও বলেছিল আমাদের সম্পর্ক ও বিয়ের কথা যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আমার মরা মুখ দেখবা। ওকে যে খুব ভালবাসি আর মরা মুখটা দেখি কিভাবে।পুরো ট্রেনিং শেষ করে যখন ও বাসায় আসে।যতবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। শুধু একটাই কথা বলেছে। যদি কেউ যানে তাহলে আর মরা মুখ দেখতে হবে। এজন্য নিরবে সব সয়ে যাই আমি।ফোন দিলে বিরক্ত হয় এজন্য আর ফোন ও দেইনা। একদিন জানতে পারি ও বিয়ে করেছে। শুধু বলেছি তুমি অনেক ভালো ও সুখে থেকো। এখনও খোজ রাখি দূর থেকে কেননা ও তো আমার বিয়ে করা বৌ।এখনো বিয়ে করিনি বাড়ি থেকে প্রচুর বিয়ের চাপ দেয়। ভাবি জীবনে কয়টা বিয়ে করবো।কারন সুমু তো আমার বিয়ে করা বউ। মনে মনে ভাবি সবাই তো প্রেম করে বিয়ে করতে পারে না আমি তবু বিয়ে করতে পেরেছি এতেই অনেক খুশি আর কিছু চাই না।কোনো দিনই ওকে ভুলতে পারব না।আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি যে ও যেনো সুখে থাকে। লেখক: এস এম মোরশেদুল ইসলাম। সত্য ঘটনা অবলম্বনে। প্রিয় পাঠক তখনি খারাপ লাগে যখন গল্পে রেটিং দেন না। রেটিং দিন এবং উৎসাহিত করুন। ধন্যবাদ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আজও তাকে ভালোবাসি(সুমু)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now