বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সপ্তম শ্রেনীতে পড়ি তখন, রিতুও আমার সাথেই পড়ছে। প্রত্যেক ক্লাসেই কিছু স্পেশাল মেয়ে থাকে প্রত্যেকটা ছেলের জন্য, যাকে নিয়ে ভাল লাগা কাজ করে মনের মাঝে।তখন বিটিভি তে শুক্র-শনিবারে বাংলা মুভি দেখে ভালবাসি নামক শব্দটি কেবল শিখেছি।
`
তখন রিতুকে দেখে কেমন জানি একটা ভাল লাগা কাজ করতো। ঐ বয়সে যা হয়। অবশ্য এত অনুভুতি ছিলনা তাকে নিয়ে। বন্ধুদের বলতাম মেয়েটাকে ভাল লাগে, ক্লাসের নীরব, শান্তশিষ্ট বলেই হয়তো ভাল লেগেছিল, আর ঠোটের নিচে কালো তিলটা আমাকে এক অচেনা মায়ায় আকর্ষন করতো।
`
ক্লাসের মাঝে তাকাতাম আড়চোখে, ভয়ও কাজ করতো। স্যার যদি দেখে ফেলে, তাছাড়া ও যদি স্যারকে বলে দেয়। এভাবেই চলতে লাগল আমার লুকোচুরি অবুঝ ভাল লাগা, ভালবাসা কি না জানিনা।
`
ক্লাসের কয়েকটা ফ্রেন্ড রীতিমত প্রেম করছে। ওরা তখন ই অনেক আপডেট ছিলো, আমাকে বলতো আমি যেনো রিতুকে বলে দেই ভালবাসি, আমাকে বলতে হবেনা, তারাই বলবে গিয়ে। কিন্তু আমার সাহস ছিলনা। তখন সবাই চিঠির মাধ্যমে দেখতাম ভালবাসা বিনিময় করতো, ক্লাসের মাঝে একজন ছিলো যে খুব ভাল চিঠি লেখে, তাকে দেখে কিছুটা শিখেছি।
`
অনেক চিঠি লিখেছি রিতুকে নিয়ে। দেয়ার মাধ্যমের অভাব ছিলনা, কিন্তু ভয়ের কারনে দেয়া হয়না। তখনকার চিঠির শব্দগুলি মনে পড়লে এখন হাসি পায়। একদিন মনকে শক্ত করে ফেলি, চিঠি দিয়েই ফেলব। যেমন কথা তেমন কাজ। লিখে ফেললাম। তখন চিঠি ভাজ করাটাও একটা আর্ট ছিল, একজনের সাহায্যে সুন্দর করে ভাজ করে রিতুর বান্ধবীর সাহায্যে দিলাম।
`
হার্টবিট প্রতিনিয়ত বাড়ছিলো। আমি ওর উত্তরের আশায় অপেক্ষা করছিলাম। উত্তর পেয়েছি ১ ঘন্টার মাঝেই। এত তাড়াতাড়ি উত্তরটা পাব আশা করিনি। আমাকে আমাদের বিজ্ঞান রুমে যাবার জন্য বলা হলো, ও তার বান্ধবী সহ আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
`
খুব লজ্জ্বা লাগছিলো, লজ্জ্বা বললে ভুল হবে, বলতে পারেন খুব ভয় করছিল। বিজ্ঞান রুমে ঢোকে যা দেখলাম, তা দেখে আমার হাত-পা কাঁপতে শুরু করলো।
`
রিতু বান্ধবীদের সাথে একপাশে চুপিসারে দাড়িয়ে আছে ভয়ার্ত মুখে। টেবিলের উপর চিঠিটা অসহায়ের মত পড়ে আছে।
হঠাৎ একটা ধমক,,,,,,,!!
--কিরে চিঠি লিখতে শিখে গেলি?
`
চেয়ারে বসা স্যারের এমন প্রশ্নে আমার হাত-পা আরো দ্রুত গতিতে কাঁপা শুরু করলো।
-- কিরে কথা বলছিস না যে? এসব করতেই স্কুলে আসিস? তুই না ক্লাসের ভাল ছাত্র। তাহলে এসব কি?এদিকে আয়।
`
জালি বেত দেখেই বুঝে গিয়েছি স্যার মারবে,তাই কাছে গিয়েই স্যারের সামনে দু হাত বাড়িয়ে দিলাম।জালি বেতের বাড়ি যে কতটা কষ্টের তা যে খাইছে সে জানে। দু হাতে স্যার খুব প্রহার করলো। প্রতিটা বেতের বাড়ির সাথে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো। কখনো ভাবিনি রিতু এমন কাজটা করতে পারে। আরো অনেকেই একে অপরকে চিঠি দিছে, কেউ তো এমন নালিশ করেনি, আমার সাথে কেন এমন করলো রিতু, আমাকে বললেই পারতো, স্যারের সামনে ছোট না করলেও পারতো, তখন সম্মান জিনিষটা না বুঝলেও বেতের বাড়ি গুলি খুব বেদনার ছিলো। হাত লাল হয়ে গিয়েছিলো। আমি কেঁদে দিয়েছিলাম !
`
স্কুল হোস্টেলে থাকতাম তখন। এ ঘটনার পর তিন দিন ক্লাসে যাইনি। ৪র্থ দিন একটা চিঠি আসলো আমার কাছে। রিতুর চিঠি। ওর বান্ধবী চিঠিটা হাতে দিয়ে বলল, রিতু সেদিন খুব ভয় পেয়েছিলো,কারন ও রিলেশনে ভয় করে। তাই স্যারকে বলে দিয়েছিল, পরে খুব কষ্ট পাইছে তোমাকে যখন স্যার আাঘাত করছেন।
`
যাহোক, ওর দেয়া চিঠিটা খুললাম। অবুঝ মেয়েটির চিঠিতে সেদিন কি লেখা ছিলো তা বলব নাহ।।
তবে হুম,এক মুঠো অবুঝ স্বপ্ন ছিলো, কিছু অবুঝ আবদার ছিলো, ছিলো কিছু অজানা ভয়ের কথা। ভালবাসা ছিলো, অনেক ভালবাসা।
`
যে ভালোবাসা দুজনকে নিয়ে গেছে অনেক দুর। যে চিঠি বাজিয়েছে বিয়ের সানাই।
`
এখনো মেয়েটি এসব আবদার করে, স্বপ্ন বুনে ,বিয়ের পরেও তেমনটিই আছে।মাঝে মাঝে আমাকে রাগিয়ে দিবার জন্য গলা ধরে বলে, তোমাকে সেদিন গাধার মতন লেগেছিল। যেদিন আমার জন্য মাইর খেয়েছিলে স্যারের হাতে। বলেই কতকটা হেসে মাথা লুকায় বুকের মাঝে। স্বপ্ন বুনে আাগামীর। বেঁচে থাকুক আমার প্রিয় মানুষটির ভালবাসা।
`
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now