বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আজ বুশোর বিয়ে
"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayyid (০ পয়েন্ট)
X
পার্ট-৩!
দু-তলা বাড়ি।গুছানো,সুন্দর।ঘরে ঢুকে প্রথমেই বসার ঘর।বসার ঘরে দামি সোফা বসানো আছে,আছে টেলিভিশন।তার পর একটু বা দিকে গিয়েই ডাইনিং।একটু গিজগিজ করছে জিনিশপত্রে কিন্তু সুন্দর।ফ্রীজের দুই পাশে দুটো ঘরের দরজা।প্রথম ঘরটায় বাতি নিভিয়ে চেয়ারে চুপচাপ বসে আছে আরিফুল ইসলাম।তার তিন মেয়ে।তিনটে মেয়ে'ই দেখতে একই রকম ।তাকালে মুখ ফেরানো যায়না।গুলগাল মুখগুলো মায়ায় ভরা।
পাশের ঘরে মেয়েরা বসে গল্প করছে।
বাথরুম পেরিয়ে কিচেন।সেখানে রান্না করছেন আরিফুল ইসলামের স্ত্রী নাছিমা বেগম।আজ উনার মন ভালো।মুচকি মুচকি হেসে রান্না করছেন।মন ভালো থাকলে উনার মুখে মুচকি হাসি লেগেই থাকে।হঠাৎ তার মনে হলো কিচেনে কেউ তার পেছনে দাড়িয়ে আছে।তার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছে।তিনি ভয়ে পেছনে তাকাতে পারছেন না।হাতে থাকা গাজরটা শক্ত করে ধরলেন,যেনো কেউ পেছনে থাকলে তাকে ছুড়ে মারা যায়।পেছন থেকে কেমন একটা ফেচর ফেচর করে কথা বলার শব্দ হচ্ছে।তার কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো।মুহুর্তের জন্য তার মনে হলো ঘরে আজ আরিফুল ইসলাম নেই।তিনি মেয়েদের নিয়ে বাইরে হাটতে গেছেন।তিনি ঘামছেন।
আস্তে আস্তে পেছনে তাকালেন,দেখলেন দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে তাহমিদা,তার মাথার উপরে দেখা যাচ্ছে সুমাইয়ার মুখ আর সবার উপরে বুশরা।ওরা তিনজন'ই মা'র দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো।নাসিমা বেগম কি করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না।চিৎকার করে উঠলেন।
তোরা এইভাবে এখানে কি করছিস?
ঘাবরে যাওয়া মুখে সবাই মা'র দিকে তাকিয়ে রইলো।এত্ত রাগার কি আছে তারা বুঝতে পারলোনা।
কি হল?কথা বলছিস না কেনো?
ভয়ে ভয়ে তাহমিদা মুখ খুললো।আম্মু আমরা জানতে এসেছি তুমি কি রান্না করছো!
তাহলে দরজার পাশে দাড়াইছস কেন এইভাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে 'এমনিই'।কিন্তু এখন 'এমনিই' বললে মা নির্ঘাত তিনজনকেই ধমকাবে।
মাথা নিচের দিকে দিয়ে প্রথমে বুশরা,তারপর সুমাইয়া এবং কাদতে কাদতে নিজেদের ঘরে গেল ছিচকাদুনে তাহমিদা।
নাছিমা বেগমের ঘাম থামছে না।হঠাৎ তার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।রান্না করতে মোটেও ইচ্ছা করছে না।
পা টিপে টিপে তাহমিদা বাবার ঘরের দিকে যাচ্ছে।দরজার কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করলো।
বাবা আসবো?
আসো।
তোমার কি মন খারাপ?
নাতো মা!
আমার মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ।
'কই নাতো মা' বলেই আরিফুল সাহেব চোখ মুছলেন।অন্ধকারেও তাহমিদা বিষয়টা বুঝতে পারলো।কোন কথা ছাড়াই বাবার কোলে যায়গা করে নিলো।দুজনেই চুপ।তাহমিদা বাবার দাড়ি আঙুল দিয়ে আচড়ে দিচ্ছে।আরিফুল সাহেব বিরক্ত হচ্ছেন কীনা নিজেও বুঝতে পারছেননা।তিনি বড় মেয়েটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন।আদৌ এর কোন ভিত্তি নেই।সকাল থেকে তিনি ভাবছেন মেয়েটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে।আর তো মাত্র কয়েকটা বছর,তারপর'ই মেয়েটার বিয়ে দিতে হবে।ভাবতেই উনার মন খারাপ হচ্ছে,এই মেয়েটার যখন জন্ম হয় তখন তিনি ছিলেন ঢাকায়।
সন্ধ্যা রাত।নাছিমা বেগম বিছানায় শুয়ে আছেন।হঠাৎ মনে হলো পেটের ভেতর বাচ্চাটা লাথি মারলো!সে কি জানান দিচ্ছে যে তার আসার সময় হয়ে গেছে?তখন তাদের ঘরটা টিনের ছিলো।পাশের রুমে আরিফুল সাহেবের মা পান খাচ্ছেন।নাছিমা বেগম আর আরিফুল সাহেবের মা'য়ের সম্পর্ক মা-মেয়ের মতো।কথার কথা নয়,বিষয়টা সত্য।
নাছিমা ডাকলেন,
মা!বাবু লাথি মারলো।
কই দেখি দেখি।তুমি শুয়ে থাকো আমি আসছি।
নাছিমা শুয়ে রইলেন।তার অনেক ভাল লাগছে।তার ভেতর আরেকটা শরীর বড় হচ্ছে।সে কয়েকদিনের ভেতর এই পৃথিবীতে আসবে।মেয়েটার চেহারা কেমন হবে?সে কি হাসলে গালে টুল পড়বে?আবার নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছেন, মেয়ে হবে এটা ভাবছি কেন?ছেলেও তো হতে পারে!
শ্বাশুরি ঘরে আসলেন।বললেন আর মারলো?
না মা।শরীরটা কেমন যেনো লাগছে।
বলতে বলতেই চিৎকার করে উঠলেন।তার ভীষন ভয় করছে।শরীর ঘেমে উঠছে।ব্যাথাও বাড়ছে।শ্বাশুড়ি মা তার হাত শক্ত করে ধরে আছেন।আধাঘন্টা এভাবেই চললো।কেবল ব্যাথা বাড়লো।
কি বলো?হাসপাতালে যাবো?
না মা।নরমাল হবে।
তুমি কীভাবে জানো?বেশি বুঝবানা।
আচ্ছা।আমি আরিফুলকে ফোন করছি।
মা উঠে পড়লেন।নাছিমা বেগমের প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে।তিনি সহ্য করতে পারছেন না।এরকম ব্যাথাও হতে পারে সেটা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।
আরিফুল সাহেবকে ফোনে পাওয়া গেলোনা।ব্যথা বাড়ছে।বাড়িতে কেবল তারা দুজনেই।বাড়িতে একজন পুরুষ মানুষ থাকা খুব জরুরী মনে হচ্ছে এখন।
শ্বাশুড়ি দোয়া পড়ছেন আর বলছেন,মা সহ্য করো।সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি পারছিনা মা।
এতটুকু কষ্ট করতে তো হবেই।
মা,আমি মরে গেলে আপনার ছেলে কি আবার বিয়ে করবে?
কি যাতা বলছো!
বলেননা মা!আমার মেয়েটাকে ও কি আদর করবেনা?
করবেনা কেনো!করবে।
আমরা মানুষরা খুব যখন বিপদে পড়ি অথবা মনে হয় সামনে মৃত্যু দাড়িয়ে আছে তখন প্রিয় মানুষদের কথা ভাবি,যাদের নিয়ে আমাদের পুরো পৃথিবী।কথাগুলো বলার সময় নাছিমার চোখের দিকে তাকিয়েছিলেন তার শ্বাশুড়ি ।দেখেছেন ভয় আর ভালোবাসা।
নাছিমা বেগম আর কথা বলছেন না।দাত কামড়ে শুয়ে আছেন।কিছুক্ষন পর তার মনে হলো একটা বাচ্চার কান্না শুনতে পেয়েছেন।শ্বাশুরির কোলে একটা বাচ্চা কাদছে।শ্বাশুড়ি খুশি মুখে বললেন মা,মেয়ে হয়েছে।তোমার ধারণাই সত্য।এরপর আর কিছু তার মনে পড়ছেনা।তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন।যখন ঘুম থেকে উঠলেন তখন দেখলেন বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তার মাথার পাশে বসে আছে আরিফুল সাহেব।তার মুখে বিশ্বজয়ের হাসি।এই হাসিটা দেখে নাছিমা সব ব্যাথার কথা ভুলে গেলেন।যেনো এই হাসিটার কাছে ব্যাথাটুকু কিছুই না।তার হঠাৎ মনে হলো আসলেই প্রিয় মানুষদের হাসির মধ্যে একটা কিছু লুকিয়ে থাকে।সেই একটা কিছুটা কি তা তিনি আজ জানতে চান।মেয়েটার চেহারা দেখতে ইচ্ছে করছে।তিনি আরিফুল সাহেবকে হাত দিয়ে ইশারা করলেন।ফুটফুটে একটা মেয়ে।ছোট ছোট হাত পা।আচ্ছা,সব বাচ্চারাই ফুটফুটে কেন হয়?
কিজানি!
নাছিমা নিজেকে নিজেই জিজ্ঞেস করলো-আমি কি কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে ফেললাম?যাক বাবা!
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now