বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের শেষ শখটা পূরণ হতে যাচ্ছে...

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বইমেলায় ২২১ নম্বর স্টলের সামনে আছে কিশোর। ওর সামনে অসংখ্য ভক্ত,পাঠকের ভীড়।তাদের ইচ্ছেগুলো কিছুটা মেটানোর চেষ্টা করছে। চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে সবাই কিশোরকে।এত অটোগ্রাফ,ফটোগ্র াফের ভীড়ে হঠাৎ কিশোরের চোখ পড়ে একটি বাচ্চা মেয়ের দিকে। একটি ডায়েরী হাতে নিয়ে হাতটা বাড়িয়ে রয়েছে কিশোরের দিকে। গোয়েন্দা গল্প লিখতে লিখতে অভ্যাস এখন অনেকটাই ওরকম হয়ে যাচ্ছে। আশেপাশের বিশেষ কিছু নজরে পড়ে যায়। বাচ্চা মেয়েটাকে কাছে ডেকে নিল ও।মেয়েটার চোখে কারো ছায়া যেন দেখতে পাচ্ছে কিশোর।‘তোমার নাম কি?’- সহজভাবে জিজ্ঞাসা করে কিশোর।‘আমার নাম তিথি।’- মেয়েটির উত্তর। ‘আমার গল্প পড়ো তুমি?’- কৌতূহল চোখে কিশোরের প্রশ্ন।‘সব না,তবে কিছু কিছু পড়েছি।বিশেষ করে থ্রিলারগুলো।’- সরলভঙ্গিতে তিথি উত্তর দেয়। কিছুটা অবাক হয় কিশোর।মেয়েটির বয়স ১০-১২ বছরের বেশি হবে না।ঐটুকু মেয়ে থ্রিলার গল্প পড়ে,কিছুটা অবাক করার মতোই। ‘তুমি কার সাথে এসেছ? কাউকে দেখছি না যে আশেপাশে?’‘ঐ যে আমার আম্মু দাঁড়িয়ে আছে।’- হাত দিয়ে দেখায় আর ইশারা করে ওর আম্মুকে। কিশোর একদৃষ্টিতে তাকিয়েই রইলো সেদিকে। এতদিন পর সেই চেনা মুখটার সম্মুখীন হতে হলো।যেটি ও কখনোই আশা করেনি। বুকের ভেতর হঠাৎ কি যেন অনুভব করলো কিশোর। ******* এষার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ভার্সিটি জীবনের শেষ ক্লাসের দিন। এরপর এষার জীবন থেকে পুরোপুরি নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোর। পুরো স্বেচ্ছায় বলতে গেলে... ভার্সিটির প্রথম থেকেই ওরা খুব ভাল বন্ধু একে অন্যের। ভার্সিটি তে প্রবেশ থেকেই শুরু হয় কিশোরের লেখালেখি জীবন। পুরোদস্তুর লেখালেখি বলতে যা বুঝায়। নাওয়া - খাওয়া,পড়াশুনা সব এক পাশে ফেলে ওর সকল ইন্দ্রিয়র মনোযোগ চলে লেখার দিকে। ওর পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব এমনকি জীবনসঙ্গিনী হিসেবে যাকে সবসময় ভেবে রাখতো সেও দূরে সরে গিয়েছে এই একটি কারণেই।তবু লেখালেখি থামায় না কিশোর।ক্ষুদ্র কিছু অনুপ্রেরণা কিশোর পেত কারো কাছ থেকে। সেই অনুপ্রেরণাটির নামই এষা।সবাই যখন কিশোরের জীবনকে ‘অদ্ভূত’,‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে চলে যাচ্ছে তখন থেকেই এষার অনুপ্রেরণায় ও লিখতো।শুধু লেখালে্খির প্রেরণা হিসেবে নয়। এষাকে সব দিক থেকেই পছন্দ করতো কিশোর। বন্ধু অথবা অন্য যা কিছু হোক না কেন... সেই যা কিছু কখনোই অন্যদিকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করার দু:সাহস করেনি কিশোর। কারণ একটিই,পূর্ব অভিজ্ঞতা যে ভয়ানক। আর ওসব নিয়ে কিশোর এখন ভাবতেও চায় না। তার সকল মনোযোগ লেখার প্রতি। তাই প্রেরণাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছুটা স্বার্থপরতা দেখিয়েই চলতে বাধ্য হতো ও। এষার জীবন কিছুটা অন্যরকম।‘ভালবাস া’ অথবা এ জাতীয় কোন অনুভূতি কখনোই ওর মনের ভেতের আসেনি।সবসময়ই এসব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। কিশোরের ব্যাপারে কোন অনুভূতি কাজ করলেও সেটি মুখ বুজে চেপে রাখাটাই উত্তম মনে করতো। কারণ,ওর ধারণা সময়তো আছেই,এত ব্যস্ত হওয়ার কি আছে? ভার্সিটির জীবনটা তাই ওদের কেটেছে বন্ধু ভাবাপন্নেই।আড্ড া,ক্লাস,পড়াশোনা ,নোট যোগাড় এগুলো মিলেই চলতো।কিশোরের চলতো লেখালেখি আর এষার চলতো শখ পূরণ করা। ব্যাপারটা কিছুটা অদ্ভূতই। অনেকটা পাগলামিও বলা যায়। কিশোরকে নকল করে এষা অনেক রকম নিজের শখ মিটিয়ে নিতে চাইতো। যেমন-প্রথম সিগারেটে এক টান দেয়া।এটি ছিল এষার প্রথম শখ। কিশোরের মোহে যখন থেকে ও মোহিত হওয়া শুরু করে তখন থেকেই এগুলো ওর অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। সেই শখ গুলো পূরণ করার অনুভূতি কেনইবা জেগে উঠতো তা কিশোর- এষা জানলেও একে অপরকে জানানোর প্রয়োজন মনে করে নি। একজনের ভয়,অন্যজনের সময়কে মেনে নেয়া এ দুটি কারণেই সেই শখ পূরণের ইচ্ছেগুলো শুধুমাত্র ‘ইচ্ছে’ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকতো। অনেকটা ‘করার দরকার বলে করেছি’- হলে যেমন হয়... ******* আজ ভার্সিটির শেষ ক্লাস।সকাল থেকেই এষার মন কিছুটা ছটফট করছে।আজ ওর একটি বিশেষ ‘শখ’ পূরণ করতে বলবে কিশোরকে। কিভাবে বলবে,কোথা থেকে শুরু করবে সেই নিয়ে মহাচিন্তিত এষা।কিশোর কি রকম প্রতিক্রিয়া করবে শখটির কথা শুনে সেটি ভেবেও কিছুটা চিন্তিত। কারণ এষার পাগলামি টাইপের শখগুলোকে কিশোর সবসময় যে ‘হেয়ালী’র চোখেই দেখে এসেছে। কিশোরও চিন্তিত। তবে অন্য কারণে। এষার শখটা কিরকম হতে পারে সেটি ধারণা করতে পারছে না। আসলে ধারণা করতে চাইছেও না।কারণ সেগুলোকে শখ না,ভয়ংকর কর্ম সাধনও বলা যায়। মনে পড়ে গেলো ভার্সিটির প্রথম দিককার কথা।একদিন কিশোরের হাতে কাঁটা একটি দাগ দেখলো।সেই থেকে তার শখ হলো তার হাতেও সেভাবে কেটে দিতে হবে। এক শুক্রবার সকালে কিশোরকে ডেকে বলে তার শখ পূরণ করে দেয়ার জন্য। কি যে যাচ্ছে তাই অবস্থা হলো সেদিন... থাক,ওসব আর চিন্তা না করি।- মনে মনে নিজেকে বলে কিশোর। এষা তো???ওর শখ হবে কোন হেয়ালীপনা। হয়তো বলবে ‘আমিও তোর মতো ৬ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা হবো। কিভাবে হবো তা তুই জানিস।এখন আমার শখ পূরণ করে দে।’ এষা থেকে এর চাইতে ভাল কিছু আশা করা যায়ও না-ভাবছে কিশোর। ক্লাস শেষ করে সরাসরি সাক্ষাৎ এষার সাথে কিশোরের- ‘কিরে কেমন আছিস?’-দুষ্টুমি করে এষা জিজ্ঞেস করে। ‘মজা একটু কম করে নে।ঠিক আছে?তোর শখ পূরণ করতে করতে তো আমার জীবন যৌবন সব চলে যাচ্ছে।’- খোঁচা মেরে কিশোরের প্রত্যুত্তর। ‘তাই? আমি তোকে বেশি জ্বালাই? আজকেই শেষ শখ। এরপরে আর বলবো না।যা!’- অভিমানী কন্ঠে এষা বলে। ‘তাই নাকি রে? তো আজকের শখ কি তোকে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে? তাহলেই তো আর কখনো শখের কথা বলতে পারবি না।’- হাসতে হাসতে কিশোর উত্তর দেয়। ‘হইছে,বুঝছি।তোর সাথে কখনোই কথায় পারবো না আমি।’- ঠোট উলটিয়ে বললো এষা। ‘ওকে,পারতে হবে না। এবার শুনিমহারাণীর শেষ ইচ্ছার কথা। দেখি মীনা কার্টুনের দৈত্যের মতো করে শখটা পূরণ করে ফেলতে পারি কিনা।’- আবারও হাসতে হাসতে কিশোর জানতে চাইলো। ‘আমার হাতটাধরে বল - এষা,আমি তোমায় ভালবাসি।’-হঠাৎ করে খুব গম্ভীর কন্ঠে বললো এষা। ‘কিহ!!! ফাজলামি করছিস? দেখ এষা,আমি থ্রিলার প্রেমিক।বৃষ্টিত ে ভেজা রোমান্টিক নায়ক নই আমি,যে তোর শখ পূরণ করবো। ফাজলামি বাদ দিয়ে বল।’- কিছুটা দুষ্টুমি কন্ঠে কিশোর প্রত্যুত্তর দিল। ‘না এটাই আমার শেষ শখ।কোন ছেলেএখন পর্যন্ত আমার হাত ধরেনি। তাই আমি চাই যাকে আমি ভালবাসবো তার মুখ থেকেই প্রথম শুনবো এবং আমার শখটা পূরণ করবো।’- স্বাভাবিক গলায় বললো এষা। কিশোরের ভ্রুঁ কুচকে গেল কিছুটা।সাম্প্রত িক ঘটনায় কিছুটা হকচকিয়ে গেল কিশোর।এষার কাছে ওভাবে আশা করেনি ও। আশা করলেও সেটি মনে মনে,যেটিকে ও কখনোই বাস্তবে পরিণত হতে দিবে না এখন। কিছু না বলেই কিশোর সাথে সাথে চলে গেল... ******* ‘কেমন আছিস?’- চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে এষা জিজ্ঞেস করলো কিশোরকে। ‘দেখতেই তো পেলি লেখালেখি নিয়ে আছি। চলছে খারাপ না।’- সিগারেটে টান দিয়ে উত্তর দেয় কিশোর। ‘আর সিগারেট টা ছাড়লি না?..’, ‘তুই কি এখনো নিজের শখ পূরণ করে যাচ্ছিস সিগারেটে টান দিয়ে?’-এষার প্রশ্ন শেষ করার আগেই টান দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো কিশোর। ‘নাহ,শখের বশে কিছু করা আর হয়ে ওঠে না।’- বললো এষা। ‘সেটি অবশ্য তোর মেয়েকে দেখেই বুঝে ফেলেছিলাম।’- তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বললো কিশোর। ‘খোঁচা মারলি?’- মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করে এষা। ‘আরে না নাহ,খোঁচা মারতে যাবো কেন? আমরা বর্তমানকে খুব গুরুত্ব দিয়ে আগাই। কিন্তু সেটি যখন অতীত হয়ে যাই তখন মনে রাখি না। আর মনে রাখলেও তা ভেবে আমরা হাসি’- বিজ্ঞের মতো একটানা কথাগুলো বলে গেল কিশোর। ‘আজও পরিবর্তন হলো না তোর। কথাতেও পারা গেল না।তারপর,তোর বউ বাচ্চার খবর কি?’- একটু দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে প্রশ্নটা করে এষা। ‘হাহাহাহাহা... আমি তো বদলাইনি। তাহলে আমার বউ বাচ্চা আসবে কোথা থেকে,তুই বল।’- হাসোজ্জ্ব্যল কন্ঠে উত্তর দিল কিশোর। ‘বিয়ে করিস নি?’- কৌতূহলী কন্ঠে এষা জিজ্ঞেস করলো। ‘তুই এখনো মাথামোটা রয়ে গেলি। বললাম না,আমিতো বদলাইনি,তাহলে আমাকে বিয়ে করবে কে?’- পুরনো খোঁচার পুনরাবৃত্তি করে কিশোর বললো। ‘হুম...।’-দীর্ঘশ্বাস নিল এষা। ‘চল চল তোকে এগিয়ে দিয়ে আসি। সন্ধে হয়ে যাচ্ছে। তোর জামাই- সন্তান চিন্তা করবে। আমাকে আবার বাসায় গিয়ে বসতে হবে লেখা নিয়ে। প্রকাশক গুলো পারেও বটে। বইমেলার শেষ সময়েও আর একটা লেখা ছাড়তে বলে।’- একনাগাড়ে কথা গুলো বললো কিশোর। ‘ও আমার মেয়ে নয়।’-খুব শান্তগলায় বলায় এষা। ‘মানে?তাহলে কি...’- কিশোরের কথা শেষ করার আগেই এষার জবাব- ‘ও আমার বোনের মেয়ে।আমি যখন মাস্টার্সে ভর্তি হ্ই তখন আপুর বিয়ে হয়।তিথির জন্মের দু’বছর পরেই আপা দুলাভাই রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা যায়। সেই থেকে ও আমার কাছে। তিথিকে নিজের মেয়ের মতো ভেবেই বড় করছি।আমার সান্নিধ্য ওর খুব পছন্দ।তাই আমাকে অনুকরণ করতে করতেই ও তোর লেথা গল্প পড়া শুরু করে। আমি চাইনি কখনোই তোর সামনে দাঁড়াতে। এবারের বইমেলার শুরু থেকেই তিথি জেদ ধরে তোর সাথে দেখা করে একটা অটোগ্রাফ নিবেই।তাই সেদিন ও যখন তোর থেকে অটোগ্রাফ নিচ্ছিল আমি দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম,ওকে বলেছিলাম অটোগ্রাফ নিয়ে চলে আসতে। কিন্তু...’- গুছিয়ে কথাগুলো বললো এষা। ‘সামনে তুই দাঁড়াতে পারবি না কেন? সেদিন তো আমি চলে এসেছিলাম। তাই কথাটা আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।’- বললো কিশোর। ‘তুই জানিস আমি কিছুটা একরোখা মেয়ে। তোর সাথে আমার সম্পর্ক কেমন ছিল সেটি তুই জানিস ভাল করে। তাই,সবকিছু ভেবে নিয়েই আমি তোকে সেদিন আমার শখের কথা বলেছিলাম। সেটি আসলে আমার শখ ছিল না।আমার মনের কথা ছিল। কিন্তু তুই যখন চলে এলি তখন বুঝলাম আমি তোর যোগ্য নই।আর যোগ্যতা অর্জন করতে পারবোও না। তাই সামনে যেতে চাইনি।’- এষার প্রত্যুত্তর। ‘আমাকে বেশ ভাল চিনেছিস তুই।তোর সাথে আমার সম্পর্ক কেমন ছিল এটি কিন্তু তুইও জানিস খুব ভাল করে।কিন্তু ঐ মুহুর্তে সত্যি বলতে আমি প্রস্তত ছিলাম না এসব ব্যাপারে,কারণটা তুই খুব ভাল করে জানিস। আমার আজ এ অবস্থানে আসার পেছনে তোর ভূমিকাই সবথেকে বড়,কিন্তু ঐ সময়টাতে আমি কিন্তু তেমন পরিপূর্ণ ছিলাম না এখন যেমনটা আছি।আর সেকারণেই...’-শেষ করতে পারলো না কিশোর। ‘আর সে কারণেই প্রেরণাকে ফেলে দিয়ে একা পথে হাটলি। তুই খুব স্বার্থপর-’-অভি মান ভরা কন্ঠে বললো এষা। ‘না প্রেরণার মানুষটা থেকে প্রেরণাগুলো নি্য়েই হাটছি।আর স্বার্থপরতা তো লেখকেদের বৈশিষ্ট্য-মুচকি হেসে বললো কিশোর। ‘হয়েছে বাপ।আর ঢং করিস না।’- চিরচেনাভাবে সেই মুখ উলটিয়ে বললো এষা। ‘চল উঠা যাক।’- বলেই কিশোর উঠে হাতটা বাড়িয়ে দিল এষার দিকে। এষার মুখে হাসির রেখা দেখা গেল। আজ যে ওর জীবনের শেষ শখটা পূরণ হতে যাচ্ছে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now