বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘুম ভাঙলো পাশের রকিং চেয়ারে আব্বুর দোল খাওয়ার আওয়াজে। লাফ দিয়ে উঠে ঘড়ি দেখলাম। নাহ মাত্র আটটা বাজে। খাইলে দুইটা ঠাপ্পড়। বেশি হইলে তিনটা। বালিশের আশে পাশে হাত দিয়ে মাছ ধরার ভঙ্গি করে ফোন খোঁজার ব্যর্থ প্রয়াস যখন মনের ভেতর কিঞ্চিত ভাবনার সঞ্চার করতে আরম্ভ করবে তখনই আব্বু মধুর কন্ঠে বললেনঃ
আপনার বৌ এইখানে!!
বলিয়া ফোন হাতে ধরায় দিয়ে বললেনঃ
বেবীজান কে??
আমি ঘুম থেকে ঊঠার পর হ্যাং হতে থাকা মাথায় রিফ্রেশ দিয়ে বেবীজান নামে কাউকে খুঁজে পাইলাম না।
আমিও ফাল দিয়ে আকাশে চড়ারর ভঙ্গিতে বললামঃ
আব্বা আমি কোন বেবীজান রে চিনি না।
আব্বা কল লিস্ট সামনে ধরলেন আর বললেনঃ
বানান করে পড়!!
আমিঃ ব হ্রস ঈ ব হ্রস ই আর জ আকার ন।
আব্বাঃ কি হয়!!
আমি মিউমিউ করে বললামঃ বিবিজান।
আব্বাঃ কি জান??
আমিঃ আব্বাজান, এইটা বিবিজান।
আব্বাঃ বিবিজান মানে কি?
আমিঃ বশিরউদ্দীন বাশার জানায়েদ। এত বড় নাম তো লেখা যায় না। তাই শর্ট ফর্মে লেখা।
ফোনটা দেন।
আব্বাঃ তা এইটটা কি কোন মেয়ের নাম?
আমিঃ আব্বা আপনার মনে হয় আপনার ছেলে কোন মেয়ের সাথে কথা বলবে??
আব্বাঃ না একটু ফোন ধরে তো মেয়ের কথাই শুনলাম।
আমিঃ ইয়ে মানে আব্ব, আপনি কেন ফোন ধরছেন। ওর বোন দিছিলো ফোন।
আব্বা ঠাশ করে থাপ্পড় দিয়ে বললেনঃ
তাইলে কেন বললোঃ জান তোমার ঘুম ভাঙ্গছে??
উয়ে মানে আব্বা আমার ক্লাস আছে। আমি বাইরে যাবো।
আব্বাঃ দাঁড়া বাপ। কি ক্লাসে যাবেন??
আমিঃ বিবিজান আর আমার ক্লাস আছে।
আব্বাঃ মেয়ে কত্ত ফাজিল আমি বলছিঃ আমি তোমার জান না, আমি তোমার জানের আব্বা। আর ফোন দিবা না। আর অমনি বলেঃ আসসালামু আলাইকুম আব্বাজান। থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাবো। আবার নাটক শুরু করছো??
আমিঃ ইয়ে মানে আব্বা আসলে ক্লাসে লেট হচ্ছে।
আব্বাঃ এদিকে আসেন। মানিব্যাগ দেখি।
মানিব্যাগ থেকে পাঁচশত টাকার ঝকঝকে নোট ভোরের আলোয় চমকাইয়া উঠলো।
আব্বা শান্ত কন্ঠে বললেনঃ
বাহ মেয়েটা তো অনেক ইন্টিলিজেন্ট। আমার ছেলের পকেটে কত টাকা আছে আর তার উৎস যে আমার মানিব্যাগ তা ও জানে!!!
আমি পুরাই মখা!!
কিছু বলার নাই।রাগ করে গেলাম ওয়াশরুমে।
টেবিলে বসে খাওয়ার সময় আম্মা এসে মানিব্যাগ দিয়ে গেল। আর ভেতরে একহাজার টাকা।
আমি হা কইরা আম্মার দিকে তাকালাম।
আম্মা বললোঃ
বিবিজান রে আপনার আব্বা দেখতে চান।
কারন,
এই বালিকাই আপনারে সোজা রাখতে পারবে! "
আমি খানিকটা বাশ খাইয়া বাঁচাও বলে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখি আব্বা আমার পাশে বসে আছে.....
ভাবলাম যাক বাবা স্বপ্ন যদি সত্যি হয় তাইলেই কাম।
আব্বাজান বিশাল একটা থাপ্পড় দিয়ে বললেনঃ
গাধার বাচ্চা বাজারে যাও!!
ধ্যাত!!
সকাল বেলা স্বপ্ন এর মধ্যে এইরাম ভুতের ছ্যাঁকা খাইলাম !!
[] কাব্যপ্রেমী রিফাত []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now