বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ অনেকদিন পর এমন একটা চিঠি আমি আশাই করিনি। তবে বুঝলাম সে আমাদের কলেজেই পড়ে। বেন্চের নিচ থেকে তার নোটসগুলো দেখলাম তবে সেগুলো কম্পিউটার প্রিন্ট করা। চিঠির লেখা আমি অন্য কেথাও দেখেছি কিনা বলতে পারছি না। এভাবে অন্তত কাউকে খুজে বেড়ানো যাবে না। তবে আজ আর কান্না পাচ্ছে না। সে আজ যা বলেছে সবই বাস্তব। আমি কখনও আমার পরিবারের অবাধ্য হই নি। তাই পরিবারপর অনুমতি ছাড়া আমি কারও জিবনে জড়াতে পারব না। কিন্তু সত্যি বলতে আমি যে তাকে আমার জিবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছি।সেখানে দাড়িয়ে সেই আগন্তুকের উদ্দেশ্যে এটুকু বলেছিলাম, হে আগন্তুক আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব। তবে একটা জিনিস তোমাকে বলতে চাই, আমি যে কারোই জিবন সঙ্গি হই না কেন তোমার মত করে আমি কাউকে যে ভালবাসতে পারব না। এটা যদি কাউকে ধোঁকা দেওয়া হয়ে থাকে তবে আমি ধোঁকাবাজ। আর আমি কখনই তোমাকে ছাড়া পুর্নাঙ্গভাবে নিজেকে খুজে পাব না। তাই যদি সত্যি আমাকে এতোটা ভালবেসে থাকো তবে তুমি আমার কাছে আসবে। তুমি যে এতটা ভালবেসেছো, অন্যকারো ভালবাসা যে এখন পানসে মনে হবে। এটা আমার ভালবাসা থেকে বলছি, তেমাকে আসতেই হবে। মনে রেখ জিবনে প্রতিটা মুহুর্তেই আমি তেমার অপেক্ষায় থাকবো। এসব বলে আমি ছলছল চোখে নিঃশব্দের কান্নায় এগিয়ে বাসায় আসলাম। কিছুদিন পর ভার্সিটির সিনিয়রদের বিদায়ে সেই ক্যান্সারে বেচে যাওয়া ভাইটি আমাদের অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছিল। সেদিন আকাশ ভাইকে জড়িয়ে ওই ভাই অনেক কেঁদেছিল। তবে বিদায়ের শেষ দিকে আকাশ ভাই আগের মতই চুপচাপ ছিল। তবে হঠাত পিছনে ফিরে তাকালো। স্পষ্ট দেখতে পেলাম উনি চেখের পানি মুচছে। আমি কেন জানি তাকে অনেকক্ষন যাবৎ খেয়াল করছিলাম। তবে সামনে ফিরে তাকানোর পর সে আর থামলো না। একে একে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে আমার কাছে এসে বলল, ভাল থেকো তুমি নীলাশা। আমি কেন জানি তাকে কিছু বলতে পারিনি। দিনশেষে বাসায় আসার পর আমার মনে হল কিছু একটা ভুল হয়েছে। সবাই যেখানে আমায় অরুনিমা নামেই চেনে সেখানে আকাশ ভাই নীলাশা ডেকেছে। তার মানে কি আকাশ ভাই সেই আগন্তুক। না না এটা হবে না। আমার কথাও ভুল হচ্ছে। উনি একটু অন্যরকম তাই হয়তো আমাকে এ নামে বলেছে। আমি আর এসব বিষয় ভাবতে চাইনি তবে মনের কিছু প্রশ্ন তো থেকেই যায়।
চার বছর পর,
- তোকে আর কতবার বলব বিয়ের কথা। এত এত ভাল পাত্র এসে পছন্দ করে যাচ্ছে অথচ তুই সবগুলোকেই বাদ দিয়ে দিচ্ছিস। কেনো এরকমটা করছিস তুই? (বাবা)
- বাবা আমি এখন বিয়ে করতে পারব না। তারপরও কেন জেদ করছ।
- কেন বিয়ে করতে পারবি না। বয়স কি হচ্ছে না। তোর বয়সি একটা মেয়েও আমার অবিবাহিত চোখে পরে না। কিন্তু তুই এভাবে থাকলে আমাদের কি খারাপ লাগে না। আমরা কি তোকে ভালভাবে বাচতে দেখতে চাই না।(বাবা)
- আমি তোমাদের কাছে বেঝা হয়ে গেছি বাবা। আর কিছুদিন তে সময় দাও আমায়।
- না আর তোকে সময় দেওয়া হবে না। অনেক দিন এভাবে বলেছিস, আর না। এবার যে পাত্র এসেছে তার সাথেই তোর বিয়ে ফাইনাল। এবার বিয়ে ভেঙ্গে দিলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি। বলেই বাবা চলে গেল। জানি না জিবনে আর কতকি সয্য করতে হবে। অনেকদিন তো অপেক্ষা করলাম তোমার। কই তুমি তো একবারো এলেনা। কেনো আমার মন নিয়ে তুমি অজানায় পাড়ি জমিয়েছো। আমি যে এখন একটা পাথরের ন্যায়। কেবল তোমার স্পর্শই পারে আমাকে উজ্জিবিত করতে। এসব ভাবতেই আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। সব কিছু ভেবে আমি বাবার কথা মনে করলাম। তাই রাতে মাকে ডেকে বললাম আমি এই বিয়েতে রাজী। বাবাকে জানিয়ে দিও। বাবা খবর জানতে পেরে আমাকে বুকে নিয়ে কান্না করেছে খুশিতে। আমিও হাসিমুখে তাদের খুশি বরন করেছি। পাত্র নাকি আমার ছবি দেখেই পছন্দ করেছে। তাই আমাকে দেখতেও চাননি আলাদাভাবে। সবাই অনেক খুশি। আজ আমার বিয়ে। অনেকজনে এসে অনেকভাবে আনন্দ করল কিন্তু আমার কাছে কিছুই মনে হচ্ছে না। আর হবেই বা কি করে, মন যে আছে আর একজনের কাছে। সে যে ফেরত দেয় নি আর আমাকে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে বরপক্ষ আমাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। আমি এখন বাসর ঘর নামের এক ঘরে বন্দি হয়ে আছি। জানি না কিছুক্ষন পর যে আসবে সে কে। কেমন হবে সে। না এসেই আবার বনমানুষের ন্যায় আমার শরীর নিয়ে খেলবে কে জানে। তবে যাই হোক আমারর তাতে কিছুই আসে যায় না। কিছুক্ষন পর রুমে এক লোক এসে দরজা লাগিয়ে দিলেন। বুঝলাম ইনিই আমার বিয়ে করা স্বামী। সারা বিয়েতে একবারো তাকাইনি পর্যন্ত। সে বিছানার সামনে এসে দারালো।সে আমাকে বলল, কেমন আছ নীলাশা।
অনেকদিন পর এ নামে ডাক শুনে একটু চমকেছিলাম তবে তার দিকে না তাকিয়ে জবাব দিলাম ভাল। সে আমাকে বলল, জানেন আপনার কারনে আমার বিয়ের ভিডিওটা ভাল হয় নি। সারা বিয়েতে মুখটা যেন পেঁচার মত করে রেখেছিলেন। বারবার মনে হচ্ছিল এটা যেন বিয়ে না কসাইখানা। কেন এমনভাবে রেখেছিলেন চেহারাটা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now