বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Advut! Ekta Sele

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X রাস্তায় দাড়িয়ে মেয়েটি ভিজছিল । পরনে স্কুল ড্রেস। প্রচন্ড বারিষধারা। বোধহয় স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। রিকশা পাচ্ছেনা সাথে ছাতা নেই। সেই সুযোগে বৃষ্টিতে ভিজে নিচ্ছে। লাইব্রেরিতে বসে আছি। জানালা খুলে বৃষ্টি ভেজা নোনতা হাওয়া গায়ে মাখছিলাম। মেয়েটিকে দেখে আফসোস হলো। গলার দুই পাশে দুইটা টনসিলতো নয় যেন দু দুটো শত্রু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। না খেতে পারি আইস্ক্রীম ,না পারি বৃষ্টিতে ভিজতে । গোসলে যেতে একটু দেরি হলেই পিন ফোটে কন্ঠনালীর দু পাশে । এপ্রনটা ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে মুখ ভার করে রাখা আকাশটার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। আজ আমার টো টো করে ঘুরে বেড়ানর দিন। ক্লাসের আর দশটা মেয়ে অবসর পেলে যেমন বয়ফ্রেন্ডের সাথে আলাপে ব্যস্ত দুমিনিট পরপর মেসেজের ভাইব্রেশনে সজাগ হয়ে লেকচার নোট থামিয়ে লাজুক হাসি হাসে ,ধুম করে ক্লাস হবেনা শুনলে অটোমেটিক এপ্রনের পকেটে হাত চলে যায় মুঠোফোনের খোঁজে কল দিতে হবে যে আমার ওসবের বালাই নেই। ইউফোরিক মুড নিয়ে লাফাতে লাফাতে রেলিংয়ের পাশ ঘেষে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামছি সার্জারির ইয়া মোটা বইটা বগলদাবা করে, হঠাত্‍ কি জানি হলো পা ফসকালাম। ধড়াম করে পড়লাম সিঁড়িতে ,হাত হতে বইটা ছুটে গিয়েছিল। চারতলা হতে সোজা গ্রাউন্ডফ্লোরে গিয়ে পড়ল! মাথাটা ঠুকে গিয়েছিল এক পাশের দেওয়ালে। ব্যথায় কঁকাতে কঁকাতে উঠে দাড়ালাম। নিচে কে যেন চিত্‍কার করে উঠল মনে হলোনা? ইয়াআল্লাহ এত মোটা বইটা কারো মাথার উপর পড়েনাইতো! এক নিঃশ্বাসে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নামতে লাগলাম গ্রাউন্ড ফ্লোরের কাছাকাছি এসে দেখি ক্লাসের মহাআঁতেল জয়নাল মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। আমি আস্তে করে নিঃশ্বাস ফেললাম । -সরি। পা ফসকে গিয়েছিল ব্যাটা এমন মুখ করে আমার দিকে তাকাল যেন বইয়ের একটা বাড়ি খেয়ে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে । -তুমি কি লাইব্রেরি থেকে বইটা নিয়েছ? আমি সকালে লাইব্রেরিতে খুঁজেছিলাম আসলাম ভাই বলল , কপি নেই ! আমি হা হয়ে তাকালাম। মারছে! কোথায় বলবে ইটস ওকে তা না সাধে কি আর ক্লাসের ছেলেমেয়েরা একে আঁতেল ডাকে। বইটা তুলতে তুলতে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হাসি পেল আমার। করুন চোখে বইটার দিকে তাকিয়ে আছে। -আমাকে আজকের জন্য বইটা দিতে পারবা ? -সরি দিতে পারছিনা । ওয়ার্ড ফাইনাল সামনে। কিছু টপিক পড়তে হবে এখান থেকে । বলেই হনহন করে হাঁটা দিলাম। মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালে ছলছল দুটো চোখ যেন এক্ষুনি কেঁদে ফেলবে। বই নয় আমি যেন তার গার্লফ্রেন্ডকে বগলদাবা করে নিয়ে চলে যাচ্ছি! -জাহান, শোন ফিরে তাকালাম। -তুমি কি হোস্টেলে ফিরছো? আমি একটা জিনিস ফটোকপি করাতাম। এইবার মেজাজ গেল খারাপ হয়ে । -বলেছিনা দিতে পারবনা! সময় নেই আমার! আমার রাগ হয়ে যাওয়া দেখে জয়নাল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। -তুমি রাগছ কেন? তাইতো রাগছি কেন? বৃষ্টি ফুরিয়ে যাচ্ছে। রিকশায় উঠতে উঠতে দুমিনিট বৃষ্টিতে ভেজার শখ হয়েছিল আঁতেলটার সাথে কথা বলতে বলতে মেঘ মিলিয়ে গেছে প্রায়। -না রাগিনিতো। জয়নাল মলিন মুখ করে হাসল। ওর হাসি দেখে হঠাত্‍ করে লজ্জা পেলাম। বেচারা সারাদিন বইয়ে মুখ গুজে রেখে আনন্দ খুঁজে পায় এটাই আমার কাছে ওকে জড় পদার্থ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। গল্প গুজব আনন্দ বিলাস এর ধার ধারেনা। এই টাইপ আত্মকেন্দ্রিক মানুষগুলো কারো সাথে মিশ খায়না। হঠাত্‍ করে শেষ বিকেলের স্বল্প আলোয় ময়লা এপ্রন উষ্কুখুষ্কু চুলের ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আমার ভেতরটায় কি যেন হলো! একটা মায়া হলো। ক্লাসের কেউ যদি আমাকে পছন্দ না করে আমার কেমন লাগত? আমি হাতের বইটা বাড়িয়ে দিলাম। -নাও । জয়নালের চোখে বিস্ময়। -আমাকে দিচ্ছ? -হ্যা। আমি মিষ্টি করে হাসলাম। হাসি দেখে সে আরো হতভম্ব হয়ে গেল । -কী হল?নে ! প্রেমপত্র দিচ্ছিনা বই দিচ্ছি চেহারার মানচিত্র বদলাসনা দয়া করে! বইটা নিতে নিতে গভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল ছেলেটা! এইরে একেবারে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকা যাকে বলে! মারছে ! ব্যাটা আবার প্রেমে পড়ে যায়নিতো! - তোমাকে সুন্দর লাগছে। আমি হা হয়ে তাকালাম বোধহয় কানে ভুল শুনছি তোমাকে ধন্যবাদ এর জায়গায় সুন্দর লাগছে শুনে ফেলেছি। সামলাতে পারলামনা হিহি করে হেসে ফেললাম। হাসতে হাসতে বললাম, -যেটা পারিসনা সেটা করবিনা। আগে কখনো কোন মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করেছিস? জয়নাল মাথা চুলকাল। -ইয়ে আসলে সরি আসলে বইটা পেয়ে এত ভাল লাগছে মানে কী বলতে গিয়ে কী বলে ফেলেছি ! আমি হেসে ফেলে হাঁটা ধরলাম। দেখি আমার পিছন পিছন আসতে শুরু করল। -টিউশানি করিস? -হু -কয়টা? -একটা -ছেলে ? নাকি মেয়ে? -মেয়ে। প্রশ্ন শুনে অবাক হল জয়নাল। -ঝুলে পড় -মানে ! -ঝুলে পড় ! তোর মত আঁতেলকে তক্তা বানানর জন্য একটা পাবলিক থাকা দরকার । জয়নাল হা হা করে হেসে উঠল। মেকি নয় প্রাণখোলা হাসি। আমার বড়ো ভাল লাগল হাসির শব্দটা । -তুই দেখি হাসতে শিখে গেছিস! হাসার সময় দাঁত বের করবিনা খরগোশের মত । -তুমি খুব ভাল মেয়ে! ক্লাসের আর সবার মত না! বইটা কালই ফেরত দেব। আজ একটু আসি কলেজের অফিসরুমে একটা কাজ ছিল । আমি হাসলাম। -ঠিকাছে যা। ছেলেটা গুটিগুটি পায়ে হাঁটা ধরল । পায়ের স্যান্ডেলের শুকতলা ক্ষয়ে গেছে। হাতে পুরান মডেলের নোকিয়া ফোন উঠে এসেছে। কেউ একজন ফোন করেছে। গলাটা কী দুঃখী দুঃখী শোনাল না? কাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে? কন্ঠে কষ্ট মিশিয়ে কাকে বলছে দেখবা একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে? আমি হাঁটতে লাগলাম। প্রতিটা মানুষের জীবনের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে এক একজন কত কষ্টের স্মৃতি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে! হয়ত তেমন কিছু। একটা মন খারাপ অনুভূতি নিয়ে কলেজ গেট পেছনে ফেলে হাঁটতে লাগলাম। সেই স্কুল বালিকা কোথায় গেল? বোধকরি চলে গেছে। কপালে মায়ের শক্ত বকুনি আছে আজ হয়তবা। অবেলার গল্পে বিভূই বিষাদে সতেজ শাপলা পাতার গন্ধে কাতর একটি দোয়েল বিরহী দোয়েল চোখে সবুজ জলের পুকুর নিয়ে বসে ছিল দোতালা বাসের ছাদে আমাদের শহরে আজ গল্পের ভীড় রোদের ভীড় জলের ভীড় আমরা নেই! ★Raat-Jaga-Pakhi★


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Advut! Ekta Sele

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now