বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বেতনটা বোধ হয় খুব কম ছিল অথবা হয়তো পরিবারের খরচটা একটু বেশি ছিল।যাই হোক টানাপোড়নের মাঝে কেটে যাচ্ছিল
জীবনের মুহুর্তগুলো।।
সেদিন কাজ থেকে ফিরে এসে একটু চুপচাপ হয়েই ঘরে পা রাখি। রান্নাঘরের দিকে যেতে না যেতেই কিছু একটা অনুভব করতে
লাগলাম।বুঝতে পারছিলাম কেউ কাদছে।ভেবেছিলাম বিনু ই হয়ত কাদছে।মেয়েটার লেখাপড়ার দিকে খুব জোক কিছুটা শান্ত
টাইপের।ক্লাস টেস্টে খারাপ করলেই কেদে দেয়।।
কিন্তু একটু এগিয়ে যেতে না যেতেই বুঝতে পারলাম মা কাদছে।কেন কাদছে? তা জানিনা।জানতে বা বুঝতেও চাইনি কারন
মায়ের চোখের পানি দেখার শক্তি আমার নেই।
বছর দুয়েক আগে বাবা মারা যাবার সময় মায়ের অঝোরে কান্না দেখে আমার মাথা কাজ করা বন্ধ হযে গিযেছিল।আমার অদ্ভূত
এই অবস্থার কারনে মাকে আর কখনো কাদতে দেখিনি।
মা,আমি আর বিনু আর আমার ছোটো দু ভাইবোনের এ সংসারটা যে মা কিভাবে চালাত তা জানি নাহ।সারাদিন ঢাকার কোনো
এক ছোট অগোছালো ঘরে আমাদের বন্ধি করে নিজে যেত ইট ভাঙ্গতে।
ইচ্ছা আমাদের খুব লেখাপড়া করাবে।
তা আর পুরোপুরি হয়নি আমার লেখাপড়ার খরচ টানতে টানতেই মায়ের শরীর ভেঙ্গে যেতে লাগল।তাই আমিও আর
করিনি।কাজে নেমে পড়েছি।
শুনলাম বাংলাদেশে নাকি সবার জন্য শিক্ষা কই আমাদের জন্য তো নেই।।
রাতে ঘুমোতে যাবো তখন দেখি মা আসলেন।চোখ দেখে বুঝতে পারলাম হয়ত অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু খুব শান্তভাবেই
বলল,বিনুকে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করিস বাবা।মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েই আমি চলে যাবো।
বললাম,কোথায যাবে তুমি?আর কিছুই বলল না শশব্যস্তে চলে গেল।।
বিনুর বিয়ের জন্য অনেক চেষ্টা করেই একটা সম্মোন্দ পেয়েছি কিন্তু তাদের দাবি খুব বেশি কিনা। তাই আর খোজাখুজি
করিনি।।এদিকে মায়ের শরীরটা দিনে দিনে খুব ভেঙ্গে পরতে লাগল তবুও আমাদের কিছু বলতে চায় না সে।।সেদিন আলমারি
খুলেই দেখি একগুচ্ছ কাগজ।।যতটুকু পড়তে পারলাম তাতে বুঝলাম মায়ের কোনো বড় কিছু হয়েছে।হবেই বা না কেন খাটুনি
তো কম করেনি আমাদের জন্য।।
গতকাল ম খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে।বিছানা থেকে উঠতে পযন্ত পারছে না।ডাক্তার এসে দেখল,সাথে সাথে আমি ওই কাগজগুলো
দেখালাম।
অতপর যা বলল তা শুনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না একটুও।
মায়ের ক্যান্সার হয়েছে তাও আবার ব্লাড ক্যান্সার।আমি শুধু মায়ের মায়াবি মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।আমাকে অবাক করে
দিয়ে বলল,আরে খোকা আর দুএক দিনের মধ্যেই আমি ঠিক হয়ে যাবে।সেদিন থেকে সবাই মায়ের কাছে থাকতাম।কিন্তু বুঝতে
পারিনি মা এতো বড় একটা মিথ্যে বলবে।
সেদিন রাতে একটু হেসে বলল,পারবি তো এদের দেখতে?
কোনো উত্তর দিতে পারিনি কান্নার কারনে।আমার কান্না দেখে আমাকে ডাক দিয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখল।
কেউকি বুঝতে পেরেছিল যে ওইটাই শেষ হাত ধরা!
হুম তারপর আর কাদতে পারিনি হয়ত খুব শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আর মা আমাকে ডাক দেয়নি খোকা বলে,ধরেনি আমার হাত।
মা চলে গিয়েছিল না ফেরার দেশে।।আমি শুধু অবুঝ শিশুর মত ছোট ভাইবোনকে কোলে নিয়ে মায়ের ওই মায়াবি হাসির দিকে
তাকিয়ে রইলাম।শুধু বলতে চাচ্ছিলাম বারে বার,মা তোমাকে ছেড়ে কিভাবে বেচে থাকব?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now