বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আগন্তুকের পাগলি (পর্ব-৫..শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X আমার কেন জানি তার গলাটা পরিচিত মনে হচ্ছে। মথা উঠিয়ে তাকিয়ে দেখলাম আকাশ ভাই সামনে দাড়িয়ে। আমি বললাম, আপনি এখানে।কিভাবে এলেন। উনি বললেন, বিয়ে করে এসে এসব কথা বলছো তুমি। আচ্ছা এসব কথা আমরা আজ বাদ দেই। চল নতুন করে জিবন শুরু করি আমরা। আমি বললাম পারবনা। আমি আপনার সাথে জিবন শুরু করতে পারবোনা। জিবন শুরু করতে হলে মনের সাথে মনের মিল থাকতে হয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার মন যে অন্য কারোও কাছে। শত চেষ্টা করেও যে আমি পারবোনা আপনার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে। আমি যে অনেক আগে থেকেই তার ভালবাসায় অভ্যস্ত। আকাশ ভাই বললেন, কে সে? আমি তাকে পুরো ঘটনাই বললাম। সে বলল, হুম বুঝলাম। আচ্ছা তুমি বিছানা থেকে নামো তো। আমি তার দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে জোরে বলল, নামছোনা কেন? আমি মনে মনে ভাবছি কোন স্বামী তার বউয়ের মুখে এসব শুনে মাথা ঠিক রাখবে। ভাবতে ভাবতে নেমে পড়লাম। উনি পকেট থেকে কি যেন একটা বের করল। আমার পায়ের কাছে এসে উনি আমার এক পায়ে একটা নুপুর পরিয়ে দিল। হঠাত কেমন যেন আমি শিহরিত হলাম। আশ্চর্য হয়ে দেখলাম আমার দুই পায়ের নুপুর একিরকম। আমি এবার তার দিকে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি সে হাসছে। আমার কেমন জানি মাথাটা ঘুরতে লাগলো। আমি দারিয়ে থাকতে পারলাম না। বিছানায় বসে পরলাম। তখনও উনি এক অদ্ভুত কাজ করলেন। একটা খাম আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। আমি আস্তে করে খামটা নিয়ে খুললাম। একটা চিঠি। অবাক হওয়ার পালা যেন শেষ হচ্ছে না। আমি তার দিকে তাকিয়ে চিঠিটা পড়ার জন্য খুললাম। লিখা ছিল, অবশেষে তোমাকে পেয়েছি। কিন্তু বিয়ের ভিডিও দেখে কেউ মনেই করবেনা যে তুমি আমার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছো। আমি জানতাম তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মানতে পারবে না। তাই বলে আমাকেও না। আমিই তোমাকে বলেছিলাম কাউকে ধোঁকা না দিতে। সেই তুমিই আজ আমার জন্য আমাকেই ধোঁকা দিচ্ছ। অবশেষে কি বুঝতে পারছ যে আজ আমার সাহস এবং যোগ্যতা দুটোই হয়েছে। কি আগন্তুকের পাগলি এই আমিই হলাম সেই নীলাশার আকাশ। আজব মেয়ে তো তুমি, এখনও চিঠিই পড়ছো তুমি। আরে আমি তোমার জন্য এক আলোকবর্ষের চেয়েও বেশি ভালবাসা নিয়ে দাড়িয়ে আছি। আজ কি ফিরিয়ে দিবে আমায়। তবে দিলে অসুবিধে নেই, তোমার ভালবাসা আর তোমার মন দুটোই আমার কাছে। তুমিই এমনিই চলে আসবে। ইতি, তোমারই আগন্তুক পাগলি। চিঠিটা পড়া শেষ হতেই দেখলাম আমি কাপছি। সামনে তাকিয়ে দেখি সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দৌড়ে গিয়ে তার বুকে ঝাপিয়ে পড়লাম। এতটাই শক্ত করে ধরেছি যে আর কেউ আসলে তাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। সে আমাকে বলল, - এই কি হয়েছে। আরে এবার তো বিশ্বাস হল আমার ভালবাসার উপর তাই না। -......... - আমি কিন্তু তোমাকে আগের থেকেও অনেক বেশি ভালবাসি। - (কেঁদে দিয়ে) আমি জানি। - এই কাঁদছ কেন। কান্নাকাটি বন্ধ কর। আজ আর কান্নাকাটি নয়। আজ খুশির দিন। চল আমরা শুরু করি আমাদের নতুন পথচলা। -............. - এই এখনও কাঁদছ। দেখো তুমি শুধুই আমার ব্রান্ডের শেরোয়ানি টা নষ্ট করছ (মজা কররে)। এটা কি ঠিক হচ্ছে। কথাটি শোনার পরেই সে মাথা তুলে কিল ঘুসি যা আছে সব দিয়ে আবার জড়িয়ে ধরে বলল, আমি আজ কাঁদব। এটা আমার সুখের কান্না। তুমি আমাকে বিরক্ত করবেনা একদম। এতদিন কষ্ট দিয়েছো। এখন একখন্ড সুখ চাই। দেবে না তুমি তোমার মনের গহিনে অবস্থান করা সেই ভালবাসাটুকু। আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। আর যে পারছিনা। আমি পরম আদরে তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, - আর অপেক্ষাও করতে হবে না। আমি যে এখন তোমার। আমার সবটুকুই তোমার। এতদিন কষ্ট করেছো শুধুমাত্র আজকের এই দিনটির জন্য। আর কষ্ট পেতে হবে না। নীলাশাকে বিছানায় বসিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিলাম। তারপর শুয়ে পড়লাম। নীলাশা আমার বুকে মাথা দিয়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে। আমি বললাম আমি যে আজ থেকে তোমারি। শুধুই যে নীলাশার আকাশ। নীলাশা বলল, হুম তবে এর চেয়ে বেশি ভাল হয় অন্য কিছু হলে। কারন নীলাশার আকাশ নয় আমি সেই আগন্তুকের পাগলি হয়ে থাকতে চাই বলেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আমি সবশেষে একটা হাসি দিয়ে বললাম বিয়ের ভিডিওটা ভাল হল না....... রাত এগিয়ে চলেছে আর একটি নতুন দিনের সূচনায়। জিবন যেন একটা জোয়ার ভাঁটা। একদিকে জোয়ার হলে অন্যদিকে ভাঁটা। তেমনি এক সময়ের সেক্রিফাইজ কোন এক সময়ের পুর্নতা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now