বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শপিং আর শপিং করার জায়গা – দু’টোই মোটামুটি বিভীষিকাময় এরনের কাছে। ঢুকতেই তার এক প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে পড়ে গেলো। কততম সেটা স্মরণ করতে না পারলেও নাদিয়ার মাইন্ড রিফ্রেশমেন্টের জন্য অন্তবিহীন হাঁটাহাঁটিজনিত পশ্চাদ্দেশের ব্যথাটা ঠিকই মনে পড়ে গেলো। আনমনে কাঁদো-কাঁদো মুখে কোমরের পেছনটায় হাত বুলাতে বুলাতে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলো। একটা স্বচ্ছ ক্যাপসুল লিফট তেতলায় উঠছে। সেটায় আবছা একটা আদল দেখেই বুঝে গেলো কোথায় যেতে হবে। কিন্তু অতটা পথ মাড়ানোর সময় নেই – ফলো করতে হলে সামনের এস্কেলেটরটাই ভরসা! চলমান সিঁড়ির একটা নিজস্ব ঢিমে তালের গতি থাকে – অনেকেই ডানপাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে বোধহয় সেই গতি উপভোগ করছে! সে করুক, এরনের অত সময় নেই – হি হ্যাসন্ট গট দ্যট লাক্সেরী! লাফিয়ে দুই-তিন সিঁড়ি একবারে ডিঙ্গিয়ে পার হতে গিয়ে বিশাল বপু এক বুড়িকে কনুই –এর ধাক্কা দিয়ে ফেললো। উপরে পৌঁছে পেছনে তাকিয়ে ফিঁচেল হাসি মুখে, ‘ভেরী স্যরি হানি, আ’ম ইন হারি! ডিড আই হা(র)ট ইয়্যু?’ রাগতমুখে বুড়ি, ওহ, প্লীস.... এরন দ্রুত কেটে পড়লো। এরন ইরেশ এরকমই – কখনোই কোনোকিছুকে গভীরভাবে নেয় না। কিন্তু সেটা বোধহয় অর্ধসত্য। কিছু কিছু ব্যাপারে সে ডেড সিরিয়াস, যেটা তার অফুরন্ত হাসি-মস্করার মাঝে প্রায়-নিশ্চিহ্ন হয়ে মিশে থাকে। হয়তো এরন নিজেও সেটা জানে না।
মুখে লেগে থাকা মৃদু হাসিটা একটু বিস্তৃত হয়েও সাথে সাথে অস্বস্তিতে মিলিয়ে গেলো। কারণ নীলনয়না যেখানে ঢুকেছে সেটা ইয়ে...মেয়েদের...অন্তর্বা...সেখানে সে যায় কী করে? দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই! অগত্যা তা –ই করতে থাকলো। হঠাত পরিচিত একজনকে দেখে পড়িমড়ি করে পাশের একটা পিলারের পেছনে লুকিয়ে পড়ল। ‘এই রে, সাবের ভাই আবার এখানে কী করতে এলো? আর জায়গা পেলো না!’
- এই যে এরন ভায়া, ওপাশে কী করছো? ও কী, লুকিয়েছো নাকি? খুক করে হেসে ওঠে সাবের। আর রক্ষে নাই, লুকিয়ে থাকা যে আর চলে না। কী যন্ত্রণা!
- আরে সাবের ভাই, কেমন আছো? লুকাবো কেন, এসব কী বলছো? এই একটু ঘুরতে বেড়িয়েছি। আমতা আমতা করতে থাকে এরন।
পাশের দোকানটার দিকে একবার তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে ষড়যন্ত্রীর গলায়, কী রে কাহিনী কী? তুই শপিং মলে ঘুরতে বেড়িয়েছিস...তাও এমন জায়গায়? তা, সাথেরটি কোথায়? বলেই এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলো। মুখে একটা তৈলাক্ত হাসি।
- কোনো লাভ নাই – তুমি যা ভাবছো তা নয়! এই এমনিই একটু বেড়াচ্ছি।
- অ, এমনি বেড়াচ্ছিস? ডু আই লুক লাইক আ ফুল? আগামী মাসে দেশে যাচ্ছি – মামীকে বলা যাবে কেমন সুন্দর ঘুরে বেড়াচ্ছো তুমি?
- দেখো সাবের ভাই, বেশি বাড় বেড়ো না! ঐ সেদিনের পাব –এর ঐ বিশেষ ঘটনাটার কথা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে? ভাবীকে জানালে সে নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হবে, কী বলো? শেষের কথাটা বলে স্বভাবমত মিটমিটিয়ে হাসতে থাকলো। সাবের –এর রাগ নিমেষে গলে জল হয়ে গেলো। ‘এই রে, চটছিস কেনো? লক্ষী ভাই আমার, ইজ্জতের ফালুদা করিস না রে ভাই!’ সাবেরের গলায় তোয়াজের স্বর।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। এখন জলদি কেটে পড়ো তো। আমার আরো বেশ খানিকটা বেড়াতে হবে (হাসি)।
- যা ইচ্ছে কর, আমি চললাম। দ্রুত সরে পড়ে সাবের।
সাবেরের পাল্লায় পড়ে বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মেয়েটা বেরোচ্ছে না কেন? এত কী করবার আছে ওখানে, ভেবে পেলো না! শেষে অধৈর্য্য হয়ে সব সংকোচ কাটিয়ে ঢুকেই পড়লো। কেউ কেউ বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে...থাকুক...সেদিকে দেখবার ফুরসৎ নেই। কারণ মেয়েটা যে এইমাত্র অন্যপাশের গেইট টা দিয়ে বেড়িয়ে পড়লো। জোরে একটা হাঁক দিলো, কিন্তু শুনতে পেলো না। তাছাড়া নামও তো জানে না, কী নামে ডাকবে? বিধাতা এই লুকোচুরি কেন ঘটাচ্ছেন, সেটা স্পষ্ট হচ্ছে না! নাগালে এসেও আসছে না, আশ্চর্য! বিশাল স্টোরের অগণিত নারীর সমুদ্র কোনোমতে সাঁতরে সে যখন অন্যপ্রান্তে পৌঁছল, তখন বাইরে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। সে যে হারিয়ে ফেলেছে। এই বিশাল জনারণ্যে কোথায় খুঁজবে তাকে? ক্ষোভে, দুঃখে এরন একটা ঘুষিই বসিয়ে দিলো ব্যালকনির রেইলিং –এ।
সাময়িক উত্তেজনা যেমনি এসেছিলো তেমনিই থিতিয়ে গেলো। এখন এরনের অবাক হওয়ার পালা। চিরকালের লঘু স্বভাবের এরনের এ কী দশা হলো? এতদিন কোনোকিছু তো এত গভীরভাবে চায় নি! কিংবা কে জানে হয়তো অবচেতনে চেয়েছে, ঠিক বুঝতে পারে নি। দ্বিধান্বিত এরন পেছনের ক’টা ঘন্টা রিওয়াইন্ড করে দেখে নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলো। অপরিচিত আগুন্তুক একটা মেয়ের পিছে সে কীভাবে ঘুরছে? জুরিখের সেই ঘটনাবহুল রাত্রির পর তো কত নারীই এলো গেলো। তাদের কাউকেই কী সে এতোটা গুরুত্ব দিয়েছে? আশ্চর্য, এই মুহুর্তে তাদের একজনেরও মুখ মনে আসছে না, এমনকি একটা নামও না! পুরো মন জুড়ে শুধু একটা মুখ, একবুক উষ্ণতা আর একজোড়া কথক চোখ - যে চোখগুলি ভাষার বাঁধাকে একদা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নীরবে আবৃত্তি করেছিলো স্বর্গের কবিতা – ভালোবাসা! হঠাত উপলব্ধির তোড়ে ভেসে যায় এরন। বুঝতে পারে তার এতদিনের প্রেমগুলো কেন কেবল ব্যর্থতার কানাগলিই খুঁজে পেয়েছে যেখান থেকে উত্তরণের কোনো পথ পায় নি কোনোদিন। সে যে সেই মানবীকেই খুঁজে ফিরেছে তার প্রেয়সীদের মাঝে। অথচ আজ হাতের মুঠোয় পেয়েও ধরতে পারলো না। এ দুঃখ সে কোথায় রাখবে?
ভারাক্রান্ত মনে ফিরতে পথে হাঁটছিলো এরন। স্টারবাক্স কফির পাশ দিয়ে চলেও যাচ্ছিলো। হঠাত কী একটা দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেলো। আর কত দুঃখ জমা আছে ওর কপালে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now