বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব (২য় পর্ব)
X
দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব/ ২য় পর্ব
লেখকঃ """জাকিউল অন্তু"""
.
.
.
.
.
.
.
বিছানায় বসে তখনো হাপাচ্ছি আমি। পাশেই পড়ার টেবিলে পানি ভর্তি জগ রাখা। সেটা নিয়ে গেলাসে ঢালার অপেক্ষা না করে সরাসরি গলায় ঢেলে দিলাম। ঢকঢক করে কয়েক ঢোক পানি গিলে শান্ত হয়ে বসলাম। দুঃস্বপ্নের ভয়াবহতার রেশ কাটেনি এখনো। ঘরের পরিবেশ আচমকা ভারী হয়ে উঠেছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। মাথার ভেতরে ভোঁ ভোঁ করছে।তার সাথে কানে বাজছে ওডিলির বলা কথাটা!
কার্থেজ অভিযান!
কার্থেজ কোথায় তার কোন ধারনাই নেই আমার।কোনদিন নাম ও শুনিনি। তাছাড়া আমার স্বপ্নের মধ্যে যা ঘটেছে তার সাথে কার্থেজ অভিযানের সম্পর্কটাও বুঝতে পারছিনা।
সে যাই হোক। আর একমুহূর্ত ঘরে থাকতে ইচ্ছা করছেনা। বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে ঝটপট হাতমুখ ধুয়ে নিলাম। তারপর কাপড় পালটে মোবাইল আর মানিব্যাগ সাথে নিয়ে বাইরে বেরুলাম।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। রোদের তেজ কমে গিয়ে মৃদু বাতাস বইছে যা স্নিগ্ধ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে।
কাল ভার্সিটি বন্ধ।আজ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার প্ল্যান ছিলো। তাই ওদের মেসের দিকেই রওনা দিলাম।
আগে আমান কে কল দিতে হবে। ভার্সিটি লাইফের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও। চেষ্টা করবো সব ঘটনা ওকে খুলে বলতে। বাকিদের মেস ও কাছাকাছি। সময় পেলে সবার সাথে দেখাও করে যাবো।
আমান দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় ফোন ধরলো।
-কিরে কোথায় তুই? মোবাইল চেক করেছিস?দেখ কতবার ফোন দিয়েছি।
-ঘুমিয়ে ছিলাম রে।
-ছুটির আগের দিন বিকালে আড্ডা বাদ দিয়ে তোকে তো ঘুমাতে দেখিনি কোনদিন!শরীর ঠিক আছে তো?
-হ্যা! তুই কোথায়?
-আমি মেসের সামনে রফিকের চায়ের দোকানে বসে আছি। তাড়াতাড়ি আয়।
-হুম আসছি। বাকিরা কই?
-আজ সবাই যারযার ব্যস্ত।শুধু আমিই ফ্রি আছি। আয় পরে বলছি সব ।
-ঠিক আছে।
রফিকের দোকান পর্যন্ত পৌঁছাতে পনের মিনিটের মতো লাগলো। বন্ধুদের মধ্যে আমি ই একটু দূরের মেসে থাকি।ঘোরের মাথায় পকেটে টাকা থাকা স্বত্তেও রিকশার বদলে হেটে হেটেই চলে এসেছি। তাই এই সময়ের ব্যবধান।
আমানকে দেখলাম চেয়ারে হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে। আমি কাছে যেতেই নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসলো। বললো
-খুব বৃষ্টি হবে মনে হয়। দেখ কেমন কালো মেঘ জমেছে আকাশে।
-হুম। কিন্তু বৃষ্টি এলে তো আর বাইরে বসে কফি খেতে পারবোনা। আড্ডার বারোটা বাজবে।
কথা শেষ করতে না করতেই হুড়মুড় করে ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নেমে পড়লো! যেন আমার কথার জন্যই অপেক্ষা করছিলো।
আমান এক লাফে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ।তারপর চায়ের দোকানের ভেতরে দৌড় দিলাম দুজন।আমান কি যেন ভেবে নিয়ে বললো
-অন্তু বৃষ্টিতে ভিজবি? চল নেমে পড়ি!
বলে পকেট থেকে মোবাইল আর টাকাপয়সা বের করে রফিকের ক্যাশে জমা দিলো। তারপর আমার অপেক্ষা না করেই বাইরে দৌড় দিলো। এই বৃষ্টিকেই ইংরেজিতে"cats & dogs"বলে। চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির শব্দ অনুভব করতে গেলে মনে হয় বাস্তবেই বেড়াল কুকুর ঝগড়া বাধিয়েছে।
ভিজতে চাইলে এই বৃষ্টিটাই উপযুক্ত। যে হারে বর্ষণ শুরু হয়েছে তাতে কমপক্ষে এক ঘন্টার আগে এই বৃষ্টি থামবে বলে মনে হচ্ছেনা। তাছাড়া বন্ধু যখন ভিজছে তখন নিজেকে এই ফুর্তি থেকে বিরত রাখি কি করে? তাই সময় নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ক্যাশে জমা দিয়ে আমিও নেমে পড়লাম।
এবার বৃষ্টিধারার তেজ যেন আরো বেড়ে গেলো। সেইসাথে কিছুক্ষণ পরপর কড়কড় শব্দে বজ্রপাত শুরু হলো।নবধারায় অবগাহনের আনন্দে দুই বন্ধুর আর কোন দিকে খেয়াল নেই। বাজ পরার শব্দে ভয় যে করছেনা তা নয় কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বৃষ্টি ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছেনা। গ্রামের মাঠে এইরকম বৃষ্টিতে বহুবার ফুটবল খেলেছি। আজ সেটা মনে পড়াতে পায়ের কাছে পড়ে থাকা কনডেন্সড মিল্ক এর টিনটাকেই লাথি মেরে বসলাম। টিনটা উড়ে গিয়ে আমানের কাছে পড়লো। আমান আবার লাথি মেরে ওটাকে আমার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিলো। এভাবে প্রায় দশ মিনিট টিন-ফুটবল খেলার পর একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটলো।
প্রচন্ড জোরে বাজ পড়ার শব্দ হলো। আর সেটা পড়লো আর কেউ নয় আমার বন্ধু আমানের ওপর!
প্রথমে ভয়ার্ত চোখে আমানের দেহের উপরিভাগ ঝলসে যেতে দেখলাম। আচমকা বিদ্যুতস্পর্শে কাঠের পুতুলের মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে ও। আর সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে আছড়ে পড়েছে। ওর চোখদুটো তখনো খোলা এবং সেগুলো অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আমি এই আকস্মিক ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে গেছি।ও আমার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলো। বাজটা ওর ওপর না পড়ে আমার ওপর পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই ধরনের ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত থাকেনা। আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা।
দ্রুত হাটুগেড়ে বসে পড়লাম আমানের কাছে।বৃষ্টির তেজ বেড়েছে তার সাথে বেড়েছে বজ্রপাতের হার। চারদিক থেকে হইচই এর শব্দ ভেসে আসছে। মুহূর্তেই আনন্দঘন পরিবেশটা নরকের ভয়াল পরিবেশে পরিনত হয়েছে। লোকজনের ছুটোছুটির শব্দ কানে এলো। সবাই জানের ভয়ে পালাচ্ছে। চোখের সামনে আমান কে ঝলসে যেতে দেখে সবাই প্রচন্ড ভয় পেয়েছে।
আমি নিজেও যেন নিশ্চল হয়ে গিয়েছি। বন্ধুকে এই অবস্থায় দেখে আমার হাত পা অবশ হয়ে আসছে। হঠাৎ আমান ওর ওর চোখদুটো ঘন ঘন ঝাপটাতে লাগলো। ভাবলাম এটা ওর বাচার জন্য শেষ আকুতি। কিন্তু ওর চোখ যেন ইশারায় অন্যকিছু দেখাচ্ছে।
আমি ওর দৃষ্টি লক্ষ্য করে দেখলাম ইঙ্গিতে আমার ডানহাত দেখাতে চাইছে ও। সেদিকে চোখ পড়তেই আমার বিস্ময়ের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলো। নিজের ডানহাত দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছি।
চোখের সামনে সে হাত নিয়ে আসতেই দেখলাম একটা বেগুনী রঙের আভা আমার ডানহাত ঘিরে ওঠানামা করছে।
হাতটা বেগুনী আভার প্রভাবে আপনা থেকেই আমানের ঝলসানো দেহের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ওর ঝলসানো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দেহ আমার হাতের বেগুনী আভার সংস্পর্শে আসতেই ধীরেধীরে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে লাগলো।
আমি বিস্ফোরিত চোখে স্তম্ভিতের মত সেটা দেখতে লাগলাম।
এ কোন অদ্ভুত শক্তির উদ্ভব হলো আমার হাতে?বাজ পড়া মৃতপ্রায় বন্ধুটি আবার আগের মত হয়ে যাচ্ছে যার প্রভাবে!এই সঞ্জীবনী শক্তির উৎস কোথায়?
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
বছরের পর বছর জেল খাটার পরে অনেকেই বেকসুর খালাস পান। ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরও অপরাধ প্রকৃত দোষী কি না, তা নিয়ে তর্ক চলতেই থাকে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রায় ২,৪১৫ বছর পরে কেউ যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন? চমকে উঠছেন তো? তাহলে সাজাপ্রাপ্তের নামেও আরো বড় চমক রয়েছে। কারণ মৃত্যুদণ্ডের ২,৪১৫ বছর পরে গ্রিসের একটি আদালত জানাল, সক্রেটিস নির্দোষ ছিলেন।
খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ সালে গ্রিসের আথেন্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন দার্শনিক সক্রেটিস। প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তরুণদের ভুলপথে চালিত করা, ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং দুর্নীতিকে প্রশয় দেয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল। সক্রেটিস এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছিলেন, যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমী সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু প্রাচীন গ্রিসের শাসকরা সক্রেটিসের তত্ত্বগুলো মানতে চায়নি।
আথেন্সের তৎকালীন আরাধ্য দেবতাদের নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন সক্রেটিস। তার বিরুদ্ধে অত্যাচারী শাসকদের সমর্থনেরও অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও বলা হয় যে, সক্রেটিস নির্দোষ হলেও মুখ বুজে বিচারকদের রায় মেনে নিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে পালানোর সুযোগ পেলেও আথেন্স ছেড়ে যাননি তিনি।
তাছাড়া, তরুণদের বিপথে নিয়ে যাওয়া, নতুন দেবদেবীদের সম্পর্কে প্রচার করা-সহ সক্রেটিসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে আদালতে কোনো যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ বিচারপর্বে তুলে ধরা যায়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। হেমলক বিষপান করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথা পেতে নিয়েছিলেন সক্রেটিস। তিনি সত্যিই দোষী ছিলেন কি না, সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গত শুক্রবার আথেন্সের ওনাসিস ফাউন্ডেশনের একটি আদালতে ফের নতুন করে বিচারব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বিচারেই সক্রেটিসকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে ওই আদালত।
সক্রেটিসের সমর্থনে তার আইনজীবী বলেন, ‘‘কোনো ব্যক্তির অভিমত অপরাধ হতে পারে না। সক্রেটিস সত্যের সন্ধান করতেন। আর তা করতে গিয়েই তিনি তার নিজস্ব মত তুলে ধরতেন। তবে আমার মক্কেলের একটাই দোষ, তিনি উস্কানিমূলক কথা বলে মানুষকে খ্যাপাতেন। আর সবসময় বাঁকা বাঁকা কথা বলতেন। যেমন- তিনি বলতেন, ‘দেখাও তোমাদের গণতন্ত্র কতটুকু খাঁটি ও বিশ্বাসযোগ্য’ ইত্যাদি।’’
কিন্তু তিনি আরো বলেন যে সাধারণ মামলাকে জটিল করার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেয়াটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’’
সক্রেটিসের হয়ে এই মামলায় ফ্রান্সের এই বিখ্যাত আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। উল্টোদিকে গ্রিস-সহ বেশ কয়েকটি দেশের আইনজীবীরা সক্রেটিসের বিরোধিতা করেন। এই মামলার বিচারের জন্য আমেরিকা ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। দীর্ঘ বাদানুবাদের পরে সক্রেটিসের আইনজীবীর যুক্তিতেই সিলমোহর দেন বিচারকরা। গত বছর নিউইয়র্কের একটি আদালতেও সক্রেটিস নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন।
Collected from সময়ের কন্ঠস্বর
উল্লেখ্য তিনি নির্দোষ প্রমানিত হন ২০১৬ সালে।