বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজ আমার ১ম বিবাহবার্ষিকী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আজ আমার মনটা খারাপ ।শুধু খারাপ বললে ভুল হবে খুব খারাপ ।আজ আমাদের ১ম বিবাহ বার্ষিকী । রিয়াকে আজকের দিনে কিছু দিব ভেবেছি কিন্তু হাতে তো একটা পয়সা নেই ।দেখতে দেখতে বিয়ের একটা বছর কীভাবে হয়ে গেল বুঝতে পারলামনা ।গত ২০ ডিসেম্বর রিয়াকে আমি বিয়ে করেছি । অবশ্য বিয়েটা পারিবারিক মত অনুসারে হয়নি আমাদের । পালিয়ে বিয়ে করেছি আমরা । এছাড়া কোন উপায় ছিলনা আমার । হতভাগা শ্বশুর রিয়াকে আমার কাছে বিয়ে দেবেননা বলে দিয়েছেন ।এটা স্বাভাবিক কথা । আমি অর্নাস ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছি । কোন মেয়ের বাবা বেকার ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেবেন ।তাছাড়াও রিয়ার বাবা আমাকে দেখে বললেন তোমাকে দেখে তো বাচ্চা ছেলে মনে হচ্ছে । এখনো বিয়ের কথা বলছ । বাচ্চা বলার অবশ্য একটা কারণ আছে । আমাকে দেখে কেউ বলবেনা যে অর্নাস ৩য় বর্ষে পড়ছি । কেননা আমি দেখতে চিকন ছিলাম আর মুখের দিকে তাকালে বয়স কম বুঝাত ।এইসব নিয়ে আমাকে মাথা না ঘামালে চলবে । রিয়া আমার সাথে ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করে । ছোট বেলা থেকে এক সাথে পড়ে আসছি । সুন্দরী বলে অনেক ভাল জায়গায় থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছে ।গত বছরের ২৬ জানুয়ারী এক ডাক্তার ছেলের সাথে রিয়ার বিয়ে ঠিক হয় ।আমার ভালবাসার কাছে হার মেনে রিয়া ২০ ডিসেম্বর ঘর থেকে পালিয়ে আমাকে বিয়ে করে । জমানো টাকা দিয়ে কক্সবাজার চলে গেলাম ।হানিমুনের কাজটা সেরে নিলাম এই ফাঁকে ।টাকা শেষ ফিরে এলাম আপন গন্তব্যে ।আমার বাসায় যে পা বাড়ালাম বাবা আমাদেরকে তাড়িয়ে দিলেন ।বেচারার নাকি মান ইজ্জত এর কার্যক্রম শেষ করে ফেলেছি আমি । ভেবেছি রাগ শেষ করে ঘরে তুলে নেবেন কিন্তু তিনি তা করলেন না । রিয়ার বাবা আমার নামে অবশ্য মামলা করেছিলেন কিন্তু আমাদের বিয়ের প্রমাণ পত্র পেয়ে আইন থেমে গেল । ধুর আমিও না, কোথায় ছিলাম আর কোথায় এলাম ।হ্যাঁ আমার তো মন খারাপের কথা বলছিলাম । আমি নিজ শহরের একটা পত্রিকা অফিসে কাজ করি ।বেশী সুবিধার নয় পত্রিকাটি । কেননা এই পত্রিকার খবর এই বিভাগের সব জেলার মানুষরা পায় । আমার কাজ অনুযায়ী চুক্তি হিসেবে ২০০ টাকা পাই প্রতিদিন । সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কাজ করতে যাই ।এই টাকা আবার প্রতিদিন পাইনা ।কেননা আমার যে কাজ সেই কাজ বাংলাদেশে প্রতিদিন ঘটে ।আর যেদিন ঘটেনা সেইদিন ২০০ টাকা পাইনা ।আমার কাজ ছিল ধর্ষণ সম্পর্কে রির্ফোট লিখা । যতসব নারী ধর্ষিত হবে এই রির্ফোট আমাকে লিখতে হয় । তবে আশার কথা হল এই রির্ফোটি সারা বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তের হলে সমস্যা নেই । বাকি সময় প্রাইভেট পড়িয়ে কোন মতে সংসার চলে আমাদের । এদিকে রিয়া বাসায় ছাত্র - ছাত্রী পড়ানো শুরু করছে । বার বার শুধু ভুলে যাচ্ছি মন খারাপের কথাটি ।কেন আমার মন খারাপ এই কথাটি বলা হয়নি । আজ কোন নারী ধর্ষিত হয়নি । তাই পত্রিকার সম্পাদকের মন খারাপ । পাশাপাশি আমারও । কেননা এই জাতীয় রির্ফোট লিখলে নগদ ২০০ পেয়ে যেতাম । বন্ধুর কাছে আরো ২০০ টাকা ধার নিয়ে ৪০০ দিয়ে রিয়াকে একটা শাড়ি কিনে দিতাম ।কথায় আছেনা হভাগা যেদিকে যায় সেইদিকে জল শুকিয়া যায় ।অর্নাস ফাইনালটা আটকিয়ে আছে রাজনৈতিক কারণে ।এজন্য ন্যাশনাল ভার্সিটিতে পড়ার পরামর্শ দিতে চায়না কাউকে । অবশ্য একবার ভেবেছিলাম বানিয়ে একটা ধর্ষিত কাহিনী লিখে ফেলি । প্রতিদিন তো লিখিনা বানিয়ে আজকে লিখে ফেলি । আমাদের সিলেট অঞ্চলের মানুষ এত যাচাই বাছাই করতে আসবেনা ।মানুষ হিসেবে আমরা সিলেটিরা অনেক ভাল এবং সরল ।আজ সিলেট প্রসঙ্গ থাক । অন্য দিন বলব ।ও আচ্ছা যদি বানিয়ে লিখতাম তাহলে শিরোনামটা দিতাম এই রকম কুমিল্লায় এক ছাত্রী ধর্ষিত । আমি নানা ঢং এ সাজিয়ে লিখি যে পাঠক শ্রেণীরা মনযোগ দিয়ে পড়বে ।তাছাড়াও যেভাবে বর্ণনা দেই তাতে বুঝা যায় যে ঘটনাটি আমার চোখের সামনে ঘটেছে । যা হোক আজ একটা বিশেষ দিনে এই কাজটা করবনা । বাড়ির কাছে যেই আসলাম মিলন কে দেখতে পেলাম । আজ কেন জানি ছেলেটার সাথে আমি রাগ করছিনা ।যখন এই পাড়াতে বাসা ভাড়া নেই সে আমার স্ত্রীর দিকে কী রকম দৃষ্টিতে তাকাত । কয়েকটবার চড় দিয়েছি কিন্তু লাভ হয়নি । রিয়াকে রাস্তায় দেখলে হা করে তাকিয়ে থাকে । মিলন আমাকে দেখেই বলল ,ভাই আপনার বাসায় আপনার জন্য সারপ্রাইজ আছে । মিলনের কথা শুনে আমার ভয় লেগেছে সারপ্রাইজ শব্দটা শুনে ।কী এমন সারপ্রাইজ আমার জন্য অপেক্ষা করছে । রিয়া তো কিছু বললনা আমাকে । বাসায় গিয়ে সত্যি আমি সারপ্রাইজ পেলাম ।আমার পরিবারের সবাই আর রিয়ার পরিবারের সবাই একসাথে আমাকে বলল শুভ বিবাহ বার্ষিকী । পুরো বাসাটা বিয়ে বাড়ির মত সাজিয়েছে । রিয়া আমার হাতটা ধরে বলল,এই সারপ্রাইজটা সত্যি আমি জানতামনা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now