বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অস্তিত্বে বসবাস

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অস্তিত্বে বসবাস --------------------------- *** ইন্দিরা দাস *** আচ্ছা, ও কি আমাকে ঠিক এইভাবে মিস করে? নাহ। হয়তো করে না। পাগলকে কি কেউ মনে করে নাকি? বিছানাতে থাকা ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো সেই পুরানো গানে, " ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে......" ফোনটা কেন জানি হঠাৎ ধরতে ইচ্ছে করলো না। তন্দ্রা জানালা দিয়ে বাইরে আকাশ দেখছে। বিকেলের আকাশ এত সুন্দর হয় কেন? সেই গানটা আবার বেজে উঠলো। গানটার সাথে পরিবেশটার অবাক মিল খুজে পাচ্ছে তন্দ্রা। ফোন তুললে যে সেই পরিচিত কন্ঠস্বরটা আবার কথা বলবে। -হ্যালো -কি ব্যপার? ফোন ধরতে এত সময় লাগে নাকি? -যার ফোন করতে এতটা সময় লাগে তার ফোন ধরতে কেন সময় লাগবে না শুনি? -খুব রাগ? -নাহ। -sorry. -কেন? -এই যে দেরীতে ফোন দিলাম। তাই। -পাগলকে কেউ ফোন দেয় না। -কে বললো তুমি পাগল? -আমি জানি। সবাই তাই বলে। -ভুল জানো। -নাহ। এটাই সত্যি। -হুম। -এখনো রাগ? sorry বললাম তো..... -নাহ। রাগ করিনি। আচ্ছা মাঝে মাঝে আকাশটা এত সুন্দর লাগে কেন? -কেন? এখন বুঝি আমাকে রেখে আকাশের প্রেমে পড়লে? -কে বললো আমি তোমার প্রেমে পরেছি? -পড়ো নি? -একদম না। -তবে বোধ হয় কেবল আমিই তোমার প্রেমে পরেছি। -ইস। ঢং। -ঢং কি আবার? -আচ্ছা তুর্য্য আমি কি কখনো সুস্থ হব না? -তুমি অসুস্থ কে বললো? -আমি জানি। -একদম না। -জানো মাকে না কাদতে দেখতে আমার একদম ভাল লাগে না। মা কেন বোঝে না পাগল হলেও আমি তার মেয়ে। তাকে কাদতে দেখলে যে খুব কষ্ট হয় আমার। -এই মেয়ে নিজেকে এত পাগল পাগল বলো কেন? -কি করবো তাহলে? তুমি যে কেবল আমার কল্পনা এটা যে কিছুতেই বোঝাতে পারি না নিজেকে। অস্তিত্বহীনভাবে তুমি যে আমার পুরো অস্তিত্বে জুরে গেছো। যাকে ছুড়েও ফেলে দিতে পারছি না আর কাছেও নিতে পারছি না। -তবে? তুমি কি চাও আমি চলে যাই? -চলেই ত গেছো সেই দুই বছর আগে। কিভাবে পারলে তুমি? -আমি যাই নি তো। এখনো আছি। এই যে। -নাহ তুমি নেই। কোথাও নেই। এই পৃথিবীতে নেই। আমার অস্তিত্বে তুমি ঠাই করে নিয়েছো শুধু। জানো কতদিন রাতে ঘুমাতে পারি না? শেষ শান্তিতে ঘুমিয়েছিলাম সেই দুই বছর আগে। এখন আর হয় না। যেই রাতে হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে আর ওপাশ থেকে একটা কন্ঠস্বর আমাকে জানায় তুমি আর এই পৃথিবীতে নেই ঠিক সেই দিন থেকেই আমি নিশাচর হয়ে গেছি। খুব ভয় হয় ঘুমাতে। ঘুমালে যদি সেই ফোনটা আবার বেজে উঠে? কেন গেলে সেইদিন? কে বলেছিল এত রাতে এভাবে গাড়ি চালাতে? কি হত না গেলে? -না গেলে যে হারিয়ে গিয়ে তোমাকে পেতাম না। -আমি তোমাকে কখনো এইভাবে পেতে চাইনি। -আমি হারাতে চাইনি। বিশ্বাস কর। হারাতে বাধ্য হয়েছি। -বিশ্বাস করি না। তোমাকে আর একটুকু ও বিশ্বাস করি না।চলে যাও।সারাজীবনের জন্য। মুক্তি দাও আমায়। .............. .............. জানালা থেকে হু হু করে বাতাস ধুকছে। নির্মল বাতাস। তন্দ্রার চুলগুলি উড়ছে।। নিস্তব্দতা সারাটা ঘরজুড়ে। অন্ধকার কেবল অন্ধকার নেমে আসছে। তন্দ্রা আবার ফোনটা কানে নিয়ে বলছে। আচ্ছা তুর্য্য কেউ হারিয়ে গেলে এতো কষ্ট হয় কেন বলতো? ............. দরজার ওপাশে থাকা এক মা সেই দৃশ্য দেখে কেদে চলেছে। আচলে মুখ ধেকে কাদছে............. হঠাৎ তন্দ্রা কানে থাকা ফোনটা বেজে ওঠে, "ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে....... " উফফ। কে ফোন করেছে? কেন বোঝে না কেউ এই সময়টা শুধু তুর্য্যের।আর কাউকে চায় না সে। ফোন আসলে যে তুর্য্য অনেক অনেক দূরে চলে যায়। অজানার দেশে। তন্দ্রা চোখ বুজে ফেললো। আর আকাশ দেখতে ইচ্ছে করছে না। এখন একটু ঘুমাবে সে। অনেকদিন ঘুমায় নি সে। ফোনটা আবার বেজে উঠলো, "ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে,....... "


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now