বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নাম: আদনান
---------------------------------
*** আবিদ হোসেন জয় ***
১) লুকিয়ে ভাড়া ফাকি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে নেমে ফুটপাতে পা রাখল আদনান। গায়ে কড়া ইস্ত্রির খড়খড়ে শার্ট, জিন্স প্যান্ট আর পায়ে পালিশ করা চকচকে কালো জুতো। আদনান পকেটে হাত দিল, বাম পকেটে ভাজ করা একটা চিঠি আর ডান পকেট শূণ্য। এই নিয়ে প্রায় দশবার পকেট খুতিয়ে দেখা হয়ে গেছে। ২০টাকার নোটটা যে কোথায় উধাও হল এখনও মাথায় ধুকছে না আদনানের।বিংশ শতাব্দীর মানুষের মত আদনানের কাছে এই বিশ টাকার মূল্য অনেক। এই সামান্য টাকার জন্য তাকে করতে হয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম। আদনানের বাবা-মা অনেক বছর আগেই গত গেছেন। তার একমাত্র অভিভাবক তার চাচা। জীবন সম্পর্কিত তার চাচার দুটি উক্তি রয়েছে।
১) টাকা কোন সস্তা কাগজের টুকরো না যা চাইলেই পাওয়া যায়।
২) বই পুস্তক থেকে অর্জিত শিক্ষা দ্বারা শুধু গেয়ানের ভান্ডার বৃদ্ধি করলেই হয় না বরং তা জীবনের প্রতিমুহূর্তে প্রয়োগ করতে হয়।
আদনান প্রতিনিয়ত তার চাচার কথাগুলো অনুসরণ করে। চাচার দ্বিতীয় উক্তিটি তার অনেক পছন্দের। আদনান বেশি দূর পড়ালেখা করতে পারে নি। সে মাত্র ক্লাস সিক্স পাশ। তবুও সে তার পড়া সবচেয়ে পছন্দের সূত্রটি জীবনের প্রতি মুহূর্তে প্রয়োগ করে থাকে। প্লাস মাইনাসের সূত্র, মাইনাসে মাইনাসে প্লাস আর প্লাসে মাইনাসে মাইনাস। নিজের জীবনে এই সূত্র প্রয়োগ করতে পারলেই সে নিজেকে তার চাচার বাধ্য ভাতিজা হিসেবে আখ্যায়িত করে। তার ধারনা সে তার অর্জিত শিক্ষা তার জীবনে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।
ইতোমধ্যেই আদনান বিশ টাকার কথা ভুলে গিয়েছে। আপাতত তার টাকার প্রয়োজন নেই। একটু সামনে গিয়ে বায়ে মোড় নিলেই ২৬ নম্বর বাসা। আর সেটাই তার গন্তব্য। আদনান টাকার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিল। খালি জায়গা পেয়ে এক নতুন চিন্তা আদনানের মাথায় ভর করল। তা ইতোমধ্যেই মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। আদনান একটা নেগেটিভ কাজ করে ফেলেছে। সে বাসের ভাড়া দেয় নি। তাকে সর্বদা পজিটিভ থাকতে হবে। আর তার জন্য তাকে আরও একটি নেগেটিভ কাজ করতে হবে। এই চিন্তা আদনানের বেশ পরিচিত এবং খুব পছন্দনীয়।
আদনান তার গন্তব্যে পৌছে গেছে। সে এখন আফসার সাহেবের বাসার ড্রইংরুমে। ড্রইংরুমটা বেশ সুন্দর। নানান শৌখিন উপকরন দিয়ে সাজানো। দেয়ালে দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে বিভিন্ন শিল্পকর্ম।উত্তর দিকের শোকেসটা বাহারী সব শোপিস দিয়ে সজানো। আদনান চারদিক মনযোগ দিয়ে দেখছে। আদনান হাতের ঘড়ির দিকে তাকাতেই তার মনে হল সে বিশ মিনিট ধরে এখানে অপেক্ষা করছে। অথচ কেউ এখনো আসেনি। হঠাৎ তার মনে হল সূত্রের খেলাটা এখনই খেলতে হবে। আর একটা নেগেটিভ কাজ করতে হবে যার ফলস্বরুপ পাওয়া যাবে প্লাস। সে উত্তর দিকের শোকেসটার দিকে দৃষ্টি দিল। একটা ছোট কাঁচের শোপিস ডান হাতে নিল। খানিকটা সময় শোপিসটা খুতিয়ে দেখে হঠাৎ হাত থেকে ছেড়ে দিল। মাটিতে পড়তেই ঝন ঝন শব্দে ভেঙ্গে গেল শোপিসটি।
আর বেশি সময় আদনানকে অপেক্ষা করতে হল না, একজন লোক তাৎক্ষনিক রুমে প্রবেশ করল। আদনান ভুরু কুচকানো চোখে তাকালো লোকটির দিকে। লোকটির গায়ে লুঙ্গি আর ফতুয়া, প্রকান্ড মুখে চামড়ার ভাজ আর কপালে কাটা দাগ, ভালই বয়স লোকটার তা বোঝা যাচ্ছে। খানিকটা তীক্ষ্ন স্বরে বলল, " কি করলেন আপনি এইডা?? এত সুন্দর জিনিসটা ভাইঙ্গা লাইলেন??" আদনান কে কোন উত্তর দিতে হল না, আদনান আফসার সাহেবের উপস্থিতি তের পেল। আদনানের মনে খানিকটা আনন্দ কাজ করছে, তার সূত্র সূত্র খেলা কাজে লেগেছে। মাইনাসে মাইনাসে প্লাস। আফসার সাহেবের উপস্থিতি আর সেই সাথে আদনানের অপেক্ষার অবসান প্লাস হিসেবে ধরা যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now