বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুলি ও নীলা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সাইকো থ্রিলার "তুলি ও নীলা" ------------------ সালেহ তিয়াস ------------------- সেদিন ছিল শুক্রবার। বিখ্যাত লেখক রায়হান হামিদ বিছানায় এসেছেন। রাত তখন প্রায় দুটো। বিছানার অপর প্রান্তে শুয়ে সরু চোখে লেখককে লক্ষ্য করছেন তুলি হামিদ। তিনি রায়হান হামিদের স্ত্রী। বয়সে হয়তো বছর চারেক ছোটই হবেন লেখক সাহেবের চেয়ে। তুলি হামিদ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছেন। আজকে রাতেও যদি ব্যাপারটা ঘটে, আই উইল কিল দ্যাট বাস্টার্ড, ভাবছেন তিনি। রায়হান হামিদ বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন। একটু পরে তার হাত পেঁচিয়ে ধরল তুলি হামিদের কোমর। তুলি হামিদ অপেক্ষা করছেন রুদ্ধশ্বাস। রায়হান হামিদের হাত উপরের দিকে উঠতে লাগল। একসময় তুলি হামিদের গাল ছুঁয়ে গেল তা। তুলির বুক ধুকপুক করছে। তার হৃদয়ে যে কি তোলপাড় হচ্ছে তা শুধু স্রষ্টা আর তিনিই জানেন। রায়হান হামিদের হাত তুলির গলা পেঁচিয়ে ধরল। আদুরে ভঙ্গিতে প্রশ্ন এল, "এখনও ঘুমোও নি?" "না"। "বলেছি না আমার জন্য রাত জাগার দরকার নেই? আমার তো না হয় অভ্যাস আছে, কিন্তু তোমার তো শরীর খারাপ করবে। বিশেষ করে এই সময়টায়..." বলে তুলি হামিদের পেটের উপর ডান হাত বুলিয়ে নেন তিনি। তুলি হামিদ সন্তর্পণে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন, এমনভাবে যেন কেউ শ্বাস ফেলার শব্দ শুনে ফেললেই তুলকালাম কাণ্ড হয়ে যাবে। "আর জেগো না, হ্যাঁ সোনা? আর বেশী বেশী খাওয়াদাওয়া করো। নিজের জন্য তো বটেই, বাবুর জন্যও তো পুষ্টিকর খাবার দরকার, তাই না?" তুলি হামিদ কোন কথা বলেন না। তার চোখ ফেটে পানি আসছে। "তোমাকে অনেক ভালোবাসি, সোনা। অনেক ভালোবাসি। এখন ঘুমাও, প্লিজ?" অনেকটা অনুনয়ের সুরে বললেন রায়হান হামিদ। সোনা! শব্দটা তুলির হৃদয়কে ছারখার করে দেয়। "প্লিজ সোনা, প্লিজ?" তুলি অপেক্ষা করছেন একটা ম্যাজিক ওয়ার্ডের জন্য। এ সিঙ্গেল ম্যাজিক ওয়ার্ড। রায়হান হামিদ তুলিকে বুকে টেনে নেন। তুলির বুক ধড়ফড় করতে থাকে। যেন হৃদয়টা বক্ষপিঞ্জর তেড়েফুঁড়ে বের হয়ে আসবে। "নীলা। আমার নীলা"। তুলি প্রচণ্ড চিৎকার দিয়ে ওঠেন। নীরব চিৎকার। কেউ সেই চিৎকার শুনতে পায় না। প্রবল অশ্রুতে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো হয়ে যান একদম। অদৃশ্য অশ্রু। কেউ সেই অশ্রু দেখতে পায় না। প্রিয় পাঠক, গর্দভ না হলে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, তুলির এই প্রতিক্রিয়ার দুটো কারণ। এক, তার নাম নীলা না, তুলি। নীলা ইজ দ্যাট ম্যাজিক ওয়ার্ড শি ওয়াজ ওয়েটিং ফর। দ্বিতীয়, তিনি প্রেগন্যান্ট নন। তার পেটে কোন অনাগত সন্তান নেই। *** এক মাসে একই অথবা একই ধরণের ঘটনা মোট তিনবার ঘটল। তার পরের মাসে পাঁচবার। হয়তো তুলি হামিদ রান্না করছেন। ঠিক তখনই হয়তো ভেসে এল রায়হান হামিদের কণ্ঠস্বর, "অ্যাই নীলা, আজকে একটু তোমার সবজির স্পেশাল আইটেমটা কর না! প্লিজ!" হয়তো তুলি হামিদ গোসল করছেন। হয়তো দরজায় টোকা পড়ল, "আর কতক্ষণ নীলা? আমার লেট হয়ে যাচ্ছে তো!" তুলি হামিদ হয়তো টিভি দেখছেন। একটা সিনেমা দেখাচ্ছে। ধরি সেই সিনেমা হল বাজিগর। তখনই হয়তো ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠস্বর, "এইটা না সেদিনই একসাথে বসে দেখলাম? আবার দেখছ?" অথচ তুলি হামিদ এই সিনেমা একদম ছোট থাকতে একবার দেখেছিলেন। এটা তার দ্বিতীয়বার দেখা। স্বামীর সাথে 'সেদিনই' দেখার প্রশ্নই আসে না। আরও ঝামেলা আছে। রায়হান হামিদ বিয়ের পরে কখনও তুলিকে সোনা বলে সম্বোধন করেন নি। হাইয়েস্ট বাবু বলেছেন কয়েকবার বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে। কিন্তু যখন তিনি 'নীলা'র সাথে কথা বলেন, মানে তুলিকে নীলা মনে করে কথা বলেন, তখন একটু পরপরই সোনা আর বাবুসোনা বলে সম্বোধন করতে থাকেন। এমনভাবে করেন যেন বহু আগ থেকেই তিনি এভাবে সম্বোধন করে অভ্যস্ত। তুলি হামিদ কিছুতেই বুঝতে পারছেন না তিনি কি করবেন। তবে তার মেয়েলি বুদ্ধিতে যা কুলিয়েছে তা তিনি ইতোমধ্যে করে ফেলেছেন। রায়হান হামিদের গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে ও গত কয়েকমাসের কললিস্ট খুব ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখে নীলা নামের সুন্দরী রূপসী কারো অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে চেয়েছেন তিনি। পারেন নি। রায়হান হামিদের নীলা নামে কোন মেয়ের কাছে যাতায়াত নেই। এমনকি মেয়ে ফ্যানদের সাথেও তার যোগাযোগ অতি কম। রায়হান হামিদ গত কয়েক মাসে বিভিন্ন নাম্বারে মাত্র ঘণ্টা ত্রিশেক কথা বলেছেন। বিশেষ কোন নাম্বারে তিনি বেশী কথা বলেন নি। বিশেষ কোন নাম্বার থেকে তার কাছে বেশী কল বা মেসেজ আসে নি। সুতরাং নীলা নামের কাউকে এই পদ্ধতিতেও আবিষ্কার করা যায় নি। সুতরাং, কে এই নীলা? এবং সে কি আসলেই প্রেগন্যান্ট? হলে বাচ্চার বাবা কে? রায়হান হামিদ? প্রশ্নগুলো এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় তুলি হামিদের হৃদয়। তার মরে যেতে ইচ্ছা হয় খুব, একদম হঠাৎ করে। *** "ঘুমাওনি নীলা?" তুলি হামিদ বাঘিনীর মত গর্জে উঠলেন। অনেক সহ্য করেছেন তিনি। আর না। প্রায় হাজার বার করা প্রশ্নটা এবার খুব জোরেই করলেন তিনি, "নীলা কে?" বরাবরের মতই বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন রায়হান হামিদ। অবাক যে হয়েছেন বোঝাই যাচ্ছে। তারপর তিনি বললেন, "সরি...আমি আসলে..." তুলি হামিদ রায়হান হামিদের জামা ধরে টানাটানি শুরু করলেন। "কে এই নীলা?...বলতেই হবে তোমাকে কে এই নীলা...প্লিজ সত্যিটা শুনব আমি...আজ আর মাফ পাবে না...এই যন্ত্রণা আমি আর সহ্য করতে পারছি না...আজ না বললে আমি বিষ খাব সত্যি..." প্রায় হড়বড় করে এই সবগুলো কথা বলে ফেললেন তিনি। রায়হান হামিদ জামা ছাড়ানোর কোন চেষ্টাই করলেন না। শুধু আস্তে করে বললেন, "আমি জানি না। বিশ্বাস কর, আমি জানি না" তুলি হামিদ তবু চাপাচাপি করতে লাগলেন। কিন্তু দুই ঘণ্টার অনেক চেষ্টার পরেও রায়হান হামিদের মুখ থেকে "আমি জানি না, বিশ্বাস কর" ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারলেন না তিনি। আমি মরব, সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন তুলি হামিদ। এভাবে বেঁচে থাকা অসম্ভব। *** ডিপ্রেশন কাটাতে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতেই হল তুলি হামিদকে। সাইকিয়াট্রিস্ট সব শুনে যা বললেন তার সারমর্ম হল এরূপ, "সব মিলিয়ে আমার কাছে কয়েকটা সম্ভাবনা মনে হচ্ছে। এক, আপনার স্বামীর জীবনে আসলেই নীলা বলে কেউ আছে। হয়তো আপনার স্বামীর সাথে নীলার গোপন এফেয়ার আছে, যে কিনা বর্তমানে প্রেগন্যান্ট, হয়তো আপনার স্বামীর কারণেই। শুধু আপনি জানেন না ব্যাপারটা, বা জিনিসটা এমনভাবে গোপন রাখা হয়েছে যে আপনি অনেক কষ্ট করেও ওদের ধরতে পারেন নি। দুই, হয়তো আপনার স্বামীর জীবনে নীলা এখন নেই, কিন্তু আগে ছিল, হয়তো নীলা আপনার স্বামীর ছোটবেলার প্রেমিকা, হয়তো তাকে খুব করে চেয়েছিলেন আপনার স্বামী, কোন কারণে পান নি, সেই দুঃখ হয়তো আজ এতদিন পরে intensified হয়েছে, তাই আপনার স্বামীর মস্তিষ্কে নীলার একটা ইমেজ তৈরি হয়েছে, তিনি আপনার সাথে বারবার নীলাকে গুলিয়ে ফেলছেন। তিন, আপনার স্বামী আপনার সাথে এক ধরণের মাইন্ড গেম খেলছেন, হয়তো এই পুরোটাই তার অভিনয়, হয়তো নতুন গল্পের প্লট খোঁজার জন্য নিজের বউকেই নিজের এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি, হয়তো কদিন পরেই এর উপর ফেঁদে বসবেন তার নতুন বেস্টসেলার উপন্যাস। চার, নীলা নামের একটা চরিত্র কোনভাবে তার মাথায় ঢুকে গেছে, তিনি ভেবে বসে আছেন এইটাই তার আসল স্ত্রী, তাই আপনার সাথে বারবার নীলাকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে, হয়তো নীলা নামের একটা চরিত্র নিয়ে উনি খুব বেশী চিন্তা করে ফেলেছেন, কিন্তু সত্যি বলতে কি, ব্যাখ্যাটা আমার নিজেরই পছন্দ হচ্ছে না। আর পাঁচ, না থাক পাঁচটা না বলি, সায়েন্স ফিকশন হয়ে যাবে, আচ্ছা তাও বলি, হয়তো কোন এক প্যারালেল ইউনিভার্সে রায়হান হামিদের বউয়ের নাম নীলা, যিনি প্রেগন্যান্ট, ধেত এসব বাজে কথা ধুর বাদ দিন"। সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শে তুলি হামিদ সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রায়হান হামিদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে কথা বলে তার অতীতে নীলা নামে কোন মেয়ের অস্তিত্ব আছে কি না নিশ্চিত হবেন। এছাড়াও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারটরের অফিসে লোক ম্যানেজ করে তিনি রায়হান হামিদের প্রতিটি কল ও মেসেজের উপর কড়া নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এবং সবশেষে তিনি যেটা করলেন, রায়হান হামিদের অসমাপ্ত উপন্যাসের খাতাগুলো আর ডায়রিগুলো কোথায় কোথায় আছে এবং সেগুলো পাবার জন্য কোন কোন চাবি হাত করা লাগবে এই নিয়ে একটা ছোটখাট গবেষণা করে ফেললেন। সাইকিয়াট্রিস্ট বলেছেন, লেখকের অপ্রকাশিত লেখার মধ্যে নীলা নামের কাল্পনিক চরিত্রটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা থাকতে পারে। *** অবশেষে কাজ হল। অপ্রকাশিত লেখার মধ্যেই পাওয়া গেল সকল রহস্যের চাবিকাঠি। লেখার অপ্রকাশিত খাতা আর ডায়রি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করার পর সাইকিয়াট্রিস্ট এবং তুলি হামিদ দুজনেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, রায়হান হামিদের নীলা নামের কোন মেয়ের সাথে এফেয়ার নেই, কখনও ছিল না। এমনকি রায়হান হামিদ অভিনয়ও করছেন না। নীলা সম্পূর্ণ তার নিজের মনের সৃষ্টি। রায়হান হামিদ ইজ সাফারিং ফ্রম সাম সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডার। রায়হান হামিদ শেষ উপন্যাস লিখেছিলেন বছর তিনেক আগে। তারপর আর কিছু লেখেন নি তিনি। মানে লিখেছেন, কিন্তু প্রকাশ করার মত করে শেষ করতে পারেন নি। রায়হান হামিদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবার তিনি যে উপন্যাসটি লিখবেন, সেটার নায়িকা হবে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে রোমান্টিক নায়িকা। এমন একটা নায়িকা তিনি তৈরি করবেন যার প্রেমে বাংলাদেশের প্রতিটি পুরুষ পড়বে, যার প্রতি হিংসায় প্রতিটা মেয়ে জ্বলেপুড়ে মরবে। এমন একটা নায়িকা তিনি তৈরি করবেন যে হবে হাজার বছর ধরে সাহিত্যপ্রেমীদের চোখে অমর, আর নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই অমর হবেন তিনি নিজেই। যা ভাবা তাই কাজ। ভবিষ্যতের কালজয়ী যুগশ্রেষ্ঠ নায়িকার নাম দিলেন তিনি 'নীলা'। নীলাকে নিয়ে লেখা শুরু করলেন রায়হান হামিদ। হাতের কাছে ছিল স্ত্রী তুলি, তাই তুলির আদলেই গড়ে তুলতে চাইলেন নীলাকে। পারলেন না। তার হঠাৎ মনে হল, নীলা যথেষ্ট রোম্যান্টিক হচ্ছে না। আরও রোমান্টিসিজম চাই। আগের লেখা পরিত্যক্ত হল। আবার লেখা শুরু হল। আবার একই সমস্যা। নীলা যথেষ্ট রোম্যান্টিক হচ্ছে না। রায়হান হামিদ আবারও নিজের লেখা কেটে দিলেন। এভাবে দিনের পর দিন যেতে লাগল। রায়হান হামিদ বুঝতে পারলেন, নীলাকে নিজের বউ হিসেবে কল্পনা না করলে তাকে যথেষ্ট রোম্যান্টিক বানানো যাবে না। হি হিমসেলফ হ্যাভ টু বি ইন লাভ উইথ হার। অবশেষে তুলির জায়গায় নীলাকে নিজের বউ হিসেবে কল্পনা করে লেখা শুরু করলেন তিনি। এবার কাজ হল। তরতর করে এগিয়ে গেল লেখা। নীলাকে নিয়ে কল্পনাপ্রবণ রায়হান হামিদ এত বেশী কল্পনা করলেন যে, একসময় তিনি বাস্তব আর কল্পনার বিভেদ ভুলে গেলেন। এজন্যে নিজের অজান্তেই কখন যে তিনি নিজের বউ তুলিকে নীলা ডাকা শুরু করলেন তিনি নিজেও জানেন না। এই সমস্যার সমাধান একটাই, কাউন্সেলিং। রায়হান হামিদকে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে হবে। বলতে হবে নীলা তার মস্তিষ্কের সৃষ্টি, নীলা বলে আসলে কেউ নেই। নীলার কারণে তার আসল স্ত্রী তুলি কষ্ট পাচ্ছে। রায়হান হামিদ মাস্ট কাম ব্যাক টু রিয়েলিটি। তুলি হামিদ সেদিন হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলেন। যাক, বাস্তবে তো আর নীলা বলে কেউ নেই, ভাবলেন তিনি। *** রায়হান হামিদকে সাইকিয়াট্রিস্ট কয়েক সেশনে থেরাপি দিলেন। আস্তে আস্তে রায়হান হামিদ বুঝতে সমর্থ হলেন, বলতে গেলে বাধ্য হলেন, যে, নীলা বলে কেউ নেই। নীলা শুধুই তার কল্পনা। তুলি বাস্তব। ভালবাসতে হবে তুলিকে, নীলাকে নয়। এমনকি তুলির জন্য আগামী পনের দিনের মধ্যে নীলাকে নিয়ে লেখা এতদিনের অসমাপ্ত উপন্যাসটাও শেষ করে ফেলার প্রতিজ্ঞা করলেন রায়হান হামিদ। হাঁফ ছেঁড়ে বাঁচলেন তুলি হামিদ। যাক, অবশেষে তিনি তার স্বামীকে আবার নিজের করে পেতে যাচ্ছেন। ঠিক দাম্পত্যের প্রথম বছরগুলোর মত! *** রায়হান হামিদ ঘুমুতে এসেছেন। কি হাস্যকর! নিজের কীর্তির জন্য লজ্জায় প্রায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে তার। নিজের বউ থাকতে কি না কাল্পনিক বউ বানিয়ে ফেলেছেন? নিজের বউকে কাল্পনিক বউয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন? ছি ছি ছি। তিনি লেখক হতে পারেন, তার কল্পনাশক্তি ঘোড়ার মত ছুটতে পারে, কিন্তু তাই বলে তিনি সিজোফ্রেনিক পেশেন্টের মত আচরণ করবেন এটা কি ভাবা যায়? ছি ছি ছি! ইশ, তার হাসিখুশি ভালোমানুষ বউটা তার এই কল্পনার কারণে কত কষ্টই না পেয়েছে! কত রাতই না তার বিরহে কেটেছে! আর তিনি কি না...ছি ছি ছি...আর ভাবতে চান না রায়হান হামিদ। আজ রাতে বউয়ের মনের কোণে জমা হওয়া গত তিন বছরের সব কষ্ট উড়িয়ে, সব ক্ষোভ মিলিয়ে আর সব হতাশা নিভিয়ে দেবেন তিনি। আজ রাতে তিনি বউকে ভালবাসবেন একেবারে ঠিক বিয়ের প্রথম রাতগুলোর মত, ভাবলেন তিনি। বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন রায়হান হামিদ। তার অভ্যস্ত হাত খুঁজে নিল বউয়ের নিরাভরণ কটিদেশকে। বউও আমার মতই তৃষ্ণার্ত, ভাবলেন তিনি, আজকের রাতের মত স্পেশাল রাত আর হতেই পারে না। কোমর থেকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে উঠতে বউয়ের চুলে প্রথমে আঙ্গুল ও পরে মুখ ডুবিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "সোনা!" "উ!" "তোমাকে অনেক ভালোবাসি!" "জানি"। "তুলি। আমার তুলি"। সাথে সাথে চিৎকার করে উঠে বসল মেয়েটা। তীক্ষ্ণ চোখে রায়হান হামিদের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুলি? আবার তুলি? কতবার বলেছি আমি তুলি না, আমি নীলা? কতবার বলেছি? এই যে জনাব, কানে যায় না? আমি নীলা, নীলা, নীলা!" (সমাপ্ত) ------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুলি ও নীলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now

২০১৯ সালের মুসলিমবিশ্ব

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান K.M.Tafsirul Islam Rakib (০ পয়েন্ট)

X ২০১৯ সাল মুসলিমবিশ্বের জন্য একটি হতাশা ও সংকটময় বছর ছিল। নানা ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংকটের মধ্য দিয়ে মুসলিমবিশ্বকে যেতে হয়েছে এই বছর। পূর্ববর্তী বছরগুলোয় জন্ম নেওয়া সংকট আরো তীব্র হয়েছে এই সময়ে। পশ্চিমে মরক্কো, পূর্বে চীন, দক্ষিণে নিউজিল্যান্ড আর উত্তরে সুইডেন পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতে মুসলিমরা নানা ধরনের বৈষম্য ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। এক ধরনের শঙ্কা আর অস্বস্তি নিয়েই তারা বছর শেষ করেছে। ১. পুলওয়ামায় ভয়াবহ হামলা ও পাক-ভারত রাজনৈতিক উত্তাপ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্সের ৪০ জোয়ান নিহত হয়। ভারতের দাবি, এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ ছিল। এ ঘটনায় পাক-ভারত সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয় এবং সামরিক তৎপরতায় কাশ্মীরের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে হামলা চালায়। ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বিমানবাহিনী পাল্টা হামলা চালায়। এই পাকিস্তানি বিমান ধাওয়া করে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্ধমান। ১ মার্চ তাঁকে মুক্তি দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ২. নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ২০১৯ সালে মুসলিমবিশ্বের জন্য সবচেয়ে বিষাদপূর্ণ ঘটনা ছিল ১৫ মার্চ শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে চালানো এই হামলায় ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন। তাঁরা জুমার নামাজের জন্য সমবেত হয়েছিলেন। হামলার অভিযোগে ব্রেন্টন টারান্ট (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্রেন্টন কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালান। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশিও ছিলেন। ভয়ংকর এই হামলায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নাগরিক মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শোক জানায়। রাষ্ট্রীয়ভাবেও পালিত হয় এই শোক। ৩. আল্লামা তাকি উসমানির ওপর হামলা ২২ মার্চ পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম আল্লামা তাকি উসমানির ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। হামলার সময় গাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক নাতিও ছিলেন। হামলা থেকে তাঁদের জীবন রক্ষা হলেও দুই নিরাপত্তারক্ষী মারা যান। ৪. ব্রুনেইয়ে শরিয়াহ আইন ২২ অক্টোবর ২০১৩ সালে ছোট্ট দেশ ব্রুনেই ইসলামী শরিয়াহ আইনের পথে হাঁটতে শুরু করে। ৩০ এপ্রিল ২০১৪ সালে সুলতান হাসান আল বালখিয়া শরিয়াহ দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৩ এপ্রিল ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক একাধিক আইন কার্যকর করা হয়। ৫. চেচনিয়ায় ইউরোপের বৃহত্তম মসজিদ ২৩ আগস্ট রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল চেচনিয়ায় উদ্বোধন করা হয় ইউরোপের সর্ববৃহৎ মসজিদ। চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনির শালি শহরে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে কুয়েতের অর্থায়নে। ৯ হাজার ৭০০ বর্গমিটার জমির ওপর নির্মিত মসজিদে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের নামকরণ হয়েছে ফখর আল মুসলিমিন বা মুসলমানের গর্ব। ৬. আসামের এনআরসি ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর অসন্তোষের সূচনা হয় আসাম প্রদেশে। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে ১৯ লাখের বেশি বাসিন্দা; যার মধ্যে ১১ লাখ হিন্দু বাঙালি, ছয় লাখের মতো মুসলিম এবং বাকি দুই লাখ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। ডিসেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্টে সংশোধিত নাগরিক আইন পাস হওয়ার পর ‘বৈষম্যমূলক’ হওয়ার অভিযোগে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ৭. পাকিস্তানে সরকারবিরোধী আজাদি মার্চ পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় সরকারবিরোধী আজাদি মার্চ। তিনি পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের অভিযোগ করেন। তাঁকে সমর্থন দেন পাকিস্তানের অন্য বিরোধীদলীয় নেতারা। ৮. নরওয়েতে কোরআন পোড়ানোর চেষ্টা ও মুসলিমবিশ্বে ক্ষোভ ২৫ নভেম্বর নরওয়ের ‘ইসলামবিদ্বেষী’ সংগঠন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’ (এসআইএন) ক্রিশ্চিয়ানসান্ড শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে এক যুবক কোরআন অবমাননা ও তাতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। পাকিস্তানি যুবক ওমর ইলিয়াস এ ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং তাতে বাধা দেন। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ মুসলিমবিশ্বে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ৯. আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আলোচনায় গাম্বিয়া ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ওআইসির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে দেশটি। গাম্বিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ ডিসেম্বর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সু চি। গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির আইনমন্ত্রী ও অ্যাটার্নি জেনারেল আবু বকর তামবাদু। একটি ছোট দেশ হয়েও সাহসী ভূমিকা গ্রহণের জন্য বিশ্ব মিডিয়ায় প্রশংসিত হয় গাম্বিয়া। ১০. কেমব্রিজের গ্রিন মসজিদের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য পুরস্কার উদ্ভাবনী নকশার জন্য শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যের পুরস্কার লাভ করে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত গ্রিন মসজিদ। মসজিদটি যুক্তরাজ্যের স্থাপত্যশিল্প বিষয়ক একটি সম্মানজনক পুরস্কার ‘দ্য এজে আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ডস’-এর জন্য মনোনীত হয়। ২০ নভেম্বর ২০১৯ দ্য রয়াল টাউন প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটস ইস্ট অব ইংল্যান্ড এই পুরস্কার ঘোষণা করে। ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদটি ২০১৯ সালের মার্চে উদ্বোধন করা হয়, যা নির্মাণে ব্যয় হয় ২৩ মিলিয়ন পাউন্ড। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থপতি মার্কস বারফিল্ড ২০০৯ সালে গ্রিন মসজিদের ডিজাইন করেন। ২০১২ সালে শহর কর্তৃপক্ষ মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেয়। সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ২০১৯ সালের মুসলিমবিশ্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন