বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৩)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:::আ্যডভেঞ্চার প্রিয় MH2 মি.A বলতে শুরু করলেন,,, "আমার নাম আমি সিক্রেট রাখতে চাই,তাই জানতে চেও না।তোমরা জিজের সকল সদস্যরা আমার তুলনায় বয়সে অভিজ্ঞতায় অনেক ছোট।আমার বাবা একজন ইংরেজ এবং মা হলেন বাঙ্গালি।বাবা ছিলেন একজন অভিযাত্রি,তার জীবন কেটেছে বিশ্বেস বহু জায়গায় ঘুরে ঘুরে।তিনি তার জীবনের সকল অভিযানের কথাই আমার মাকে বলতেন এবং লিখে রাখতেন।আমার মা ছিলেন একজন ইতিহাসের প্রফেসর।তিনি ইতিহাস বিষয়ের একজন গবেষকও ছিলেন।বাবা মা দুজনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমি হই বাবার মতো আ্যাডভেঞ্চার প্রিয় এবং মায়ের মতো ইতিহাস প্রিয়।আমি আমার পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি করতে চাই নি,কারণ আমার মতে চাকরি করা মানেই জীবনকে বন্দি করে ফেলা। তাই ভাবলাম বাবার মতো আ্যাডভেঞ্চার, আবিষ্কার আর অজানাকে জানার চেষ্টা করব। বাবাকে বললাম বিষয়টা যে আমি অভিযান করতে চাই।বাবা শুনে খুব খুশি হলেন এবং আমার মাকে ডেকে বললেন,"I am so much happy today,because my son wants to be an explorer,he likes to enjoy the world as like me.". বাবা মাকে জিজ্ঞাস করলেন তার কোনো দ্বিমত আছে কিনা।মা বললেন তার কোনো দ্বিমত নেই,তবে একটা শর্ত দিলেন।তা হলো আমার প্রথম অভিযান হতে হবে আমার বাবার সাথে।তাহলে বাবার কাছ থেকে নতুন কিছু শিখতে পারব,নিজেকে রক্ষা করার কৌশল জানতে পারব।সেই সময় আমি একজন অল্প বয়সী যুবক।আমি তো খুশিতে তখন আটখানা। শিঘ্রই বাবা মা ঠিক করলেন কোথায় যাওয়া যায়,মায়ের পরামর্শ অনুসারেই মূলত তা হলো। মা বললেন যে আমাদের আ্যডভেঞ্চার হওয়া উচিৎ আফ্রিকা মহাদেশে।আচ্ছা তোমরা কখনও আফ্রিকা অভিযান করেছ???" তুহিন আর মফিজুল একসাথে বললা," না মি.A আমরা কখনও আফ্রিকা যাই নি।" মি.A বললেন আফ্রিকার জঙ্গল এক অনন্য আ্যডভেঞ্চারের হাতছানি,হাজার রকমের উপজাতি,হাজার প্রজাতির বন্য প্রাণী,অসংখ্য ফসিল সব মিলিয়ে আফ্রিকা এক অনন্য স্থান। " রুবি আপু জিজ্ঞাস করলেন, " আ্যামাজন তো আরও রহস্যময়,আপনার কী মনে হয় আফ্রিকা অভিযান ভালো নাকি আমাজন অভিযান ভালো???" মি.A হেসে বললেন,,," দুনিয়ার সব জায়গার অভিযানই এক অনন্য অভিজ্ঞতা,আফ্রিকা অভিযান তার দিক দিয়ে সেরা,আর আ্যমাজন অভিযান তার নিজের দিক দিয়ে সেরা।'' রনি ভাই আর আমি মনযোগ দিয়ে তার জীবন কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম,কিন্তু এখন অন্য প্রসঙ্গ আসছে বলে ভালো লাগল না।চঁদনি রাতে উজ্জল রকমের চাঁদের আলোয় নদী এবং পাহাড় ঘেরা গ্রামে বসে গল্প করছি,ভাবতেই কতো আনন্দ লাগছে।তার উপর একজনের জীবনের বাস্তব গল্প।আমার আর তর সইল না,বললাম,,,"মি.A আপনি আপনার অভিযানটা বলুন।" মি.A হাসিমুখে আবার বলতে শুরু করলেন,,,"আমরা অভিযানের প্রস্তুতি নিতে থাকলাম।আমরা থাকতাম লন্ডন শহরে।সেখান থেকে বন্দরে জাহাজে করে আফ্রিকা যাব ঠিক করলাম।আমরা সবকিছুর ব্যাবস্থা করতে থাকলাম।আমরা কার্তুজ কিনলাম,আমার আর আমার বাবার রাইফেল আর পিস্তল তো ছিলই, তাই তা আর কিনতে হলো না।বাবা বললেন তার সকল অভিযানেই তার বন্ধু ডেনিয়েল যোগ দিয়েছে,এবারেও সে যাবে।মাঝারি উচ্চতার হাসিখুশি লাল চুল ওয়ালা লোকটাকে আমার ভালোই লাগে।অনেক মজা করতে পারেন তিনি,তাছাড়া ছোট থেকেই তিনি আমায় অনেক আদর করতেন,এখন বড় হয়েছি বলে আদর কমে যায় নি,তিনি আমাদের সঙ্গী হবেন জেনে আমার খুশিই লাগল।আমরা আমাদের জন্য টিনে সংগ্রিহীত খাদ্য কিনলাম।জাহাজও ঠিক হলো,নাম Victoria, যথেষ্ঠ বড় মাপের জাহাজ। ও আর একটা কথা বলা হয় মি,তা হলো আমাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য,উদ্দেশ্যহীন ভাবে হওয়া কোনো কাজই মজাদার নয়।আমার মা আমাদের উদ্দেশ্যও ঠিক করে দিয়েছিলেন,তা হলো গন্ডারের শিং আনা আর হাতির দাঁত আনা।" সাঈম ভাই মাঝখান থেকে বলে বসলেন,,," গন্ডার মারা তো এখন নিষিদ্ধ,তারপরও আপনারা মারলেন???" মি.A বললেন,"সাঈম তখন গন্ডার মারা নিষিদ্ধের আইন থাকলেও ততোটা কার্যকর ছিল না,তাছাড়া আফ্রিকার বনের নিয়ম হলো হয় মারো, নয় মর।তাই গন্ডার মারতে কোনো আইনি অসুবিধা ছিল না।আচ্ছা যা বলছিলাম,আমরা ঠিক করলাম হাতির দাঁত আর গন্ডারের শিং আনব।এক্ষেত্রে কালো গন্ডার প্রজাতি সবচেয়ে উপযুক্ত,কারণ হিসেবে আমি যা বলব তা হলো:::একটি কালো গন্ডারের কাঁধের সেমি (55-71 ইঞ্চি) উচ্চতা এবং দৈর্ঘ্য 3-3.75 মিটার (9.8-12.3 ফুট)। একটি প্রাপ্তবয়স্ক কালো গন্ডার সাধারণত 800 থেকে 1,400 কেজি (1,760 থেকে 3,090 পাউণ্ড) পর্যন্ত হয়, তবে ২,199-2896 কেজি (4,848-6,385 পাউণ্ড) পর্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে বড় পুরুষ নমুনা পাওয়া যায়। নারীরা পুরুষদের তুলনায় ছোট। মাথার দুটো শৃঙ্গ কেরেটিন দ্বারা তৈরি হয় যার সাথে বড় প্রস্থ শিং সাধারণত 50 সেন্টিমিটার (২0 ইঞ্চি) লম্বা হয়, বিশেষ করে 140 সেন্টিমিটার (55 ইঞ্চি) পর্যন্ত। দীর্ঘতম পরিচিত কালো গণ্ডার শিং পরিমাপ প্রায় 1.5 মি (4.9 ফু) দৈর্ঘ্য। কখনও কখনও, একটি তৃতীয়, ছোট শিঙা বিকাশ হতে পারে। এই শিংগুলি প্রতিরক্ষা, আতঙ্ক, এবং খাওয়ানোর সময় শিকড় খোলার এবং শাখা খোলার জন্য ব্যবহার করা হয়। কালো গণ্ডার সাদা গণ্ডারের চেয়ে ছোট এবং তুলনামূলক দুর্বল।তাছাড়া শিকারের ক্ষেত্রের সুবিধা যদিও বাদ দিই তাহলেও যা আছে তা হলো কালো গন্ডারের লম্বা শিং।লম্বা সিংয়ের ভালো দাম পাওয়া যায়। তোমরা জান কারা শিং কিনে???" রনি ভাই বললেন,,," আমি জানি আরবরা উচু দামে কিনে,তারা এটা নিয়ে অনেক গুজব বিশ্বাস করে,ভাবে আয়ু বাড়ায় অথবা রোগ সারায় টাইপের কিছু"। মি.A বললেন,"একদম ঠিক কথা,তাই আমাদের লক্ষ্য ঠিক ছিল।সময় মতো সব কিছু জোগারও করলাম।এবার রওনা হবার পালা আসল।আচ্ছা চলো চা খেয়ে নিই,গলা শুকিয়ে যাচ্ছে,চা খেয়ে বাকিটুকু বলি।" ইভা বলল, "আচ্ছা চা বানিয়ে আনছি,সুস্মি আর তুবা চল তো,চা না খেলে আমার চলে না।" তারা চা আনতে গেল,চা খাওয়া শুরু করলাম।এখন চা খাওয়ার বিরতি নিচ্ছি,চা খেয়ে বাকিটা বলব,ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। [কেমন লাগল গল্পটা???পরের পর্বে মি.A এর অভিযানের সম্পূর্ণ গল্পটা বলব।ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন আর সবসময় ভালে এবং ভালোর দলেই থাকুন] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now