বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেকের মত
সোনার চামচ
নিয়ে জন্ম হয়
নি আমার।
সাধাসিধে একটা ভাড়া বাড়িতে জন্ম
আমার।জন্মের
পরই অভাব শুরু।
অন্যদের মত
কখনো দোলনা জাতীয়
কিছুতে আমার
শোয়া হয়নি।
জায়গা হয়েছে বাবার
বহুকষ্টে কেনা একটি ছোট
খাটে নয়তো পাশের
ঘরের চৌকিতে।
কখনো বাবা-
মা ভাইবোনদের
সাথে একসাথে ঘুরাঘুরি হয়
নি পাছে এই মাসের
সংসার
খরচে সমস্যা হবে।
কখনো গায়ে কোন
নামী দামি মার্কেটের
শার্ট গায়ে চাপেনি।
সম্বল ছিল
গুলিস্তান
কিংবা বঙ্গবাজারের
শার্ট।কোন
ঈদে পুরাপুরি জামার
সেট কিনার
সৌভাগ্য হয় নি।
হয়তো বা শার্ট
নয়তো প্যান্ট।আর
পাঞ্জাবী?
সে কথা নাহলে বাদ
দিলাম।
কখনো স্কুলের
টিফিনে সিঙ্গারার
চেয়ে দামি কিছু
খাওয়ার সৌভাগ্য
হয় নি।
হয়তোবা দেখা গেছে অপলক
দৃষ্টিতে চেয়ে আছি আর
বড়লোক ছেলেদের
মায়েরা তাদের
খাবার একটু
ছিড়ে ফেলে দিত।
কী যে কষ্টের
ছিল সেই
দিনগুলো বলার মত
না।কোন বন্ধু তার
জন্মদিনের
দাওয়াত
দিলে যেতাম
না পাছে গিফট
দেয়া লাগবে।অবশ্য
একদিন
গিয়েছিলাম
দুঃসাহস
করে কিন্তু
সেখানে গিয়ে এরকম
প্রশ্নের সম্মুখীন
হয়েছিলাম,
"কিরে অভ্র,সামনের
সপ্তাহে না তোর
জন্মদিন।পালন
করবি না?"
শুধু উত্তর
দিয়েছিলাম,"হুম।
করব।"
রাগে দুঃখে তিন
দিন স্কুলে যাই নি।
মনে পড়ে সেই
দিনগুলা যখন
জুতা কিংবা ইউনিফর্মের
জন্য রোজ
টিচারের
কথা শুনতে হতো।
যেখানে লেখাপড়া করাই
দায় সেখানে দুই
সেট ইউনিফর্ম
থাকা আমার জন্য
বিলাসিতাই এক
ধরণের।বাবার
কাছে একদিন
একটা সাইকেল
চেয়েছিলাম কারণ
হাইস্কুল
বাসা থেকে ভাল
দূর।বাবা তার
একটা প্রিয়
দামি ঘড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
সেদিন যে এত্ত
কষ্ট লাগছিল
বাবার
দিকে তাকিয়ে।
বাবা সেদিন এরকম
খুশীর অভিনয়
করেছিলেন
যে আমাকে কিনে দিতে পেরেছেন
কিন্তু
আমি বুঝতে পেরেছিলাম
সেই হাসির
পেছনে লুকিয়ে ছিল
এক রাশ দুঃখ।
এসএসসির
রেজিস্ট্রেশনের
টাকা ছিল না।
বাবাও ছিলেন
অসুস্থ।লাস্ট
ডেটের আগের দিন
মা বললেন,"বাবা,তোর
টাকা যোগার
হয়ে গেছে।
কালকে নিয়ে যাস।"
পরের দিন
জানতে পারলাম
মা তার
গয়না বন্ধক
রেখে টাকাটা এনেছেন।
সেদিন খুব কষ্ট
লেগেছিল আর
ভাবতাম শুধু আমার
সাথেই কেন এমন
হয় কিন্তু যখন
দেখতাম আমার
চেয়েও খারাপ
অবস্থায়
আছে অনেকে তখন
সেই
কষ্টটা চাপা পড়ে যেত।
ভার্সিটিতে যেদিন
ভর্তি হলাম তখন
মাত্র দুইটা ভাল
শার্ট আর
একটা প্যান্ট।
নিয়মিত যেতাম
না কারণ
বন্ধুরা না ভাবে একটা মাত্রই
প্যান্ট আমার।
তারপরও সবাই
আমার এই
অবস্থা জেনে ফেলে আর
অনেকেই
টিটকারি করত এই
অবস্থা দেখে।
ছোটবোন
টা একবার
বারবি ব্যাগ
চেয়েছিল।
দিতে পারিনি।আর
কীভাবেই বা দিব?
পরে বোনটা বলেছিল,
"ভাইয়া থাক
ব্যাগটা আনিস না।
এগুলো নাকি তত
ভাল না।"
কিন্তু সেই কথার
আড়ালে যে কত
কষ্ট লুকিয়ে ছিল
তা আর নাই
বা বললাম।অন্য
সবার মত
ভালবাসা আমার
জীবনেও এসেছিল
কিন্তু দারিদ্রতার
অভাবে সেই
ভালবাসাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম।
এভাবে ই পার
করে দিয়েছিলাম।
আজকে প্রথম
চাকরীর বেতন
পাব।লিস্ট
করে রেখেছি কি কি কিনব।
যাক কষ্টের
দিনগুলো শেষ
হতে চলল বলে।
বোনটাকে একটা বারবি ব্যাগ
দিব গিফট
হিসেবে।
কান্না করে দিবে হয়তোবা এটা পেলে।
থাক কি দরকার?
এই সুখের
দিনে কাউকে কাদাতে চাই
না............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now