বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার
পর মোটামুটি সব বড়
ভাইদের
টিউশনি করাতে দেখেছি।
সাথে শুনেছি পড়াতে গিয়ে তাদের
নানা রকম মজাদার
কাহিনী। ছাত্রীর
সাথে প্রেম করার
ঘটনাও ঘটিয়েছেন
অনেকেই। খুব ভাল
লাগত এসব
ঘটনাগুলো শুনতে।
মনে মনে ভাবতাম
আমিও একদিন
ভার্সিটিতে ভর্তি হব,
দু'একজন ছাত্র
কিংবা ছাত্রীকে পড়াবো।
কত্ত মজা হবে। ওদের
মজার যত্তসব
কার্যকলাপ
দেখবো আর বন্ধুদের
সাথে সেগুলো শেয়ার
করে সবাই
মিলে একযোগে হাসাহাসি করবো।
পুরো ব্যাপারটাই
আলাদা একটা আমেজ
এনে দিবে।
দেখতে দেখতে সেই
সুযোগটা এসে গেল।
নামকরা একটা ভার্সিটিতে ভাল
একটা সাবজেক্টে চান্স
পেয়ে গেলাম। একদিন
এক সিনিয়র ভাই
এসে আমাকে বলল
উনার হাতে এক
ছাত্রীর জন্য
টিউশনীর অফার
এসেছে। কিন্তু
ইতোমধ্যে উনি চার
জনকে পড়াচ্ছেন।
তাছাড়া সামনে পরীক্ষা ছিল।
তাই এতটা চাপ
নিয়ে উনি পড়াতে পারছিলেন
না। তাই আমাকে সেই
নতুন
ছাত্রীকে পড়ানোর
জন্য বললেন। আমিও
কিছু না ভেবেই
রাজি হয়ে গেলাম।
সেই বড় ভাই
আমাকে পরের দিন
সেই নতুন ছাত্রীর
বাড়িতে গিয়ে পরিচয়
করিয়ে দিতে চাইলেন।
আমি মনে মনে খুব
খুশি ছিলাম।
পরেরদিন তানিসাদের
বাড়িতে গেলাম। হ্যা,
আমার ছাত্রীর নাম
ছিল তানিসা।
ভারি সুন্দর নাম।
ক্লাস থ্রিতে পড়ে।
ইংলিশ মিডিয়ামে।
ক্লাসের ফার্স্ট
গার্ল।
আমাকে মাসে বারোদিন
পড়াতে হবে।
প্রতিমাসে সম্মানি হিসেবে আমাকে উনারা সাড়ে চার
হাজার
টাকা দিতে চাইলেন।
আমি রাজি হয়ে গেলাম।
সেদিন বড়
ভাইয়া আমাকে উনাদের
সাথে পরিচয়
করিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
আমি তানিসার
সাথে তার পড়ার
রুমে গেলাম।
প্রথমে কিছু সাধারন
প্রশ্ন করে টেস্ট
নেওয়ার
চেস্টা করে দেখলাম
ছাত্রী আমার তুখাড়
মেধাবী আর অনেক
চঞ্চল।
তবে জীবনে অনেক
বড় কিছু হবে সেই
ব্যাপারে আমি নিশ্চিত
হয়ে গেলাম। কারন,
তানিসা মাত্র ক্লাস
থ্রিতে পড়ে অথচ তার
জ্ঞানের
পরিধী অনেক
বিশাল। এই ছোট্ট
বয়সে
বাচ্চারা সাধারনত
পাঠ্যপুস্তক
ভিত্তিক জ্ঞান
আহরন করে থাকে।
কিন্তু তানিসা ক্লাস
ভিত্তিক বই ছাড়াও
বাহ্যিক বিষয়
সম্পর্কেও অনেক
জানতো।
কিছুদিনের
মধ্যে তানিসার
ব্যাপারে অনেক
আগ্রহী হয়ে উঠলাম
আমি। মেয়েটা অনেক
দুস্টু হলেও খুব
মায়াবী ছিল।
আমাকে কখনো স্যার
বলে ডাকতো না।
ভাইয়া বলতো। মাত্র
কয়েকদিনের
ব্যাবধানে অনেক
মায়া জন্মে গেল
তানিসার প্রতি।
পড়ার সময় অনেক
দুষ্টূমী করতো তানিসা।
কিন্তু পড়ালেখায়
কোন কমতি ছিল না।
আমি প্রতিদিন ওর
জন্য চকোলেট
নিয়ে যেতাম। শর্ত
ছিল, চকোলেট
নিয়ে গেলে ও কোন
দুষ্টুমি করবে না।
কিন্তু চকোলেট
দেওয়ার পরেও ফলাফল
ছিল শুণ্য। কোন কোন
দিন তানিসার
দুষ্টূমিতে অতিস্ট
হয়ে বকাবকি করতাম।
তখন, ও মুখ
গোমরা করে চুপচাপ
বসে থাকতো।
বুঝাতে পারবো, তখন
আমার এতটাই খারাপ
লাগতো যে বলার মত
নয়।
কিছু দিনের
মধ্যে তানিসার
লেখাপড়ার
অগ্রগতি চোখে পড়ার
মত ছিল।
ক্লাসে ফার্স্ট গার্ল
হওয়ার পরেও
টিউটোরিয়াল,
উইকলি,
কিংবা মান্থলি এক্সাম
গুলোতে তার মার্ক্স
আগের তুলনায় অনেক
বেশি হতে লাগল।
ক্লাস
টিচাররা পর্যন্ত তার
মার্ক্স
দেখে চমকে গেল।
প্রতি এক্সমেই তার
মার্ক্স 95+ ছিল।
একদিন বিকেলে,
তানিসাকে পড়াতে যাবো বলে রেডি হচ্ছিলাম।
হঠাত,
আন্টি (তানিসার
আম্মু) আমার
নাম্বারে কল দিল।
আমি রিসিভ
করে সালাম দিলাম।
আন্টি বলল,
"বাবা আজকে তুমি আসিওনা।
আমরা তানিসাকে নিয়ে একটু
ডাক্তারের
কাছে যাবো।
তুমি আগামী শনিবার
এস। ঠিক আছে??"
আমি বললাম,
"আচ্ছা আন্টি।
আমি তাহলে শনিবার
আসছি।"
মাঝখানে তিন দিন
ছুটি পেলাম।
মনটা ভালো হওয়ার
কথা, কিন্তু হল না।
বরং আরো খারাপ
হয়ে গেল।
তানিসাকে দেখার
জন্য এক প্রবল
ইচ্ছা কাজ করছিল
মনে। খুব মিস
করছিলাম, আমার
ছোট্ট বোনটা কে।
বোন বলছি, কারন
তানিসাকে আমি নিজের
ছোট বোনের মতই
দেখতাম।
-------------------------------------
শনিবার
আমি তানিসাদের
বাসায় গেলাম।
তানিসাকে দেখে মনটা একদম
ভাল হয়ে গেল।
আমাকে দেখেই,
ভাইয়া এসেছে,
ভাইয়া এসেছে বলে চিতকার
চেচামেচি শুরু
করে দিল মেয়েটা।
সবকিছু ঠিকঠাক
থাকলেও
আন্টিকে একটু
চিন্তিত মনে হল।
যাই হোক, আমি কিছু
না বলে তানিসাকে নিয়ে তার
পড়ার রুমে চলে গেলাম
পড়ানোর জন্য।
এভাবে আরো কয়েকদিন
চলে গেল।
একদিন, তানিসা খুব
দুষ্টুমি করছিল।
কিছুতেই
থামাতে পারছিলাম
না। পড়াতেও মন ছিল
না ওর্। দুষ্টুমির এক
পর্যায়ে দেখলাম,
তানিসা হাসতে হাসতে হঠাত
করে তার চেয়ার
থেকে পড়ে গেল।
তারপর অজ্ঞান
হয়ে গেল।
আমি হন্তদন্ত
হয়ে তাকে কোলে নিলাম।
তারপর,
আন্টিকে ডেকে তাকে বেডরুমে নিয়ে শুইয়ে দিলাম।
আন্টির চেহারা এই
কয়েকদিনেই অনেক
শুকিয়ে গিয়েছিল।
বুঝতেই পারছিলাম,
কোন সিরিয়াস
ব্যাপার
নিয়ে আন্টি খুব
চিন্তিত কয়েকদিন
থেকেই।
আমি আন্টি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
-তানিসার
কী হয়েছে আন্টি??
আর
আপনাকে কয়েকদিন
থাকেই খুব চিন্তিত
দেখাচ্ছে! সিরিয়াস
কিছু??
আমি দেখলাম, আমার
কথা শুনে আন্টি আরো বিমর্ষ
হয়ে গেল। ভাল
ভাবে খেয়াল
করে দেখলাম,
আন্টি কাদছেন।
কিছুই বুঝতে পারলাম
না। তাই, আবার
বললাম,
-আন্টি!
কী হয়েছে আমাকে বলবেন
প্লিজ।
এবার
আন্টি আমাকে অনেকগুলো কথা বললেন।
আমি সত্যিই
সেগুলো শুনার জন্য
একেবারেই প্রস্তুত
ছিলাম না।
কথাগুলো বলেই
আন্টি হু হু
করে কেদে দিলেন।
আমিও আর
নিজেকে আটকাতে পারলাম
না। চোখ
ফেটে কান্না এল
আমার্।
বুকটা নিমিষেই
কষ্টে ভরে গেল।
মনে হচ্ছিল, কেউ
যেন আমার
বুকে বিশাল
একটা পাথর
চাপিয়ে দিয়েছে। আর
আমি নিশ্বাস
নেওয়ার জন্য ছটফট
করছি। কিন্তু
পারছিনা। এতটাই
কষ্ট হচ্ছিল আমার্।
আন্টির কথার
মর্মার্থ খুব ছোট
করে বললে এরুপ
দাড়াবে, "তানিসার
ব্রেইন টিউমার
হয়েছে। কিছুদিন
আগেই
টেষ্টে এটা ধরা পরেছে।
কিন্তু
তানিসা এটা জানেনা।
ডাক্তার বলেছে সময়
অনেক
বেশি হয়ে যাওয়ার
ফলে তাদের আর
করার কিছুই নেই।
যেকোনদিন
তানিসা এই দুনিয়ার
মায়া ত্যাগ
করে চলে যেতে পারে।
তার জন্য আর কোন
চিকিতসাই অবশিষ্ট
নেই।"
আমি কী বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম
না।
এরমধ্যে আন্টি আরো কিছু
কথা বললেন
যেগুলো শুনে তানিসার
প্রতি আমার
ভালবাসা আরো অনেকগুনে বেড়ে গেল।
আন্টি আর আঙ্কেল
তানিসার স্কুল
যাওয়া বন্ধ
করে দিয়েছেন। কারন
ডাক্তার বলেছেন, এ
মুহুর্তে তানিসার
মাথায় যেন
অতিরিক্ত কোন চাপ
না পড়ে। আর এই
কারনে উনারা আমাকেও
টিউশনিটা বাদ
দেওয়ার
কথা বলতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু
তানিসা এতে কিছুতেই
রাজি হয়নি।
সে নাকি খুব
কান্না কাটি করে বলেছিল,
স্কুল-প্রাইভেট বাদ
দিলে দিক, কিন্তু
আমাকে যেন বাদ
দেওয়া না হয়।
সে নাকি সেদিন
কান্না করে বলেছে,
"ভাইয়াকে ছাড়া আমার
কিছু ভাললাগে না।
পড়ার জন্য না হলেও
ভাইয়া যেন প্রতিদিন
আমাদের বাসায়
আসে।"
আমি এরপর
থেকে প্রতিদিনই
তানিসাদের বাসায়
যেতাম। সবসময়
হাসিয়ে রাখার
চেস্টা করতাম
মেয়েটাকে। কিন্তু
অল্প কয়েকদিনের
ব্যাবধানেই তানিসার
চেহারা অনেক
বদলে গেল। অনেক
শুকিয়ে গেল সে।
আগের মত আর
হাসিখুশি ভরা মুখখানা নিয়ে আমার
সাথে দুস্টুমিও
করতো না। যখন তখন
অসুস্থ হয়ে পড়তো।
ব্যাপারগুলো খুব কাছ
থেকে দেখতাম আমি,
কিন্তু কিছুই করার
ছিল না। প্রতিদিন
ম্যাসে এসে নিজের
রুমে বসে একা একা কাদতাম
আমি।
কয়েকদিন
যেতে না যেতেই
তানিসা খুব
বেশি অসুস্থ
হয়ে পড়ল।
বিছানা ছেড়ে উঠতে পারতো না সে।
আর
সবচেয়ে আশ্চর্যের
বিষয়, এই অসুস্থতার
মধ্যেও সে সবসময়
আমাকে খুজতো।
একদিন আন্টি আমার
হাত
ধরে কান্নাকাটি করে খুব
কাকুতি করে আমাকে উনাদের
বাসায়
থেকে যেতে বললেন।
সেদিন তানিসার
অবস্থা খুবই খারাপ
ছিল। ডাক্তার
এসে দেখলেন কিন্তু
কিছুই বললেন না।
কিছু অসুধের নাম সহ
একটা প্রেস্ক্রিপশন
আংকেলের
হাতে ধরিয়ে দিয়ে চশমা খুলে চোখ
মুছতে মুছতে চলে গেলেন।
সেদিন সারাটা সময়
আমি তানিসার
সাথেই
কাটিয়েছিলাম।
অনেক মজার মজার
গল্প বলে ওকে একটু
হাসানোর খুব
চেস্টা করছিলাম।
কিন্তু মেয়েটা হাসার
চেস্টা করেও
হাসতে পারছিল না।
বুঝতে পারছিলাম খুব
কষ্ট হচ্ছে ওর্।
কিন্তু আমিও
নিজেকে আর
সামলাতে পারছিলাম
না। মেয়েটার
হাসিমাখা মুখখানা যে অনেকদিন
দেখিনি।
সন্ধ্যার
দিকে তানিসা ঘুমিয়ে পড়ল।
আমরাও
রাতে কিছুক্ষন গল্প
করে যার যার
রুমে চলে গেলাম।
আমাকে গেস্ট
রুমে থাকার
ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল।
রাতে কিছুতেই ঘুম
আসছিল না আমার্।
হঠাত, পাশের রুম
থেকে আন্টির
চিতকার
শুনতে পেলাম। আমার
আর
বুঝতে বাকী রইলো না।
ছুটে গেলাম তানিসার
সেই রুমে।
গিয়ে দেখলাম,
আন্টি তানিসাকে শক্ত
করে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন।
আঙ্কেল
নিশ্বব্দে দাড়িয়ে আছেন
আন্টির পাশে।
আঙ্কেলের হাত
তানিসার ছোট্ট
হাতটি ধরে রেখেছেন
শক্ত করে। যেন
কিছুতেই
না ছুটে যায়।
কারো মুখে কোন শব্দ
নেই।
আন্টি চুপটি করে আছেন,
সেরুপ আঙ্কেলও। শুধু
দুজনের চোখ
দিয়ে ঝরঝরিয়ে পানি পড়ছে।
আমি আসতে আসতে কাছে এগিয়ে গেলাম।
পরম মমতায় "আপু"
বলে ডাক দিলাম।
দেখলাম,
তানিসা একটু
নড়েচড়ে উঠল।
তারপর, আন্টির
কোল
থেকে মুখটা ঘুরিয়ে আমার
দিকে তাকিয়ে "ভাইয়া"
বলে ডাক দিল।
তারপর, তার ছোট্ট
হাতটি আমার
দিকে বাড়িয়ে দিল
প্রশস্ত করে। আমিও
আমার হাতটা তার
দিকে বাড়িয়ে দিলাম।
আমার হাতটা শক্ত
করে ধরে তানিসা বলল,
"ভাইয়া আমি কি মরে যাবো??
আম্মু আব্বু
আমাকে কিছুই
বলতে চাচ্ছে না।
তুমি বলনা ভাইয়া।
তোমরা সবাই কাদছ
কেন?"
আমি কিছুই
ভেবে পাচ্ছিলাম
না যে এই
মুহুর্তে আমি কী বলবো।
চুপ করে শুধু অশ্রু
বিষর্জন
করা ছাড়া আমার আর
কিছুই করার ছিল না।
হঠাত খেয়াল করলাম,
তানিসার যেই
হাতটা আমার
আঙ্গুলটা ধরে ছিল
সেটা আঙ্গুলটা ছেড়ে দিল।
তারপর
আস্তে করে সমস্ত
শরীরটা আন্টির
কোলে এলিয়ে দিল।
আন্টি সশব্দে চিতকার
করে উঠল
সাথে আঙ্কেলও।
আমি তানিসার
মুখপানে শুধু
চেয়েছিলাম। হঠাত
খেয়াল করলাম,
আমারও চোখ
দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now