বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঝড়া পাতা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ঝড়া পাতা আমি আমার বাবা মার এক মাত্র ছেলে তারা আমাকে ছোট বেলা থেকে অনেক বুঝাতো ভাল করে পড়া লেখা করতে, মানুষের মত মানুষ হতে, আমার বন্ধুরা যখন বৃত্তি পেত, এ+ পেত, বাবা বলতো ভাল রেজাল্ট না করতে পারলে জীবনে কখন বড় হতে পারব না ভাল কিছু করতে পারব না, কিন্তু আমি তখন এসব আমার কানে নিতাম না, এসব উপদেশ আমাকে কেউ দিলে আমি ভাবতাম কেন এসব আমাকে যে বলে এসব উপদেশ এর কোন দরকার নাই আমার। আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে বেশ ভালই দিন কাটাতাম। এইস এস সি কোন ভাবে পাশ করার পর আমি পড়ালিখা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বেড়াতাম, ইচ্ছা হলেই এখানে সেখানে ঘুরতে চলে যেতাম, প্রথম দিকে বাবা অনেক বকা ঝকা করতো আম্মা টাকা দিতে চাইতো না, কিন্তু যখন পড়ালেখা ছেড়ে দিলাম তখন বাবা আমাকে বকা দেয়া ছেড়ে দিল আর আম্মাও কিছু বলতো না, প্রতি দিন বাইরে যাওয়ার জন্য যখন বের হতাম তখন আম্মা জিজ্ঞাসা করত কই যাচ্ছি কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। আমি আমার মতো নিজের জীবনটা সাজিয়ে নিলাম। আমার বাবার জুতা আর কাপড় তৈরির ফ্যাক্টরি ছিল তাই যখন খুব বেশী টাকার কষ্টে থাকতাম তখন বাবার অফিসে গিয়ে ম্যানেজার সাহেবকে একটু পটিয়ে টাকা জোগাড় করতাম। বাবা সব জানত কিন্তু কিছুই বলত না। বন্ধুদের সাথে প্রায় ঘুরতে যেতাম তাই ঈদের ছুটিতে এক বন্ধুর সাথে ওদের দেশের বাড়ি চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে আমার খুব ভাল লাগতে লাগলো কারন ওদের যৌথ পরিবার ছিল, তিন চাচা আর আমার বন্ধুর বাবা সবাই এক সাথে থাকতো এক সাথে খেত। আমার দিন বেশ ভালই কাটতে লাগলো। ঈদ এর দুই দিন আগে বাজারের এক চায়ের দোকানে বসে আমি আর আমার বন্ধু চা খাচ্ছিলাম এমন সময় দোকানের ঠিক সামনে একটা মেয়ে রিকশা থেকে পরে গেল আর তার মাথাটা রাস্তার পাশের এক বড় দেয়ালে গিয়ে বারি লাগলো। মেয়েটা সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেল আর আশ পাশ থেকে লোক এসে জায়গাটা ঘিরে ধরল। আমি আর আমার বন্ধু গিয়ে মেয়েটাকে সাথে সাথে একটা রিকশা করে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল তাই আমার বন্ধু মেয়েটার ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে ওর নামের লিস্ট থেকে সব নাম্বার এ কল দিতে লাগলো, অবশেষে মেয়েটার মামার নাম্বার এ কল গেল আর ৩০ মিনিট পরে একটা মহিলা আর একটা ভদ্র লোক এসে বলল তারা তিথির মামা মামী, তিথি তাদের কাছে থাকে, মেয়েটার নাম তিথি এটা জানার পর মেয়েটার দিকে ভাল করে একবার তাকালাম এতক্ষণ আমি ওই মেয়েটাকেই ঠিক মতো দেখি নি, মেয়েটার কপালে একটা বেশ বড় কেটে যাওয়া দাগ আছে, মেয়েটার মামা আমাকে আর আমার বন্ধুকে অনেক অনেক বার ধন্যবাদ জানালো, আমাদের ঈদের দাওয়াতও দিল,আরও প্রায় দুই ঘণ্টা আমরা হাসপাতালে ছিলাম মেয়েটার জ্ঞান ফিরেছিল কিন্তু মাথায় খুব ব্যাথা পাওয়ায় ডাক্তার তাকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়েছে। যে দুই ঘণ্টা ওইখানে ছিলাম তখন মেয়েটার মামা মেয়েটার অনেক গল্প করলো। তিথির বাবা ডিভি পেয়ে অ্যামেরিকা গিয়েছে, সে তিথির মাকে ওখান থেকে এসে বিয়ে করে, তিথি হবার প্রায় ১০ বছর পর তিথির মাকে সে নিয়ে যায় কিন্তু তিথিকে নিয়ে যেতে পারে নি, গত বছর তিথি যেতে পারতো কিন্তু ওর এইস এস সি পরীক্ষা চলছিলো আর ও পড়া লেখায় খুব ভাল তাই ও যায়নি। ও এইস এস সি তে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে, ওর ইচ্ছা ছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়বে, কিন্তু ওর বাবা মা ওকে আর এখানে থাকতে দিবে না, কয়দিন হয়েছে ও এখানে এসেছে ঈদ করতে কিন্তু আজ হটাত সন্ধ্যার পর বলল ও একটু কেনাকাটা করবে তাই একাই বের হয়েছিল বাজারে যেতে আর তো এই দুর্ঘটনা ঘোটে গেল তোমরা ঠিক সময়ে ওকে এখানে না নিয়ে আসলে, যে কি হতো? আমি আর আমার বন্ধু বাড়ি আসার পর বড় চাচা অনেক বকা দিলো এত রাত হওয়ার জন্য, পরে সব খুলে বলার পর আর কিছু বলে নি। পরের দিন আমার খুব ইচ্ছা করল মেয়েটার খোঁজ নেয়ার জন্য ও কেমন আছে জানার জন্য। আমি আমার বন্ধু আসিফ কে না জানিয়ে ওই মেয়ের খোঁজ নিতে গেলাম। গিয়ে দেখি তিথি ঘুমাচ্ছে আর ওর মামি সব ওষুধ ব্যাগে ভরাচ্ছে কারন একটু পরে ওনারা তিথিকে বাসায় নিয়ে যাবে। আমাকে দেখে মামি আমাকে বসতে বলল, কিন্তু সেখানে বসার মত আমি কিছু দেখলাম না, আমি বললাম না ঠিক আছে। মামি আমাকে বলল তুমি একটু বস আমি একটু ডাক্তার এর সাথে দেখা করে আসি। আমি বললাম ঠিক আছে। মামি গিয়ে অনেকক্ষণ হয়ে গেল আমি চুপচাপ বসে ছিলাম আর আশেপাশের রোগীদের দেখছিলাম। হটাত তিথি ঘুম থেকে চোখ মেলল তারপর ও আর আমি দুজন দুজনার দিকে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম, আসলে আমি বুঝতে পারছিলাম না কি বলবো আমার ধারণা তিথিও বুঝতে পারছিল না ও কি বলবে। অবশেষে আমি বললাম আপনার কিছু লাগবে? ও বলল মামি কোথায়? আমি বললাম ডাক্তার এর কাছে গেছে, কিছুক্ষণ দুইজনই চুপ তারপর ও বলল আপনি কে? আমি বললাম কাল সন্ধ্যায় আমি আপনাকে এখানে এনেছি, ও বলল আমার কিছু মনে নেই মামি বলেছিল কাল রাতে আপনার কথা, ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে এত হেল্প করলেন। একটু পরে মামি আসলো সাথে মামাও। তারা বাসায় চলে গেল আমাকে অনেক বার বলল ঈদের দিন ওদের বাসায় যেতে। ঈদের দিন সকাল থেকে কিভাবে যে সময় কাটল বুঝতেই পারলাম না, সন্ধ্যার একটু আগে আসিফ কে নিয়ে তিথিদের বাসায় গেলাম তখন তিথি বাসায় ছিল না। ওর মামি আমাদের বেশ খাতির যত্ন করলো, তিথিকে ফোন ও করল কিন্তু ও ওর বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছে তাই আসতে দেরি হবে বলল। আমি আমার নাম্বার মামিকে দিলাম বললাম কোন দরকার পরলে যেন কল করে। আমরা বাসায় চলে আসলাম, রাত ১২ টার পর আমার মোবাইল এ কল এলো আমি ভেবেছিলাম আম্মা কিন্তু অপরিচিত নাম্বার কল ধরতেই ও পাশ থেকে একটা মেয়ে কণ্ঠ ভেসে এলো ঘুমিয়ে পরেছেন? আমি বললাম কে? বলল আমি তিথি। আমি বললাম কোন …? বলল আপনি কয়টা তিথিকে চিনেন? আমি হাসলাম সেও হাসল। পরের দিন আমি ওদের এলাকায় গিয়ে ওকে কল দিলাম ও বাসা থেকে বের হল আমার সাথে দেখা করতে, অনেক বলল বাসায় যেতে কিন্তু আমি গেলাম না। ওকে নিয়ে কিছুক্ষন আশেপাশে ঘুরলাম। ওকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওইদিন আপনি কি কিনতে একা একা বাজারে গিয়েছিলেন, ও হাসল আর বলল ওর স্যান্ডেল কিনতে। আমি বললাম আমার বাবার স্যান্ডেলের ফ্যাক্টরি আছে ঢাকায় আপনাকে একদিন নিয়ে যাব। এভাবে আমাদের সম্পর্কের শুরু। তিথি ঢাকা এসে আমাকে কল দিল আমি ওর সাথে দেখা করতে গেলাম। ও নতুন হোস্টেলে পার হল, আমি ওর হেল্প করলাম, ওর ভর্তি পরীক্ষার সব ফর্ম আমি কিনে এনে দিলাম। এভাবে ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব বাড়তে থাকল। আমার আম্মা সবার আগে এটা খেয়াল করলো, আমাকে এক দিন জিজ্ঞাসা করলো আমি প্রেম করছি কি না আমি কথাটা শুনে খুব লজ্জা পেলাম আর বললাম আম্মা আমি একটা মেয়েকে হটাত খুব পছন্দ করে ফেলেছি কিন্তু ভালবাসি কি না জানি না। তিথির সাথে আমার প্রতি রাতে কথা হতো আর আমার পড়ালেখা ছেড়ে দেয়াটা সে পছন্দ করতো না সে সবসময় আমাকে আবার পড়ালেখা শুরু করার পরামর্শ দিত। যেহেতু ওকে পছন্দ করি তাই বাবাকে সাহস করে বলেই ফেললাম আমি পরালেখা করতে চাই তাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হবো টাকা দেন। বাবা প্রথমে খুব বকা দিল তারপর আম্মা যখন বলল তখন রাজি হল। আমি ভর্তি হবো তার কিছুদিন আগে আমাকে তিথি বলল ওর বাবা ভিসা নিয়ে দেশে আসছে ওকে নিয়ে যাবে। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না আমি কি শুনলাম। আমি বললাম ও তাই ভাল তো, ও বলল শুধু শুধু তুমি কষ্ট করে কতো ফর্ম কিনলে এখন একটা পরীক্ষাও দেয়া হবে না। আমি কিছু বললাম না। জিজ্ঞাসা করলাম তোমার বাবা কবে আসবে? বলল সামনে সপ্তাহে। আমি বললাম আমিও তোমাকে একটা ভাল খবর দিব? ও বলল কি? আমি বললাম আমি আবার পড়ালেখা শুরু করছি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবো বাবা রাজী হয়েছে, ও শুনে খুব খুশী হল। পরের দিন আমরা দেখা করলাম আমার খুব ইচ্ছা করছিলো ওকে বলে দিই আমি ওকে ভালবাসি কিন্তু বললাম না। ও বলল তুমি মন খারাপ করো না আমি ওখানে গিয়েও তোমার সাথে যোগাযোগ রাখবো, আর ফেসবুক স্কাইপেতে তো কথা হবেই। আমি কিছু বললাম না। আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। তিথির ফ্লাইট ছিল রাত ১২ টায় আমি ৯ টায় বাসা থেকে বের হলাম এয়ারপোর্ট এ গিয়ে তিথিকে কল দিলাম ও বলল কোথায় তুমি? আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি, আমি ওকে বললাম আমি তোমাকে বিদায় দিতে আসি নি, আমি এসেছি তোমাকে নিতে, ও বলল মানে? আমি বললাম তুমি যেও না … কিন্তু আমার কথা শেষ না হতেই তিথি বলল আমি জানি তুমি কি বলবে কিন্তু এসব বলার এখন সময় না তুমি ভিতরে এসো। আমি এয়ারপোর্টের ভিতরে গেলাম তিথি ওর বাবার কাছে থেকে আমার কাছে আসলো, আমার হাত ধরে বলল তুমি ভাল করে পড়ালেখা করো আমি তোমার পড়ালেখা শেষ হলে চলে আসবো কথা দিচ্ছি। আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম ও আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। আমি ৫ বছর ধরে পড়ালেখা শেষ করলাম এখন বাবার ব্যাবসা আমি সামলাচ্ছি। ফেসবুক স্ক্যইপে ইয়াহু টুইটার দিনের মধ্যে হাজার বার চেক করি কিন্তু কোথায় তুমি তিথি, কোথায় তুমি? তুমি তো কোথাও নাই………………………???


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now