বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফরহাদ সাহেব অফিসের ব্যাস্ততার জন্য আজ দেরী করে বাসায় ফিরছিল। ছাত্র জীবনে সে সৎ ও ধর্ম ভীরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় তিনি বিভিন্ন প্রলবলেমে
পরে আজ সে নিজের ভিবেকের বিষর্যন দিয়েছেন।
"
"
"
ধর্ম কর্ম দূরে থাক,নাওয়া খাওয়া ভুলেই তিনি প্রায় সময় অনেক সময় পর্যন্ত আফিস করতেন। আফিস সময়ের বাইরে তিনি অফিসে যে সময় দিতেন তাতে,সরকারী
কাজের জন্য সেবা তো দূরের কথা,শুধু মাত্র নিজে কি ভাবে বিভিন্ন কাজে অনিয়ম করে আখের গুছাবেন সেই চিন্তা ভাবনা নিয়েই তিনি ডুবে থাকতেন।
"
"
"
সে দিন অফিসে সরকারী কাজে নিজে কি ভাবে বেনিফিটেড হবেন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে করতে রাত্রি ১২টা ৩০ বেজে গেল।তার চোখে মুখে আজ খুবই তৃপ্তির
হাঁসি।কারন এতক্ষন তিনি যে কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেন তাতে তার আর্থিক সুবিধা বেশ ভালই থাকবে।
"
"
"
তিনি মফস্বল শহরে যে সরকারী অফিসে কর্মরত,সেখানে তাকে শাস্তিমুলুক ভাবেই বদলি করা হয়েছিল।
আগে তিনি পাশের বিভাগীয় আফিসেই কর্মরত ছিলেন এবং নিজ বাড়ি থেকে অফিস করতেন।কিন্তু তার সরকারী বিভিন্ন কাজে তার উর্দুতন কর্মকর্তা অসুন্তষ্ট ছিলেন
এবং তিনি বিভিন্ন অনিয়ম এর সাথে জড়িত ছিলেন।তাই কর্তিপক্ষ অনেকটা বাধ্য হয়ে তাকে পাসের পার্বত্য জেলায় শাস্তি মূলক ভাবে বদলি করলেন।
"
"
"
" কিন্তু ফরহাদ সাহেবের কর্মকান্ডে তেমন কোন পরিবর্তন আসল না।এবং তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলেন।তিনি সেখানে সরকারী বাংলোতে একাই বাস করতেন
এবং খাওয় দাওয়া অফিসেই সারতেন। তার অফিসের পিওয়ন কাম বাবুর্চি লাতু মিয়ার বাসা থেকে তার জন্য খাবার আসত।তার বসবাসের সরকারী বাংলটি কোয়াটার
কি.মি দূরে জনমানবহীন একটা যায়গায় অবস্তিত।
"
"
"
" অন্যনানো সরকারী বাংলো স্ট্যাফ কোয়াটার,বসত বাড়ী অফিসের ঠিক উল্ট দিকে। অফিসের পাশে বেশ বড় একটা মসজিদ পরে। সেটির পাশ দিয়েই ফরহাদ সাহেব
কে তার বাসায় যেতে হয়।
"
"
"
" সেদিন অফিসের কাজ সেরে মসজিদ এর পাশদিয়ে অন্ধকারের মধ্যে বাসায় ফিরবার সময় তার কানে জিকির এর আওয়াজ ভেসে আসল। হঠ্যাত করে তার মনে খটকা
লাগল। "সাধারনত এই সময় মসজিদে কেউ থাকে না।" কারন এই অফিসে সে জয়েন করেছে চার বছর আগে।কখন কাউকে এই সময় মসজিদে ইবাদত করতে দেখেনি
সে।
"
"
"
" যাই হোক কৌতুহল বশত সে উকি দিল মসজিদের ভিতরে।দেখলেন পুরো শরীরে সাদা কাপরে ঢাকা এমন একজন মানুষ জিকির করছেন। তার শরীর থেকে যেন যতি
চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে। পোশাকটি বৈদ্যুতিক নিয়ন বাতির মত জ্বলছে।
"
"
"
" মানুষ টিকে দেখেই ফরহাদ সাহেব ভয় পেলেন। এবং অবাক হয়ে তার জিকির দেখতে লাগলেন।কিন্তু কে এই ব্যাক্তি?
তাকে তো ভাল ভাবে দেখাই যাচ্ছে না।
মাঝে মাঝে জিকির এর তালে তালে তার মুখটি দেখা যাচ্ছে।
তিনি যে একজন দরবেশ বা পীর আউলিয়া তা তার আর বুঝতে বাকি রইল না।
"
"
"
" জিকিররত মানুষটা অনেক উচ্চ স্বরে জিকির করতে লাগল।আর সাথে তার শরীর টা প্রচণ্ড জোড়ে কাঁপতে লাগল।
"
"
"
"পরক্ষনে যা দেখলেন, ফরহাদ সাহেব তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
তিনি দেখলেন,জিকির কাজে শরীর কাঁপতে কাঁপতে সাত টা টুকরায় বিভক্ত হয়ে গেল।এবং সাতটা টুকরাই জিকির করতে লাগল।এটা দেখে ফরহাদ সাহেব সেখানে সাথে
সাথে জ্ঞান হারালেন।
"
"
"
"খুব ভোরে ফজরের নামাজ পরতে আসা মুসল্লিরা তাকে এই অবস্তায় পেয়ে নিকটের হাসপাতালে ভর্তি করে দিল।"
তার অফিসের সবাই তাকে দেখতে হসপিটালে গেল। হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরে এল।
"
"
"
"প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করে বাসায় ফিরলেন। বাসায় গিয়ে তিনি গত রাতে যা দেখলেন ভেবে শিউরে
উঠলেন।সাত পাচ ভাবতে ভাবতে আজ অফিস করবেন না সিদ্বান্ত নিলেন।
বলা বাহুল্য তিনি গত রাতের ঘটনা কাউকে বলেন নাই।
এদিকে তিনি অফিসে ফোন করে ২দিনের ছুটি নিয়ে নিলেন।
২দিন যেহেতু ছুটি পাওয়া গেল সেই ভরষায় কখন যে গুমিয়ে পরলেন টেরই পেলেন না। ঘুমের মধ্যে তিনি দরবেশ কে স্বপ্নে দেখলেন। দরবেশ তাকে সৎ কর্ম,ও ধর্মকর্ম
করার পরামর্শ দিয়ে জিকির করতে করতে মিলিয়ে গেলেন।
ফরহাদ সাহেবের ঘুম ভেঙে গেল।
ঘুম ভাঙার পর তিনি শুনতে পেলেন তার অফিসের পিওন লাতু মিয়া তাকে ডাকাডাকি করছে। পিওনের ডাকাডাকিতে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুললেন।
"
"
"
"লাতু মিয়া বলল, স্যার আপনার নাস্তা আর যতদিন আপনি অফিসে যাবেন না তত দিন আপনার নাস্তা আমি এখানে নিয়ে আসব,ঠিক আছে স্যার"
"
"
"
"ফরহাদ সাহেব সকালের নাস্তা শেষ করতেই লাতু মিয়া তাকে এক কাপ চা দিল। চাঁ খেয়েই ফরহাদ সাহেবের মনে চাজ্ঞা ভাবটা ফিরে এল। লাতু দুপুরে আসবে বলে
চলে গেল।
"
"
"
"সারাদিনই ফরহাদ সাহেব নিজের রুমের ভিতর ছিল।রাতে খাওয়া দাওয়ার পর বারান্দায় একটা চেয়ার টেনে বসল।
চেয়ারে বসতেই তিনি তার বাসার সামনের বাগানে বাঁশঝাড় এর মধ্যে কিছু একটা নড়াচড়া লক্ষ করলেন। নড়াচড়াটা ক্রমশ যেন বাড়তে লাগল।
কি নড়াচড়া করছে সেটা দেখার জন্য তিনি বাগানের বাঁশঝাড়ের কাছে গেলেন।
এবং তিনি দেখলেন অদ্ভুত বর্নের একটা সাপ একটা কাপড় হতে বের হচ্ছে এবং কাপড় থেকে অদ্ভুদ সুগন্ধি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। চমৎকার একটা সুগন্ধ ফরহাদ
সাহেবের নাকে আসতেই তিনি যেন কেমন অন্য মনস্ক হয়ে গেলেন।
আর সাদা কাপড়ের দিকে চোখ পরতেই গত রাত্রের জিকিরের কথা মনে পড়ে গেল।
"
"
"
" জিকিরের কথা মনে হতেই তিনি খেয়াল করলেন যে, গত রাত্রের সেই সাদা কাপরের মত আজকের কাপড়টি একি রকম এবং সেই সাদা কাপড় হতে যেমন আলো
বের হচ্ছিল এটা থেকেও তাই।
"
"
"
" অদ্ভুদ বর্নের সাপ,সাদা কাপড় এবং সুগন্ধির গন্ধে তিনি ভয় পেয়ে এক দৌড়ে নিজের রুমে ডুকলেন খুবি কাপতে লাগল।
আশেপাশে কোন মানুষজন নেই যা যাদের কে তিনি ডাকতে পারেন।
আর যেখানে মানুষ বাস করে সেখানে যে তিনি দৌড়ে যাবে সেই সাহস টুকু তার নেই।তিনি রুমের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দিলেন।এবং আজ রাত্রে কি ভাবে
গুমাবেন সেটাই চিন্তা করতে লাগলেন।
"
"
"
" না তিনি আজ গুমাবেন না এবং কালকেই তিনি এই বাসা ছেড়ে দিবেন এটাই ঠিক করলেন।ভয়ে তিনি রুমের মধ্যে ছটফট করছেন।ছটফট করতে করতে তিনি কখন
যে গুমিয়ে পরলেন টেরই পেলেন না। হঠাত করে ঘুম ভাঙল।
কেউ যেন তাকে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়েছে।খুবই ভয় করতে লাগল তার।বিছানা ছেড়ে দেয়াল ঘড়িতে লক্ষ করলেন রাত ১১টা ৩১মিনিট।
"
"
"
"ঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে নিতেই সকাল বেলার স্বপনের কথাটা তার মনে পড়ল।
স্বপনের কথা মনে হতেই তার মনে হল স্বপনে তো তিনি ভালো কিছু দেখেছেন।
দরবেশ তাকে ধর্ম-কর্ম এবং ভাল কাজের জন্য তাগাদা দিয়েছেন। তিনি মনে মনে তার ছাত্র জীবনের কথা ভাবতে ভাবতে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলেন।
ধর্ম-কর্ম তো দূরের কথা সব সময় সরকারী বিভিন্ন কাজে কি ভাবে অনিয়ম করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হবেন,নিজে কি ভাবে স্বম্পদের পাহাড় গড়বেন তাই নিয়ে তিনি
ব্যাস্ত থাকেন। অতছ ছাত্র জীবনে তিনি কত ভাল ছিলেন।
"
"
"
"কলেজ ও ভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রতিদিইন জামাতের সাথে নামাজ পরতেন।
সেই ভাবনা থেকে তিনি আবার নামাজ কালাম পড়বেন বলে মনস্তির করলেন।
এবং তিনি এখনই এশার নামাজ পরবেন বলে ঠিক করলেন।
"
"
"
"নামাজ শেষ করে তিনি রুমের বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে যাবার স্বিদ্বান্ত নিলেন।
যেই ভাবা সেই কাজ তিনি রুমের সব বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখতে লাগল তিনি,
তার বাসার বারান্দায় এক বৃদ্ধা মহিলা বসে খুবই কাঁন্নাকাঁটি করছেন,এবং বলছে আমাকে বাঁচাও আমি পানিতে খুবই কষ্ট পাচ্ছি।পানিতে আমার সমস্ত শরীর পচন ধরবে।
বৃদ্ধার কাঁন্নার সুর করুন থেকে করুন হতে লাগল।এবং সে খুব কাকুতি মিনতি করে বলছে তাকে যেন কেউ পানি থেকে উদ্ধার করে।কাকুতি মিনতি করতে করতে বৃদ্ধা
ফরহাদ সাহেবের হাতে পায়ে ধরতে লাগল।এবং তাকে জোড়ে জোড়ে ধাক্কা দিতে লাগল।স্বপ্নের মধ্যে বৃদ্ধার জোড়াজুড়িতে ফরহাদ সাহেবের ঘুম ভেঙে গেল।ধড়ফড় করে
ফরহাদ সাহেব বিছানা থেকে নেমে পরলেন এবং দেয়াল ঘড়িতে দেখকেন সময় রাত ২টা ৫৫মিনিট।
"
"
"
"মাঝরাতে আবার ফরহাদ সাহেবের ঘুম ভেঙে গেল।তার চোখ জানালার দিকে পরতেই স্থির হয়ে গেল তিনি দেখলেন,জানালার ওপাশে দরবেশ জানালা ধরে দাঁড়িয়ে
আছে। আর জোড়ে জোড়ে জানলা ধরে ঝাঁকাচ্ছে আর
"হক মাওলা হক মাওলা" বলে জিকির করছে। মাওলানা এমন ভাবে জানালা ঝাঁকাচ্ছে যে তার পুরা রুম কেঁপে উঠছে।
তিনি গত রাতে দরবেশের চেহারা দেখতে না পেলেও আজ তিনি টার চেহারা ঠিকই বুঝতে পারছে।দরবেশ উচ্চতায় প্রায় জানালার সমান অর্থাৎ ৭ফুট।মুখ ছাড়া
দরবেশের পুরা শরীর সাদা কাপুড়ে ঢাকা।
দরবেশ জোড়ে জোড়ে জিকির করতে লাগল এবং মাঝে মাঝে বলতে লাগল......
তুই কেন মানুষকে কষ্ট দিস।
ফরহাদ সাহেব ভয়ে ভয়ে বললেন..........
বাবা আমি পাপী মানুষ,আমি মানুষকে কষ্ট দিয়েছি। দরবেশ কি যেন দোয়া পরে ফরহাদ সাহেবের দিকে ফুঁ দিল।
দরবেশের ফুঁ ফরহাদ সাহেবের গায়ে
"
"
""লাগতেই তার কেমন যেন লাগতে লাগল।
কথা বলার শক্তি লোপ পেতে লাগল।
দরবেশ বিভিন্ন দোয়া-দুরুদ,জিকির করতে করতে বলতে লাগল..........
""তোর পাপ তোকেই মোচন করতে হবে,যদি তুই চাস।""
ফরহাদ সাহেব কিছু বলতে চেষ্টা করলেন কিন্তু কিছুই তার মুখ থেকে বের হল না।
দরবেশ তাকে ধমক দিলেন এবং কথা বলতে নিষেধ করলেন।তার কথা খুব মনযোগ দিয়ে শুনতে বললেন এবং তিনি বললেন...............
""আজ ফজরের নামাজের পর তুই তোর কাছের যে কবরস্থান আছে সেখানে যাবি আর তোর সকল বংশধর দের রূহের মাগফেরাত কামনা করে কবর জিয়ারত করবি।""
দরবেশ বিভন্ন দোয়া দুরুদ করতে করতে চলে গেল।
ফরহাদ সাহেব দরবেশের উপদেশ নিয়ে ভাবতে লাগলেন আর খেয়াল করলেন যে আসলেই ঠিক আর তার বাবার কবর আসলেই অনেকদিন হল জিয়ারত করা হয়না।
তিনি ঠিক করলেন আজকে রাতে বাকি সময় টুকু না ঘুমিয়ে নামাজ পরে নিকটের কোন একটা কবরস্থান এ গিয়ে কবর জিয়ারত করবেন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে বাবার
কবর জিয়ারত করবেন।
"
"
"
"ভোর বেলায় তিনি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়লেন।তার পড় তিনি কাছের একটা কবরস্থান এ জিয়ারতের জন্য গেলেন এবং কবর জিয়ারতের পর কবরস্থান এর
চারিদিকটা একটু ঘুরে দেখছেন।
ভিবিন্ন কবরের নেমপ্লেট তিনি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। হঠ্যাত করে একটা কবরে তার চোখ স্থির হয়ে গেল।তিনি দেখলেন কবরস্থান এর এক পাশে একটা কবর আছে।
সেটির পাশ দিয়ে একটি পাহাড়ি খাল বয়ে গেছে। বর্ষাকালে তীব্র পাহাড়ি ঢালের ফলে কবরের এক অংশ ভেঙে গেছে।
ফলে কবরের মধ্যে খালের পানি প্রবেশ করছে এবং কবরের ধবধবে সাদা কাপরে ঢাকা লাসটি পানিতে ভাসছে।
এবং সেই কবর থেকে অত্যান্ত সুঘ্রাণ বের হচ্ছে।ফরহাদ সাহেব চিৎকার করে অন্যান্য লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।
"
"
"
"উপস্থিত সকলেই দেখলেন,কবরে পানি ঢুকছে এবং কাফনে ঢাকা লাসটি ভাসছে।
স্থানীয় লোকজন বলল এটি একটি পুরাতন কবর প্রায় ২৪ বছর আগে একজন কে কবর দেওয়া হয়।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আর কাউকে কবর দিতে কেউ দেখেনি বা মনেও পড়ছে না কারোর।নতুন কাউকে কবর দিলেতো মাটি কাটার আলামত থাকবে।
লোকজন তাতক্ষনিক ভাবে পানিতে ভাসমান লাসটা উঠাল।
"
"
"
"লাসটি উঠানোর পর দেখা গেল লাসটি অবিকৃত অবস্থায় আছে এবং কোন প্রকার দূরগন্ধ এর পরিবর্তে অত্যান্ত সুঘ্রাণ বের হচ্ছে।
লাসের মুখটি দেখার জন্য বেকুল হয়ে গেল সবাই। এবং লাসের মুখ থেকে কাপড়টি সরিয়ে ফেলল।
ফরহাদ সাহেব যখন লাসটি দেখলেন,তখন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারলেন না।
কারন তিনি স্বপ্নে এবং রুমের দরজায় যে বৃদ্ধা কে দেখেছেন অবিকল সেই বৃদ্ধা।
কিছুক্ষনের মধ্যে ঘটনাটি পুরা শহরের মধ্যে ছড়িয়ে গেল।
"
"
"
"পরে স্থানীয় কিছু বয়স্ক লোক লাসের মুখ দেখে চিনতে পারল।
সবাই খুব উৎসুক হয়ে বয়স্ক লোক গুলির কথা শুনছিল।
এখন থেকে প্রায় ২৪বছর আগে এই কবরে তারা এক বৃদ্ধা ভিখারিনী কে কবর দেয়।
এই জগতে হয়ত ওই বৃদ্ধা এমন কোন পুন্যের কাজ করছেন তার পূরুস্কার হিসাবে মৃত্যুর এত দিন পরেও সৃষ্টিকর্তা অবিকৃত রেখেছেন।
"
"
"
"স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যাক্তির কাছে ফরহাদ সাহেব বৃদ্ধা ভিখারিনী সম্পর্কে জানতে চাইল।একজন বললেন আজ থেকে ২৪ বছর আগে বাজারে ভিক্ষা করতেন।এখন
থেকে ৪০বছর আগে তার রাজমিস্ত্রি স্বামী কন্সট্রাক্সনের কাজ করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত ৪তলা বিল্ডং থেকে পড়ে যায় এবং গুরুতর ভাবে আহত হয়ে কর্ম শক্তি সম্পুর্ন
ভাবে লোপ পায়।
আর সেই থেকে বাজারে প্রতিদিন ভিক্ষা করে তার আসুস্থ স্বামীর ভরন-পোষণ, সেবা অ চিকিৎসক করে আসছে।
"
"
"
"স্বামী মারা যাওয়ার ৪মাসের মাঝে তিনিও মারা জান।তার কোন আত্বীয়-স্বজন এবং সন্তান না থাকায় স্থানীয় মানুষ জন তাকে এই কবরে কবরস্ত করেন।
ফরহাদ সাহেব বুঝতে পারলেন আসুস্থ স্বামীর সেবা করে একজন ভিখারিনী কি ভাবে আল্লাহ্র নৈকট্যত্ব লাভ করেছেন।
পরে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে বৃদ্ধা ভিখারিনীর পুনরায় জানাজা শেষে উচু একটা যায়গায় কবর দেওয়া হয়।
"
"
"
"বৃদ্ধা কে কবর দেওয়ার পর ফরহাদ সাহেব গত দুই রাতে তার সাথে যে ঘটনা গুলি ঘটেছে তার একটা যোগসুত্র খুঁজে পান।
আর তার অতীত এর সব খারাপ কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন।
ফরহাদ সাহেবের দিনটি দেখতে দেখতেই চলে গেল।
রাতে নামাজ পরে খাবার খেয়ে ফরহাদ সাহেব ঘুমিয়ে পরলেন।
হাঠাৎ মাঝ রাতে তার ঘুম ভেঙে গেল।
তিনি শুনতে পান তার দরজার ওপাশে অত্যন্ত সুরালা কন্ঠে কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন।
তিনি কোরআন তেলাওয়াত শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরলেন।
"
"
""ফজরের আজানে আওয়াজে তার ঘুম ভাঙে তিনি মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
রুমের দরজা খুলে যেই মাত্র তিনি পা দিবেন তখন তিনি খেয়াল করলেন একটি সাদা রুমাল তার দরজার সামনে পড়ে আছে।
তার বুঝতে বাকি রইল না যে রুমাল টা দরবেশেরই। তিনি রুমাল টি তার পকেটে নিলেন এবং চিন্তা করতে লাগলেন কে এই দরবেশ?মনে হচ্ছে এই দরবেশ গায়েবী।
এই শহরের আনাচে কানাচে বিঘত চার বছর যাবত ঘুরে বেরিয়েছেন।
তার মত কোন দরবেশ কে চোখে পড়েনি কখন।নামাজ শেষে ফরহাদ সাহেব চিন্তা করতে লাগলেন একটি অশিক্ষিত,অতি গরিব ভিখারিনী তার অবস্থান থেকে যে পুন্যের
কাজ করে আল্লাহ্র অতি নৈকট্য লাভ করেছেন আর তিনি কিনা এত বিদ্যা-বুদ্ধি, একাডেমিক ডিগ্রি নিয়ে ধনী হয়েও তা পারছেন না।
"
"
"
"তিনি কি তার এই অপরাধের, পাপ কাজের ক্ষমা পাবেন?প্রচন্ড অনুশোচনা হচ্ছে ফরহাদ সাহেবের।তিনি ঠিক করলেন তিনি আর কোন অনৈতিক কাজ সজ্ঞানে করবেন
না। অনৈতিক কোন কাজ ও সহ্য করবেন না।
"
"
"
"এই ভাবেই বাকি দিন গুলি কাটতে লাগল তার।প্রায় এক বছর পর তিনি স্বপ্নে সেই দরবেশের সাক্ষাৎ পেলেন।সেদিন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে সারা শহর
বিদ্যুৎ সংজগ বন্ধ থাকে।আবার সেইদিন আমাবস্যা রাত ছিল।
স্বপ্নে ফরহাদ সাহেব দেখলেন দরবেশ জিকির করতে করতে তার জানলার সামনে এসে তাকে ঢাকছে।
দরবেশ তাকে বললেন তিনি মুলত জ্বিন।
তার নাম ফাতেহ জ্বিন। আর জ্বিনরা যে কোন সময়ে যে কোন স্থানে যে কোন বর্ণ বা চেহারা ধারন করতে পারে।অনেক জ্বিনের কবর ও আছে পৌরসভা কবরস্থানে।
প্রতি রাতে তারা স্বমিলিত ভাবে জ্বিন দের কবর জিয়ারত করে।
এক রাতে তারা দেখলেন খালের পাশে একটি কবর হঠাৎ করে ভেঙে গেছে।
"
"
"
"তারা সেই কবরস্থান এর পাশে গিয়ে দেখলেন খালের পানির কারনে কবরটি ভেঙে গেছে এবং কবরের ভিতর লাসটি পানিতে ভাসছে।
আর ওই কবর থেকে যে সুঘ্রাণ বের হচ্ছে তারা তাতে বিমোহিত হয়ে আছে।
কপবরের এই সুঘ্রাণ এর কারনে অনেক ভাল জ্বিন তখন ভাল হয়ে যায়।
এই ভাঙা কবরটি ঠিক করার জন্যই ফরহাদ সাহেব কে তিনি দেখা দিয়েছিলেন স্বপ্নে।
স্বপ্নের মধ্যে ফরহাদ সাহেব জ্বিন কে বললেন,আপনি তো এই কাজটি করতে পারতেন বাবা।
দরবেশ তাকে ধমক দিলেন আর বললেন.........
"
"
"
"তোর দেখি আল্লাহ্র সৃষ্টি নিয়ে কোন ধারনা নাই।আমরা জ্বিনেরা হলাম আগুনের সৃষ্টি। আর তোরা মাটির তৈরী।
তোদেরকে আমরা স্পর্শ করলে তোরা তো পুড়ে যাবি।
আর আল্লাহ একজন পিয়ারী বান্ধার শরীর আমরা কি ভাবে স্পর্শ করি?
তোকে আমি একটা সাদা রুমাল দিয়েছি,সেটা তোর কাছে সব সময় রাখবি।
তোর সব মুস্কিল আসান হবে।
আর হ্যা তোর মাধ্যমেই অতি সিগ্রি একজন আধম নিষ্টুর মানুষ কে আমি কঠোর শাস্তি দিতে চাই।
হক মাওলা হক মাওলা বলে জিকির করতে করতে দরবেশ চলে গেল।
এবং ফযরের আজানের আওয়াজ শুনে ফরহাদ সাহেবের ঘুম ভেঙে গেল।
"
"
"
"নোটঃ গল্পটা আমার শুনে লেখা। যদি পড়ে কেউ একটু সচেতন হয় তবেই আমার লেখার স্বার্থকত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now