বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিলয় ক্লাস টেনে পরে।
ক্লাসের খুব দুষ্ট ছেলে।সব রকমের ফাজলামি তার জানা।
কার সাথে কি করে ফাজলামি করবে,স্যারদের সাথেও ফাজলামি কম করে না।
কোন দিন খাতা না আনলে বলে আমার নানী মারা গেছে।আবার একদিন নানীর বোন মারা গেছে।নানীর ভাই মারা গেছে।
আল্লাহ জানে তার নানীর কত ভাই বোন আছে।
আর ক্লাসের খুব শান্ত মেয়েটার নাম সুস্মিতা।একদম শান্ত শিষ্ট মেয়েটা।
শুধু লেখা পরাই বুঝে আর কিছুর মধ্যে যায় না।
"
"________ একদিন ক্লাসে সুস্মিতা খুব সুন্দর করে সেজে আসছিল।খুব ভালো লাগছিল নিলয় এর কাছে।
নিলয় আজকে এই অপরুপ সাজে সুস্মিতা কে দেখে নিজেই প্রেমে পরে গেল সুস্মিতার।
কিন্তু নিলয় জানত তাদের এই মিল কখনো হবে না।
তার উপযুক্ত কারন ও আছে।নিলয় যদি সুস্মিতাকে প্রোপস করেও তবেও রাজি হবে না।তার থেকে দূর থেকে ভালোবেসে যাক।
কিন্তু নিলয় ভাবে তাকে তো বলা লাগবে কিন্তু সে যদি নিজে বলে বা কাউকে দিয়ে বলে তাতে ও সমস্যা হবে।যা করতে হবে নিলয় এর নিজেকেই করতে হবে এবং লুকিয়ে।
নিলয় বাসায় চলে যায় স্কুল শেষে।
"
"
"_________ রাতে নিলয় তার ভালোলাগার মানুষটার জন্য মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা চিঠি লিখল।
ভাবছে সে কি চিঠির উত্তর পাবে।
"
"
"_______ চিঠির কথা গুলি ছিল খুবই সাধারান।আর চিঠি ছাড়া তখন আর মোবাইল ছিল না।কেননা সাল টা ছিল ১৯৯৩।তখন তাদের দুই জনের কারো ফ্যামিলিতে ফোন বা মোবাইল ছিল না।
চিঠিতে নিলয় তার অপরুপা সুস্মিতার জন্য লিখছিল এমনই.......
"
"
প্রিয়,মিতা হয়ত তুমি এমন না,কোনদিন আশাও করনি এমনটি।আমি জানি তোমার নাম সুস্মিতা আমি তোমায় সুধু মিতা বলেই ডাকব।আমি তোমায় যখন ক্লাসে ওই অপরুপ সাজে দেখছি তখন তোমার প্রেমে পরে গেছি।
হয়ত তুমি জানতে চাইছো কে আমি।
কি করি।কিন্তু আমার পরিচয় তোমায় দিতে পারব না কিন্তু আমি তোমার খুবই পরিচিত কেউ।ইত্যাদি....ইত্যাদি
"
"
"_________ পরের দিন নিলয় স্কুলে গিয়ে সুজগ খুঁজতে লাগল কখন চিঠিটা সুস্মিতার ব্যাগে দিতে পারে।কিন্তু পাই পাই করে ও পাওয়া হয়না। যখন টিফিন টাইম হল তখন সবাই মাঠে ছিল।নিলয় চুপটি করে সুস্মিতার ব্যাগে চিঠিটা রেখে দিল।
ক্লাস শেষে,সবাই যার যার বাসায় যাচ্ছে কিন্তু নিলয় এর কাছে সুস্মিতাকে অন্য রকম লাগছে।একটু বেশিই ভালো লাগে তাকে।ক্লাসে অনেক বার তার দিকে তাকিয়ে ছিল।সুস্মিতা তাকে ফলো করছিল,কিন্তু চোখ সরিয়ে নেয় নিলয় ক্লাসে বসে।
"
"
"_________ রাতে যখন সুস্মিতা পড়াশুনা করার জন্য ব্যাগ থেকে বই বের করছিল তখন তার বই ভিতর থেকে চিঠিটা পেল।
চিঠিটা পরে সুস্মিতা নিজেই অবাক কে দিল এই চিঠি?
অনেক বার পড়তে পড়তে চিঠিটার মায়ায় পরে গেল।নিজেই একটা চিঠির উত্তর লিখল।
পরের দিন নিজের ব্যাগে সেই পকেটে চিঠিটি রাখল।
আর স্কুলে চলে গেল।নিলয় টিফিন টাইমে সুস্মিতার ব্যাগে চিঠি খুঁজে পেল।তাড়াতাড়ি চিঠি নিয়ে তার ব্যাগে রাখল।
নিলয় বাসায় গিয়ে চিঠি পড়ল সুস্মিতা তাকে তার আবেগ মিশিয়ে চিঠিটা লিখছে।
"
"
"__________ এমনি করে তাদের চিঠি দেওয়া নেওয়া চলত।কিন্তু নিলয় ভয়ে সুস্মিতার সাথে দেখা করত না।
যদি তার কথা শুনে সুস্মিতা ব্রেকাপ করে।
দিন গুলি খুব মিষ্টি ভাবে কাটছিল।
তাদের ভালোবাসাটা চিঠির কয়টা লাইনের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখতে পারত না।
কেউ কাউকে সামনে দাড়িয়ে ভালোবাসতে পারত না।
হয়ত তাদের এই পত্রপ্রেম খুব ভালোই লাগত।
একদিন সুস্মিতা দেখা করতে চাইলো কিন্তু নিলয় এর ভয়,যদি ভুলে যায় সুস্মিতা।
সুস্মিতা আজো জানে না কি কারনে নিলয় তার থেকে দূরে দূরে থাকে?
কিসের জন্য সে এত ভয় পায়।
কিন্তু না এইবার আর নিলয় পারল না,সুস্মিতার জোড়াজুরি এর কারনে তাদের দেখা করার দিনক্ষন ঠিক হলো।
"
"
"_________ ক্লাস শেষ করে ক্লাসে বসে থাকবে তারা দুই জন।
যখন ক্লাস শেষ হল সবাই যখন একে একে করে চলে যাচ্ছে,তখন সুস্মিতা খুঁজতে লাগল কে বসে আছে।
শেষে দেখল নিলয় বেঞ্চের কোনায় মুখ লুকিয়ে বসে বসে কাঁদছে।
নিলয় এর আবেগ একটু বেশি ছিল সুস্মিতার জন্য।
সুস্মিতা ক্লাস থেকে যাবার সময় তার কাছে এসে বলল আমায় যে এত ভালোবাসে সে আমার জন্য যেন সারা জীবন কাঁদতে পারবে তো?
আর বিকালে স্যার এর কাছে পড়তে এস তখন কথা বলব।
এই বলেই সুস্মিতা চলে যায়।
নিলয় এর মন থেকে ভয় কিছুটা চলে যায়,তবুও ভয় থাকে তাদের ফ্যামিলি কোন দিন মানবে না।কারন একে তো তারা একি বয়সী আর নিলয় মুসলিম আর সুস্মিতা হিন্দু।
"
"
"__________ কিন্তু দুইজন দুইজন কে খুব ভালোবাসে।
বিকালে সুস্মিতা বলে দেখ আমারা দুইজন দুই ধর্মের তাই কেউ মানবে না তাই আমাদের সম্পর্ক এর কথা কাউকে জানানো যাবে না।আমরা খুব সাবধানে মিশব আর চলব।ভবিষ্যৎ এ দেখা যাবে।যখন আমরা বড় হয়ে নিজেরা প্রতিষ্টিত হব তখন একটা ভালো কিছু হবে।
কিন্তু কিছু দিন ভালই চলল হঠ্যাৎ একদিন নিলয় এর বাবা-মা নিলয় এর রুম থেকে সব চিঠি গুলি পেল,তার পর আর কি হিন্দু-মুসলিম এই জন্য দুই ফ্যামিলির মাঝে খুব ঝগড়া হল তাদের দুই জনের সাথে সম্পর্ক খুব খারাপ যাচ্ছিল।
সুস্মিতা ক্লাসে নিলয় এর সাথে কথা বলতে চাইলেও নিলয় এড়িয়ে যেত।
তার মায়ের কথা রক্ষ্যার জন্য।
কিন্তু সুস্মিতা তো সব ফেলে তাকেই ভালোবাসছে,তবে তার কি দোষ ছিল?
"
"
"__________ আস্তে আস্তে এড়িয়ে যাবার মাত্রা বেড়ে যায়। এদিকে তাদের এস,এস,সি পরিক্ষ্যা শুরু হয়।
নিলয় ভালো করে পরিক্ষ্যা দিতে পারলেও ক্লাসের সেই ভাল ছাত্রীটির পরিক্ষ্যা আর ভালো হয় না।
রেসাল্টের সময় দেখা যায় অনেক ভালো রেসাল্ট করে নিলয়।
আর আবেগী সুস্মিতা নিলয় এর কল্পনায় খারাপ রেসাল্ট করে।
পাশ করে নিলয় কে ঢাকায় ভাল কলেজে পড়তে পাঠায় তার বাবা-মা আর সুস্মিতা আজো গ্রামের একটা কলেজে ভর্তি হয়ে নিলয় এর ফিরে আসার স্বপ্ন সাজায়,কিন্তু নিলয় হয়ত শহরের কোন মেয়ের সাথে নতুন করে পত্রপ্রেম করছে।
সুস্মিতার নীলয় আর ফিরে আসে না,এখন সুস্মিতা শুধু দুচোখের অশ্রু ফেলে।আর পুরনো চিঠির সৃতি গুলির মাঝে সুখ খুঁজে চলছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now