বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাইকো থ্রিলার
"তুলি ও নীলা"
------------------
সালেহ তিয়াস
-------------------
সেদিন ছিল শুক্রবার।
বিখ্যাত লেখক রায়হান হামিদ বিছানায় এসেছেন। রাত
তখন প্রায় দুটো।
বিছানার অপর প্রান্তে শুয়ে সরু চোখে
লেখককে লক্ষ্য করছেন তুলি হামিদ। তিনি রায়হান
হামিদের স্ত্রী। বয়সে হয়তো বছর চারেক
ছোটই হবেন লেখক সাহেবের চেয়ে।
তুলি হামিদ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছেন।
আজকে রাতেও যদি ব্যাপারটা ঘটে, আই উইল কিল
দ্যাট বাস্টার্ড, ভাবছেন তিনি।
রায়হান হামিদ বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন। একটু পরে
তার হাত পেঁচিয়ে ধরল তুলি হামিদের কোমর।
তুলি হামিদ অপেক্ষা করছেন রুদ্ধশ্বাস।
রায়হান হামিদের হাত উপরের দিকে উঠতে লাগল।
একসময় তুলি হামিদের গাল ছুঁয়ে গেল তা। তুলির বুক
ধুকপুক করছে। তার হৃদয়ে যে কি তোলপাড়
হচ্ছে তা শুধু স্রষ্টা আর তিনিই জানেন।
রায়হান হামিদের হাত তুলির গলা পেঁচিয়ে ধরল।
আদুরে ভঙ্গিতে প্রশ্ন এল, "এখনও ঘুমোও
নি?"
"না"।
"বলেছি না আমার জন্য রাত জাগার দরকার নেই?
আমার তো না হয় অভ্যাস আছে, কিন্তু তোমার
তো শরীর খারাপ করবে। বিশেষ করে এই
সময়টায়..." বলে তুলি হামিদের পেটের উপর ডান
হাত বুলিয়ে নেন তিনি।
তুলি হামিদ সন্তর্পণে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন,
এমনভাবে যেন কেউ শ্বাস ফেলার শব্দ শুনে
ফেললেই তুলকালাম কাণ্ড হয়ে যাবে।
"আর জেগো না, হ্যাঁ সোনা? আর বেশী
বেশী খাওয়াদাওয়া করো। নিজের জন্য তো
বটেই, বাবুর জন্যও তো পুষ্টিকর খাবার দরকার, তাই
না?"
তুলি হামিদ কোন কথা বলেন না। তার চোখ
ফেটে পানি আসছে।
"তোমাকে অনেক ভালোবাসি, সোনা। অনেক
ভালোবাসি। এখন ঘুমাও, প্লিজ?" অনেকটা
অনুনয়ের সুরে বললেন রায়হান হামিদ।
সোনা! শব্দটা তুলির হৃদয়কে ছারখার করে দেয়।
"প্লিজ সোনা, প্লিজ?"
তুলি অপেক্ষা করছেন একটা ম্যাজিক ওয়ার্ডের
জন্য। এ সিঙ্গেল ম্যাজিক ওয়ার্ড।
রায়হান হামিদ তুলিকে বুকে টেনে নেন।
তুলির বুক ধড়ফড় করতে থাকে। যেন হৃদয়টা
বক্ষপিঞ্জর তেড়েফুঁড়ে বের হয়ে আসবে।
"নীলা। আমার নীলা"।
তুলি প্রচণ্ড চিৎকার দিয়ে ওঠেন। নীরব চিৎকার।
কেউ সেই চিৎকার শুনতে পায় না। প্রবল অশ্রুতে
ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো
হয়ে যান একদম। অদৃশ্য অশ্রু। কেউ সেই অশ্রু
দেখতে পায় না।
প্রিয় পাঠক, গর্দভ না হলে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে
পারছেন, তুলির এই প্রতিক্রিয়ার দুটো কারণ। এক,
তার নাম নীলা না, তুলি। নীলা ইজ দ্যাট ম্যাজিক
ওয়ার্ড শি ওয়াজ ওয়েটিং ফর। দ্বিতীয়, তিনি
প্রেগন্যান্ট নন। তার পেটে কোন অনাগত
সন্তান নেই।
***
এক মাসে একই অথবা একই ধরণের ঘটনা মোট
তিনবার ঘটল। তার পরের মাসে পাঁচবার।
হয়তো তুলি হামিদ রান্না করছেন। ঠিক তখনই
হয়তো ভেসে এল রায়হান হামিদের কণ্ঠস্বর,
"অ্যাই নীলা, আজকে একটু তোমার সবজির
স্পেশাল আইটেমটা কর না! প্লিজ!"
হয়তো তুলি হামিদ গোসল করছেন। হয়তো
দরজায় টোকা পড়ল, "আর কতক্ষণ নীলা? আমার
লেট হয়ে যাচ্ছে তো!"
তুলি হামিদ হয়তো টিভি দেখছেন। একটা সিনেমা
দেখাচ্ছে। ধরি সেই সিনেমা হল বাজিগর। তখনই
হয়তো ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠস্বর, "এইটা না
সেদিনই একসাথে বসে দেখলাম? আবার
দেখছ?"
অথচ তুলি হামিদ এই সিনেমা একদম ছোট থাকতে
একবার দেখেছিলেন। এটা তার দ্বিতীয়বার দেখা।
স্বামীর সাথে 'সেদিনই' দেখার প্রশ্নই আসে
না।
আরও ঝামেলা আছে। রায়হান হামিদ বিয়ের পরে
কখনও তুলিকে সোনা বলে সম্বোধন করেন
নি। হাইয়েস্ট বাবু বলেছেন কয়েকবার বিশেষ
বিশেষ মুহূর্তে। কিন্তু যখন তিনি 'নীলা'র সাথে
কথা বলেন, মানে তুলিকে নীলা মনে করে কথা
বলেন, তখন একটু পরপরই সোনা আর বাবুসোনা
বলে সম্বোধন করতে থাকেন। এমনভাবে
করেন যেন বহু আগ থেকেই তিনি এভাবে
সম্বোধন করে অভ্যস্ত।
তুলি হামিদ কিছুতেই বুঝতে পারছেন না তিনি কি
করবেন। তবে তার মেয়েলি বুদ্ধিতে যা
কুলিয়েছে তা তিনি ইতোমধ্যে করে
ফেলেছেন। রায়হান হামিদের গতিবিধির উপর
তীক্ষ্ণ নজর রেখে ও গত কয়েকমাসের
কললিস্ট খুব ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখে নীলা
নামের সুন্দরী রূপসী কারো অস্তিত্ব আবিষ্কার
করতে চেয়েছেন তিনি। পারেন নি।
রায়হান হামিদের নীলা নামে কোন মেয়ের
কাছে যাতায়াত নেই। এমনকি মেয়ে ফ্যানদের
সাথেও তার যোগাযোগ অতি কম।
রায়হান হামিদ গত কয়েক মাসে বিভিন্ন নাম্বারে মাত্র
ঘণ্টা ত্রিশেক কথা বলেছেন। বিশেষ কোন
নাম্বারে তিনি বেশী কথা বলেন নি। বিশেষ
কোন নাম্বার থেকে তার কাছে বেশী কল বা
মেসেজ আসে নি। সুতরাং নীলা নামের কাউকে
এই পদ্ধতিতেও আবিষ্কার করা যায় নি।
সুতরাং, কে এই নীলা?
এবং সে কি আসলেই প্রেগন্যান্ট? হলে বাচ্চার
বাবা কে? রায়হান হামিদ?
প্রশ্নগুলো এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় তুলি
হামিদের হৃদয়। তার মরে যেতে ইচ্ছা হয় খুব,
একদম হঠাৎ করে।
***
"ঘুমাওনি নীলা?"
তুলি হামিদ বাঘিনীর মত গর্জে উঠলেন। অনেক
সহ্য করেছেন তিনি। আর না।
প্রায় হাজার বার করা প্রশ্নটা এবার খুব জোরেই
করলেন তিনি, "নীলা কে?"
বরাবরের মতই বেশ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে
থাকলেন রায়হান হামিদ। অবাক যে হয়েছেন
বোঝাই যাচ্ছে।
তারপর তিনি বললেন, "সরি...আমি আসলে..."
তুলি হামিদ রায়হান হামিদের জামা ধরে টানাটানি শুরু
করলেন। "কে এই নীলা?...বলতেই হবে
তোমাকে কে এই নীলা...প্লিজ সত্যিটা শুনব
আমি...আজ আর মাফ পাবে না...এই যন্ত্রণা আমি
আর সহ্য করতে পারছি না...আজ না বললে আমি বিষ
খাব সত্যি..." প্রায় হড়বড় করে এই সবগুলো কথা
বলে ফেললেন তিনি।
রায়হান হামিদ জামা ছাড়ানোর কোন চেষ্টাই
করলেন না। শুধু আস্তে করে বললেন, "আমি
জানি না। বিশ্বাস কর, আমি জানি না"
তুলি হামিদ তবু চাপাচাপি করতে লাগলেন। কিন্তু দুই
ঘণ্টার অনেক চেষ্টার পরেও রায়হান হামিদের মুখ
থেকে "আমি জানি না, বিশ্বাস কর" ছাড়া আর কিছুই
বের করতে পারলেন না তিনি।
আমি মরব, সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন তুলি হামিদ।
এভাবে বেঁচে থাকা অসম্ভব।
***
ডিপ্রেশন কাটাতে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতেই
হল তুলি হামিদকে।
সাইকিয়াট্রিস্ট সব শুনে যা বললেন তার সারমর্ম হল
এরূপ, "সব মিলিয়ে আমার কাছে কয়েকটা সম্ভাবনা
মনে হচ্ছে।
এক, আপনার স্বামীর জীবনে আসলেই নীলা
বলে কেউ আছে। হয়তো আপনার স্বামীর
সাথে নীলার গোপন এফেয়ার আছে, যে কিনা
বর্তমানে প্রেগন্যান্ট, হয়তো আপনার স্বামীর
কারণেই। শুধু আপনি জানেন না ব্যাপারটা, বা জিনিসটা
এমনভাবে গোপন রাখা হয়েছে যে আপনি
অনেক কষ্ট করেও ওদের ধরতে পারেন নি।
দুই, হয়তো আপনার স্বামীর জীবনে নীলা
এখন নেই, কিন্তু আগে ছিল, হয়তো নীলা
আপনার স্বামীর ছোটবেলার প্রেমিকা, হয়তো
তাকে খুব করে চেয়েছিলেন আপনার স্বামী,
কোন কারণে পান নি, সেই দুঃখ হয়তো আজ
এতদিন পরে intensified হয়েছে, তাই আপনার
স্বামীর মস্তিষ্কে নীলার একটা ইমেজ তৈরি
হয়েছে, তিনি আপনার সাথে বারবার নীলাকে
গুলিয়ে ফেলছেন।
তিন, আপনার স্বামী আপনার সাথে এক ধরণের
মাইন্ড গেম খেলছেন, হয়তো এই পুরোটাই
তার অভিনয়, হয়তো নতুন গল্পের প্লট খোঁজার
জন্য নিজের বউকেই নিজের
এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ হিসেবে বেছে
নিয়েছেন তিনি, হয়তো কদিন পরেই এর উপর
ফেঁদে বসবেন তার নতুন বেস্টসেলার উপন্যাস।
চার, নীলা নামের একটা চরিত্র কোনভাবে তার
মাথায় ঢুকে গেছে, তিনি ভেবে বসে আছেন
এইটাই তার আসল স্ত্রী, তাই আপনার সাথে বারবার
নীলাকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে, হয়তো নীলা
নামের একটা চরিত্র নিয়ে উনি খুব বেশী চিন্তা
করে ফেলেছেন, কিন্তু সত্যি বলতে কি,
ব্যাখ্যাটা আমার নিজেরই পছন্দ হচ্ছে না।
আর পাঁচ, না থাক পাঁচটা না বলি, সায়েন্স ফিকশন হয়ে
যাবে, আচ্ছা তাও বলি, হয়তো কোন এক
প্যারালেল ইউনিভার্সে রায়হান হামিদের বউয়ের নাম
নীলা, যিনি প্রেগন্যান্ট, ধেত এসব বাজে কথা ধুর
বাদ দিন"।
সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শে তুলি হামিদ সিদ্ধান্ত নিলেন
যে তিনি রায়হান হামিদের আত্মীয়স্বজনদের
সাথে কথা বলে তার অতীতে নীলা নামে
কোন মেয়ের অস্তিত্ব আছে কি না নিশ্চিত
হবেন। এছাড়াও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারটরের
অফিসে লোক ম্যানেজ করে তিনি রায়হান
হামিদের প্রতিটি কল ও মেসেজের উপর কড়া
নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এবং সবশেষে তিনি
যেটা করলেন, রায়হান হামিদের অসমাপ্ত
উপন্যাসের খাতাগুলো আর ডায়রিগুলো কোথায়
কোথায় আছে এবং সেগুলো পাবার জন্য কোন
কোন চাবি হাত করা লাগবে এই নিয়ে একটা
ছোটখাট গবেষণা করে ফেললেন। সাইকিয়াট্রিস্ট
বলেছেন, লেখকের অপ্রকাশিত লেখার মধ্যে
নীলা নামের কাল্পনিক চরিত্রটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
কিছু লেখা থাকতে পারে।
***
অবশেষে কাজ হল। অপ্রকাশিত লেখার মধ্যেই
পাওয়া গেল সকল রহস্যের চাবিকাঠি।
লেখার অপ্রকাশিত খাতা আর ডায়রি নিয়ে বিস্তর
গবেষণা করার পর সাইকিয়াট্রিস্ট এবং তুলি হামিদ
দুজনেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে,
রায়হান হামিদের নীলা নামের কোন মেয়ের
সাথে এফেয়ার নেই, কখনও ছিল না। এমনকি রায়হান
হামিদ অভিনয়ও করছেন না।
নীলা সম্পূর্ণ তার নিজের মনের সৃষ্টি।
রায়হান হামিদ ইজ সাফারিং ফ্রম সাম সাইকিয়াট্রিক
ডিজঅর্ডার।
রায়হান হামিদ শেষ উপন্যাস লিখেছিলেন বছর
তিনেক আগে। তারপর আর কিছু লেখেন নি তিনি।
মানে লিখেছেন, কিন্তু প্রকাশ করার মত করে
শেষ করতে পারেন নি। রায়হান হামিদ সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলেন, এবার তিনি যে উপন্যাসটি লিখবেন,
সেটার নায়িকা হবে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে
রোমান্টিক নায়িকা। এমন একটা নায়িকা তিনি তৈরি করবেন
যার প্রেমে বাংলাদেশের প্রতিটি পুরুষ পড়বে, যার
প্রতি হিংসায় প্রতিটা মেয়ে জ্বলেপুড়ে মরবে।
এমন একটা নায়িকা তিনি তৈরি করবেন যে হবে হাজার
বছর ধরে সাহিত্যপ্রেমীদের চোখে অমর,
আর নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই অমর হবেন তিনি
নিজেই।
যা ভাবা তাই কাজ। ভবিষ্যতের কালজয়ী যুগশ্রেষ্ঠ
নায়িকার নাম দিলেন তিনি 'নীলা'। নীলাকে নিয়ে
লেখা শুরু করলেন রায়হান হামিদ। হাতের কাছে ছিল
স্ত্রী তুলি, তাই তুলির আদলেই গড়ে তুলতে
চাইলেন নীলাকে।
পারলেন না। তার হঠাৎ মনে হল, নীলা যথেষ্ট
রোম্যান্টিক হচ্ছে না। আরও রোমান্টিসিজম চাই।
আগের লেখা পরিত্যক্ত হল। আবার লেখা শুরু হল।
আবার একই সমস্যা। নীলা যথেষ্ট রোম্যান্টিক
হচ্ছে না। রায়হান হামিদ আবারও নিজের লেখা
কেটে দিলেন।
এভাবে দিনের পর দিন যেতে লাগল। রায়হান হামিদ
বুঝতে পারলেন, নীলাকে নিজের বউ হিসেবে
কল্পনা না করলে তাকে যথেষ্ট রোম্যান্টিক
বানানো যাবে না। হি হিমসেলফ হ্যাভ টু বি ইন লাভ
উইথ হার।
অবশেষে তুলির জায়গায় নীলাকে নিজের বউ
হিসেবে কল্পনা করে লেখা শুরু করলেন তিনি।
এবার কাজ হল। তরতর করে এগিয়ে গেল লেখা।
নীলাকে নিয়ে কল্পনাপ্রবণ রায়হান হামিদ এত
বেশী কল্পনা করলেন যে, একসময় তিনি বাস্তব
আর কল্পনার বিভেদ ভুলে গেলেন। এজন্যে
নিজের অজান্তেই কখন যে তিনি নিজের বউ
তুলিকে নীলা ডাকা শুরু করলেন তিনি নিজেও
জানেন না।
এই সমস্যার সমাধান একটাই, কাউন্সেলিং। রায়হান
হামিদকে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে হবে।
বলতে হবে নীলা তার মস্তিষ্কের সৃষ্টি, নীলা
বলে আসলে কেউ নেই। নীলার কারণে তার
আসল স্ত্রী তুলি কষ্ট পাচ্ছে। রায়হান হামিদ মাস্ট
কাম ব্যাক টু রিয়েলিটি।
তুলি হামিদ সেদিন হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলেন। যাক,
বাস্তবে তো আর নীলা বলে কেউ নেই,
ভাবলেন তিনি।
***
রায়হান হামিদকে সাইকিয়াট্রিস্ট কয়েক সেশনে
থেরাপি দিলেন। আস্তে আস্তে রায়হান হামিদ
বুঝতে সমর্থ হলেন, বলতে গেলে বাধ্য
হলেন, যে, নীলা বলে কেউ নেই। নীলা
শুধুই তার কল্পনা। তুলি বাস্তব। ভালবাসতে হবে
তুলিকে, নীলাকে নয়।
এমনকি তুলির জন্য আগামী পনের দিনের মধ্যে
নীলাকে নিয়ে লেখা এতদিনের অসমাপ্ত
উপন্যাসটাও শেষ করে ফেলার প্রতিজ্ঞা করলেন
রায়হান হামিদ।
হাঁফ ছেঁড়ে বাঁচলেন তুলি হামিদ। যাক, অবশেষে
তিনি তার স্বামীকে আবার নিজের করে পেতে
যাচ্ছেন।
ঠিক দাম্পত্যের প্রথম বছরগুলোর মত!
***
রায়হান হামিদ ঘুমুতে এসেছেন।
কি হাস্যকর! নিজের কীর্তির জন্য লজ্জায় প্রায়
মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে তার। নিজের
বউ থাকতে কি না কাল্পনিক বউ বানিয়ে
ফেলেছেন? নিজের বউকে কাল্পনিক বউয়ের
সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন? ছি ছি ছি। তিনি লেখক
হতে পারেন, তার কল্পনাশক্তি ঘোড়ার মত ছুটতে
পারে, কিন্তু তাই বলে তিনি সিজোফ্রেনিক
পেশেন্টের মত আচরণ করবেন এটা কি ভাবা যায়?
ছি ছি ছি!
ইশ, তার হাসিখুশি ভালোমানুষ বউটা তার এই কল্পনার
কারণে কত কষ্টই না পেয়েছে! কত রাতই না তার
বিরহে কেটেছে! আর তিনি কি না...ছি ছি
ছি...আর ভাবতে চান না রায়হান হামিদ।
আজ রাতে বউয়ের মনের কোণে জমা হওয়া
গত তিন বছরের সব কষ্ট উড়িয়ে, সব ক্ষোভ
মিলিয়ে আর সব হতাশা নিভিয়ে দেবেন তিনি। আজ
রাতে তিনি বউকে ভালবাসবেন একেবারে ঠিক
বিয়ের প্রথম রাতগুলোর মত, ভাবলেন তিনি।
বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন রায়হান হামিদ। তার
অভ্যস্ত হাত খুঁজে নিল বউয়ের নিরাভরণ
কটিদেশকে।
বউও আমার মতই তৃষ্ণার্ত, ভাবলেন তিনি, আজকের
রাতের মত স্পেশাল রাত আর হতেই পারে না।
কোমর থেকে আস্তে আস্তে উপরের
দিকে উঠতে উঠতে বউয়ের চুলে প্রথমে
আঙ্গুল ও পরে মুখ ডুবিয়ে তিনি জিজ্ঞেস
করলেন, "সোনা!"
"উ!"
"তোমাকে অনেক ভালোবাসি!"
"জানি"।
"তুলি। আমার তুলি"।
সাথে সাথে চিৎকার করে উঠে বসল মেয়েটা।
তীক্ষ্ণ চোখে রায়হান হামিদের দিকে তাকিয়ে
বলল, "তুলি? আবার তুলি? কতবার বলেছি আমি তুলি না,
আমি নীলা? কতবার বলেছি? এই যে জনাব, কানে
যায় না? আমি নীলা, নীলা, নীলা!"
(সমাপ্ত)
------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
বিশ্ব ইজতেমায় বিভক্তিরেখা
বিশ্বের প্রায় মুসলিমই দাওয়াতে তাবলিগের মেহনতের সঙ্গে পরিচিত। যুগে যুগে মহান মনীষীরা এ দায়িত্ব পালন করেছেন; কিন্তু বিগত শতাব্দীতে তাবলিগ জামাতের মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী এ কাজ বিস্তৃতি পেয়েছে। ৫৪ বছর ধরে অত্যন্ত সুনাম ও গর্বের সঙ্গে টঙ্গীর তুরাগতীরে হয়ে আসছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তাবলিগি ইজতেমা। সারা বিশ্বের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছিল তুরাগতীর।
কিন্তু ২০১৯ সালের ইজতেমার চিত্র বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের হতাশ করেছে। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে তাবলিগের চির আপন সাথি-সঙ্গীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব গোটা মুসলিম জাতিকে হতবাক করেছে। ২০১৯ সালেই প্রথমবারের মতো তাবলিগের ইতিহাসে দুটি ‘পক্ষ’ শব্দ যোগ হয়েছে।
ভোলায় ধর্ম অবমাননা ইস্যুতে বিক্ষোভ
২০১৯ সালে গোটা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ধর্ম অবমাননার ঘটনা। বিপ্লব চন্দ শুভ নামের এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক ওয়াল থেকে অবমাননাকর একটি স্ট্যাটাস প্রকাশিত হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বারবার গুজব দাবি এবং অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হলেও বিক্ষুব্ধ মুসল্লি বিক্ষোভে নামে। সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেদিন সকাল থেকেই লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে অবস্থানের ঘোষণা দেয় তারা। একপর্যায়ে একজন নেতৃস্থানীয় আলেমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমবেত মানুষ আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হয়। আহত হয় ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ।
সফল হজ ব্যবস্থাপনা
২০১৯ সাল হজযাত্রীদের জন্য ছিল মনে রাখার মতো একটি বছর। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অন্য বছরের চেয়ে সফল। এ বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার।
এ বছর প্রথমেই হজের খরচ কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে হজযাত্রীদের শুধু বিমানভাড়া বাবদ ১০ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।
তা ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অপেক্ষার সময় ও কষ্ট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সৌদি আরবের পরিবর্তে বাংলাদেশেই প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা, হজের সময় মিনায় অবস্থানকালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দ্বিতল খাট ব্যবহারে বাধ্য না করা, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের উন্নত খাবার পরিবেশন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি এজেন্সির সর্বনিম্ন হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫০ থেকে ১০০-তে কমিয়ে আনা এবং পবিত্র হজের দিনগুলোয় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা, মিনা, আরাফা, মুজদালিফায় যাতায়াতের সুবিধার্থে পুরনো বাসের পরিবর্তে উন্নত মানের নতুন ও পর্যাপ্তসংখ্যক বাস সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে; যার সব দাবিই মেনে নিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ‘‘Makkah Route Initiative’, ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই সম্পন্ন করা হয়।
এ বছরই প্রথম ইলেকট্রনিক হেলথ প্রফাইল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এবারই প্রথম ফ্লাইট শুরুর বেশ আগেই তারিখ নির্ধারণ করে সরাসরি হজ এজেন্সির কাছে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং টিকিট বিক্রির তথ্যপ্রাপ্তির জন্য সিস্টেমে পে অর্ডার ব্যবস্থাপনা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব হয়েছে।
হজের আগেই মক্কা ও মদিনার বেসরকারি হজ এজেন্সি কর্তৃক ভাড়া করা শতভাগ হোটেল বা বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সম্মানিত হজযাত্রীদের সঠিক নিয়মে হজ পালন ও ধর্মীয় বিধি-বিধান বিষয়ে পরামর্শ, দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়েখদের সমন্বয়ে ৫৮ সদস্যের হজ উলামা-মাশায়েখ টিম ২০১৯ গঠন করে পবিত্র হজে পাঠানো হয়েছে। এত বৃহৎ পরিসরে সরকারিভাবে উলামা-মাশায়েখদের হজব্রত পালনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অনিয়মের অভিযোগ
এ বছর বারবার অনিয়মের অভিযোগে খবরের শিরোনাম হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির নায়কদের সঙ্গে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকায় চলে আসে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের নাম, যার জেরে তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে তাঁকে ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমে ইসলামচর্চা বেড়েছে
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতি সার্বিকভাবে নজর দিলে এ কথা বলা খুবই স্বাভাবিক যে গণমাধ্যমে ইসলামচর্চা বাড়ছে। দৈনিক ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, নয়া দিগন্ত, যুগান্তর ও ইনকিলাব প্রতি শুক্রবার পুরো এক পৃষ্ঠায় ইসলামবিষয়ক লেখা প্রকাশ করে থাকে। দৈনিক সমকাল অর্ধপৃষ্ঠা ইসলামের জন্য ছেড়ে দেয়। দৈনিক জনকণ্ঠ প্রতি শুক্রবার ইসলাম বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন, মানবকণ্ঠ ও বাংলাদেশের খবর শুক্রবারসহ প্রতিদিন সিঙ্গল কলামে ইসলামবিষয়ক একটি বা দুটি লেখা প্রকাশ করে থাকে। প্রথম আলো হজ, হজ গাইড, রমজান, সমসাময়িক ইস্যু কাভারেজ দিয়ে থাকে। পত্রিকাটি প্রতি শুক্রবার ইসলাম বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। এ ছাড়া প্রায় সব পত্রিকা রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন প্রথম পৃষ্ঠায় বা ভেতরের পৃষ্ঠায় বিশেষ লেখা প্রকাশ করে থাকে; যদিও বেশির ভাগ প্রিন্ট মিডিয়ায় শুক্রবার ইসলাম বিষয়ে বিশেষ আয়োজন থাকে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে মূলধারার জাতীয় দৈনিকে প্রতিদিন পৃষ্ঠাব্যাপী ইসলাম নিয়ে বিশেষ আয়োজনও লক্ষ করা যায়। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ১২ পৃষ্ঠার দৈনিক হিসেবে সর্বপ্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছে। মূলধারার পত্রিকার মধ্যে কালের কণ্ঠ গত ১ মে থেকে প্রতিদিন রঙিন পুরো এক পৃষ্ঠা প্রকাশ করছে। সময়ের আলো প্রতিদিন আধাপৃষ্ঠা, শুক্রবার ও বিশেষ দিবসে ইসলাম নিয়ে পুরো পাতা করছে।
দেশ রূপান্তর পত্রিকায় এক-তৃতীয়াংশ পৃষ্ঠাজুড়ে প্রতিদিন ইসলাম বিষয়ে বিভিন্ন লেখা ছাপা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি হাফেজদের জয়জয়কার
কাতারে ‘শেখ জাসেম মোসাবাকা’ কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি চারজন হাফেজ অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা হলেন কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম হাফেজ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ, আবু সুহাইলা মোহাম্মদ, হাফেজ কারি মোহাম্মাদুল্লাহ, শায়েখ আব্দুল ওয়াহাব ইউসুফ আহমেদ ও অন্যজন মোছা. খাদিজা।
জর্দানে ২৭তম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করে হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় তৃতীয় গ্রুপে (প্রথম ১৫ পারা) বিশ্বে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ শিহাব উল্লাহ। পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল ও সম্মাননা তাঁর হাতে তুলে দেন মক্কার গভর্নর খালিদ বিন ফয়সাল।
তরুণদের ধর্মচর্চা বেড়েছে
একটি জাতীয় দৈনিক তরুণদের ভাবনা নিয়ে বিশেষ জরিপ প্রকাশ করেছে। সেই জরিপ মতে, বাংলাদেশের তরুণদের বড় অংশই ধর্ম চর্চা করে। আর বেশির ভাগ তরুণ মনে করে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ উদার। তারা আরো মনে করে, তরুণদের মধ্যে ধর্মচর্চা আগের চেয়ে বেড়েছে।
মুসলমান তরুণদের ৩৭.৩ শতাংশ বলেছে, তারা দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শহর ও গ্রামের তরুণ ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি পড়ে। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এমন তরুণ ২০১৭ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে ২৭.৫ শতাংশ তরুণ বলেছিল, তারা দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।
কয়েকজন আলেমের ইন্তেকাল
২০১৯ সালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আলেম ওফাত লাভ করেছেন। তাঁরা হলেন আল-জামেয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস, ইসলামী ইতিহাসবিদ আল্লামা রহমত উল্লাহ কাউসার নিজামী (রহ.), একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক, আরবি সাহিত্যিক আল্লামা মীর খলিলুর রহমান আল-মাদানি, জামেয়া দারুল মাআরিফের সহযোগী পরিচালক ড. জসীম উদ্দীন নদভি, সিলেট দরগাহ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম জাকারিয়া, ৩২ খণ্ডে প্রকাশিত বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কাশফুল বারী’ প্রণেতা আল্লামা ইদ্রীস (রহ.) প্রমুখ ইন্তেকাল করেছেন