আবেগীয় স্যার
X
সেদিন ক্লাসে আসতে একটু দেরি হল ,তাই স্যার ক্লাসে ঢুকতে দিল না। কি আর করা। বারান্দার বেঞ্চে বসে গল্পের বই পড়া শুরু করলাম । হঠাৎ দেখি ভাইস প্রিন্সিপাল স্যার আসছে । তাড়াতাড়ি করে গল্পের বই ব্যাগের ভিতর ঢুকালাম। আমাকে দেখে বললেন ,”কি ব্যাপার? বাইরে কেন?” আমি বললাম,”স্যার, ডাক্তারের চেম্বারে গেছিলাম তাই দেরি হয়ে গিয়েছে। “ তারপর স্যার ক্লাসের স্যার কে বললেন, “ একে ঢুকতে দেন।“ তারপর আমাকে বললেন,” যাও, ক্লাসে যাও। এরপর থেকে আর দেরি করবে না।“ আমি ক্লাসে ঢোকার সময় ক্লাসে থাকা স্যারের দিকে তাকিয়ে পৈশাপিক হাসি দিলাম । স্যার রাগ নিয়ে তাকালো কিন্তু কিছু বলল না। স্যার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন।
স্যারঃ প্রাকৃতিক সম্পদের যে ডেফিনেশন তোমাদের বইয়ে আছে সেটা থ্রি ফোরের বাচ্চাদের জন্য । তাই আমি যে ডেফিনেশন লিখে
স্যারঃ তুই বাচ্চা! আজ বিয়ে দিলেই তো তো কাল বাপ হয়ে যাবি।
না!
আমিঃ এহে! কি যে বলেন না স্যার। আমার বিয়ে না হলে তো আপনার মেয়ে সারাজীবন অবিবাহিত থাকবে ।
স্যারঃ বেরিয়ে যা আমার ক্লাস থেকে ।
আমিঃ কেন?
স্যারঃ যা, অজু করে আয় ।
আমিঃ ঠিইইইক আছে।
অজু করে আসার পর,
আমিঃ স্যার, আসব?
স্যারঃ না বাবা । তুমি বাহিরে থাকো । আর মাত্র ১০ মিনিট আছে । যাও ১০ মিনিট ঘুরে এসো । আর না হলে নাস্রিন কে বল চা বানিয়ে দিতে । চা খাও ।
নাস্রিন আন্টিকে বললাম, আন্টি চা বানিয়ে দেন । আন্টি বল্ল, কেন? আমি বললাম, বদরুল স্যার বলল চা বানিয়ে দিতে ।
আন্টিঃ কে খাবে?
আমিঃ আমি ।
তারপর আন্টি আমাকে বদরুল স্যারের কাছে নিয়ে গেল।
আন্টিঃ স্যার, এই ছেলেটাকে আপনি আমার কাছে পাঠিয়েছেন?
স্যারঃ নাস্রিন, ওকে এক কাপ চা বানিয়ে দাও তো ।
আন্টিঃ স্যার, চিনি শেষ ।
আমিঃ চিনি ছাড়াই খাবো ।
অতঃপর চিনি ছাড়া চা খেতে কেমন কাগে সেটা নিয়ে আন্টি লেকচার দেয়া শুরু করল । এর মাঝেই ঘণ্টা পড়ে গেল । ধুর! চা খাওয়া হলো না।
#আবেগীয়_স্যার
©হায়াত মো. ইমরান আরাফাত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now