বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আচার রহস্য
লেখক: সজল চৌধুরী
================
১.
গোয়েন্দা রূহেল
‘আমার নাম রূহেল। আমার নেশা গোয়েন্দাগিরি করা।
আমি চার ফুট আট ইঞ্চি লম্বা কিশোর, বয়স
পনের, খাড়া নাক, আয়ত চোখ, জোড়া ভ্রু,
ছিপছিপে গড়ন, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা…’
‘মামা, ও মামা। আবার লিখছ তুমি? এদিকে…’
‘আরে ভাগ্নে, থুককু সেক্রেটারি, অভিযানের
কথাগুলো লিখে রাখতে হবে না? না লিখলে
গোটা বিশ্ব কিভাবে জানবে যে, বাংলাদেশে এত
বড়…’
‘হয়েছে। লুৎফার দাদি ডেকেছে। নতুন কেস
বুঝলে। সমাধান করলে শ’দুয়েক টাকা পাওয়া যাবে।’
‘চল।’
‘তবে শোন, এইবার কিন্তু গতবারের মতো
ফেল মারা…’
‘না। না। এবার গতবারের মতো ভুল হবে না।
দেখিস।’
২.
লুৎফা
সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে রূহেল তার ভাগ্নেকে
বলল,
‘শোন, নাঈম, তুই দুলাভাইয়ের দেওয়া
টেপরেকর্ডারে দাদির সমস্ত কথা রেকর্ড করবি।’
‘কি গোরূ ভাই, কেমন আছেন?’
এই মেয়ের নাম লুৎফা। লম্বা লিকলিকে, চেহারায়
চঞ্চলতা আর দুস্টমির ছাপ। বয়সে রূহেলের
চেয়ে দুবছরের ছোট। অথচ পাকামিটা বুড়ির
মতো।
‘তুমি আমাকে গরু বললা কেন?’
‘গরু না তো গোরূ বলেছি। গোয়েন্দা
রূহেলের সংক্ষিপ্ত রুপ।’
‘সে যাই হোক, তুমি পুরোটাই বলবা।’
‘কেন, ভাইয়া? সংক্ষিপ্ত নামটার মাধ্যমে তো
আপনার আসল রূপ ফুটে ওঠে।’
‘তুমি আছলেই খুবই বেয়াদোপ।’
‘আসল উচ্চারণ করতে না পারলে আছল বলার
দরকার নাই। আর আমি বেয়াদব হতে রাজী আছি,
বেয়াদোপ নই।’
রূহেল তার ভাগ্নেকে তাড়া দিয়ে বলে, চলতো
ভাগ্নে দাদির কাছে যাই। এই মেয়ে আছলেই খুব
বেয়াদোপ।’
৩.
দাদি
দাদি রঙিন মোড়ায় বসে লাঠি দিয়ে আচার পাহারা
দিচ্ছেন। বয়স আনুমানিক ষাটের উপরে। বুড়ি বটে,
কিন্তু থুরথুরে নন। পান খেতে খেতে দাঁতের
বারোবস্থা, সঙ্গে থাকে রূপার পানদানি।
রূহেল ডাক দিল, ‘দাদি, ও দাদি?’
ঘাড় ঘুরিয়ে দাদি বললেন, ‘কে রে, কে?’
‘আমি দাদি। আমি আর রূহেল। মানে আমি রূহেল আর
ও নাঈম। আমাদের ডেকেছিলেন।’
‘ডেকেছিলাম, ও হ্যাঁ, ডেকেছিলাম। আর বলিসনা
না, আমার আচারগুলো পাখি শেষ করে দিচ্ছে।’
‘আমাদের কেন ডেকেছিলেন, দাদি?’
‘এই আচারের ব্যাপারে।’
‘আমি খুব একটা আচার খাই না।’
‘আমি খাই।’ নাঈম বলল।
‘আরে, আচার খেতে ডাকি নাই। আগে ঘটনাটা
শোন।’
৪.
আচার চোর
‘বলেন দাদি। এই নাঈম টেপরেকর্ডার চালু কর।’
নাঈম সুইচে চাপ দিয়ে দাদির মুখের কাছে ধরে
বলল, ‘দাদি, বলেন।’
দাদি রোদে দেওয়া বোতলে ভরা
আচারগুলোকে দেখিয়ে বললেন, ‘এই যে
আচারগুলা দেখছিস, এগুলা বড় যত্নে বানাইছি। লুৎফার
বাপ আচার খুব পছন্দ করে। ভাত খাইতে গেলে
আচার লাগবই। ছোটবেলায় আচার না পাইলে কি যে
জ্বালাতন শুরু করত! “খাবো না”, “খাবো না”
বলে দৌড়ে বেড়াইত…’
রূহেল মনে মনে বলল, বুড়া-বুড়িদের নিয়ে এই
এক ঝামেলা। আসল কথা না বলে খালি আজাইরা
প্যাঁচাল। নাহ, থামাতে হবে।
রূহেল নাঈমের দিকে চোখ দিয়ে ইশারা
করতেই, নাঈম বলল, ‘দাদি যে কারণে
ডেকেছেন সেটা বলেন।’
‘আরে থাম, সেই কথাই তো বলছি। আমার এত
সাধের আচারগুলা কে জানি খায়া খায়া একেবারে
শেষ করে ফেলাচ্ছে।’
রূহেল গোয়েন্দা সুরে বলল, ‘কেন আপনি
পাহারায় থাকেন না?’
‘থাকি তো, তারপরও কিভাবে যেন চুরি হয়।’
নাঈম মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, ‘খুবই রহস্যময়!
খুবই রহস্যময়!’
রূহেল বলল, ‘আচ্ছা, আপনি যখন থাকেন তখন কি
চুরি হয়?’
‘ধুর! চোর আমার সামনে চুরি করবে না আড়ালে?
তোদের মাথায় কিচ্ছু নাই। গোবরে ভরা।’
‘রাতে নিশ্চয়ই আচার ছাদে থাকে না।’
‘রাইতে কি রোদ থাকে যে রাখব। তখন অন্যান্য
খাবারের সাথে আলমারিতে থাকে।’
রূহেল গম্ভীরভাবে বলে, ‘হুম, তার মানে ঐ
আলমারি থেকেই চুরি যায়।’
‘ধুর! ঐ আলমারি থেকে যে চুরি যায় সেটা তো
আমিও জানি। কিন্তু কেডা চুরি করে সেইটা বাইর
করতে হবে।’
নাঈম চটপট উত্তর দেয়, ‘তাহলে নিশ্চয়ই চাকর-
বাকর চুরি করে।’
রূহেল নাঈমকে বাঁধা দিয়ে বলে, ‘নাহ। বড়রা না।
ছোটরাই চুরি করে।’
নাঈম বলল, ‘তার মানে লুৎফা ফুপি?’
‘আরে নাহ। অয় তো আচার পছন্দ করে না।
আগে করত। এখন দেখলেই বমি করতে চায়।
মাইয়াডা বাপের মতো হইল না।’
রূহেল নাঈমকে বলল, ‘ভাগ্নে, ইহা খুবই কুটিল
কেস। তবে আমরা ইহার সমাধান করবই করব।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now