বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তুমি তেলাপোকা ভয়
পাও না !!!!??
আমি কিছুটা ইতস্তত
হয়ে তাকালাম,
মোটা ফ্রেমের
গ্লাসের মাঝখান
দিয়ে এক
ষোড়শী কন্যা দেখা গেলো।
বড়
মায়াবী একটা মুখ,
তবে তার
চোখে প্রচন্ড
বিস্ময়। এর কারন,
আমি একটি নিরীহ
তেলাপোকার
পোষ্টমর্টেম
করছি মানে উপাঙ্গ
গুলো আলাদা করছি।
কাল অনেক
কষ্টে একটা তেলাপোকা ধরেছি।
কলেজের স্যারের
কড়া নির্দেশ
ছিলো তাই এই
নিষ্ঠুর
নির্যাতনটা আমার
করতে হয়েছে।
প্রচন্ড গা রিম
রিম করছে,
আমার। মেয়েটার
কথায় উত্তর
দিলাম,
" না,
তবে ঘেন্না করে প্রচুর।
"
হাসলো মেয়েটি,
ঠিক মুক্ত
ঝরানো হাসি নয়
তবে তার
হাসিতে জোছনা ঝরলো অনেকটা।
বোতল
বন্দী করে রাখতে ইচ্ছা করলো।
মেয়েটি আবার
বললো,
"আমি তেলাপোকা প্রচন্ড
ভয় পাই। তাই
পরীক্ষায় কেঁচোর
এক্সপেরিমেন্টা করবো।"
আমি একটি নির্লিপ্ত
হাসি দিলাম।
বললাম,
"" কেঁচো ত
আরো ঘেন্না করে।
ওয়াক থু!! ''
কিছুটা বিব্রত
হলো সে । আর
কিছু বললো না।
চলে গেলো তার
টেবিল এ। যাওয়ার
সময় তার
চিন্তা যুক্ত মুখ
টা আমি স্পষ্ট
দেখতে পেলাম।
হয়তো ভাবছিলো,
এই দুই প্রজাতির
মধ্যে কোনটা বেশি নোংরা।
এটাই
ছিলো হৃদিকার
সাথে আমার প্রথম
কথোপকথন। স্কুল,
কলেজ আর
ভার্সিটি লাইফ
সব মিলিয়ে আমার
একটাই প্রেম আর
এটা হচ্ছে এই
হৃদিকার সাথে।
আসলে ওই
আমাকে আকড়ে রেখেছে।
প্রচন্ড ঝড়
ঝাপটা গেছে আমাদের
উপর কিন্তু
সে ঠিক
আমাকে ধরে রেখেছে।
সর্বস্ব ত্যাগ
করে যে দিন
সে তার বাবার
বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলো সেই
দিন
প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,
এই মানুষটাকে আর
কখনোই কষ্ট
দিবো না, কটু
কথা বললো না,
নিজের সর্বস্ব
বিলিয়ে হলেও
হাসি ফোটাবো এই
মুখে।
প্রথম দেড় বছর
প্রচন্ড কষ্ট
হয়েছে তাকে নিয়ে।
প্রথম দিকে আমার
বা তার পরিবার
কেউ আমাদের এই
বিয়ে মেনে নি।
প্রথম কয়েকদিন
তাকে নিয়ে আমার
এক বন্ধুর
বাড়ি ছিলাম।
ভাগ্য ভালো যে,
ভার্সিটি থেকে বেরুতেই
একটি ইমিগ্রশন
অফিসে চাকরী পাই,
সেলারী চলার মত।
দুই রুমের
একটা ছোট
বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম ,
নাম দিয়েছিলাম '
তালপাতার
কুঁড়ে ঘর।
আমি ছিলাম সেই
তালপাতার কুঁড়েঘর
এর সেপাহি আর
সে আমার
রাজকুমারী।
হৃদিকা প্রথম
প্রথম
রান্না করতে পারতো না।
কত যে অর্ধ সিব্ধ
ভাত খেয়েছি পরম
তৃপ্তিতে তার
হিসেব নেই।
তারপর
আস্তে আস্তে উভয়
পরিবার মেনে নেয়
আমাদের।
টেবিল ল্যাম্প এর
হালকা হলুদ
আলোয় হৃদিকার
মুখটা প্রচন্ড
মায়াবী দেখাচ্ছে।
তাকিয়ে আছি এক
দৃষ্টিতে তার
দিকে।
ঘুমন্ত
অবস্থায়টাই
নাকি একটা নারীর
চেহারার
সবচেয়ে মায়াবী আবহ
সৃষ্টি করে।
এটা সম্পূর্ণ
সত্যি কথা
""
তুমি এখনো ঘুমাওনি?? !!!""
হঠাৎ করেই
চমকে উঠলাম
আমি,
- না,
তোমাকে দেখছিলাম।
-- মানে কি!!!
কয়টা বাজে খেয়াল
আছে?
ঘুমাও, কাল অফিস
আছেত তোমার।
-
তুমি একটা স্বৈরাচারী মহিলা।
প্রাণ ভরে একটু
চক্ষু তৃষ্ণাটাও
মেটাতে দিলে না
-- হয়েছে, আর
পাগলামো না এখন
ঘুমাও , আস্ত পাগল
একটা।
সে হাসলো,
যে হাসিতে মুক্ত
ঝরল না কিন্তু
অজস্র
জোছনা ঝরে পড়লো।
এই
জোছনা গুলো এখন
আর বোতল
বন্দী করি না,
কারন এগুলোর
মালিক এখন শুধুই
আমি।
আমিআমার
বালিশে মাথা রাখলাম
আর হৃদিকা আমার
বুকে
তারপর,
আর এভাবেই
বুকের চাদরে
পরিচিত হাতের
আদরে,
চোখে থাক রাত
পরীদের স্নান
ঠোটে নিয়ে বেঁচে থাকার
গান.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now