বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"নাস্তিকতার উন্থান ও আমাদের দায়বদ্ধতা"
______________________________________________
সর্বপ্রথম আলকোরআনের ঐ আয়াতের অর্থ পাঠ করে নিই যা, আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ হতে 1450 বছর পূর্বে প্রতিদিন গভীর রজনীতে "তাহাজ্জুদ "আদায়ের "জন্য ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে মহাবিশ্বের দিকে তাকিয়ে তিলাওয়াত করতেন :
"নিশ্চয়ই আকাশ সমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন -রাত্রির আবর্তনে, মানুষের লাভজনক দ্রব্যাদি সহ সমুদ্রে ভাসমান জলযান সমূহে, আকাশ থেকে আল্লাহ যে (বৃষ্টির) পানি বর্ষন করেন সে পানিত মৃতপ্রায় ভূ-পৃষ্ঠের পুনর্জীবন প্রাপ্তিতে, সেই ভূপৃষ্ঠে সকল প্রকার জীবজন্তুকে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যে,বায়ু প্রবাহে, এবং আসমান ও জমিনের মাঝামাঝি স্হানে বিদ্যমান মেঘমালাকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্যে বুদ্ধিমান সমপ্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন সমূহ নিহিত রয়েছে। " (2:164)।
#এবার Wikipedia থেক নাস্তিকতার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জেনে নিই:
------—-------------
নাস্তিক্যবাদ:
__________________
নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায় : Atheism;
অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ,
নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম
যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার
অস্তিত্বকে স্বীকার
করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত
এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির
ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আস্তিক্যবাদ এর
বর্জন কেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। [১]
{নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস
এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।}
বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের
অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য। [২]
ইংরেজি ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের
অর্থ হল নাস্তিকক্য বা নিরীশ্বরবাদ।
এইথিজম শব্দটির
উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক
‘এথোস’ (ἄθεος) শব্দটি থেকে।
শব্দটি সেই সকল মানুষকে নির্দেশ
করে যারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই
বলে মনে করে এবং প্রচলিত ধর্মগুলোর
প্রতি অন্ধবিশ্বাস
কে যুক্তি দ্বারা ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করে।
Oxford Dictionary তে বলা হয়েছে : "Belief that there is no God ".
উৎপত্তি :
-----------------
দিনদিন মুক্ত চিন্তা , সংশয়বাদী
চিন্তাধারা এবং ধর্মসমূহের
সমালোচনা বৃদ্ধির
সাথে সাথে নাস্তিক্যবাদেরও প্রসার
ঘটছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম
কিছু মানুষ নিজেদের নাস্তিক
বলে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমান বিশ্বের
জনসংখ্যার ২.৩% মানুষ নিজেদের
নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় এবং ১১.৯%
মানুষ কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না। [৩]
জাপানের ৬৪% থেকে ৬৫% নাস্তিক
অথবা ধর্মে অবিশ্বাসী। [৪][৫]
রাশিয়াতে এই সংখ্যা প্রায় ৪৮% এবং
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ৬% (ইতালী )
থেকে শুরু করে ৮৫% ( সুইডেন ) পর্যন্ত।
[৪]
পশ্চিমের দেশগুলোতে নাস্তিকদের
সাধারণ ভাবে ধর্মহীন বা পরলৌকিক
বিষয় সমূহে অবিশ্বাসী হিসেবে গণ্য
করা হয়। [৬] কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের মত
যেসব ধর্মে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন করতে হয় না, সেসব
ধর্মালম্বীদেরকেও নাস্তিক
হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [৭] কিছু
নাস্তিক ব্যক্তিগত ভাবে
ধর্মনিরপেক্ষতা , হিন্দু ধর্মের দর্শন,
যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং প্রকৃতিবাদে
বিশ্বাস করে। নাস্তিকরা কোন বিশেষ
মতাদর্শের অনুসারী নয়
এবং তারা সকলে বিশেষ কোন আচার
অনুষ্ঠানও পালন করে না। অর্থাৎ
ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ, যে কোন
মতাদর্শে সমর্থক
হতে পারে, [নাস্তিকদের মিল শুধুমাত্র এক
জায়গাতেই, আর তা হল ঈশ্বরের
অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা।]
*******
আধুনিক যুগে নাস্তিক্যবাদ:
একবিংশ শতাব্দীতে কয়েকজন নাস্তিক
গবেষক ও সাংবাদিকের প্রচেষ্টায়
নাস্তিক্যবাদের একটি নতুন
ধারা বেড়ে উঠেছে যাকে "নব-
নাস্তিক্যবাদ" বা "New Atheism"
নামে ডাকা হয়। ২০০৪ সালে স্যাম
হ্যারিসের দি ইন্ড অব ফেইথ: রিলিজান,
টেরর, এন্ড দ্যা ফিউচার অব রিজন
বইয়ের মাধ্যমে নব-নাস্তিক্যবাদের
যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন আরেক
প্রখ্যাত নব-নাস্তিক ভিক্টর স্টেংগার।
প্রকৃতপক্ষে স্যাম হ্যারিসের বই
প্রকাশের পর এই ধারায় আরও ছয়টি বই
প্রকাশিত হয় যার প্রায় সবগুলোই নিউ
ইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলারে স্থান
করে নিতে সমর্থ হয়। সব মিলিয়ে নিচের
বইগুলোকেই নব-
নাস্তিক্যবাদী সাহিত্যের প্রধান
উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়:
১. দি ইন্ড অব ফেইথ: রিলিজান, টেরর,
এন্ড দ্যা ফিউচার অব রিজন (২০০৪) –
স্যাম হ্যারিস
২. লেটার টু এ কৃশ্চিয়ান নেশন (২০০৬)
– স্যাম হ্যারিস
৩. দ্যা গড ডিলিউশন (২০০৬)- রিচার্ড
ডকিন্স
৪. ব্রেকিং দ্যা স্পেল: রিলিজান এ্যাজ
এ ন্যাচারাল ফেনোমেনন (২০০৬) –
ড্যানিয়েল ডেনেট
৫. গড: দ্যা ফেইলড হাইপোথিসিস- হাউ
সাইন্স সোজ দ্যাট গড ডাজ নট
এক্সিস্ট (২০০৭)- ভিক্টর স্টেংগার
৬. গড ইজ নট গ্রেট: হাউ রিলিজান
পয়জনস এভরিথিং (২০০৭) –
ক্রিস্টোফার হিচেন্স
৭. দ্যা নিউ এইথিজম (২০০৯) – ভিক্টর
স্টেংগার
শেষোক্ত বইয়ে ভিক্টর স্টেংগার এই
ব্যক্তিদেরকেই নব-নাস্তিক্যবাদের
প্রধান লেখক হিসেবে আখ্যায়িত
করেছেন।
(বি, দ্র,): উল্লেখ্য, নব-
নাস্তিকেরা ধর্মের
সরাসরি বিরোধিতা করেন।
তারা ধর্মকে প্রমাণবিহীন বিশ্বাস
বলে আখ্যায়িত করেন এবং এ ধরনের
বিশ্বাসকে সমাজে যে ধরনের
মর্যাদা দেয়া হয় সেটার কঠোর
বিরোধিতা করেন।"
#এবার নিজেদের কথা বলি :
-----------------------------------
বৈশ্বিক নাস্তিকতা নিয়ে আলোচনা করা এখানে উদ্দেশ্য না, অধিকাংশ মানুষই সৃষ্টি নিয়ে মত্ত থাকবে আর স্রষ্টার ব্যাপারে থাকবে উদাসীন। এটা আমাদের আল্লাহই জানিয়ে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন জাগে জান্নাতের সংখ্যা তাহলে কম হওয়ার কথা কিন্তু জান্নাত হল আটটি আর জাহান্নাম হল সাতটি (!)?
এর জবাব হল আল্লাহ মানুষকে অনেক বেশী ভালবাসেন,আর এ উম্মাহকে আরো বেশী, তাই তাঁর অশেষ রহমতে তিনি অনেক পাপীকে শাস্তি আস্বাদনের পর জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন।
#আলকোরআন ও হাদীসের কথানুযায়ী অনেক মানুষই নাস্তিক থাকবে, কিছু থাকবে সংশয়বাদী, আর কিছু সুবিধাবাদী। তবে অধিকাংশ মানুষই এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী হবে আবার এদের মধ্যে অনেকেই একক স্রষ্টার সাথে অংশী স্হাপন করে/একক স্রষ্টার সন্তান স্হাপন করে নির্ভেজাল "ঈমান " থেকে দূরে সরে যাবে। নির্ভেজাল ঈমানদারের সংখ্যা কমই হবে।
سبأ:١٣) وقليل من عبادي الشكور)
এখন প্রশ্ন হল অমুসলিমদের মধ্যে নাস্তিক জন্ম নেয়া অস্বাভাবিক কিছু না, কিন্তু খুবই দুঃখজনক যে,আজ মুসলমানদের ঘরে ঘরে নাস্তিকের হিড়িক পড়ে গেছ! যে সিলেট শাহজালাল -শাহপরান( রহ) এর পদচারণায় একসময় ইসলামের দুর্গে পরিণত হয়েছিল সে সিলেটের রাজপথে আজ তাঁরা নাস্তিকতার স্লোগান দিচ্ছে , প্রাণ প্রিয় নবীকে তিরস্কার করছে, ইসলামকে ব্যাঙ্গ করে আওয়াজ তুলছে! তাদের বুকে লিখে রাখছে "I m Ovijit/Charlie " লক্ষ-লক্ষ অভিজিৎ তৈরী হচ্ছ।
এরচেয়েও বেশী ব্যথিত হই যখন দেখি, কোন আলিমের ঘর থেকে কামিল পাশ আলিম(নামে মাত্র আলিম,যথার্থ পড়াশোনা করলে কেউই নাস্তিক হওয়ার কথা না,আর আল্লাহই হিদায়াতের মালিক) বের হয়ে পরে নাস্তিকদের খাতায় নাম লেখায়, শুধু তাই নয় ইসলামকে ব্যাঙ্গ করে "কালকেউটের সুখ " উপন্যাস লেখে।
নব্য নাস্তিকতার যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তা অধিকন্তু যুক্তি ও বিজ্ঞানকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় তাহলে কি বিজ্ঞান নাস্তিক্যবাদকে উৎসাহিত করে। উত্তর কখনোই না, বরং ধর্মের অনেক বিষয় আজ আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে অনুধাবন করা অনেক সহজ হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ আলকোরআনের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠ "মু'যিজা " "মি'রাজ " আজ অনেক সহজে বোধগম্য হয়।
উদ্ভট যুক্তি আর বিজ্ঞান ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে যেমন : #ধর্মীয় বন্ধনহীন হতে পারলে অবাধ স্বাধীনতা উপভোগ করা যাবে, বড় বড় বোতল, নাইট ক্লাব, অগনিত যৌনসঙ্গী, অজাচার, সমকামিতা সব করা যাবে (আমাদের রাজীব,অভিজিৎ বাবু আজীবন এসবের পক্ষে লিখে গেছেন)।
#আরেকটা কারণ হল : নৈরাশ্যবাদিতা , এরা মনে করে যারা ধর্ম নিয়ে পড়ে আছে তারা বৈষয়িক উন্নতি থেকে পিছিয়ে আছে, উন্নত বিশ্বের নাস্তিকরা অনেক উন্নতি করছে, অতএব আমাদেরকেও উন্নতি করতে হলে তাদের মত হতে হবে, ধর্মের সেকেল বন্ধন হতে মুক্ত হতে হবে (নাউজুবিল্লাহ)।
#আমাদেরকি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করতে হবে যে, বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণিত কোন থিওরি আলকোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। কিন্তু Hypothesis (শুধুই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে তত্ত্ব বলা হয়ে থাকে) কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেমন Theory of Evolution বা বিবর্তনবাদ। এটা শুধুই ধারণা ,ল্যাব্রেটরীতে প্রমাণিত কোন তত্ত্ব না।(অনেক বিজ্ঞানী এটা প্রত্যাখ্যান করেছেন,অচিরেই ইনশাআল্লাহ এ নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে ) তাই এটা কোরআনে বর্ণিত প্রথম মানব আদম (আ ও তাঁর থেকে হাওয়া (আ এর সৃষ্টির সাথে সাংঘর্ষিক।
আর DNA,RNA আবিষ্কার হওয়ার পর বিবর্তন তত্ত্ব পুরাই অসার হয়ে যায়। অথচ আমাদের দেশের জীব বিজ্ঞান বইতে এটাকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, চৌকস শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের কাছে এটাই সত্য বলে প্রতিভাত হয়। এ মতবাদের অসারতা সম্পর্কে নতুন কোন তথ্য তুলে ধরা হচ্ছেনা।
অথচ আজও অনেকে মুক্তমনার ওয়েবসাইটে বিবর্তনবাদের অযৌক্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now