বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মধুর চাহনিতে আকাশের দিকে ছেয়ে আছে রনি। হয়তো কাকে অনেক মনে করছে সে আর কেউ নই তার মা।ছোট বেলায় সে আজ তার মাকে হারিয়েছে।আজ তার মার মৃত্য হয়েছিল যখন সে তার মাকে হারিয়েছিল।সে তার প্রতি অনেক আবেগী তাই সে তার প্রতিটি প্রেমিকার মধ্যে তার মায়ের প্রতিচ্ছবি খোজে।
বাবা জাফর তালুকদার ছেলের প্রতিটি দিকে যত্ন নিলে মায়ের কমতি পূরণ করতে পারেননি।তাই ছেলের ইচ্ছে পূরণে মেয়ে দেখে যাচ্ছেন ছেলের জন্য।
বাবা হাতের স্পর্শ পেয়ে রনি বর্তমানে ফিরে এল।
-রনি আমরা আজকে মেয়ে দেখতে যাবো, আর কোনো কথা নেই সোজা ঘিয়ে রেডি হও!
-কিন্তু বাবা আজ তে মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী আর আমি মায়ের কবর ছেড়ে কোথাও যাবো না!
--আমি বলছি কোনো কথা নয়!
আসলে বাবা-বেটার ভিতর ভালোবাসা হলেও তা কখনো প্রকাশ ই হয়নি। কারণ রনি কখনো তার মায়ের মৃত্যু মেনে নেয়নি এবং সেটি মনের ভিতর তার গেথে গিয়েছিল কিন্তু জাফর তালুকদার ভালোই বুঝতেন তার স্ত্রী ক্যানসার ছিল এবং সে বেশিদিন বাচতে পারবেন না।ছেলেকে বার বার বুঝাতেন তার মা আর ফিরে আসবে না কিন্তু রনি তো নাছোড় বান্দা সে মেনে নেয়নি এবং রাতদিন নেশা করতে থাকে।
জাফর সাহেব সব জানা সত্বে কিছু বলতেন না কারণ তিনি জানতেন তার মা হলে তাকে কখনো এগুলো করতে দিত না তাই তিনি ভাবলেন হয়তো ছেলেটিকে কোনো মেয়েই ঠিক করতে পারবে তার মায়ের মত আগলে ধরবে।
রনি নেশা করতো বলে ডিপ্রেশনে থাকতো এবং সিগারেট তার নিত্যদিনের বন্ধু।ফারুক ছিল রনির বাল্যকালের বেস্টফ্রেন্ড সে রনির সুখ দুঃখের বন্ধু ছিল।
হঠাৎ মোবাইল স্ক্রিনে ফারুকের নাম ভেসে উঠলো অর্থাৎ তার কল এসেছে-
-হ্যালো রনি!
-হুমম বল
-তোর বাবা আমাকে ফোন করছে তোকে ৫ মিনিট এ খুলশী আসতে বলেছে আর না হলে তোর খরচা পানি সব বন্ধ
আসলে রনি কোনো কাজ করতো না। কোনো কাজ করলে ৩ দিনের বেশি টিকতো না। সারারাত নেশাগ্রস্ত থাকতো এবং সকাল হলে তার মাথা ব্যাথা থাকতো যার জন্য কোনো অফসি নিজের জায়গা বানাতে পারেনি।
জাফর সাহেবের এটা নিয়ে অনেক চিন্তা হত যে ছেলে কি করবে।বাপ দাদার এত সম্পদ থাকা সত্বে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতেন যে সব সম্পতি একদিন তো শেষ হয়ে যাবে ছেলের অবহেলায়।
কিন্তু জাফর একটা বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারেন কারণ রনি কোনো মানেই খারাপ স্টুডেন্ট ছিল না সব খানে যার নামের পাশে রেংকিং সে ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি ই চাকরি দিতে প্রস্তুত।
কিন্তু একটাই চিন্তা ছেলে হয়তো একদিন তার টেলেন্ট হারিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ুক।
বাবা এসব চিন্তা রনি কখনো বুঝতো না।তাই জাফর সাহেব রনির বেস্টফ্রেন্ড ফারুক কে সব কথা বুঝাতো।
রনির যেন হুস ফিরে ফেল সোজা গাড়ি নিয়ে বাড়ি পৌছালো।বাড়ি রেশমী খালা নাস্তা নিয়ে দাড়িয় আছেন।রেশমী খালা সে ছোট থেকে রনির খেয়াল রাখেন।জাফর সাহেবের আশ্রয়ে রেশমী খালা গত ২৪ বছর ধরে রনির খেয়াল রাখেন।
-রনি বাবা নাস্তা করে নেন সকাল থেকে কিছু খাননি!
বাড়িতে কারে সম্মান না করলেও রনি রেশমী খালার অনেক সম্মান করতো তাই রেশমী খালাও প্রতিদানে তাকে ছেলের মত আদর যত্ন করতেন।
-খালা আমার এখন ক্ষিধা নেই ৫মিনিটে খুলশী যেতে হবে।
রনি ৫মিনিটে গাড়ি নিয়ে বের হল।
এদিকে জাফর সাহেব তার বাল্যকালের বন্ধু রফিক সাহেবের বাসায় বসে আছেন।
আসলে জাফর সাহেব এত মেয়ে দেখার পর যখন রফিক সাহেবকে সব কথা খুলে বললেন রফিক সাহেব তাই প্রতি উত্তরে তার মেয়ে রোদেলার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলেন তাই জাফর সাহেব তার বাসায় রফিক সাহেবের বাসায় বসে গল্প গোজব করছেন।
এদিকে ফারুক আগেই খুলশী এসে রনির অপেক্ষায়। রনি সকাল ৬টা বাজে ফজরের নামাজ পড়েই তার মায়ের জিয়ারতে চলে যায় বাবার শত মানা সত্বেও।
কারণ জাফর সাহেব চাননি রনি তার মায়ের কষ্টে আরও ডিপ্রেশড হোক।
এদিকে রোদেলা অনেক হাসিখুশী রেডি যে তাকে পাত্র পক্ষ দেখতে আসছে।
চলবে......
আবেগী ভালোবাসা
লেখক-মোহাম্মদ সাঈদ
পর্ব-১
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now