বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৫.
জিজ্ঞাসাবাদ
রূহেল নাঈমকে বলতে লাগলো, ‘চোর ধরার
অন্যতম পন্থা হলো জিজ্ঞাসাবাদ। এতে চোর তার
অসতর্ক কথাবার্তায় ধরা পড়ে। তবে জিজ্ঞাসাগুলো
অবশ্যই কুটিল হতে হবে।’
‘জিজ্ঞাসা করতে যেয়ে যেন গতবারের মতো
মাইর খাইয়ো না।’
‘হুম, এবার ঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’
রূহেল জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল। প্রথমে এল রসু চাচা।
বয়স দাদির চেয়েও বেশি। কুঁজো হয়ে চলে,
ঘাড়ে গামছা।
রূহেল ডায়েরি-কলম হাতে নিয়ে বলল, ‘শুনছেন,
দাদির আচার রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।’
‘হারায়ে যাইতেছে নাকি চুরি হইতেছে?’
‘ঐ একই কথা। আপনি কি জানেন কে চুরি করছে?’
‘জানলে কি আর না ধরি। যদি একবার পাইতাম আচ্ছা
ধোলাই দেতাম।’
‘আচ্ছা, আপনি যান।’
এরপর এল বুয়া। দারুণ চটপটে, মুখে চোর চোর
থুক্কু চুন্নি চুন্নি ভাব। বয়স আন্দাজ চল্লিশের উপর।
এসেছি রূহেলকে কোন কথা বলার সুযোগ না
দিয়েই আঙুল তুলে বলল, ‘আপনে কি আমারে
চোর মনে করছেন? আমি চুরি করমু? আপনি
আমারে সন্দেহ করতে পারলেন?’ এরপর কপাল
চাপড়াতে চাপড়াতে বলল, ‘হায়, আল্লাহ। ইনসাফ কর।’
‘আরে আপনি থামেন। কে বলেছে আপনি
চোর? যান। আপনার জিজ্ঞাসাবাদ নেব না।’
মালী, দারয়ান-এরা বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে
রয়েছে। এরা চোর হতে পারে না। যদিও
আচারের লোভ ছোট বড় সবারই থাকে। লুৎফার
মা-কেও লিস্ট থেকে বাতিল। সবশেষে এল
লুৎফা। হাতের তালুতে লবণ নিয়ে পাকা বড়ই
খাচ্ছে। যেহেতু সে এখন আর আচার খায় না, তাই
তাকেও লিস্ট থেকে বাদ।
দাদি বলল, ‘কিরে পেলি? কে চোর?’
‘না। তবে শীঘ্রই পেয়ে যাব।’
৬.
পর্যবেক্ষণ
‘বুঝেছ ভাগ্নে, ১ম পদ্ধতিতে যখন কোন কূল
কিনারা পাওয়া গেল না, তখন ২য় পদ্ধতি কাজে লাগাতে
হবে।’
‘২য় পদ্ধতি কি?’
‘পর্যবেক্ষণ।’
‘পর্যবেক্ষণ?’
‘হুম, চুপিসারে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে
হবে, আসলে কে চোর।’
‘চল শুরু করি পর্যবেক্ষণ।’
‘এখন না। রাতে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে হবে।
আমার ধারণা চোর রাতেই চুরি করতে আসে।’
‘মামা, তোমার বুদ্ধিটা দারুণ। কিন্তু রাত জেগে পাহারা
দেবে কে?’
‘কেন? আমরা দুজন। কষ্ট ছাড়া কি আর কেষ্ট
মেলে?’
‘কিন্তু গতবারের মতো কিছু হলে খবর আছে
কিন্তু।’
‘কিচ্ছু হবে না।’
রূহেল দাদিকে সব বুঝিয়ে বলল। পাশে লুৎফাও
ছিল। সে বলল, ‘বুদ্ধিটা তো ভালোই। ধরতে না
পারলে ব্যাডলাক। বেস্ট অব লাক।’
রূহেল তার ভাগ্নেকে নিয়ে চুপিসারে আলমারির
এক কোণে লুকিয়ে পড়ল। সারারাত মশার কামড়,
তেলাপোকা আর টিকটিকির অত্যাচার সহ্য করল।
ফ্ল্যাক্স থেকে বার বার চা পান করল। চা এত পাতলা
কেন বুঝল না। গরম পানির সাথে তফাৎ নাই। কিন্তু
পরদিন সকালে দাদি এসে দেখেন দুইজনই
বেঘোরে ঘুমাচ্ছে, আর বোতল থেকে
অর্ধেক আচার গায়েব। তাই দেখে দাদির মেজাজ
গেল খিচড়ে। দিলেন আচ্ছামতো বকুনি। রূহেল
সব মাথা নিচু করে সহ্য করল।
নাঈম কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘মামা, এইবারও ফেল।’
লুৎফা লবণ দিয়ে পাকা বড়ই খেতে খেতে বলল,
‘গোরূ ভাই, ব্যাডলাক।’
৭.
শেষ চেষ্টা
রূহেল সারাদিন ঘরে বসে কাটিয়ে দিল। খাওয়া নেই,
নাওয়া নেই। কেবল আকাশের দিকে থুক্কু ঘরের
ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। সবার সামনে দাদির
বকুনি বার বার চোখে ভাসতে লাগলো। সবার
সামনে মান-সম্মানটা একেবারে পাংচার করে
দিলেন।
রাতে রান্নাঘরে ঢুকল। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ
করছে। কিছু একটা কাগজে মুড়ে পকেটে
ভরে, ভাগ্নেকে বলল, ‘চল, ভাগ্নে, শেষ
চেষ্টা করি।’
‘মামা, যা হবার হয়েছে। থাক ওসব।’
‘নারে, এই কানে ধরলাম, এটাই শেষ চেষ্টা।
এরপর বিফল হলে আর কখনো
গোয়েন্দাগিরিতে নাই।’
‘সত্যি?’
‘তিন সত্যি। সত্যি। সত্যি। সত্যি।’
‘ঠিক আছে। মনে থাকে যেন।’
রূহেল দাদির কাছে থেকে জেনে নিল কোন
আচার বেশি চুরি হচ্ছে। চারপাশ ভালোভাবে খুঁটিয়ে
খুঁটিয়ে দেখল। তারপর তার পরিকল্পনা অনুযায়ী
কাজ করল।
পরের দিন সকালবেলা রূহেল আবার এল। নাহ কাজ
হয়নি। মনের দুঃখে দাদিকে ছাদ থেকে নিচে
নামিয়ে এনে কথা বলতে লাগলো। কিছুক্ষণ
পরেই কার যেন চিৎকার, ‘ওরে বাবা গো, ওরে
মা গো, মুখ গেল রে।’
রূহেলের মুখে বিজয়ীর হাসি। ঘুঘু ফাঁদে ধরা
পড়েছে। দাদির চোখে বিস্ময়। কারণ ফাঁদে
চোর না, চুন্নি ধরা পড়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now