বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেঘ আর চন্দ্র দুই ভাই বোন। একদম পিঠাপিঠি ভাই বোন,কিন্তু আপন না।
খালাত ভাই বোন।সেই ছোট বেলা থেকেই মিল। যখন চন্দ্র এর বাবা -মা মেঘ দের বাড়িতে বেড়াতে যেত তখন দুই জনের খুব কথা হত,সারাদিন আড্ডা দেওয়া গল্প করা ঘুরতে যাওয়া সব হত। একে অপর কে তুই বলে ডাকত।ক্লাস নাইনে পরে চন্দ্র আর মেঘ ক্লাস টেনে। আবার মেঘ মাঝে মাঝে নিজেই চন্দ্র দের বাড়িতে বেড়াতে আসত একলা,কারন ছেলে তো তাই একলা আসতে সমস্যা হত না।
অনেক দিন থাকত,ঝগড়া হত তাদের মধ্যে খুব বেশি।
"
"
"
" মাঝে এত বেশি ঝগড়া হত যে অভিমানী চন্দ্র না খেয়ে থাকত রাগ করে মেঘের উপর।পরে মেঘ অনেক আদর করেই বুঝিয়ে অভিমান ভাঙাত।
চন্দ্র খুব বেশি পছন্দ করত মেঘ কে।
কিন্তু মেঘ বুজুত তবু এড়িয়ে যেত কেননা তারা চন্দ্র দের মত অত বড়লোক না। একবার ঈদে মেঘ চন্দ্র দের বাড়িতে ঈদ করতে আসছে ফ্যামিলি সহ।
তখন মেঘের ফোনে এক বান্ধবী ফোন দেয় কিন্তু মেঘ বাইরে থাকায় চন্দ্র ফোন রিসিব করে। মেঘ কে মেঘের বান্ধবী জান বলে ডাকত কেননা তারা এক সাথে পড়ত।একটু বেশি ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু চন্দ্র এই কথা জানত না।
ফোন রিসিভ করার পরে কথা.....
"
"
"
" হ্যালো জান কই তুমি ঈদের দিন কি দেখা করবে?
কথাটা শুনে চন্দ্র মাথায় বাজ পরল।
সে ফোনে মেয়েটাকে ঝাড়ি শুরু করে দিল। ওই কে তোমার জান। মেঘের সাথে আমার ৫বছরের প্রেম। আর আমাদের রিলেশন এর কথা আমাদের ফ্যামিলি জানে। আর আমাদের বিয়ে ঠিক। সময় হলে বিয়ে হবে।
এক নিশ্বাস বলে দিল চন্দ্র।
মেয়েটা সব শুনে চন্দ্র এর কাছ থেকে ফোনটা কেটে দিল।
ওদিকে চন্দ্র রেগে ফুঁসে শেষ।
"
"
"
" মেঘ ফিরে আসল বাসায়,তখন চন্দ্র তাকে ঝাড়তে লাগল,মেঘ কথা শুনে আর কল লিস্ট চেক করে দেখে তাকে তার বান্ধবী নীলা ফোন দিছিল।
কিন্তু মেঘ জানলেও চন্দ্র জানে না।
সে মেঘ কে ঝাড়ছে আর কাঁদতাছে।
মেঘ দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।
এক সময় মেঘের এই আচারন দেখে চন্দ্র এর সহ্য হল না দৌড়ে এসে মেঘ কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল,আর বলতে লাগল আমি তোকে ভালোবাসি প্লিজ তুই আর কাউকে ভালবাসতে যাস না।আমি সত্যি তোকে ছাড়া বাঁচব না।
"
"
"
" কিন্তু না মেঘ এক ঝটকায় নিজের বুক থেকে ছাড়িয়ে নেয় চন্দ্রকে।
বলে দেখ মেঘ তুই আমার কাজিন।
আমার বোন কি করে সম্ভব আর আমাদের ফ্যামিলি আর তোদের ফ্যামিলি অনেক আলাদা।তোরা অনেক বড়লোক তাই কেউ মানবে না।
কিন্তু চন্দ্র বুঝতে নারাজ,কিন্তু মেঘ অনেক বুঝিয়ে না পেরে চলে যায়।
পরে চন্দ্র অভিমান করে রাগে নিজের হাত কেঁটে ফেলে।সেই রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে চন্দ্র মেঘের জন্য।
চিঠিটি ছিল এমন.................
""মেঘ তুই আমাকে ভালবাসিস না,কিন্তু আমি তোকে খুব ভালবাসি।
জানি হয়ত আমি জোড় করে তোকে পাব না কিন্তু আমার শরীর এর শেষ রক্ত বিন্দু থাকা অব্দি তোকে ভালোবাসব...........ইত্যাদি ইত্যাদি।""
এর পর চিঠিটা মেঘকে দিল।
মেঘ চিঠি দেখে প্রথমে চিঠিটা পড়ে তাকে একটা চড় মারল।
চন্দ্র ভাবল হয়ত তাকে পছন্দ হয়নি তাই এমন করল।
কিন্তু মেঘ বলছে যে আমাকে এত ভালবাসিস আর আমার বউ টারে কষ্ট দিতে তোর কষ্ট হল না।
চন্দ্র ভাবছে মেঘ হয়ত নীলার কথা বলছে কিন্তু মেঘের এই কথা শুনে চন্দ্র আরো কাঁদতে লাগল।
কিন্তু এবার মেঘ বলে আরে পাগলী কাঁদছিস কেন? তুই নিজেকে হাত কেঁটে কষ্ট দিলি আমার কষ্ট হয়নি তুই যে আমার বউ হবি তবে আমার বউকে তুই কেন কষ্ট দিলি।
পরে প্রমিস করালো আর কোনদিন হাত কাটবে না।
এর পর মেঘ রাজি হল কিন্তু মেঘ বলল দেখ আমার আর তোর প্রেমের কথা কেউ জেন না জানে। জানলে রাজি হবে না।পরে সম্পর্ক নষ্ট হবে।তাই আমরা এমন ভাবে চলব যেমন আগে ছিলাম।চন্দ্র ও রাজি হল।
"
"
"
" এর পর থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক এগুতে লাগল।সবার সামনে তুই বলে সম্মন্দ করলে ও ফোনে বা এসএমএস এ তুমি জান বলত।
ভালোবাসা টা খুব তাড়াতাড়ি খুব বেশি গভীর হয়ে গেল।
যখন চন্দ্র খেতে যেত তখন মেঘ কে বলত এক সাথে খাওয়া এক সাথে ঘুমাতে যাবার সময় শুভ রাত্রি বলা।
সারাটি দিন এসএমএস এ চ্যাট।
বাংলালিংক কম্পানি ৫.৭৫ টাকায় ৫০০ এসএমএস হয়ত এই সব প্রেমিক প্রেমিকার জন্যই দিছে।
আমার মনে হয় এই কম্পানির মালিক এমন প্রেম করত।
"
"
"
"১৪ফেব্রুয়ারি চন্দ্র তাকে আসতে বলল। মেঘ বলল আচ্ছা ঠিক আছে আসবে।
মেঘ তাদের বাসায় আসল কিন্তু চন্দ্র অভিমান মেঘের উপর,কেননা আসতে একটু লেট করছে তাই।
এর পর মেঘ আসল চন্দ্রের রুমে,মেঘ কে বুজাল কিন্তু মেঘ অভিমান করে আছে।
লাস্টে মেঘ হাত ধরে চন্দ্র কে বুকে জড়িয়ে ধরল।
আর এর পর আলতো করে হাত দিয়ে কপালের চুল গুলি সরিয়ে কপানে মেঘের ঠোট দিয়ে চন্দ্রের কপালে চন্দ্র একে দিল।
চন্দ্র লজ্জায় লাল।
কিন্তু কি করবে বুঝতে পারছে না।
হঠাত চন্দ্রের আম্মু যে রুমের দরজায় এসে এই গুলি দেখে ফেলছে চন্দ্র আর মেঘ কেউ বুঝেনি।
চন্দ্রের আম্মু কিছু না বলে চলে গেল।
পরে মেঘ দুই দিন পর চলে গেল।
"
"
"
" এর পর চন্দ্র স্কুল চলে যাবার পর চন্দ্র এর আম্মু মেঘের আম্মু কে ফোন দেয়। আপা তুই কি জানিস.......
সব বলে তাকে সব কথা।এর পর দুই বোন ঠিক করে কি করে তাদের সম্পর্ক শেষ করা যাবে।
মেঘ স্কুল থেকে আসার পর মেঘের আম্মু মেঘ কে ডেকে সব জানতে চায় তার সাথে চন্দ্রের রিলেশন আছে কিনা।
মেঘ সব সত্য স্বীকার করে।
মেঘের আম্মু মেঘ কে এক চর মারে।
পরে তাকে তার কসম দিয়ে বলে তুই চন্দ্রের সাথে সম্পর্ক রাখবি না আমি না বলা অব্দি।
ওদিকে চন্দ্রের আম্মু চন্দ্রকে একি কথা বলে।
মেঘকে নিয়ে মেঘের আম্মু চন্দ্রদের বাসায় যায়।
এর পর মেঘকে বলতে বলে চন্দ্র এর সাথে সম্পর্ক শেষ করতে।
মেঘ চন্দ্র কে বলে কিন্তু তার বুকের মধ্যে অনেক কষ্ট বয়ে যায়।কিন্তু মায়ের দিক তাকিয়ে কিছুই বলতে পারে না।
মেঘের কথা শুনে চন্দ্র কাঁদতে লাগে।
কিন্তু চন্দ্রও কিছু বলতে পারে মায়ের দিকে তাকিয়ে।
পরে মেঘের আম্মু বলে তোরা দুইজন তোদের বিয়ের আগে আর দেখা করতে পারবি না।
কারো সাথে কোন কথা হবে না।
এই বলে মেঘ কে নিয়ে যায়।
আর কথা হয় না চন্দ্র এর সাথে।
"
"
"
" ৭বছর পর..............
আজকে মেঘ ইঞ্জিনিয়ার। ভালো একটা জব করে।
মায়ের সাথে এত দিন পর যাচ্ছে নানু বাড়ী। মেঘ গিয়ে জানতে পারে মেঘের বিয়ের জন্যই তার মা তাকে নানু বাড়ি নিয়ে আসছে।প্রথমে মেঘ রাজি হয় না।
এতে মেঘের আম্মু অসুস্থ হয়ে পরে।
পরে মেঘ রাজি হয়।
মেঘের আম্মুর কথা থাকে তুই মেয়েকে দেখতে পারবি না।
একদম বাসর ঘরে দেখবি।
মেঘ বলে আচ্ছা আম্মু তুমি যা বল তাই হবে।
এর পর মেঘের বিয়ে হয়।
কিন্ত মেঘ জানে না কার সাথে তার বিয়ে হচ্ছে সে যে এখনো চন্দ্র কে ভালোবাসে।
তবুও মায়ের জন্য সব কিছু করা।
মেঘ বিয়ে করে।কিন্তু এখন ও দেখল না কে তার বউ হল।
"
"
"
" বাসর ঘরে মেঘ গিয়ে দেখল খুব ভাল করে সেজে একটা মেয়ে বসে আছে খাটে কিন্তু ঘোমটার কারনে দেখতে পাচ্ছে না মুখ।
মেঘ বলল দেখুন আমার আম্মুর জন্য আমি আপনাকে বিয়ে করছি কিন্তু আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি।
আমি আপনাকে কোন দিন ভালোবাসতে পারব না।
মেয়েটি বলল আপনার কথা বলা হইছে। মেঘ বলল হুম।
মেয়েটি খাট থেকে নেমে মেঘ কে সালাম করল।এবার উঠে দাড়াল আর ঘোমটা সরিয়ে বলল আমাকেও ভালোবাসা যাবে না?
মেঘ তাকিয়ে দেখল চন্দ্র তার সামনে দাঁড়ানো।
মেঘ বলল চন্দ্র তু তু..........তুমি
মানে কি হল এই সব?
পরে সারা রাত বাসর ঘরে চন্দ্রের কাছে শুনল যে চন্দ্র ও কিছুদিন আগে জানছে এই কথা কিন্তু এই ৭বছর সে ও মেঘ কে খুব মিস করত।
আর তাদের আম্মু এই গুলি ইচ্ছা করে করছে কারন তখন আমাদের আলাদা না করলে আজকে আমার বর ইঞ্জিনিয়ার হত না তাই।
লাইট অফ............রুমের।
এর পর হয়ত তাদের সাত বছরের জমানো ভালোবাসা বাসর ঘরের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
"
"
"
"(গল্প টা ভালভাবে শেষ করতে পারলাম না কেননা একবার ফুল গল্প লিখা শেষ হইছিল আজকে রাত ৮টায় কিন্তু ৩ভাগের ১ভাগ মুছে যায় তাই আবার লিখতে হয়েছে।
সত্য গল্প হুবাহু লিখা যায় কিন্তু একটা কাহিনী কল্পনা করে লিখতে গেলে আবার সেই রকম হয়না।আর এই গল্পটা এক জনের অনুরোধে লিখছি।হয়ত তার মনে অন্য রকম আমি আমার মত করে লিখলাম।সরি যদি ভালো না হয়।
আর এই গল্পের কথা গুলি মুছে যাবার পরই কষ্টে চোখে পানি চলে আসছিল।
গল্পটার পরে নিচের অংশ টুকু যদি পড়ে থাকেন তবে অনেক ধন্যবাদ।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now