বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নামঃ- আগুন লেগেছে।
লেখাঃ- রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন।
আমি আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। নানান গল্পে মেতেছিলাম সবাই।
শিপন খুব রসিক। প্রথমে শিপনই গল্প আরম্ভ করলো -
একদা এক রাজ্যে রহিম নামে এক রাজা ছিলো। তার মনে খুব কষ্ট । কষ্টটার কারণ তার মেয়ের জন্যই। রহিম রাজার অনেকদিন থেকেই সন্তান সন্ততি নেই। রাণী ক্ষোভে বলেছিলো,
আপনি আরেকটা বিয়ে করে নিন।
না, না। কি বলো? আমি তোমার প্রতি কখনোই অন্যায় করবোনা।
এটা অন্যায় না রাজা মশায়। বংশের একটা প্রদীপ তো লাগবেই৷ তাইনা?
রাজা কিছুক্ষণ নিরব রইলো -
রাণী তুমি চিন্তা করিওনা। আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।
এরপর ৬মাস পর সুসংবাদ এল। রাণী সন্তান সম্ভাবনা। তাই রাজা মহাখুশি । মহাখুশি তার রাজ্যবাসী সবাই । সন্তান জন্ম নেয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিনই আনন্দানুষ্ঠান হল। ১০মাস ১০দিন পূর্ণ হলে রাণীর গর্ভ হতে অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী রাজকন্যা এল।
আহা কি রূপ! সকলেই মুগ্ধ । সে রাজ্যে আনন্দের সীমা রইলো না। রাজকন্যা ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো। বয়স ১বছর হয়ে গেছে । কিন্তু একটা সমস্যা এবং চিন্তাই পড়ে গেলো সবাই। রাজকন্যা কথা বলতে পারেনা।
রাজ্যজুড়ে আবারো মনমরা হয়ে গেল। রাজার মনে খুবই দুঃখ৷ রাণী তো আরও বেশি হতভম্ব।
রাজকন্যার বয়স এখন ১৫বছর।
দেখতে একেবারে আসমানের চাঁদ । এরই মধ্যে অনেক রাজ্য থেকে তাকে দেখতে এসে ফিরে গিয়েছে সবাই।
এরপর ২বছর পর টাকি-ফাকি নামে দুই ভাই রহিম রাজ্যে রওনা হল। এক সময় পৌছেও গেল।
টাকি বলল,রাজা মশায়কে খবর দিন আমরা তার সাথে দেখা করবো!
প্রহরী রাজার কাছে খবর নিয়ে গেলে, রাজা তাদের মহলে যাওয়ার অনুমতি দিল।
রাজাকে সালাম দিলো টাকি-ফাকি।
তোমরা আমার কাছে কি জন্য ?
আজ্ঞে রাজা মশায়, আমরা আপনার দুঃখের কথা শুনে এসেছি। আমরা আপনার মেয়ের মুখে কথা ফুটাতে চাই!
কিভাবে ফুটাবে? তোমরা কি কোনো কবিরাজ?
না। আমরা কোনো কবিরাজ নই। তবে আমাদেরকে একটা সুযোগ দিতে পারেন?
রাজা রাজি হল। যদিও ভাবলো এটা কোনোদিন সম্ভব নয়।
এরপর প্রতিদিন টাকি আর ফাঁকি রাজকন্যার সামনে বিভিন্ন মজার কান্ড ঘটাতো। রাজকন্যাকে হাসাবার জন্য । রাজকন্যা ২দিন হাসলো। এ খবর রাজার কানে গেল৷ রাজাও একটু খুশি। কারণ হাসানোটা বড় কিছু নয়।
এভাবে কেটে গেল ২সপ্তাহ। কোনো কাজ হল না।
রাজকন্যা খুবই পছন্দ করতো টাকি কে। খুব মজার মজার গল্প শোনাত তাকে। রাজকন্যা প্রাণ খুলে হাসতো। কথা বলার চেষ্টা করেছে রাজকন্যা। কিন্তু পারেনি কথা আটকে পড়ে, গলায় ব্যাথা করে।
একদিন রাজকন্যা টাকিকে ইশরায় আম পেড়ে দিতে বলল। টাকি আম পাড়ছিলো৷ রাজকন্যা হাত বাড়ালে যেন একটা আম তার দিকে ছুড়ে মারে । টাকি আম ছুড়ে মারলো । রাজকন্যা ধরতে পারলোনা। তাই আমটি তার নাকে গিয়ে লাগলো এবং রক্ত ঝরতে শুরু করলো। রাজার কাছে খবরটি যেতেই রাজা চাবুক নিয়ে হাজির৷ রাজকন্যার সামনেই তাকে মারা হচ্ছিল । হঠাৎ করেই রাজকন্যা চিৎকার করে বলল,ওকে মেরো না পিতা, ওর কোনো দোষ নেই ।
চাবুক থেমে গেল৷ সবাই অবাক হয়ে রাজকন্যার দিকে তাকিয়ে আছে ।
রাজা বলল,কি বললি মা?আবার বল?
ওকে মেরোনা ওর কোন দোষ নেই ।
রাজকন্যাও অবাক তার কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে ।
সবাই তো মহাখুশি। বাবা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিলো।
এই সময় হঠাৎ করে আমার কানে সাইরেন হচ্ছে । কোথাও আগুন লাগলে দমকল বাহিনী ( ফায়ার সার্ভিস) যেভাবে গাড়ির হর্ণ দিয়ে আসে৷ সেভাবে শব্দ হচ্ছে । হয়তো কোথাও আগুন লেগেছে । তাই আমি লাফ দিয়ে উঠলাম।
ধ্যাৎ একদল মশা আমার কানে সাইরেন দিচ্ছে। ঘুমটা ভেঙে গেল। রাজকন্যাকে আর বিয়ে করা হল না। মশারী টা টাঙিয়ে ঘুমাইলে আজকে রাজকন্যা কে বিয়ে করতে পারতাম। আমার এতো সুন্দর স্বপ্নটা আগুন লেগে শেষ হয়ে গেল। মশার বাচ্চা মশা।
(কি লিখলাম নিজেও জানিনা ৷ ভূল হলে ক্ষমা করবেন । আর সবাই মশারী টাঙিয়ে ঘুমাবেন। নয়তো দমকল বাহিনী এসে ঘুমে পানি মারবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now