বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবছা নীলের মায়া

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ১. বরই গাছটার পাতার ফাকে ফাকে রোদের নিষ্প্রাণ লুকোচুরি | দেখতে বড় ভাল লাগে শুভ্রার,কি চমৎকার আলোছায়ার খেলা | হঠাৎ হঠাৎ রোদের ঝলকানি যখন মুখে এসে পড়ে তখন কেমন যেন লাগে | মায়ের ডাকে ঘোর ভাঙতেই একটু বিরক্তি এলো,চুপচাপ থাকার সময় কোন কথা বলতে ভাল্লাগেনা আসোলে | - এই শুভ্রা,কিরে এখানে যে? - তাহলে কোথায় থাকব? - ফাইজকে একটু দেখতে যা,কাল ঈদ আর আজ দুজন দুমুখি | আরে সংসারে এরকম কত ঝগড়াঝাটি হয়,যা মামণি | - আমি ওর পাশে থাকলে ওর ঈদ মাটি হবে | - আহহা মামণি...ওহহো বলতেই ভুলে গেছি,আজ একদম সকালে ওর বড়বোন ফোন করেছিল | - তাই ! কি বলল? - ফাইজের ডানহাতের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেছিল,তাই এখন পুরাহাত ব্যান্ডেজ | ইস বেচারা ছেলেটার কি হল | - আম্মু আমার উঠতে ভাল্লাগছেনা,ব্যাগটা একটু গুছিয়ে দিবে? গোছানোই আছে,টুকিটাকি একটু ভরে দাও | - দিচ্ছি,মনটা ফ্রেশ কর | - করছি... মা বিছানায় লাল ব্যাগটা রেখে গোছগাছে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন | শুভ্রার দৃষ্টি ঐ হালকা মেঘঢাকা আকাশে,বৃষ্টি হবে নাকি? ফাইজের গম্ভীর চেহারাটা বারবার চোখটাকে ঝাপসা করে দিচ্ছে | কি দরকার এত ঝাপসা হওয়ার,কি আছে ঐ চেহারায় রাগ আর নিষ্ঠুরতা ছাড়া? কিন্তু ঐ চেহারাকেই যে খুব ভালবেসে ফেলেছে,একদম মন থেকে | ফার্মগেটের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে এখন শুভ্রা দাড়িয়ে | নাকের কাছে একফোটা ঘাম গড়ানোর অপেক্ষায় | আশপাশের পরিবেশটা কেমন অন্যরকম | সবার চোখেমুখে একধরনের চাপা উত্তেজনা,চাপা আনন্দ | কাল ঈদ,আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে কাল পরিবারের সবার সাথে ঈদ করবে,একসাথে ঈদগাহে যাবে,ছোটদের নিয়ে যাবে মেলায় | মেলায় কত খেলনা ! একটা বাস এসে থামল,অমনি হুড়াহুড়ি | বাবারে যাত্রিদের বাসে ওঠার যুদ্ধ দেখলেই গলা শুকিয়ে যায় | ভালমত নেমপ্লেট দেখল শুভ্রা | নাহ এটা ওর বাস নয় | মিরপুরের বাস তো এতো দেরি করেনা,ইস এই রোদে আর কতক্ষন দাড়াতে ভাল্লাগে? এখানের আকাশটা একদম পরিস্কার | এতটুকু দাড়াতেই মাথাটা কেমন ঝিম দিয়ে গেছে,তৃষ্ঞা পাচ্ছে যে খুব | মোবাইলে রিং হচ্ছে,প্রথমবার না শুনলেও এবার শুনেছে ও | ব্যাগের মধ্যে এতকিছুরে বাবা,টাকাপয়সা এত অগোছালো কেন? কোনরকম ফোনটা বের করে দ্রুত রিসিভ করল,হ্যালো... - শুভ্রা প্লীজ আসো ফাইজের কন্ঠস্বর শুনে চোখের পাতা কেমন কেপে উঠল,ছেলেটার কন্ঠ এরকম হল কিভাবে?একদম ভেঙে গেছে,চেনাই যাচ্ছেনা | - এই শুভ্রা - হুম আমি আসছি | ফার্মগেটে বাসের জন্য দাড়াইয়া আছি | - আমি তো তোমার জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিছি,এতক্ষনে বোধহয় পৌছে গেছে | - ও... - যাও তাড়াতাড়ি বাসার দিকে রওনা দেও,আমি ড্রাইভারকে থাকার জন্য বলে দিতেছি কেমন | - আচ্ছা...তোমার গলা..না কিছুনা | - কি,বল... - না,আসতেছি আমি | ফোনটা ব্যাগে রেখে কাউন্টারের দিকে এগোয়,টিকিটটা ফেরত দিতে হবে | যাক বাসে ওঠার টেনশন শেষ | শুভ্রার চোখে পানি টলটল করছে,উফ বিরক্তিকর ! পানিটা একটু তড় সইতে পারেনা? ২. ঝরঝর বৃষ্টির শব্দ আগেথেকেই ভাল লাগে ফাইজের | এখন একটু বেশি ভাল লাগছে,তবে হঠাৎ করে বুকে একটা ভয় দাপিয়ে যায় প্রবলভাবে | খুব ভয় লাগে ওর,কান্না আসে প্রচন্ড কিন্তু... কিন্তু পারেনা কাদতে,লজ্জা হয় | আপা এসে কাদতে দেখলেই সুযোগ বুঝে ইচ্ছেমত ঝেড়ে যাবে | অথচ শুভ্রা কত ভাল,খালি আদর করে | মেয়েটা কি খুব রাগ করে আছে? রুমে ঢুকে ফাইমা একটু চমকে গেল,দারুণ খুশি শুভ্রাকে দেখে | - এত তাড়াতাড়ি এসে পড়েছিস আপু ! - জ্যাম আজ তেমন পড়েনি বলা যায় এদিকটাতে,আমাদের ঐ লাইনে আবার ভীষন জ্যাম | - হুম | তা ফ্রেশ না বসে আছিস কেন,যা বাথরুমে যা | - আপা,ওকি ঘুমায়? - না,বৃষ্টি দেখে | কিছুক্ষন আগে দেখে আসলাম গুনগুন করে গান গাচ্ছে | তুই আসবি,মনে খুশি ধরেনা | ফাইমার হাসি থামতেই শুভ্রা ওর হাত ধরে বলে,আপা ওর কাছে গিয়ে কি বলব আমি? - কিছুই বলার দরকার নেই,মাথাটা জড়িয়ে আদর করে দিস | - আচ্ছা... - ওকে এতদিন খুব বকাঝকা করেছি,থাপ্পড়ও দিয়েছি কয়েকটা | এতবছর আমাকে জ্বালিয়েছে,এখন আবার তোকে | আরো যদি মারতাম ! - আহা এতবড় ছেলেটাকে মারলে,ও খুব কেদেছে না? - যা ইচ্ছা করুক,আমি কি করব ! - আচ্ছা থাক,আমি এসেছি তুমি আর মাথা গরম করনা তো | - যা রুমে যা এখন | ব্যাগটা নিয়ে ওরুমে পা বাড়াল শুভ্রা,চোখের পাতা এখন অসহ্যরকম কাপছে | আর পানিতো জমে আছে সেই কখনথেকেই | শুভ্রার হাতের স্পর্শে চোখ মেলল ফাইজ | হালকা হালকা ঘ্রাণ আসতেই বুঝেছে শুভ্রা এসেছে বোধহয় | শুভ্রার ঘ্রাণ যে ওর মুখস্থ | ঠোটের কোণে একটু হাসি ফুটিয়ে ফাইজ বলল,তোমাকে মারার শাস্তি দেখেছ শুভ্রা? এইযে দেখ,খুব ভাল হয়েছেনা? ঝরঝর কেদে দিল শুভ্রা | আস্তে ফাইজের মাথাটা জাপটে ধরে খুব কাদছে | কান্নাজলে ভিজছে ফাইজের ঘন কালোচুল আর কপালের খানিকটা | ফাইজ একদম নিরব | হঠাৎ শুভ্রা বলল,তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবি কিনেছি | - কোথায়,দাও এখনি পড়ব | - ধুর বোকা এখন নাতো,কাল পড়বে | আমি পড়িয়ে দেব | - তোমার জন্য আপা কিনছে,আমি কিনতে পারিনি তবে রং বলে দিছি | তোমার বোধহয় পছন্দ হবেনা | - সব পছন্দ হবে,সব... - শাড়ি কিন্তু | - আমি কি শাড়ি পড়তে পারি? - রং কি জানো? আবছা নীল | - সত্যি? - হ্যা সত্যি,খুব সুন্দর লাগবে তোমাকে | - এই তোমার পাঞ্জাবিটার রং কি,শুনবানা? - বল - আবছা নীল,তোমাকে ভীষন সুন্দর লাগবে | আমরা নীল রাজারাণী সাজব,খুব মজা হবে | - শুভ্রা,আমার উপর কি তোমার রাগটা গেছে? - গেছিল তো,তুমিই আবার মনে করিয়ে দিলা | ফাইজ চুপ হয়ে যায়,আবার কাদতে ইচ্ছে করছে | সহ্য না করতে পারলে কেদেই ফেলবে | শুভ্রা তো আর আপার মত বকা দিবে না,নিশ্চয়ই ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে বলবে,কাদেনা সোনা |


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আবছা নীলের মায়া
→ আবছা নীলের মায়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now