বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
↓
শহরের নামকরা কলেজের অরিযেন্টেশন
ক্লাস আজ। প্রাইভেট কলেজ এটা। রেজাল্ট
আর পাশ এর হারে গতবছরের সেরা কলেজ
এটা। ছেলেমেয়েরা এই কলেজে ভর্তি
হওয়ার জন্য পাগল। অনেক কাঠখড় পুরিয়ে
এখানে ভর্তি হতে হয়। সাইন্স গ্রুপের অনেক
গোল্ডেন পাওয়া ছেলেমেয়ে গুলাও
ওয়েটিং থাকে এখানে। আর অন্যান্য গ্রুপ
গুলাতে ভর্তি হওয়া ম্যাক্সিমাম ছাত্ররাই
এস এস সি তে এ প্লাস পেয়েছে। যাই হোক
এখানকার অতি অসাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের
ভিড়ে খুব সাধারণ একজন ছেলে "হৃদয়"।
মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মার অনেক
আদরের একমাত্র বড় ছেলে। ছেলেটার সাথে
ক্ষেত, গাইয়া, পাগল এইসব বিশেষণ গুলা খুব
ভাল মানায়। ওকে পাগল বলার কারণ, এস এস
সি তে সাইন্স থেকে গোল্ডেন এ প্লাস
পেয়ে গ্রুপ চেঞ্জ করে কেউ আর্টসে
আসে??
ওকে অনেকবার বুঝানো হয়েছিল দেখ তুই এত
ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তুই পড়বি মেডিকেল বা
ইঞ্জিনিয়ারিং আর তুই কিনা আর্টসে
পড়বি? তার সোজা সাপ্টা উত্তর ছিল, বাবা
মেডিকেল এ পড়া টা আমার প্যাশন না আর
আমার কাছে আমার ক্লাস এর চেয়ে প্যাশন
এর মূল্য বেশি। আমার স্বপ্ন আমি ঢাকা
ইউনিভারসিটি তে পড়বো এল এল বি কিংবা
জার্নালিজম নিয়ে। কে কি বললো এটা
নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই। শেষ পর্যন্ত
নিজের ইচ্ছাতেই ভর্তি হলো আর্টস গ্রুপে।
বাসা থেকে কলেজ অনেক দূরে হওয়ায়
হোস্টেলে থাকবে ও। এই ছেলেটা একদম
অদ্ভুত টাইপের। কখনো কারো কথা শুনবে না
নিজের মনে যা আসবে তাই করবে। আর ওকে
বুঝানো টাও অসম্ভব। ওকে যতই বুঝানো হোক
ওর যুক্তির কাছে শেষমেশ হারতে হবেই।
ছেলেটা অনেক যুক্তিবাদী। বয়স খুব একটা
না হলেও এই বয়সের ছেলেমেয়েদের তুলনায়
অনেক বেশি ম্যাচিউর ও। তবে ওর সাথে খুব
ভালভাবে না মিশলে আপনি কখনো বুঝতে
পারবেন না ছেলেটা কত ম্যাচিউর। ওর মা
বাবার মতে ও নাকি একদম বোকা, ঠিক মতো
চলতে পারে না, নিজের খেয়াল রাখতে
পারে না, এখনো তার জামা কাপড় বাবা মা
ধুয়ে দিতে হয়, পড়ালেখার প্রতি কোন
মনোযোগ নাই, সারাদিন মোবাইল টিপে,
চঞ্চল, দুষ্ট আরো কত কি... আর এ সকল
কারণেই ওর বাবা মা ও কে বাইরে পাঠাতে
রাজি ছিল না। শেষমেশ ওর যুক্তির কাছে
হেরে বাসা থেকে দূরে পাঠাতে হলো আর ও
যাওয়ার আগে বলেছিল, বাবা-মা তোমরা
দেখো আমি ঢাবি তে টিকে দেখাবোই।
ছেলের হুট করে এই আমূল পরিবর্তনে ওর
বাবা মা একটু আশ্চর্যই হলেন।
।
কলেজের অরিয়েন্টেশন ক্লাস আজ। সব
ছেলেমেয়েরা একে একে কলেজে
ঢুকছে।
আর কলেজের বড় ভাই দের হাল্কা পাতলা
র্যাগিং চলছে। সবাই জড়ো হয়েছে বিশাল
মিলনায়তনে। নতুন কলেজ আর চারপাশের সব
এপ্লাস প্রাপ্ত প্রতিভাবান দের ভিতর
বেচেরা ছেলেটা চুপচাপ বসে আছে। সামনে
প্রিন্সিপ্যাল স্যার ভাষন দিচ্ছে। কলেজের
গুনগান গাইছে আর পোলাপান গুলা খুব
মনোযোগ এর সহিত স্যারের কথা এক কানে
ঢুকাচ্ছে আরেক কান দিয়ে বের করে
দিচ্ছে। তারা ক্লাসের সুন্দরী মেয়েগুলাকে
খুজায় খুব ভালভাবে মনোযোগ দিচ্ছে। এইটা
আমার অইটা আমার এভাবে ভাগাভাগি করে
নিচ্ছে। আর হৃদয় চুপচাপ করে রঙ তামাশা
গুলা দেখছে। হঠাত স্যার জোড় গলায় ধমক
দিলেন চুপ হওয়ার জন্য। ধমকের সাথে সবাই
চুপ, স্যার আবার বলতে আরম্ভ করলেন।
ক্লাসে তখন পিনপতন নীরবতা চলছে। তখনি
কোন একজনের সুমিষ্ট গলার আওয়াজ শুনা
গেল, "স্যার আসতে পারি?" ক্লাসের সবাই
মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
আর প্রিন্সিপ্যাল স্যার মেয়েটাকে বললেন
আরে মামুনি আসো আসো। আসতে অসুবিধা
হয়নি তো? এবার একটু মাথা তুলে তাকালো
হৃদয়। কে এই ব্যাক্তি যার জন্য প্রিন্সিপ্যাল
স্যার এত আপ্যায়ন দেখাচ্ছেন। মেয়েটার
আপাদমস্তক একবার ভাল ভাবে তাকিয়ে
আবারো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । আর
মনে মনে বলছে বড় লোকের আদুরে
দুলালী
হবে হয়তো। মেয়েটা সামনেই একটা বেঞ্চে
বসে পড়লো। স্যার আবার কথা শুরু করলেন।
তবে ক্লাসের পোলাপান গুলার মনোযোগ
ছিল অই নবাগতা মেয়েটার দিকে।
।
যাক অরিয়েন্টেশন ক্লাস শেষে সবাই যার
যার ক্লাসের দিকে যাচ্ছে। আজ হাল্কা
পাতলা ক্লাস হবে। হৃদয় সবার আগেই পিছন
দিকে দিয়ে বের হয়ে চলে আসে ক্লাসের
দিকে। ক্লাসে এসে মাঝামাঝি একটা
বেঞ্চে বসে পড়ে। সবাই ক্লাসে ঢুকছে
আস্তে আস্তে। অই মেয়েটাও ক্লাসে
ঢুকলো।
মেয়েটাকে দেখে ও ভাবছে বাঃ বাঃ
বড়লোকের আদুরে দুলালী আর্টস এ কেন?
যাক সবাই ক্লাসে বসে আছে। একজন
আরেকজন এর সাথে পরিচিত হচ্ছে। এখানের
বেশির ভাগই প্লাস গোল্ডেন পাওয়া
স্টুডেন্ট। একজন আরেকজনকে যখন জিজ্ঞেস
করে এস এস সির রেজাল্ট কি এরা ভাবের
সাথে উত্তর দেয় জিপিএ ৫। হৃদয় চুপচাপ বসে
আছে। ও নিজে থেকে গিয়ে কারো সাথে
কথা বলে না। ওর পাশের একটা ছেলে ও কে
ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করে হাই আমি নিবিড়
তুমি? ও আস্তে করে বলে হৃদয়। এর পর ওদের
মাঝে হাল্কা কথা হয় এমন সময় আরেকটা
ছেলে এসে ওকে বলতে শুরু করে আরে
হৃদয়
ভাইয়া আপনি এখানে? আপনি তো
সেকেন্ড...... (বলার আগেই ওর মুখ চেপে
ধরি) তারপর ওর মুখ চেপে ধরে ক্লাসের
পিছনের দিকে নিয়ে আসে। একদম ওয়ালের
সাথে লাগিয়ে ও কে বলে একদম চুপ থাকবি।
ক্লাসের কেউ আমার কথা জানে না। যদি
কেউ জানে তো তোর খবর আছে আর
আমাকে
ক্লাসে তুই বা তুমি বলবি। ভুলেও আপনি
ডাকবি না। এটা বলেই পিছনের দিকে
তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় ও। ওমা ক্লাসের
সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ক্লাসের
সবাই চুপ করে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে
কোন দাগী আসামী দেখছে। মেয়ে গুলা
বলাবলি শুরু করেছে দেখ ছেলেটাকে...
প্রথম দিনই ক্লাসে ছেছড়ামি শুরু করেছে।
দেখতেই গুন্ডা টাইপ লুক। এই ছেলে দেখবি
অনেক জালাবে আমাদের। এইগুলা বলতে
বলতে এমন সময় স্যার ক্লাসে ঢুকল। হৃদয়
তখনো অই ছেলেটার কলার ধরে আছে।
স্যারকে দেখেই ছেড়ে দিল। স্যার ওদের
দেখে ফেলেছিলেন। আর বললেন এই
ছেলে
এই কলেজ মাস্তানি র জায়গা না। প্রথম
দিনই মারামারি? বেয়াদব কোথাকার আরো
আরো অনেক কিছু বললো। বিরক্তের সহিত
তিনি বললেন কোথা থেকে যে গাধা গুলা
আসে। বসো বেয়াদব। এটা বলতেই ও টুপ করে
বসে গেল। এতক্ষন যে ওকে এতকিছু বলা
হলো এর কোন ভাবান্তর নেই ওর মাঝে।
স্যার এবার নিজের পরিচয় দিলেন। আর সবার
পরিচয় নেওয়া শুরু করলেন। প্রথমে বললেন
আচ্ছা এখানে এ প্লাস পাওনি কে কে?
কয়েকজন স্টুডেন্টস মাথা নিচু করে
দাঁড়ালো। মনে হচ্ছে এরা কোন অপরাধ
করেছে। সবাই তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।
বোধ হয় এরা আজব প্রানী একেকটা। তারপর
স্যার বললেন আরে ব্যাপার না। এস এস সিতে
পাওনি কি হয়েছে ইন্টারে পাবা। এটা বলে
সবাইকে বসিয়ে দিল। এবার বললো কারা
এপ্লাস পেয়েছো দাড়াও। এবার অনেকেই
দাঁড়ালো। সবাইকে বললো যার যার পরিচয়
দাও আর বসে পড়ো। সবাই নিজের পরিচয়
দিল। এক পর্যায়ে হৃদয় এর পালা। ও বলা শুরু
করতেই স্যার বললো বাঃ বাঃ তুমিও প্লাস
পাইছো? নিশ্চিত টাইনা টুইনা পাইছো। হুম
পরিচয় বইলা বইসা পরো। হৃদয় তার পরিচয়
বলে বসে পড়লো। সবার পরিচয় নেওয়া শেষ
হলে স্যার এবার বললো কারা কারা
গোল্ডেন পাইছো তারা একটু দাড়াও তো।
এবার মাত্র দুইজন দাঁড়ালো। হৃদয় আর অই
সুন্দরী মেয়েটা। ও কে দাঁড়াতে দেখে স্যার
বললো আরে গাধা কানে কম শুনো নাকি?
বলছি যারা গোল্ডেন পাইছে তাদের
দাঁড়াইতে। ও আস্তে করে বলে জ্বি স্যার।
স্যার আমতা আমতা করে বলে তুমি গোল্ডেন
পাইছো? ক্লাসের সবাই উতসুক দৃষ্টি তে
তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে তারা এলিয়েন
দেখছে। স্যার বললেন আচ্ছা গোল্ডেন
পাইছো? তো তোমাকে দুইটা প্রশ্ন করি
আচ্ছা বলতো অর্থনীতি কি? হৃদয় কিছুক্ষন চুপ
থেকে আস্তে করে বললো স্যার আমি সাইন্স
থেকে। স্যার ও কে ব্যঙ্গ করে বললো ও
সাইন্স থেকে তো গোল্ডেন পাওয়া সোজা।
তো এস এস সি তে চুরি কইরা গোল্ডেন
পাইয়া এখন বুঝি সাইন্স চালাইতে পারো
না? তাই আর্টস এ আসছো? আর্টস এতো
সোজা না বুজছো? দেখমু তো কি ছিঁড়ো
আর্টস এ আইসা। তারপর স্যার মেয়েটাকে
জিজ্ঞেস করলেন মামুনি তোমার নাকি,
মেয়েটা উত্তর দিলো ফারিয়া(ইসলাম)।
__ ও আচ্ছা বসো মামুনি। এবার
হৃদয়। এর দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বললো
তোমাকে কি কোলে করে বসাতে হবে?
বসো!!! ও আস্তে বসে গেল। সবাই ওর দিকে
তাকিয়ে আছে। ওকে যে এতক্ষন ধরে এত
অপমান করা হলো তার মাঝে বিন্দুমাত্র
বিরক্তি বা রাগ নেই। ও দিব্যি হাসি মুখে
বসে আছে। এই কি আজব ছেলেরে বাবা!
ফারিয়া ও ছেলেটার দিকে একবার তাকালো।
ওর মনে একটু সহানুভূতি সৃষ্টি হলো। স্যার ও
কে এত অপমান করা ঠিক হয়নি। ও বোধ হয়
মনে কষ্ট পেয়েছে। ওর দিকে তাকিয়ে ও
আরো অবাক হয়ে গেল। একদম হাসিমুখে
স্যারের লেকচার শুনছে মনোযোগ দিয়ে।
কেউ দেখলে বুঝবেই না যে এই স্যারই ও কে
এত অপমান করেছে। যাক টিফিন টাইমে
সবাই ক্যান্টিন এর দিকে যাচ্ছে। ফারিয়া ও
যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে ছেলেটার সাথে
একটু কথা বলবে। হঠাৎ ও খেয়াল করলো অই
ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে সেকেন্ড ইয়ারের
কিছু বেয়াদব বড় ভাইদের সাথে। কারণ অই
বড় ভাই গুলা কিছুক্ষন আগে ওকে আর ওর
বান্ধবী দের টিজ করেছে। এবার ও একটু
রেগে গেলো। নিজে নিজেই বললো ঠিক
আছে স্যার ওরে অই গুলা বলছে। যে এমন
বাজে ছেলেদের সাথে মিশতে পারে সে
আর কতটাই ভাল হবে। এখন সাধু সাজে।
দুইদিন পর দেখবো মাথায় উঠে বসছে। ভাল
হইছে কথা বলি নাই। এগুলা মনে মনে
ভাবলো। এর মধ্যে ঘন্টা পরে যেতেই সবাই
ক্লাসের দিকে গেল। হৃদয় আবার আগের
জায়গায় গিয়ে বসলো। এর পর আরো দুই টা
ক্লাস হলো। ক্লাসের ফাকে ফাকে ও
নিজের অজান্তেই হৃদয় এর তাকাচ্ছিল। সবাই
একটু আকটু কথা বল্লেও ও কোন কথা বলে না।
একদম চুপ করে স্যারের দিকে তাকিয়ে
থাকে। আজ কলেজ ছুটি। প্রিন্সিপ্যাল স্যার
ওদের আবার ডেকে বলে দিলো এই কলেজে
৩ মাস পর পর সেমিস্টার এক্সাম হয়। আর
প্রতি সপ্তাহে টিউটোরিয়াল হবে। সবাইকে
পড়ালেখায় সিরিয়াস হওয়ার জন্য বললো।
অইদিন যে যার মতো বাসার দিকে চলে
গেল।
।
সবাই বাসার দিকে যাচ্ছে। হৃদয় নিচের
দিকে তাকিয়ে রাস্তায় হাটছিল। এমন সময়
পাশে দিয়ে ফারিয়া গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ির
চাকার হাল্কা কাদা হৃদয়এর পেন্টে লাগলো
আর ও বলে উঠলো ব্লাডি ইডিয়েট। ফারিয়া
গাড়ির জানালা খুলে ওর দিকে তাকিয়ে
ভেংচি কাটলো কিন্তু নিচের দিকে
তাকিয়ে থাকায় ও খেয়াল করলো না। কড়া
মেজাজ নিয়ে হাটতে লাগলো। কলেজ শুরু
হওয়ার দুই দিন পর বাসা থেকে হোস্টেলে
উঠে গেল ও। হোস্টেলে উঠার দিন সন্ধ্যায় -
রুমের সবাই ধুমছে পড়ালেখা করছে। আজ
প্রথম দিন। স্যারকে খুশী করতে হবে।
কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ই কলেজের
হোস্টেল সুপার কিছুক্ষন পর পরই রুমে এসে
চেক দেন। সবাই যার যার পড়া নিয়ে ব্যস্ত।
হৃদয় এর রুমে ও ছাড়া আরো ৩ জন আছে।
একজন সাইন্স আরেকজন কমার্স আর
আরেকটা হৃদয় গ্রুপের। ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই
খুব মনোযোগ সহকারে পড়তেছে হৃদয়
ব্যতীত।
হৃদয় বসে বসে একটা উপন্যাস ঘাটতেছে।
বইয়ের মাঝে উপন্যাস টা রেখে মনোযোগ
সহকারে পড়ছে। এর মাঝে স্যার একবার
দেখে গেছে। স্যার যাওয়ার সাথে সাথেই ও
বই বন্ধ করে কাথা মুরি দিয়ে ঘুমিয়ে গেল। ও
ঘুমানোর পর ওর রুমমেট রা বলাবলি করছে এই
কি পাগল রে? ৮ টায় কেউ ঘুমায়? এইডা
গোল্ডেন পাইলো কেমনে... আজব পাব্লিক
একটা। ৯.৩০ টায় স্যার আবার আসলো। এসে
দেখলেন হৃদয় ঘুমাচ্ছে স্যারের ধমকে ওর ঘুম
ভেঙ্গে গেল। স্যার ও কে বললেন এইখানে
এগুলা চলবে না। যদি সেমিস্টার এক্সামে
খারাপ করো তাইলে হোস্টেল থেকে বের
করে দিবো। কতক্ষন বকাবকি করে খাওয়ার
জন্য আসতে বলে চলে গেলেন। স্যার যাওয়ার
পর ও হামি দিয়ে বেসিন এ গেল মুখ ধুতে। ওর
রুমমেট গুলা মাথা চুল্কাতে চুল্কাতে একজন
আরেকজনকে বললো এই কি আজব মানুষ রে।
স্যার এত বকলো একটুও আফসুস নাই। খাওয়া
দাওয়া শেষে সবাই আবার পড়তে বসলো আর
হৃদয় শুয়ে শুয়ে উপন্যাস পড়া শুরু করলো।
কিছুক্ষন পর বই টা মুখের উপর রেখে ঘুম.....।
১২ টা বাজার পর সবাই ফ্রেশ হয়ে যার যার
মত ঘুমাতে গেল। ঘুমানোর আগে একজন এসে
ওর মুখের উপর বইটা সরিয়ে দিল। আর একটা
কাথা গায়ে টেনে দিল আর বলছিল দেখ
দেখ কি ইনোসেন্ট লাগে। বেচারা আজ
অনেক বকা খাইছে ক্লাসেও আবার
এখানেও। সুমন স্যারের ক্লাসে ডেইলি বকা
খায়। যে যার মত ঘুমিয়ে পড়লো। রাত প্রায় ১
টা বাজে। হৃদয় উঠে ওর টেবিল ল্যাম্প টা
জালালো। এবার ওর নিজের বই গুলা নিয়ে
বসলো। ক্লাসের পড়া শেষ করে বাড়তি একটু
পড়ে তারপর প্রায় ৪.৩০ টায় ঘুমিয়ে পড়লো।
সকাল ৮ টা বাজে। সবাই অনেক আগে উঠে
গেছে। কিন্তু হৃদয় এখনো ঘুমাচ্ছে। ওর রুমমেট
ওরে ধাকাচ্ছে আর বলছে আরে মিয়া তুমি
তো পুরাই কুম্ভকর্ণ। রাতে ১০ টায় ঘুমাইয়া
যাও আবার ৮ টা পর্যন্ত ঘুমাও। ক্লাস শুরু হয়ে
যাবে তাড়াতাড়ি আসো। হৃদয় হু বলে আবার
চোখ বন্ধ করে রইলো। এর পর উঠে আস্তে
আস্তে ফ্রেশ হয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে
ক্লাসের দিকে গেল। ১০ মিনিট লেট।
ক্লাসে ঢুকতেই স্যার বললেন অই দেখো লেট
লতিফ আসছে। সারা রাত কি করো? চুরি
করো না পাহাড়া দাও? কানে ধরো... বলতেই
ও কানে ধরলো। স্যার এবার বিরক্ত হয়ে
বললো এই কি আজব প্রানী? তোমার কি
লজ্জা শরম। নাই? যাও সিটে বসো। ও এসে
দিব্যি বসে পড়লো। কোন বিরক্তি বা
রাগের চিহ্ন নাই মুখে। ক্লাসের সব
মেয়েগুলা তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
ফারিয়াও আড়চোখে দেখছে, আসলেই অদ্ভুত
একটা জীব এটা। কখনো কারো সাথেই কথা
বলে না। ক্লাসে আইসা ভেবলার মত
তাকাইয়া থাকে বোর্ড এর দিকে। না হয়
ক্লাসের ফাকে সব পোলাপান গুলা
মেয়েদের সাথে কথা বলার জন্য ট্রাই মারে
আর এইটা কি আজব প্রানী। ট্রাই তো দূর
কোন দিন কারো সাথেই কথা বলে না। না
ছেলে না মেয়ে। সারাক্ষন উপন্যাস পড়ে
বইসা বইসা তাও কি আজাইরা উপন্যাস।
এগুলা ভাবতে থাকে ফারিয়া। টিফিন
পিরিয়ডে ও কে দেখা যায় হয় লাইব্রেরীতে
না হয় ক্যান্টিনে সেকেন্ড ইয়ারের বড় ভাই
আপু গুলার সাথে কথা বলছে হাসতে হাসতে।
হৃদয় কে ওদের সাথে দেখলেই প্রচন্ড রাগ হয়
ফারিয়ার। মনে মনে বলে নিজের ক্লাসের
ছেলেমেয়ে দের সাথে কথা বলে না বড় ভাই
আপু দের সাথে টাংকি মারে। ফাজিল
কোথাকার। এভাবেই প্রতিটা দিন যায় হৃদয়
এর। ওর প্রতিদিন এর রুটিনে বকা থাকবেই।
কোন না কোন ক্লাসে বকা খাবেই আর না
হয় হোস্টেল সুপার এর বকা খায়। বকা খাবেই
না বা কেন? উনি প্রায়ই দেখেন ও ১০ টা না
বাজতে ঘুমিয়ে যায়। অইদিন ও কে বলে এই
সেমিস্টার টা দেখি। একটা সাব্জেক্ট
খারাপ করো তাইলেই হবে। সবাইকে চান্স
দিলেও তোমার কোন চান্স নাই ডাইরেক্ট
বের করে দিবো। ও হু বলে স্যার যাওয়ার পর
ঘুমাইয়া পড়ে। আর রুমমেট গুলা কনফিউজড
হয়ে যায় এটা কি আসলেই মানুষ না আরো
কিছু?? ও প্রতিদিন কার মত বারোটা-একটা
পর্যন্ত ঘুমায় তারপর পড়ে। আর প্রতিদিন লেট
করে ক্লাসে যায় আর বকা খায়। ওর রুটিন
কোন দিনও চেঞ্জ হয় না। এর মধ্যে দুই
সপ্তাহ পর প্রথম টিউটোরিয়াল পরীক্ষা
হলো। পরীক্ষায় পুরো ক্লাসে ফারিয়া ফাস্ট।
৫০ নাম্বারের পরীক্ষায় ৪৭ পেয়েছে। আর
হৃদয় পেয়েছে ৫০ এ ২৭। স্যার ও কে তিরস্কার
করে বললো আরে মি. গোল্ডেন এই হলো
আপনার ক্যালমা?? আরে অই মেয়েটাকে
দেখো (ফারিয়াকে দেখিয়ে) ও তো
গোল্ডেন
পেয়েছে আর নিজের জায়গা ধরে রেখেছে
তোমার মত জালি গোল্ডেন না। পড়ালেখা
তো পারই না আবার ভাব দেখাও। আরো
অনেক কিছু বলে স্যার চলে গেলেন। সবাই
ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েগুলা
বলাবলি করছে ঠিক মতো আছে। ভাল হইছে।
বেশি ভাব দেখায়। মনে হয় কি না কি একটা।
কথা গুলা শুনে ফারিয়ার কেন যেন খুব কষ্ট
লাগলো। ও বললো চুপ করবি তোরা। তারপর
হৃদয় এর দিকে তাকালো। এই প্রথম ওর মন
খারাপ দেখলো। মুখ গোমড়া করে
সারাক্লাস বসে ছিল। টিফিন এর ঘন্টা
দেওয়ার পর সবাই বের হয়ে যাচ্ছিল। হঠাত
দেখলাম ও টেবিলের উপর খুব জোড়ে একটা
ঘুষি দিল তারপর ব্যাগ নিয়ে চলে গেল। এটা
ফারিয়ার চোখে পড়েছিল। লাবন্য ভাবছিল ওর
সাথে কথা বলবে কিন্তু এর আগেই ও
বেরিয়ে গেল। সোজা হোস্টেলে চলে
গেল।
ফারিয়া ও কে অনেকক্ষন ধরে খুজলো বাট
পেলো না। হঠাত ওর রুমমেট পলাশ কে দেখে
ডাক দিল, এই পলাশ শুনো?
_হ্যা বলো?(পলাশ)
_আচ্ছা তোমার বন্ধু কই?(ফারিয়া)
_কোন বন্ধু?(পলাশ)
_আরে হৃদয়।(ফারিয়া)
_ও ও... ও বললো মাথা ব্যাথা করছে।
স্যারকে বলে রুমে চলে গেল..। কেন বলো
তো?(পলাশ)
_ও আচ্ছা, ওর সম্পর্কে কিছু জানো? ও এমন
কেনো? কার সাথে কথা বলে না। ক্লাসে
তো অনেক মনোযোগী থাকে তাহলে
পরীক্ষায় খারাপ করলো কেন?(ফারিয়া)
_আরে ও যে পাশ করছে এইটাই বেশি। তুমি
জানো ওকে আমি আজ পর্যন্ত পড়তে
দেখিনি। না না পড়তে দেখিনি বললে ভুল
হবে। ও পড়ে। কি পড়ে জানো? কোন দিন
গল্প, উপন্যাস, কখনো সাধারণ জ্ঞান, কখনো
পত্রিকা বা কারেন্ট এফেয়ারস। আমি বুঝি
না এই কি মানুষ। আমার মাঝে মাঝে লাগে
আমাদের মাঝে একটা এলিয়েন থাকে।
নিজের বই ধরেও না। তুমি বলো ভাল করবে
কিভাবে? তা হঠাত ওর কথা জিজ্ঞেস
করলা? প্রেমে টেমে পড়লা নাকি? (পলাশ)
_আরে ধুর। এমনিই জিজ্ঞেস করলাম। আর
তুমি কি যে বলো কত ছেলে আমার পিছনে
ঘুরে আর আমি কিনা এই সাইকোর প্রেমে
পড়মু। বাদ দাও তো। আচ্ছা বাই পরে কথা
হবে।(ফারিয়া)
।
আবার ক্লাস শুরু হলো। ক্লাসের মাঝে মাঝে
ফারিয়া মাঝের সিট টার দিকে তাকাচ্ছে।
এখানেই সাইকো টা বসে। ও কখনো ক্লাস
মিস দেয় না। তাই ও কে প্রতিদিনই দেখে
ফারিয়া। ক্লাসে আসলে হা করে ভেবলার
মতো তাকিয়ে থাকে বোর্ড এ। মন চায় গিয়ে
উড়া মেরে ফেলে দি। কিন্তু আজ কেন যেন
খুব শুন্য লাগছে। এই জায়গার দিকে বার বার
চোখ চলে যাচ্ছে। ক্লাসে মন বসাতে পারছে
না ফারিয়া। কোন রকমে ক্লাস গুলা শেষ করে
বাসায় এসেছেএসেছে। বাসায় এসে
বিছানায় শুয়েই তার হৃদয় এর কথা মনে
আসছে। কেন আজ ও কে এত মিস করলো। ও
কে কেউ কিছু বললে কেন আমার কষ্ট লাগে?
তাহলে কি পলাশ এর কথা সত্যি? আমি ওর
প্রেমে..... ধুর না!! ওর মতো একটা সাইকোর
প্রেমে পড়বো আমি? না না না না। নিজে
নিজেই এগুলা চিন্তা করছে ফারিয়া।
সারারাত এগুলা চিন্তা করতে করতে গেল।
আগের মতই চলছিল সব। এর মধ্যে দ্বিতীয়
টিউটোরিয়াল শুরু হলো। স্যার পরীক্ষার
খাতা দেখার সময় পান নি তাই ক্লাসে এসে
খাতা গুলা এক্সচেঞ্জ করে দিলো।
ছেলেদের গুলা মেয়েদের কাছে আর
মেয়েদের গুলা ছেলেদের কাছে।
ভাগ্যক্রমে হৃদয় এর খাতা গিয়ে পড়লো
ফারিয়ার হাতে। ফারিয়ার পাশের দুই বান্ধবী
বলে উঠলো অই দেখ সাইকোর খাতা তোর
কাছে। দেখি দেখি কি পাইছে আমাদের
সাইকো গোল্ডেন বয়। এর আগে তো টাইনা
পাশ করছে এবার তো আমাদের কাছে খাতা
দেখিস এবার ফেল মারবো। ফারিয়া বললো চুপ
থাক, দাড়া লেখাগুলা দেখি। লেখা গুলা
দেখে তাদের তিন জনের এক্সপ্রেশন ছিল
এই রকম-
ওয়াও। কি সুন্দর লিখা।
একদম কম্পিউটার টাইপ মনে হয়। কারো
হাতের লেখা এত সুন্দর হতে পারে...। ফারিয়া
কিছু বলছিল না। চুপচাপ লিখাগুলার উপর হাত
বুলাচ্ছিল। আর আড়চোখে হৃদয় কে দেখছিল।
ও সেই আগের মতই ভেবলা স্টাইলে স্যারের
দিকে তাকিয়ে আছে। স্যার এবার উত্তর
বলা শুরু করলেন। সবাইকে উত্তর মিলাতে
বললেন আর নাম্বার বসিয়ে দিতে বললেন।
খাতা কাটা শেষ হলে নাম্বার গুনে ফারিয়ার
চোখ চড়কগাছ। হৃদয় ৫০ আউট অফ ৫০। খাতা টা
আবারো ভাল ভাবে দেখলো। না কোন ভুল
নেই। স্যারের কাছে জমা দিয়ে আসলো।
এবার স্যার যারা যার খাতা তাকে দিতে
লাগলো। ফারিয়া ৪৮ পেয়েছে। স্যার ও কে
কনগ্রেটস দিলেন। হঠাত হৃদয় এর খাতা দেখে
স্যারের চোখ চড়কগাছ। স্যার ধমকের সুরে
বললো এই খাতা কে দেখেছে? ফারিয়া
আস্তে উঠে দাঁড়ালো। বললো কি খাতা
দেখেছো তুমি? এই গাধা ৫০ পায় কিভাবে?
স্যারের কথা শুনে ফারিয়ার মাথা গরম হয়ে
গেলো। ও বললো স্যার আপনার প্রব্লেম কি?
আমি সব সময় দেখি আপনি ওর সাথে এমন
ব্যবহার করেন। আমি ভালভাবেই খাতা
দেখেছি। এবার আপনি দেখুন। আর সবাই ই
আপনার স্টুডেন্ট। কিন্তু ওর প্রতি সব সময় এমন
করেন কেন? স্যার ফারিয়াকে বসিয়ে দিয়ে
হৃদয় এর খাতা টা দেখতে লাগলো। একবার
দেখার পর চশমার ফাক দিয়ে একবার হৃদয় এর
দিকে তাকালো। খাতা ভালভাবে দেখে
স্যার ফারিয়াকে গিয়ে বললো সরি মা।
তারপর হৃদয় কে ডাক দিয়ে সামনে এনে
বললো এবারের টিউটোরিয়াল এ ফাস্ট
হয়েছে হৃদয়। সবাই তাকিয়ে আছে হা করে।
মনে হয় এটা অসম্ভব কিছু। অইদিন ক্লাস শেষ
হওয়ার পর, ফারিয়ার বান্ধবীরা ও কে বলতে
শুরু করলো কিরে আজ এমন করলি কেন? হঠাত
সাইকোর প্রতি এত দরদ উতলে উঠলো।
প্রেমে পড়ে গেলি নাকি? প্রেমে পড়ার আর
মানুষ পাইলি না? একে তো সাইকো তার উপর
পুরা ক্ষেত। এইসব শুনতে শুনতে ফারিয়ার মাথা
আরো গরম হয়ে গেল। ও চেঁচিয়ে বলে
উঠলো
হ্যা আমি ওর প্রেমে পড়ছি আমি ওকে
ভালবাসি তোদের কোন সমস্যা? পারলে ওর
মত যোগ্যতা অর্জন করে দেখা। ওকে নিয়া
আরেকটা বাজে কথা বলবি তো তোদের খবর
আছে। ওর কথায় সবাই ঠান্ডা হয়ে যায়। ও
রাগে গিজগিজ করতে করতে চলে আসে।
বাসায় এসে ভাবতে থাকে কথাগুলা। ও কেন
এমন রিয়েক্ট করলো। ও কি সত্যি হৃদয় কে...
না!! এই ছেলেটা সম্পর্কে কেউ কিছু জানে
না। না জেনে না শুনে কারো প্রেমে পড়া
যায় না। ছেলেটাকে পছন্দ বা ভালবাসার
মত কোন কিছুই নেই ওর মাঝে। দেখতে
স্মার্ট না চলে ক্ষেত ভাবে, মোটামুটি
কালোই বলা যায়। কত স্মার্ট ছেলে আমার
পিছনে ঘুরে। কিন্তু আমি কেন সারাক্ষন ওর
কথা ভাবছি। ধুর ভাল লাগে না। কাল ওর
সাথে কথা বলবোই। এগুলা চিন্তা করতে
করতে আজ আর পড়া হয় না। আজকে কথা
বলবে এটা ভেবে আজ কলেজে আসে লাবন্য।
কলেজে এসেই খুজতে থাকে ও কে। অনেক
খুজেছে ও কিন্তু পাচ্ছে না। শেষে ভাবলো
একবার হোস্টেলে গিয়ে দেখি। ছেলেদের
হোস্টেলে তো এভাবে ঢুকা যাবে না। এমন
সময় ক্লাসে ঘন্টা দিয়ে দিল। ও চুপ করে
ক্লাসে এসে বসলো ভাবলো ও তো প্রায়ই
লেট করে আসে আজো লেট করেই
আসবে।
স্যার আসছে ১০ মিনিট এর উপরে হলো।
ফারিয়া বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
অনেকক্ষণ হলো গাধাটা আজ আসলো না।
বার বার মাঝের বেঞ্চ টার দিকে
তাকাচ্ছিল। কেমন যেন একটা শুন্যতা অনুভব
করছে ও। সারা ক্লাসে মনোযোগ দিতে
পারলো না। খুব কান্না পাচ্ছে ওর। কেন এমন
হচ্ছে সে নিজেও জানে না।। ওর রুমমেট
পলাশ টাও আজ আসে নি। কোন রকমে ক্লাস
শেষ করে দৌড়ে গাড়িতে উঠে চলে গেল।
গাড়িতে বসেই কান্না শুরু করলো। বাসায়
এসেই দরজা বন্ধ করে কান্না শুরু করলো। মা
এসে কিছুক্ষন ডেকে গেছে কিন্তু কোন লাভ
হয় নি। সারাদিন আর কিছুই খায়নি ও। রাতে
মা খাবার নিয়ে ওর পাশে এসে বসলো।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই ও জেগে উঠলো।
কান্না করতে করতে চোখ লাল করে
ফেলেছে। মায়ের সাথে অনেক ভাব
ফারিয়ার। ওর বাবা বিশাল ব্যবসায়ী। বেশির
ভাগ সময় বাইরেই থাকে। ছোট থেকে
ফারিয়ার সবচেয়ে ভাল বন্ধু ওর মা। মার সাথে
সব শেয়ার করে ও। ক্লাস নাইনে থাকা
অবস্থায় এক ছেলে ওকে প্রেম পত্র দেওয়ায়
ভে ভে করে কাঁদতে কাঁদতে মার কাছে
এসেছিল। মা মেয়েকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দুজনে
মিলে পত্রটা পড়েছিল। পত্র পড়ে এরা
হাসতে হাসতে শেষ। ২৬ টা বানান ভুল ছিল।
বানান গুলো ঠিক করে অই ছেলেকে দিয়ে
বলেছিল তোমার বানান গুলা ঠিক করে
দিয়েছি আরেকজনকে দিয়ে দিও। এমনি
ছিল ফারিয়ার মা আর ওর সম্পর্ক। মা এসে ওর
মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো
কি হয়েছে মামুনি? তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড
কে বলবা না? এবার ফারিয়া আবারো ভে করে
বাচ্চাদের মত কান্না করে দেয় আর নাক
মুছতে মুছতে বলে মা আমি আজকে হৃদয় কে
দেখি নাই। ও আজকে ক্লাসে আসে নাই।
আরো জোড়ে জোড়ে কান্না করতে করতে
হৃদয় এর সম্পর্কে বলতে থাকে। সব বলা শেষ
হলে ওর মা হাসতে হাসতে বলে বুঝলাম
আমার মেয়ে একটা সাইকোর প্রেমে
পড়েছে। তা মামুনি আমাকে পরিচয় করিয়ে
দিবা না ওর সাথে? আরে আমি তো নিজেই
এখন কথা বলি নাই ওর সাথে। ও তো মনে হয়
আমাকে চিনেই না। আরে বাবা বলে কি?
কথা না বলেই প্রেমে পড়ে গেলা।
_মামুনি ও তো কারো সাথেই কথা বলে না।
অইদিন এক মেয়ে ও কে গিয়ে বলে আমি
তোমার সাথে বন্ধুত্ত করতে চাই। ও সরাসরি
বলে দিল আমি মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ
করি না। আমাকেও যদি এমন বলে তাই যাই
না।
_বাঃ বাহ: পারসোনালিটি আছে বলতে হবে।
দেখতে হয় তো ছেলেটাকে।
_আচ্ছা আগে আমি কথা বলি তারপর একদিন
পরিচয় করিয়ে দিবো।
এগুলা বলতে বলতে মা ও কে খাইয়ে
দিয়েছে। আচ্ছা সব হবে। এবার তুমি ঘুমাও।
ফারিয়া বাচ্চা মেয়ের মতো তার বারবি ডল
টাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে যায়। মেয়েটার
চোখে এখন স্বপ্নেরা খেলা করছে। কোন
একজনকে পাওয়ার স্বপ্ন। পূরন হবে কি স্বপ্ন
গুলো !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now