বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

২০২০ এবং আরিফ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাদমান সাজিদ (০ পয়েন্ট)

X আরিফ, এবার ক্লাস সেভেনে উঠেছে । তার বাবা থাকে বিদেশে । সেখানে তিনি কি করে ? আরিফ তা জানে না । কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলে,” আব্বু বিদেসেতে চাকরি করে “। ছোট্ট পরিবারটার ব্যয়ভার তিনি একাই বহন করেন । গ্রামে থেকে কি আর ভালো লেখাপড়া হবে ! এজন্য তার মা, তাকে নিয়ে গ্রাম থেকে উঠে এসেছে বড় বাজারে, একটা ভাড়া বাসায়,তারা দুজনে থাকে । দুই মাস আগেই আরিফের বাবা একটা জায়গা কিনল বড় বাজারে, হাতে আর তেমন টাকা ছিল না বলে বাড়ি করার কাজ বাকি রেখে দিল । দু’এক বছর যাক । তারপর দেখা যাবে । আল্লাহ ভরসা । অথচ দুইমাস পার হয়ে দুইটা দিনও না যেতেই তিনি ফিরে এলেন দেশে । জীবনের ভয় তো তারও আছে । সারা বিশ্ব থমকে যাচ্ছে । ইউরোপ-আমেরিকার মত দেশ গুলো লাশ গুনতে হিমশিম খাচ্ছে । মরলে নিজ বাড়িতেই মরব । বিদেশে মরলে তো লাশটাও পাবে না পরিবার । এ যেন মৃত্যু নয়, কঠিন মৃত্যু । বাড়িতে আসার পরপরেই সর্দিকাশি আর জ্বর । ক্রমেই খারাপ হতে থাকল শরীর । না আর দেরি করা ঠিক হবে না । টেস্ট করানোর পর ধরা পড়ল কোভিড-১৯ পজিটিভ । আহারে এ কেমন অসুখ ! বাবার অসুখ হলে ছেলে কাছে যেতে পারবে না? আত্মীয় স্বজন দেখতে আসবে না? এটা কিভাবে সহ্য করা যায় ? এরকম অসুখ আরিফ আগে কখনো দেখেনি । এরপর লোক এসে বাবাকে আইসলুসনে নিয়ে গেল । শেষবারের জন্যও মানুষটার কাছে যেতে পারেনি আরিফ ও তার মা । দূর থেকে চোখের জল ফেলেছিল আরিফের মা । আর আরিফকে বুকে জড়িয়ে বলল,”বাবা রে, তুই আমার সব । তোর কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাঁচব বল?” কে বা জানতো হটাৎ করে থমকে যাবে পৃথিবী, বিদেশ থেকে ফেরত আসতে হবে তার বাবকে ! প্রথমে করোনা, অতঃপর দেখা হল মৃত্যুর সাথে । ঢাকাতেই কবর দেওয়া হল তাকে । শেষ বারের মত বাবার লাশটা এক নজর দেখতেও পেল না । বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল সে, থরথর করে কাঁপছিল তার মায়ের শরীর। চোখে পানি নেই, কোনো আওয়াজ নেই কান্নার । বুকের ভেতরে জমে আছে দুঃখ । সারাদেশ তখন লকডাউন, সমবেদনা জানাতে আসেনি একটি বান্দাও । কেবল পিতা হারা এক পুত্র আর স্বামী হারানো এক নারীর অন্তর্ভেদী কান্না আর নিঃশ্বাসে কেঁদেছিল আকাশ, সবাইকে খবর দিতে ছোটাছুটি করেছিল বাতাস, আর সে ডাকে কিচিরমিচির শব্দ করে শান্তনা দিয়েছিল পাখিরা । আজ থেকে একমাস আগে বাবার দেহে বন্ধ হয়ে গেছে হৃদস্পন্দন । মায়ের কাছে যা টাকা ছিল সেটাও ফুরিয়ে আসছে । জমানো টাকাটা দিয়ে যে জায়গাটা কেনা হয়েছিল সেটাও এখন বিক্রি করা সম্ভব না । যেখানে জীবনের ভয়ে চারদিকে স্তব্ধ, সেখানে কে বা কিনবে সে জমি । মধ্যবিত্ত হওয়া মানেই যত সমস্যা । না পারবে ত্রাণ নেওয়ার দলে ভীড় করতে; না পারবে খাবারের অভাব চেপে রেখে পেটের সাথে লড়াই করতে । আসছে রমজান মাস, রহমতের মাস, আল্লাই মালুম , বাচালে একমাত্র তিনিই বাচাতে পারেন ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ২০২০ এবং আরিফ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now