বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জলপরী– (শেষ পর্ব)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভিজতে ভিজতে মনের আনন্দে স্কুল থেকে বাড়ি আসে মুনা। শারমীন ইচ্ছে মত বকা দেয়। এদিকে হাঁসের বাচ্চারা বৃষ্টিতে উঠোনে ছোটা ছুটি করতে থাকে। ওদেরতে কিছুতে ধরতে না পেরে মুনাকে বলে ধরে দিতে। শারমিন শ্বাশুড়ির ডাকে ভেতরে চলে গেলে মুনা পিচ্চিদের নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ওদেরকে ধরে। কাদায় মাখামাখি হাঁসের ছানাদুটো নিয়ে পুকুরে যায় মুনা। দুহাতের মুঠোয় দুটা নিয়ে পরিস্কার করতে গিয়ে একটা ছুটে পালায় পুকুরে! মুনার বড্ড হিংসে হয়। এই পিচ্চি ছানাটা এমন করে কি করে সাঁতার শিখলো? কে শেখালো ওকে?ইস্ ওর আম্মুটা কত্ত ভালো! একটু বকা দেয়নি ,সাঁতার শিখিয়ে দিয়েছে। এইরে আম্মু জানলেতো হাড্ডি ভাঙ্গবে! ও পুকুরে এসেছে না বলে। কিন্তু ওটাকে না নিয়ে কি করে যাবে ও? হাঁসের ছানাটাকে কাকুতি মিনতি করে ডাকতে থাকে মুনা আয়না বাবুছানা আয় প্লিজ। হাঁসের ছানাটা কতটা কি বুঝে কে জানে। ও কিছুটা নাগালের মধ্যে চলে আসে মুনার। মুনা একটুখানি ঝুঁকে হাত বাড়িয়ে ধরতে যায়। মিনি মিনি, কই গেলি আম্মুনি । দেখ তোর হাঁসবাবুদের জন্য বাসা এনেছি। চৌধুরী বাজার থেকে এসেই হাকডাক শুরু করে। এই করে করে তুমি মেয়েটাকে মাথায় তুলেছো। মেয়েটার সমাপনি পরীক্ষা, এইসব নিয়ে মেতে থাকলে চলবে?শারমিন রাগে গজ গজ করতে থাকে । আহ্ বাদ দাওতো ,কিচ্ছু হবেনা দেখো। আমার মিনিটা ঠিক সবার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে। কিন্তু ওকে দেখছিনা কেন?এই সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্য ওকে আবার কোথায় পাঠালে? আমি আবার কোথায় পাঠাবো? ওতো আজ ভিজে ভিজে এসেছে স্কুল থেকে। ছাতা নেয়নি ইচ্ছে করে। তোমার মেয়েটা দিনদিন কি যে হচ্ছে। বললাম হাঁসের ছানাদুটো ধরে আনতে। কিন্তু ওগুলো নিয়ে গেলো কোথায় ? আরমান সাহেব লাফিয়ে উঠেন কি বলছো? কোথায় গেছে ও? মিনি মিনি, আম্মিনি কই তুই? সারা বাড়ি প্রতিটি ঘর খোঁজা হলো কোথাও নেই তার মিনি । পিচ্চিরা জানালো ওরা হাঁসের ছানাদুটো নিয়ে মুনাকে চলে যেতে দেখেছে। ওরা যে যার ঘরে চলে গেছে । মূহূর্তে সারা পাড়া খবর হয়ে গেলো । নাহ্ কোথাও যায়না তেমন একটা ও। কিন্তু এখন ভেজা গায়ে কোথায় গেল? সবাই খুঁজতে লাগলো পাগলের মত । শারমীন পুকুর ঘাট থেকে চিত্কার দিয়ে জানালো হাঁসের ছানা দুটো পুকুরে সাঁতার কাটছে। মিনি কই?আমার মিনি কোথায় গেল? ওতো সাঁতার জানেনা যে পুকুরে নামবে। একটু পর আরেকটা ছেলে সহ পুকুরে নামলেন তিনি। ডুব দিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরে লম্বা বাঁশ দিয়ে খুঁজতে লাগলো কয়েকজন। এই করে প্রায় বিশ মিনিট পর আরমান সাহেবের বাঁশের সাথে কিছু একটা কাপড় আটকে গেল! সাথে সাথে তার চোখ মুখের ভাষা পাল্টে গেলো। মুখোমুখি আরেকটা ছেলে বুঝতে পারলো ব্যাপারটা । সাথে সাথে ডুব দিলো সে। ডুব দিলেন আরমান সাহেব ও। তার আদরের মিনিটা উপুড় হয়ে দুহাতে মাটি আঁকড়ে ধরে আছে। যেন সে উড়তেছে দুহাত মেলে। উঠিয়ে আনলেন অসাঢ় হয়ে থাকা ধবধবে সাদা জলপরীটাকে। সুজয়ের কানে বাজতেছিলো মুনার কথাগুলো। “দেখিস আমিও একদিন ডুবসাঁতার শিখবো। জলপরী হয়ে পানিতে ডুব দিয়ে বসে থাকবো।” সুজয়ের মনে হয় মুনা সত্যি সত্যি জলপরী হয়ে গেছে। ওর উপর রাগ করেই কি মুনা জলপরী হয়ে গেল? সুজয়ের চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি আর কান্নার জল মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। কান্নার কি কোন রং থাকে আলাদা করার জন্য?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now