বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
অ্যাঙ্গোলা: মৎসকুমারী কিয়ান্ডা এবং অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী
X
অ্যাঙ্গোলার অনেক গল্প, উপকথা এবং পৌরাণিক চরিত্র আছে যা বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার মত। এগুলো ছোটদের এমনকি বড়দের কল্পনাকেও পূর্ণ করে, সমৃদ্ধ করে অ্যাঙ্গোলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে।
উদাহরণ স্বরূপ, কিয়ান্ডা চরিত্র টি বেশ জনপ্রিয়। জলের দেবী, যে প্রথাগতভাবে ভোট প্রদানে পূজিত হয়। অ্যাঙ্গোলার সাহিত্যে বোদ্ধাদের মধ্যে একজন, পিপেটেলা, “ও সাইলেনসিও ডা কিয়ান্ডা” [ কিয়ান্ডার নিরবতা] শীর্ষক একটি বই লিখেছেন।
এ্যা ম্যাটারিয়া দো টেম্পো [সময়ের উপাত্ত] নামক ব্লগের লেখক দেনুডাদো বলেছেন এই মৎসকুমারীর প্রতি দূর্বলতা সম্পর্কে কিছু কথা:
অনুবাদ মূল উক্তি
যখন আমি অ্যাঙ্গোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাজশ্রেণীর সাথে মিলিত হয়েছিলাম তখন আমি সে দেশের অনেক প্রচলিত উপকথা এবং লোকগাথা শুনেছিলাম। জীববন্তুর অন্যান্য লোকগাথা ব্যতিত, প্রায় সব গল্পেই আমি শুনেছিলাম মৎসকুমারীর একটা পৌরাণিক ভূমিকা আছে। অ্যাঙ্গোলার সাধারণ জনগণ দৃঢ়ভাবে মৎসকুমারীর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে, যাকে তারা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী ভাবে। কুইমবুনডো (জাতীয় ভাষার একটি) তে মৎসকুমারীকে বলা হয় ইয়ান্ডা, যা এক বচনে কিয়ান্ডা বলা হয়। প্রত্যেক জলীয় পরিবেশে মৎসকুমারী থাকে, এরকমই বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক নদী, জলাশয় অথবা পুকুর এ তার নিজস্ব কিয়ান্ডা আছে যার নামানুসারে নদী, জলাশয় বা পুকুরের নামকরন হয়। কিছু ক্ষেত্রে, সে জলীয় পরিবেশের প্রতিমূর্তি।
উপরের ব্লগে, লেখক কিয়ান্ডার সম্পর্কে যেসকল গল্প শুনেছেন তার একটি বর্ণনা করেন:
অনুবাদ মূল উক্তি
প্রায়শ:ই আমি মৎসকুমারীর যে গল্পটি শুনতাম তাতে একজন গরীব লোকের সামনে এক মৎসকুমারী দেখা দেয় যার কাছে সে (মৎসকুমারী) এক গুপ্তধনের সন্ধান পেশ করে। হঠাৎ ধনী হয়ে ওঠা লোকটি সব ধন সম্পদ তার লোকালয়ের কল্যান ব্যতিত কেবল নিজের কল্যানে ব্যয় করে স্বার্থপরের মত আচরণ করতে শুরু করেছিল। শাস্তি স্বরূপ মৎসকুমারী তখন তার গুপ্তধন অদৃশ্য করে দিয়ে লোকটি সম্পূর্ণ দুর্দশায় পতিত করল। কখনও কখনও শাস্তি হতো রুঢ় এবং লোকটি নদী বা পুকুরের তলদেশে চিরকালের মত জাদুতে বশীভূত হয়ে থাকত। মৎসকুমারীর আরোও গল্প আছে যেখানে পুরো গ্রাম স্বার্থপর এবং লোভী আচরণ করে, যে ক্ষেত্রে পুরো লোকালয়ের উপর শাস্তি নেমে আসে, তারপর জলাশয় বা নদীর তলদেশে জাদুতে বশীভূত হয়ে থাকে। এমন অ্যাঙ্গোলাবাসী আছে যারা যীশূর রক্তের শপথ করে বলে যে তারা একটা গ্রামের নারীর কান্নার শব্দ, কুকুরের ডাক অথবা গৃহপালিত মোরগের গান শুনেছে যাদের পুকুর বা নদীর তলদেশে বাস করা জন্য জাদু করা হয়েছে।
কিয়ান্ডার সাথে আরও আছে জ্যাকার ব্যাংগো রূপকথা। এই চরিত্রকে ঘিরে অনেক ধরনের সংস্কার চালু আছে , যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো: উপকথায় আছে যে ব্যাংগো প্রদেশের ক্যাক্সিটো শহরে, একটি বিশেষ কুমির অফিসের প্রধানকে কর দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল, যে ব্যক্তি(প্রধান) কর পরিশোধ হলো কিনা তা সুনিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ। বলা হয় যে সেই অফিস প্রধান এলাকার অধিবাসীদের প্রতি এমনই নিষ্ঠুর ছিল যে কুমিরটি সে আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজে কর দিতে যাবে এবং তার ঔদ্ধত্বকে থামিয়ে দেবে। যখন কর সংগ্রাহক দেখল যে মহৎ কুমিরটি দানদে নদী হতে তার অভিলাষ পূরণে উঠে এসেছে, তখন সে ভীত হলো এবং জনগণের সাথে অসদাচারণ বন্ধ করে দিল।
অলথার দো টেমপো ( সময়ের দর্শন) এর লেখক অন্য সংস্করণটি সম্পর্কে বলেন:
অনুবাদ মূল উক্তি
আমাকে যা বলা হয়েছিল, ঔপনিবেশিক আমলে সকলকে কর/খাজনা দিতে হত। সে জন্য ক্যাক্সিটোর জনগণ করের সকল অর্থ একত্রিত করে তা কুমিরের মুখে রেখেছিল এবং তারপর সেটাকে তারা গভর্ণরের কাছে পাঠাল কর হিসেবে গ্রহনের জন্য। সেটা দেখে, গভর্ণর অর্থ আর চাইলেন না এবং জনগণের কাছ থেকে কর নেয়া বন্ধ করে দিলেন। এটা সত্য হোক বা না হোক, গুজব বা উপকথা হোক বা নাহোক, স্পষ্টভাবে আমি তা জানিনা, কিন্তু আমি মনে করি আমাদের পর্তুগালে কুমির থাকা উচিৎ ছিল।
পেডরো করডোসো তার ব্লগ কোইসাস ডি’অ্যাঙ্গোলা, যা কিমবুনডো লোকগাথার একটি উপকথা, তে বলেন“ সিংহ বন্ধুত্বের মতই শক্তিশালী।”:
অনুবাদ মূল উক্তি
দুইজন বন্ধু প্রতিদিনই দেখা করত এবং কথোপকথন চালিয়ে যেত। তাদের একজন মন্তব্য করেছিলেন:
-চারদিকে সিংহ। সমস্যা এড়ানোর জন্য বাসায় সাবধানে থেকো।
-সিংহ প্রবেশ করতে সমর্থ হবেনা। আমার কাছে বন্দুক ও ছুরি আছে।
-তুমি ভুল করছ। তুমি সিংহের সাথে লড়াই করতে পারবেনা।
– আমি জানি আমি পারব।
তারা হেসেছিল এবং আডডা চালিয়েছিল বিচ্ছিন্ন হওয়া পর্যন্ত।
ঐ ব্যক্তি তার বন্ধুকে উপদেশ দেয়ার পর একমাস অতিক্রান্ত হলো, তাই সে উপায় বের করল যে নিজেই সিংহ সাজবে এবং সিদ্ধান্ত নিল বন্ধুকে ভয় দেখাবে হিংস্রভাবে গর্জন করে। সে তার বাড়ীর দরজায় আঁচড় কাটল এবং বন্ধুকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেল। সে তাকে জাগাল, প্রহার করল এবং যা পেল সব ধ্বংস করে ফেলল। বন্ধুকে দুর্দশাপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখে সে চলে গেলো এবং পুনরায় মানুষ রূপে পরিবর্তিত হলো। পরবর্তী দিন সে যে বন্ধূকে হামলা করেছিল তাকে দেখতে গেলো যে তাকে বলল:
-প্রিয় আমার! সিংহ এসেছিল এবং সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল!
– কেনো তুমি তাকে গুলি করনি বা আঘাত করনি।
-বন্ধু আমার, সিংহ বন্ধুত্বের মতই শক্তিশালী ছিল!
এই অংশটাকে শেষ করতে, আরেকটা জনপ্রিয় উপকথা রয়েছে, যা কচ্ছপ ও হরিণের একটি গল্প থেকে নেয়া হয়েছে কনফেরারিডেসাগ্যডোস [ কচ্ছপের ভ্রাত্তৃত্ব বোধ] ব্লগ হতে:
অনুবাদ মূল উক্তি
একদিন, কচ্ছপ ও হরিণ তর্ক করতে লাগল যে তাদের মধ্যে কে উত্তম দৌড়বিদ। তাই কচ্ছপ তার পুরাতন বন্ধু হরিণকে একটা প্রতিযোগীতার প্রস্তাব দিল: তারা দৌড়াবে তাদের প্রস্থান হতে গন্তব্য পর্যন্ত পথ চিহ্ণিত করে করে। তার একসাথে শুরু করবে এবং দেখবে কে প্রথমে শেষ করতে সমর্থ হবে। হরিণ চ্যালেঞ্চ গ্রহণ করা পর, ঘুমাতে গেলো। অন্যদিকে কচ্ছপ তার সকল কচ্ছপ বন্ধুদের সাথে দেখা করল। সে তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা করল যে তাদের প্রত্যেকে তাদেরকে হরিণের প্রত্যাশিত পথে দাঁড় করিয়ে রাখবে। নির্দিষ্ট দিনে, হরিণ দেরী করে ফেলল, বিলম্ব হলো, কিন্তু কচ্ছপরা ঠিকই তার জন্য অপেক্ষা করছিল। হরিণ একসাথে যাত্রার সুবিধা পরিত্যাগ করলো, দ্রুত দৌড়াতে শুরু করল। পথের কিছু স্থানে সে থামল এবং পেছনে তাকিয়ে দেখল তার সহযোগীকে দেখা যায় কিনা। সে দেখল কচ্ছপ তাকে ফেলে আগে চলে গেলো। আসলে সে তার জন্য পথে অপেক্ষা করছিল। পুরো যাত্রায় এরকম ঘটনা অনেকবার ঘটল যতক্ষণ না হরিণ অধৈর্য্য হয়ে বুঝতে পারল যে কচ্ছপ তার চেয়ে দ্রুত ছোটে, যার প্রেক্ষিতে তার বন্ধু প্রতিউত্তর দিল:-, বন্ধু, আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমি স্কুল শেষ করেছি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
পুলিশ প্রধান আলী সিলভু ও গোয়েন্দা প্রধান আহমাদু সিফু ভারী পর্দা ঠেলে প্রধানমন্ত্রীর ড্রইংরুমে প্রবেশ করল। চোখে-মুখে দারুণ উত্তেজনার ছাপ।
বসল তারা। তাদের পেছনে পেছনে প্রবেশ করেছিল প্রধানমন্ত্রীর পিএস।
প্রধানদ্বয় বসলে পিএস বলল, ‘স্যার আপনারা বসুন। প্রধানমন্ত্রী স্যার এখনি আসছেন।’
বলে প্রধানমন্ত্রীর পিএস ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
পিএস বেরিয়ে যেতেই গোয়েন্দা প্রধান সিফু পুলিশ প্রধানকে বলল, ‘অসময়ে আমরা হঠাৎ এভাবে এসে পড়লাম। স্যার হয়তো বিরক্ত হবেন।’
‘বিরক্ত হবেন কি, যে খবর আমরা নিয়ে এসেছি তা শোনার পর আকাশ থেকে পড়বেন। বলবেন খবরটা আরো আগে আমরা দেইনি কেন। খুশি হবেন তিনি খবরটা নিয়ে আমরা স্বয়ং তাঁর কাছে আসার জন্যে।’ বলল পুলিশ প্রধান আলী সিলভু।
পুলিশ প্রধানের কথা শেষ হতেই প্রধানমন্ত্রী ড্রইংরুমে প্রবেশ করল।
পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধান শশব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল। তারা এতটাই উত্তেজিত ও বিব্রত ছিল যে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিতেও ভুলে গেল।
প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা তাদের সালাম দিয়ে তাদের বসতে বলে নিজে বসল।
পুলিশ প্রধান বসতে বসতে বলল, ‘স্যার আমরা দুঃখিত, অসময়ে আপনাকে বিরক্ত করলাম। কিন্তু এমন একটা জরুরী খবর যে, নিজেরাই চলে আসা ঠিক মনে করলাম।’
‘কি খবর?’ প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা উৎসুক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
‘স্যার, আমরা মাফিয়া ‘কিনিক কোবরা’র বিরুদ্ধে যে মাফিয়া গ্রুপকে খবর সংগ্রহের জন্য নিয়োগ করেছিলাম, তাদের লোক এই কিছুক্ষণ আগে আমাদের অফিসে এসেছিল। গুরুত্বপূর্ণ খবর আমরা তার কাছ থেকে পেলাম।’ বলল পুলিশ প্রধান।
‘খবরটা কি?’ জিজ্ঞেস করল প্রধানমন্ত্রী।
‘স্যার আপনার লোক মি. আব্দুল্লাহ যাকে কিনিক কোবরার লোকরা কিডন্যাপ করেছিল, তিনি কিনিক কোবরার দশ বারোজন লোককে হত্যা করে পালিয়েছেন। কিনিক কোবরার নেতা জোয়াও লেগার্ট আহত হবার পর গতকাল মারা গেছে। আপনি জানেন, গত রাতেই জোয়াও লেগার্টের নির্দেশে কিনিক কোবরার লোকরা ওভানডোদের বাড়ি আক্রমণ করতে যায়। চার গাড়ি পুলিশ পাঠানো হয় আপনার নির্দেশে। কিন্তু হঠাৎ পুলিশের চার গাড়িই কিনিক কোবরার লোকদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে চারদিকের অবিরাম গুলী বর্ষণের মুখে বিপন্ন হয়ে পড়ে। পাঁচজন পুলিশ মারা যায়। এই সময় আপনার সেই লোক এসে পুলিশকে উদ্ধার করে। কিনিক কোবরা’র এগারজন লোকের সবাই তার হাতে মারা যায়।’ থামলো পুলিশ প্রধান।
‘আমিও এসব খবর শুনেছি। তবে কিনিক কোবরা’র প্রধান জোয়াও লেগার্ট মারা যাবার খবর শুনিনি এবং কিনিক কোবরা ও পুলিশের কত লোক মারা গেছে তার সংখ্যাও শুনিনি। এই খবরগুলো দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা প্রসন্ন মুখে।
‘স্যার, আরও খবর আছে। সাংঘাতিক খবর।’ বলল পুলিশ প্রধান।
‘কি খবর?’ উদগ্রীব কন্ঠ প্রধানমন্ত্রীর।
নড়ে-চড়ে বসল পুলিশ প্রধান। বলল, ‘আপনার ড্রাইভার-কাম-সিকিউরিটি মি. আবদুল্লাহ লোকটা কে আপনি জানেন স্যার?’
‘কেন একথা বলছ?’ বলল প্রধানমন্ত্রী।
‘স্যার, আমাদের ঐ মাফিয়া নেতা বলল, ‘ঐ লোকটা আহমদ মুসা। ছদ্মবেশ নিয়ে আপনার সাথে আছে।’ বলল গোয়েন্দা প্রধান।
‘আপনারা আহমদ মুসাকে চেনেন?’ জিজ্ঞেস করল প্রধানমন্ত্রী।
‘চিনলে তো ধরেই ফেলতাম। তাকে আমরা জানি স্যার।’ বলল পুলিশ প্রধান।
‘তিনি একজন বিপ্লবী মুসলিম নেতা। সম্প্রতি আমেরিকায় তিনি সাংঘাতিক নাম করেছেন। ক্যারিবিয়ানেও তিনি বিখ্যাত হয়েছেন। তবে ইহুদীরা তাকে পেলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যে কিনতে রাজি।’ বলল গোয়েন্দা প্রধান পুলিশ প্রধানের কথা শেষ হতেই।
‘আপনারা তাকে কেমন মনে করেন?’
‘তাকে খারাপ ভাবার কিছুই আমরা পাইনি স্যার। কিন্তু তিনি ছদ্মবেশে এখানে কেন, সেটা ভাবছি।’ বলল তারা দুজনে।
এ সময় ঘরে প্রধানমন্ত্রীর পিএস প্রবেশ করল।
পিএস প্রবেশ করার আগেই প্রধানমন্ত্রী বলল, ‘আহমদ মুসা এসেছেন?’
‘জি স্যার।’ বলল পিএস।
‘আসতে বল তাঁকে।’ নির্দেশ দিল প্রধানমন্ত্রী।
পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানের চোখে-মুখে বিস্ময়।
পিএস বাইরে চলে গেল। পর মুহুর্তেই আবার আহমদ মুসাকে সাথে করে ঘরে এনে পৌঁছে দিয়ে চলে গেল ।
আহমদ মুসা ঢুকতেই প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা উঠে দাঁড়াল এবং সালাম দিল আহমদ মুসাকে।
সালাম দিয়েই কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আহমদ মুসাকে জড়িয়ে ধরল। বলল, ‘কেমন আছেন? শরীর ভাল আছে তো?’
‘ভাল আছি।’ বলল আহমদ মুসা। একটু থেমেই আবার বলে উঠল, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি. হাত্তা।’
‘ভাইয়া আপনি আব্বুকে অভিনন্দন জানাবেন, না আব্বু আপনাকে অভিনন্দন জানাবেন তাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য?’ কথাগুলো বলতে বলতে দৌড়ে ড্রইংরুমে প্রবেশ করল ফাতিমা নাসুমন।
ঢুকে কথা শেষ করেই ফাতিমা সালাম দিল আহমদ মুসা এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রধানদ্বয়কে।
আহমদ মুসা সালাম গ্রহণ করে বলল, ‘বোন আল্লাহ্’র সাথে কাউকে শরীক করা যায় না। আল্লাহ তোমার আব্বুকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আমাকে এর সাথে জড়িয়ে গোনাহগার করছ কেন?’
হাসল ফাতিমা। বলল, ‘আল্লাহই করেছেন, ঠিক আছে। কিন্তু আল্লাহই আপনাকে পাঠিয়েছেন তার কাজটা করার জন্যে।’
‘তাহলে কৃতিত্বটা আল্লাহরই হলো।’ হেসে বলল আহমদ মুসা।
‘ভাইয়া, আপনার সাথে যুক্তিতে পারবো না। কিন্তু আপনি কি কৃতজ্ঞতাও জানাতে দেবেন না। আমার ও আব্বুর নতুন জীবন লাভ করা, আব্বার বিপন্ন অবস্থা থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী হওয়া, নৈরাজ্যে নিমজ্জিত সুরিনাম নতুন জীবনে প্রবেশ করা, ইত্যাদি কাজে যিনি জীবন বিপন্ন করে কাজ করেছেন, তাকে কৃতজ্ঞতাও জানাতে পারব না।’ থামল ফাতিমা। আবেগে ফাতিমার কণ্ঠ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
মুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে ফাতিমা আবার বলে উঠল, ‘ভাইয়া, কৃতজ্ঞ হওয়াকে আল্লাহ ভালবাসেন। আপনি নিষেধ করবেন কেন?’
‘স্যরি বোন। তুমি বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিয়েছ। যাক শোন। প্রশংসা মানুষের মধ্যে অহমিকার সৃষ্টি করে। আর অহমিকা মানুষকে ধ্বংস করে, যেমন ফেরেশতাতুল্য আযাযীল ধ্বংস হয়ে হয়েছে ইবলিস।’ বলল আহমদ মুসা।
‘আমি প্রশংসার কথা বলিনি, কৃতজ্ঞতার কথা বলেছি ভাইয়া।’ দ্রুত বলল ফাতিমা।
‘প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে ভেদরেখা খুবই সুক্ষ্ম বোন। কৃতজ্ঞ হওয়া ভাল গুণ, কিন্তু কৃতজ্ঞতার প্রকাশ অপ্রয়োজনীয়। কৃতজ্ঞতার প্রকাশ এক পর্যায়ে গিয়ে প্রশংসা হয়ে পড়তে পারে।’ আহমদ মুসা বলল।
হেসে ফেলল ফাতিমা। বলল, ‘ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার ব্যারিষ্টার হওয়া উচিত ছিল।’ বলেই জিব কাটল। বলল, ‘স্যরি, এটা প্রশংসা হয়ে গেল।’
অপার বিস্ময় নিয়ে আকাশ-পাতাল চিন্তা করছিল পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানদ্বয়। প্রধানমন্ত্রী আহমদ মুসাকে জড়িয়ে ধরা এবং আহমদ মুসা, প্রধানমন্ত্রী ও ফাতিমার কথোপকথন থেকে তাদের নিকট পরিস্কার হয়ে গেছে যে, আহমদ মুসা হিসেবেই সে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ। তারা অবাক হলো যে, এতবড় একটা বিষয় তারা জানতে পারেনি, কিংবা প্রধানমন্ত্রীও তাদের কাছে বলেননি।
আহমদ মুসার মত মহা-খবর প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে এসে হঠাৎ করে সেই ব্যক্তিত্বকে সামনে হাজির দেখে দারুণ সংকুচিতও হয়ে পড়েছিল তারা।
আহমদ হাত্তা তাদের দিকে একবার চেয়ে আহমদ মুসাকে বলল, ‘পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানদ্বয়কে তো আপনি নিশ্চয় চেনেন আহমদ মুসা?’
আহমদ মুসা তাদের সাথে আগেই হ্যান্ডশেক করেছিল। এবার বলল, ‘আমি ওদের দুজনকেই চিনি।’
থামল একটু আহমদ মুসা। তারপর বলে উঠল পুলিশ প্রধানকে লক্ষ্য করে, ‘গতরাতে ওভানডোদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। যথাসময়ে পুলিশ না পৌছলে ওভানডোদের ক্ষতি হতো।’
‘আর আপনি যথাসময়ে এসে না পৌছলে আমাদের গোটা পুলিশ প্লাটুনটাই ধ্বংস হয়ে যেত।’
একটু থেমেই আবার বলল পুলিশ প্রধান আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, ‘স্যার, আমাদের মাফ করবেন। আমরা আপনাকে চিনতে পারিনি। অনেক বেয়াদবী হয়ে গেছে, আপনাকে আমাদের মাঝে দেখে খুবই আনন্দিত ও গর্ববোধ করছি স্যার।’
‘ধন্যবাদ আপনাদের মি. আলী ও মি. আহমাদু। বেয়াদবীর কোন প্রশ্ন নেই। আমি আপনাদের ভাই ছাড়া আর কিছু নই।’ আহমদ মুসা বলল।
‘স্যার সত্যিই আপনি আমাদের ভাই, কিন্তু এমন ভাই আর আমরা পাইনি।’ বলল গোয়েন্দা প্রধান।
‘মি. আলী ও মি. আহমাদু, মি. আহমুদ মুসার পরিচয় এখানে কাউকে দেইনি দুটি কারণে। তিনি এখানে এসেছেন, আমাদের সাথে আছেন, একথা প্রকাশ হয়ে গেলে আমাদের শত্রুরা সাবধান হবে। দ্বিতীয়ত, তিনি এখানে আছেন প্রকাশ হলে গোটা দুনিয়ার তার শত্রুরা এখানে ছুটে আসতো। তার ফলে এখানকার সংকট জটিল হতো এবং আমাদের নিজেদের সমস্যা সমাধান কঠিন হয়ে পড়তো।’ প্রধানমন্ত্রী বলল।
‘আপনি ঠিক বলেছেন স্যার, আপনাদের সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল।’ বলল পুলিশ প্রধান।
‘এখনও আমরা চাই মি. আহমাদু ও মি. আলী, মি. আহমদ মুসার ব্যাপারটা এবং তার এখনকার কাজগুলো পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ না হোক। এটা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। মাফিয়ারা যখন জেনেছে, তখন কিছু প্রচার তো হবেই। সেটুকু হোক আমাদের আপত্তি নেই।’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
‘আপনার নির্দেশ পালিত হবে স্যার।’ বলল পুলিশ প্রধান আলী সিলভু।
কথা শেষ করেই আলী সিল্ভু আবার বলে উঠল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে, ‘আর কোন নির্দেশ স্যার, আমরা উঠতে পারি?’
‘ধন্যবাদ মি. আলী ও মি. আহমাদু।’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
উঠে দাঁড়াল পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধান। দুজনেই আহমদ মুসাকে তাদের অফিস পরিদর্শনের জন্যে আবেদন জানাল। বলল, ‘স্যার, আপনি এলে আমাদের অফিস স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যদি আমাদের অফিসে আসেন।’
‘ধন্যবাদ। চেষ্টা করব আমি।’ বলল আহমদ মুসা।
ওরা বেরিয়ে যেতেই আহমদ মুসা বলল প্রধানমন্ত্রীকে, ‘মি. হাত্তা, আমি লা’মন্ডের যে সংখ্যার কথা আপনার পিএসকে বলেছিলাম সেটা সে সংগ্রহ করল কি না?’
‘কি ব্যাপার মি. আহমদ মুসা লা’মন্ডের ঐ কপিতে কি আছে? ঐ কপিটা আমাদের দেশে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশেই লা’মন্ডের ঐ দিনের কপি আসেনি। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন আজ বিকেলে। তিনিও বললেন, লা’মন্ডের ঐ সংখ্যা সেদিন উত্তর আফ্রিকায়ও পাওয়া যায়নি। তিনি জানালেন, লা’মন্ডের ইন্টারন্যাশনাল এডিশন সেদিন বাইরে ডেসপাচই করা হয়নি। তার বদলে কোথাও কোথাও পাঠানো হয়েছে ইউরোপীয় এডিশন।’ বলল প্রধানমন্ত্রী।
‘আমার স্ত্রী তার চিঠিতে আমাকে ঐ দিনের লা’মন্ডে পড়তে বলেছেন। কি পড়তে হবে, কেন পড়তে হবে তা তিনি জানাননি।’ আহমদ মুসা বলল।
‘তাহলে তো নিশ্চয় ভাবী সাহেবা ঐ কাগজটা পড়েছেন।’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
‘ওর কাছে কাটিংও ছিল। কিন্তু হারিয়ে ফেলেছেন। পাঠাতে পারেননি।’ আহমদ মুসা বলল।
‘দেখা যাচ্ছে উনি তো তাহলে কাগজ পেয়েছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলল।
‘হয়তো সৌদি আরব সরাসরি ঐ পত্রিকার কাছ থেকে কিছু কপি জোগাড় করে থাকতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল।
‘তাই হবে। যাক। আমরা ইন্টারনেট থেকে কয়েকটা কপি তৈরি করছি। এখনি এসে পড়বে।’ বলল প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কথা শেষ হতেই প্রধানমন্ত্রীর পিএস ঘরে ঢুকল। তার হাতে দুটি লা’মন্ডে। সে এক কপি দিল প্রধানমন্ত্রীকে ও আরেক কপি দিল আহমদ মুসার হাতে।
পত্রিকা পেয়েই দ্রুত তাতে চোখ বুলাতে লাগল আহমদ মুসা। একের পর এক হেডিং পড়ে যেতে লাগল সে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়সহ মুসলিম বিশ্বের অনেক নিউজ তার চোখে পড়ল, যা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাকে পড়তেই হবে এমন মনে হলো না সেগুলোর কোনটি দেখেই। হঠাৎ সিংগেল কলাম হেডিং এর উপর তার চোখ আটকে গেল। হেডিংটা হলো ‘একটি মুসলিম গোয়েন্দা ফার্ম- এর রহস্যজনক অন্তর্ধান’। এই হেডিং- এর নিচে বটম শোল্ডারও দেয়া আছে। তাহলো, ‘রাজনীতিকদের সন্তানরা গোয়েন্দা হয়েছিল।’
নিউজটির শিরোনাম পড়ে আহমদ মুসা নিউজটা না পড়ে আর থাকতে পারলো না।
পড়লো নিউজটা।
‘ষ্ট্রাসবার্গ থেকে বুমেদিন বেল্লাহ।।
‘স্পুটনিক’ নামক সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিনবার স্বর্ণপদক বিজয়ী প্রাইভেট গোয়েন্দা ফার্ম রহস্যজনকভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে চার দিন আগে। বাইরে থেকে বিল্ডিং-এর কোন ক্ষতি দেখা যায় না। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে কোন এক অজ্ঞাত ধরণের উত্তাপে ফাইলপত্র ও কম্পিউটার সফটওয়্যার জাতীয় সব কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ষ্টিলের সেফভল্টে থাকা ফাইলপত্র ও কম্পিউটার ডিস্কেরও হয়েছে একই অবস্থা।
ডিটেকটিভ ফার্মটির ৭ জন কার্যরত গোয়েন্দাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত দুই দিনেও উক্ত ৭ জন গোয়েন্দা ও তাদের কর্মচারীরা বাড়ি না ফিরলে বাড়ি থেকে তাদের অফিসে খোঁজ করা হয়। টেলিফোনে না পেয়ে বাড়ির লোকরা অফিসে যায় এবং অফিসের অবস্থা দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশের মতে বিশেষ ধরণের কেমিকেল ব্যবহার করে অফিসের ভেতরটা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিশেষ ধরণের কেমিকেল নির্দিষ্ট এক পরিসীমার মধ্যে বাতাসের সাথে মিশে যে কোন স্থানে প্রবেশ করে কাগজ ও কম্পিউটার সফটওয়্যার জাতীয় সব কিছু ধ্বংস করে ফেলতে পারে। পুলিশ একে বড় ধরণের নাশকতামূলক কাজ বলে মনে করছে।
ডিটেকটিভদের পারিবারিক ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে ৭ জন গোয়েন্দারই বিশেষ পরিচয় আছে। তাঁরা সকলেই বিখ্যাত বিখ্যাত রাজনীতিকদের সন্তান অথবা বংশধর।
জানা গেছে, ৭ জনের একজন হলেন মিসরের বাদশাহ ফারুকের উত্তর পুরুষ আলী আবদুল্লাহ আল-ফারুক। দ্বিতীয়জন লিবিয়ার বাদশাহ ইদরিসের বংশধর আহমদ আল সেনুসী। তৃতীয় ও চতুর্থজন হলেন তুরস্কের সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের ৭ম পুরুষ ওসমান আব্দুল হামিদ ও মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ৬ষ্ঠ পুরুষ কামাল সুলাইমান। পঞ্চমজন ইরানের বাদশাহ রেজাশাহ পাহলবীর উত্তরসুরী মোহাম্মদ আলী রেজা, ৬ষ্ঠজন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ সোকার্নোর উত্তর পুরুষ মোহাম্মাদ সুকর্ণ এবং সপ্তমজন স্পেনের বিস্মৃত উমাইয়া রাজ বংশের বিস্মৃত এক রাজপুত্র আব্দুর রহমান। এদের সকলেই কেউ ফ্রান্স, কেউ জার্মানীর নাগরিক। সকলেই ফ্রান্স ও জার্মানীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র এবং কাকতালীয়ভাবে সবাই ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী।
ষ্ট্রাসবার্গের ইউরোপীয় ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টারে সন্ত্রাসবিরোধী এক সেমিনারে এই সাতজনের পরিচয় ঘটে এবং এই পরিচয়ই সন্ত্রাস-সন্ধানী গোয়েন্দা ফার্ম ‘স্পুটনিক’- তাদের একত্রিত করে। ‘স্পুটনিক’ গঠিত হবার কয়েক বছরের মধ্যে ৭টি সন্ত্রাসী গ্রুপকে তারা চিহ্নিত করে তাদের পাকড়াও কাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সাহায্য দেয়। সাফল্যের এই রেকর্ড ইউরোপে সর্বোচ্চ। এই কারণে ফার্মটি তিনবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়।
অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি তারা অতীতের বড় বড় কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার শিকড় সন্ধানে কাজ করছিল। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের লিবার্টি টাওয়ার ও ডেমোক্র্যাসি টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনাসহ কয়েকটি দেশের মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণের ঘটনা। গোয়েন্দাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বড় বড় এইসব সন্ত্রাসী ঘটনার অনুসন্ধানে তারা অডিও, ভিডিওসহ মুল্যবান দলিল-দস্তাবেজ যোগাড় করেছিলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তারা এ সংক্রান্ত রিপোর্ট ফাইনাল করতে যাচ্ছিলেন। জানা গেছে, এই ক্ষেত্রে কাজ শুরু করার পর থেকেই হুমকি ধমকিসহ নানারকম আক্রমণের শিকার তারা হয়েছেন। পুলিশ রেকর্ডে এসবের উল্লেখ রয়েছে বলে তারা জানায়।
গোয়েন্দাদের উধাও হওয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত হলো তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে এ সম্ভাবনা খুবই কম। তাদেরকে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে তাদের অনুসন্ধান সম্পর্কে আরও তথ্য উদ্ধার ও তারা তাদের সংগৃহীত তথ্য আরও কোথাও সরিয়ে রেখেছে কিনা তা বের করার সব রকম চেষ্টা করা হবে, এটাই স্বাভাবিক।
‘স্পুটনিক’ ধ্বংস এবং গোয়েন্দাদের যারা অপহরণ করেছে তাদেরকে খুবই শক্তিশালী ও সুবিস্তৃত এক চক্র বলে মনে করা হচ্ছে। ‘স্পুটনিক’-এর সর্বশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম ও স্পুটনিক ধ্বংস হওয়া থেকে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, লিবার্টি এবং ডেমোক্র্যাসি টাওয়ারদ্বয় ধ্বংসের ঘটনাসহ সেই সময়ে কিছু মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে অনুদঘাটিত কোন বড় সত্য লুকিয়ে আছে। উল্লেখ্য, এই সব ঘটনায় কিছু মুসলিম সক্রিয়তাবাদী’ সংগঠনকেও চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে দেশে দেশে তাদের বিরুদ্ধে উৎখাত অভিযান চলছিল। সুতরাং শান্তিকামী, মানবতাবাদী ও সত্যসন্ধানী ‘স্পুটনিক’ সংস্থাটির ধ্বংস হওয়া ও এর পরিচালকরা অপহৃত হওয়ার ঘটনার দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়া উচিত বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে আরও একটি উদ্বেগজনক দিকের প্রতি পর্যবেক্ষক মহল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেটা হলো একটি অজ্ঞাত মহল স্পুটনিক ধ্বংসের ঘটনাকে ধামা চাপা দেবার চেষ্টা করছে। তারা চাচ্ছে যে এ সম্পর্কিত কোন খবর যেন পত্র-পত্রিকায় না আসে। অজ্ঞাত কারণে স্ট্রাসবার্গের স্থানীয় পত্রিকায় এ খবরটা আজ পর্যন্ত উঠেনি। লা’মন্ডের এই সংবাদদাতাও বাধার সম্মুখীন হন। ধ্বংস প্রাপ্ত ‘স্পুটনিক’ কার্যালয় পরিদর্শন এবং এ সংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান থেকে ফেরার পথে তার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। সংবাদদাতাও আহত হন। তার ক্যামেরা, রেকর্ডার ও ব্যাগ হারিয়ে যায়।
জানা গেছে, ‘স্পুটনিক’- এর এ ঘটনার তদন্তভার ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোয়েন্দা বিভাগ গ্রহণ করেছে বটে, কিন্তু গত চার দিনেও তারা ঘটনাস্থলে যাননি এবং ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের সাথেও কোন যোগাযোগ করেননি। তবে আশার কথা হলো, মার্কিন ফেডারেল গোয়েন্দা বিভাগ ইতি-মধ্যেই ঘটনাস্থলে গেছেন। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সত্যানুসন্ধানে এগিয়ে আসতে পারেন বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন।’
নিঊজটা পড়ে আহমদ মুসার মনে হলো, এই নিউজটার প্রতিই ডোনা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। মনে মনে ধন্যবাদ জানালো তাকে এবং সেই সাথে বিস্মিতও হলো, এত বড় খবর অথচ তার নজরে এল বহু পরে! সব দিকের বিচারে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় ঘটনা এটা। আহমদ মুসাকে সবচেয়ে বেশি অভিভূত করেছে ৬টি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের ৭জন রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিকের সন্তানদের স্পুটনিকের প্লাটফরমে বিস্ময়কর একত্র সম্মেলন। আর কিছু না হোক, এই সাতজন বিখ্যাত সন্তান একত্রে অপহরণ হওয়াই দুনিয়ার একটি বড় খবর। তার উপর ‘স্পুটনিক’-এর মাধ্যমে তারা যা করেছে এবং যে অনুসন্ধান তারা চালাচ্ছিল তা অত্যন্ত চাঞ্চ্যল্যকর। সুতরাং ঘটনাটা দুনিয়ায় ব্যাপক প্রচার পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। লা’মন্ডে খবর ছেপেছে বটে, কিন্তু সিংগেল কলামে। খবরটি অন্যকোন পত্রিকা লিফট করেছে বলে তার নজরে পড়েনি। বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া খবরটা এড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড নিউজ এজেন্সি এবং ফ্রি ওয়ার্ল্ড টিভি এই নিউজ কভার করতে পেরেছে কিনা কে জানে! সর্বব্যাপি নিউজ কিল- এর এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা খুব বড় শক্তি। কারা এই শক্তি!...
‘মি. আহমদ মুসা, নিশ্চয়ই বড় কোন বিষয় নিয়ে ভাবছেন! হঠাৎ কি পেলেন? পেয়েছেন কি নিউজটা?’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
‘পেয়েছি মি. হাত্তা। সেটা নিয়েই ভাবছি।’ আহমদ মুসা বলল ।
‘বুঝতে পারছি ভাবী সাহেবা তাহলে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকেই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কি সে নিউজটা?’ জিজ্ঞেস করল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
ফাতিমাও তাকাল আহমদ মুসার দিকে। তার চোখেও জিজ্ঞাসা।
আহমদ মুসা কাগজটা আবার হাতে তুলে নিল এবং পড়ে শোনাল পুরো নিউজটা।
নিউজ শুনে আহমদ হাত্তা এবং ফাতিমা দুজনেই কিছুক্ষণ কিছু কথা বলতে পারলো না। ভাবনার চিহ্ন তাদের চোখে-মুখে।
‘সাংঘাতিক খবর?’ প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে বলল আহমদ হাত্তা।
‘হ্যাঁ মি. হাত্তা খুবই সাংঘাতিক খবর। সবচেয়ে সাংঘাতিক হলো মুসলমানদের ৭ জন শ্রেষ্ঠ সন্তান সম্মিলিত হবার পর এই ভাবে এক সাথে হারিয়ে যাওয়া।’
‘ঠিক বলেছেন মি. আহমদ মুসা। বিস্ময় লাগছে, সাত শ্রেষ্ঠর সাতজন শ্রেষ্ঠ সন্তান এইভাবে একত্রিত হওয়া একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। কিভাবে এটা ঘটল?’ বলল প্রধানমন্ত্রী।
‘মনে হয় আল্লাহ বিশেষ উদ্দেশ্যেই এটা ঘটিয়েছেন।’ আহমদ মুসা বলল।
‘অনুসন্ধান এবং তার প্রকাশ ও প্রচার। বিশ্বমানে গ্রহণযোগ্য এই কাজ করার কেউ আমাদের ছিল না। কয়েকজন শ্রেষ্ঠ সন্তান এই কাজ শুরু করেছিলেন।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আফসোস। কাজটা কিন্তু শুরু হয়েও আগাতে পারলো না।’ বলল প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা।
আহমদ হাত্তা থামলেও আহমদ মুসা কোন কথা বলল না। ভাবছিল সে।
আহমদ মুসাকে ভাবনায় ডুবে যেতে দেখে আহমদ হাত্তাও কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর অধৈর্য্য হয়ে ফাতিমা বলল, ‘কি ভাবছেন এত ভাইয়া?’
‘হিসেব করছি।’ বলল আহমদ মুসা।
‘কি হিসেব?’ ফাতিমা বলল।
‘মদিনা শরীফ হয়ে ষ্ট্রাসবার্গ যাব, না সরাসরি যাব।’ বলল আহমদ মুসা ভাবনায় ডুবে থেকেই।
‘কি বলছেন ভাইয়া আপনি?’ বলে চিৎকার করে উঠে দাঁড়াল ফাতিমা। আবার বলে উঠল, ‘এখন কিছুতেই আপনার যাওয়া হবে না সুরিনাম থেকে।’
কিছু বলার জন্যে মুখ খুলেছিল আহমদ হাত্তা। কিন্তু তার আগেই আহমদ মুসা বলল, ‘মি. হাত্তা আপনার টেলিফোনটা একটু ব্যবহার করতে পারি?’
‘ওয়েলকাম, অবশ্যই।’ বলল আহমদ হাত্তা।
আহমদ মুসা টেলিফোন হাতে নিয়ে রিং করলো ওভানডোকে। বলল, ‘ভাই ওভানডো, কাল সকালেই যদি লিসার সাথে বার্নারডোর বিয়ে হয় তাতে তোমাদের আপত্তি আছে?’
‘অবশ্যই নেই।’ বলল ওভানডো ওপার থেকে।
‘না, তুমি আম্মা, দাদী এমনকি লিসাকে জিজ্ঞেস করে আমাকে বল।’ বলল আহমদ মুসা।
‘একটু ধরুন ভাইয়া।’ বলে টেলিফোন রেখে দিল। কিছুক্ষণ পর আবার টেলিফোন ধরে বলল, ‘না ভাইয়া কোন সমস্যা নেই। আপনার ইচ্ছাই আমাদের ইচ্ছা।’
‘ধন্যবাদ ওভানডো। তোমরা আয়োজন কর। আমি বার্নারডোকে জানাচ্ছি।’ বলে আহমদ মুসা টেলিফোন রেখে দিল।
তারপর আহমদ হাত্তা ও ফাতিমার দিকে মুখ তুলে বলল, ‘আপনাদের দাওয়াত বার্নারডো ও লিসার বিয়েতে। ওয়াং আলীকেও দিচ্ছি ফাতিমা।’
তবুও কোন কিছু কানে না তুলে বলল, ‘না ভাইয়া আপনাকে এত তাড়াতাড়ি যেতে দেব না। আপনি যেতে পারবেন না।’ কান্না ভেজা আবেদন ফাতিমার।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘যেতেই তো হবে বোন। মায়া বাড়িয়ে লাভ আছে বল? আজ যে কষ্ট তোমার হচ্ছে, দশদিন পর সে কষ্ট আরও বাড়বে।’
‘আমি কোন কথা শুনব না। আব্বু তাকে এভাবে যেতে দিও না।’ বলে কান্না চাপতে চাপতে ভেতরে ছুটলো ফাতিমা।
ফাতিমা চলে যেতেই প্রধানমন্ত্রী আহমদ হাত্তা বলল, ‘মি. আহমদ মুসা, আপনার কোন কাজেই বাধা দিতে আমরা পারবো না। একদিন আমরা না বললেও আপনি এসেছিলেন, আবার আজ আমরা বাধা দিলেও আপনি চলে যাবেন জানি। কিন্তু আমরা কেউ এটা মেনে নিতে পারবো না। আপনার তৈরি নতুন সুরিনামকে আপনি আরও সময় দেবেন, এ আশা আমরা করেছিলাম।’ আবেগে ভারী হয়ে উঠল আহমদ হাত্তার শেষ কথাগুলো।
আহমদ মুসা উঠে গিয়ে আহমদ হাত্তার পিঠে হাত রেখে বলল, মিঃ হাত্তা, ফাতিমা কাঁদবে, ওয়াং আলী, ওভানডো, লিসারাও কাঁদবে, কিন্তু আপনার দুর্বল হলে চলে না। আপনি একজন মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধান। আপনার দায়িত্ব শুধু সুরিনামের জনগণ নিয়ে নয়, বিশ্বের অন্যান্য অংশের মুসলমানদের সমস্যার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে।’
আহমদ হাত্তা উত্তরে কোন কথা বলতে পারল না। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘দোয়া করুন আপনি, এভাবে ভাবার যোগ্যতা যেন আল্লাহ্ আমাকে দেন।’
চোখ মুছল আহমদ হাত্তা। একটু ম্লান হাসি ফোটাবার চেষ্টা করল মুখে। তারপর বলল, ‘চলুন ফাতিমা খাবার নিয়ে বসে আছে।’
বলে আহমদ হাত্তা উঠল।
আহমদ মুসাও উঠতে উঠতে বলল, ‘মি. হাত্তা আপনার টেলিফোনটা আরেকটু দিন। ওয়াশিংটনে এফবিআই চীফ মি. জর্জকে ঘটনাটা জানিয়ে রাখি। তার সাহায্যের আমার প্রয়োজন হবে।’
সন্ধ্যার সুরিনাম এয়ারপোর্ট।
সুরিনাম সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি দলের গার্ড অব অনার নিয়ে আহমদ মুসা এগুলো প্লেনের দিকে।
তার চারপাশ ঘিরে হাঁটছে আহমদ হাত্তা, ওভানডো, ফাতিমা এবং ওয়াং আলী।
ওভানডোর মা ও দাদী আহমদ মুসার কপালে বিদায়ী চুমু দিয়ে বলল, ‘যতদিন বাঁচবো তোমার অপেক্ষা করবো বাছা।’
বিমানের সিঁড়িতে ওঠার আগে ওভানডো আহমদ মুসাকে এক পাশে টেনে নিয়ে গেল। আহমদ মুসার হাতে পাঁচ কোটি ডলারের পাঁচটি ড্রাফট তুলে দিয়ে বলল, ‘টেরেক দুর্গের স্বর্ণের চারটি ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগ আমাদের পরিবারের। আরেক ভাগ সুরিনামের জন্য। অবশিষ্ট দুই ভাগ বিশ্বের মুসলমানদের জন্যে। তার মধ্য থেকে পাঁচ কোটি ডলার আপনাকে দিলাম। অবশিষ্ট অংক জেদ্দাস্থ ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে আপনার একাউন্টে জমা হবে।’
‘এই মুহুর্তে এত ডলার দিয়ে আমি কি করব ওভানডো?’ বলল আহমদ মুসা।
‘ভাইয়া, যে মিশন নিয়ে আপনি যাচ্ছেন, সে মিশনের ব্যয়ভার মনে করুন একে।’ বলল ওভানডো।
‘সুরিনামের অংশটা কি করবে?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
‘প্রধানমন্ত্রী মি. হাত্তাকে এ ব্যাপারে আমি বলেছি। এটা তাঁর দায়িত্বে থাকবে।’
‘ধন্যবাদ ওভানডো।’
বলে বিমানের সিঁড়িতে উঠল আহমদ মুসা। সিঁড়িতে উঠে একবার পেছন ফিরে তাকাল। দৃষ্টি ফেরাল একবার অশ্রু সজল সব মুখের দিকে। কিছু বলতে চাইল আহমদ মুসা। কিন্তু পারল না। হঠাৎ বুক থেকে উঠে আসা একটা কান্না তার কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিল। দু’ফোটা অশ্রু এসে জমা হল তার দু’চোখের কোণায়। এই পিছনে তাকানোটাই আহমদ মুসার জন্যে সব চেয়ে বেশি বেদনার। দু’হাত নাড়তে নাড়তে আহমদ মুসা তাড়াতাড়ি সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়াল।
দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল প্লেনে।
আহমদ মুসা বসেছে গিয়ে সিটে। একটু পরেই তার পাশে এসে বসল ক্রিস্টিনা। তারপর ক্রিস্টিনার পাশে এসে বসল লিন্ডা লোরেন, এখন লিন্ডা আল তারিক।
আহমদ মুসার বিস্ময়ভরা চোখ লিন্ডার দিকে। লিন্ডা বলল, ‘ভাইয়া, আপাতত আপনার সাথে মদিনা শরীফ, মক্কা শরীফ হয়ে ষ্ট্রাসবার্গে। তারপর আমি ক্রিস্টিনাকে নিয়ে যাব স্পেনে পুর্ব পুরুষের ইতিহাস খুঁজতে।’
‘ধন্যবাদ লিন্ডা।’
‘ওয়েলকাম ভাইয়া।’
ছুটছে বিমান আটলান্টিকের উপর দিয়ে। বাইরে নিকশ কালো অন্ধকার। সেই অন্ধকারের বুকে হারিয়ে গেছে আহমদ মুসার মন। মন যেন তার খুঁজে ফিরছে আর এক মিশনের গন্তব্য। কোথায় তারা? তাদের জন্যে আবার তৈরি হয়নি তো আরেক ‘গুলাগ দ্বীপপুঞ্জ’? আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিনের গুলাগ দ্বীপপুঞ্জের পর রচিত হয়েছিল আরেক গুলাগ ক্যারিবিয়ানে।’ তারপর এটা হবে কি আর এক নতুন ‘গুলাগ!’