বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তিতু শুনে যা তো মা ,কই গেলি? ডাক শুনে পরনের শাড়িটা এক টান দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে পড়ি মরি করে দৌঁড় লাগায় মুনা। যাওয়ার পথে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় হোহো করে হেসে উঠে সুজয়।বলে যা তুতু !মাড় খেতে ডাকছে তোকে ! হিহিহি! শাড়ি পরে খেলছিলো ওরা কয়জন পিচ্চির দল। সুজয় এখন আর তাদের সাথে খেলেনা ,সারাক্ষণ ক্রিকেট নিয়েই পড়ে থাকে। আর সুযোগ পেলেই মুনাকে ক্ষেপায় আয় তুতু বলে । মা টা যে কি! রাগ লাগে মুনার। তার পুরা নাম মায়মুনা চৌধুরী হলেও মা ডাকে তিতু বাবা ডাকে মিনি। সুজিটাও তাকে এই নিয়ে ক্ষেপাতে ছাড়েনা। কখনো আয় তুতু বলে আবার কখনো চু চু মিনি মিনি বলে ক্ষেপায় ।বলে তোর এত সুন্দর নাম থাকতে তোর আম্মু আব্বু কুত্তা বিলাইর নাম ধরে ডাকলে আমি ডাকলে ক্ষতি কি? তিতু ও কম যায়না ,তাকে সুজির হালুয়া ডাকে, সাথে বান্দর ডাকটা ফ্রি। তবে মাঝে মাঝে বেশি রাগলে সামনে যা পায় ছুঁড়ে মারে বান্দরটাকে। বাকি সবাই মুনাই ডাকে ওকে। বাবা মা টা বললেও শুনেনা ,একমাত্র মেয়ে বলে খুব বেশিই আদর করে। সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখে। বাড়ির পিচ্চিরা যখন কাদায় লাফালাফি করে, পুকুরে লাফঝাঁফ দিয়ে সাঁতার কাটে তখন তাকে পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মত দেখতে হয় ।অনুমতি নেই তার এসব কিছুর । সুজয় তাকে ভেংছি কেটে বলে বিলাই কুত্তা তো এমনিতেই সাঁতার পারেনা। তুই পারবি কেমনে,থাক আর কাঁদিসনা তুতু! রাগে মুনা পুকুরের পাড় থেকে ঢিল ছুঁড়ে মারে। চিত্কার করে বলে দেখিস সুজি একদিন আমিও সাঁতার কাটা শিখবো। আমিও ডুবসাঁতার দিয়ে মাটি ছুঁয়ে আসবো। আমি জলপরী হবো । সুজয় ঢিল ছোঁড়ার সাথে সাথেই ডুব দেয় বলে শেষের কথাটা ওর কানে যায় কিনা বোঝা যায়না। চৌধুরী সাহেবের একমাত্র মেয়ে বলে বাড়াবাড়ি রকমের আদর শাসনে মুনার শৈশব জীবনটা এমনই অতিষ্ঠ হয়ে যায়। যা কিনা গ্রামের আট দশটা শিশু থেকে অনেকটাই ব্যাতিক্রম। তার আকাশটা খুব ছোট ,চাইলে যখন খুশি,যেখানে খুশি উড়তে পারেনা। আব্বু আসলেতো কথাই নেই সারাক্ষণ মিনি মিনি করে ডাকতে থাকে। বই নিয়ে বসে থাকতে হয়। কত কি যে নিয়ে আসে মুনার জন্য ।কিন্তু মুনা কি করে বুঝায় যে ওর এসবের চেয়ে ওর কাছে গ্রামের পিচ্চিদের মত ছোটাছুটি করে বৃষ্টিতে ভিজতে,কাদা মাখামাখি করে সাঁতার কাটতেই ভালো লাগে। ও কি করে পারবে সাঁতার শিখতে? ওর যে জলপরী হতে ইচ্ছে করে। যাকে পুকুরে গোসল করতেই দেয়া হয়না সে কি করে সাঁতার শিখবে? কি করেইবা জলপরী হয়ে জলে খেলা করবে? মুনা মনখারাপের খাতাটা খুলে বসে ইচ্ছে মত জলপরীর ছবি আঁকে মন দিয়ে। খাতাটা সে কাউকেই দেখায়না । ইচ্ছে করে খুব বন্ধুদের দেখাতে কন্তু ঐ পাজি সুজিটার জন্য পারেনা। ও ঠিকই ওকে এটা নিয়ে ক্ষেপাবে ,ওফ্ বান্দরটা কেন যে এমন করে। মুনা এইবারের সমাপনি পরীক্ষার্থী বলে পড়ার চাপটাও খুব বেশি দেয় বাবা মা। চৌধুরীর মেয়েকে যে বৃত্তি পাওয়া ছাড়া উপায় নাই এটা ওকে দিনরাত বুঝানো হয় । ও হাঁফিয়ে উঠে ।ইচ্ছে করে পিংকি সুজয় শিহাবদের সাথে ইচ্ছেমত প্রজাপতির হয়ে উড়ে বেড়াতে। তিতু কি করিস চুপচাপ? পড়ার শব্দ পাইনা কেন? এই নে দুধটা খেয়ে নে। মা আসতেই মুনা মন খারাপের খাতাটা লুকিয়ে রাখে বইয়ের নিচে । মা দেখলেই বকা দিবে খুব ।হয়তো ছিঁড়েও ফেলতে পারে,না পড়ে এসব আঁকছে বলে। আচ্ছা মা তুমি আমাকে তিতু ডাকো কেন? আমাকে কি তিতা লাগে তোমার? মেয়ের অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে হেসে উঠে শারমিন সুলতানা। এক কালের তুখোড় মেধাবী ছাত্রী ,আর পাড়ার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নিজের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা অংকুরেই মরে গিয়েছিলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now