বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেঘের কারাগার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মেঘের কারাগার আমি আর ফারিহা বেশ ভালো বন্ধুই বলা যায়, কেউ কাউকে ছেড়ে কোথায় যাই না। সেই যাই হোক ক্লাস করা আড্ডা দেয়া সাথে সাথে ঘুরতে যাওয়া বেশ ভালোই যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান গুলোতে একসাথে যাওয়া, পাশাপাশি বসে পরস্পরের দিকে আড় চোখে তাকানো একটা নিত্য রুটিন হয়ে গেছে। ক্যাম্পাসের সকলে মনে করতো আমরা কাপল কিন্তু এসব কেউ গায়ে মাখতাম না, এভাবেই দিন চলছে আমিও যে এরই সাথে ওর উপর নির্ভরিত হয়ে পড়েছি এটা অস্বীকার করবো না, সেই যাই হোক পাত্তা দিই নাই। ক্যাম্পাসে একটা অনুষ্ঠানে এক সাথেই গেলাম কিছুটা ফাকা দেখে বসে পড়ালাম একসাথে হঠাৎ করে ওকে দেখলাম সামনে তাকিয়ে বিড়বিড় করতে পাত্তা দিলাম না। ফারিহা : বায়োলজির ভাইয়াটা দেখছি....... আমি : কি বলতেছিস এসব কিছুই বুঝি নাই। আমার পাশ থেকে সে উঠে আমার পাস থেকে উঠে একসিট বাদ দিয়া খালি জায়গায় গেলো আমি : কিরে আমার পাশে ওইখানে কি? আয়... আমার কথায় ওর কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই, অবশেষে কথিত ভাই আসিয়া উনার পাশের ফাকা সিটে বসে দুইজনে গল্প জুড়ে দিলো আমার দিকে ফারিহার কনো মনোযোগ নেই কিছু না বলে উঠে চলে আসার সময় বন্ধু মিশন হাতটা খপ করে ধরে ফেলে তার পাশে বসিয়ে আমার চেহারাতে ভূমি জরিপ চালাচ্ছে মিশন : কিরে লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছিস? আমি : নাহ! এমনিতে শরীরটা খারাপ লাগছে তাই........ আর কিছু বলার সময় দিলাম না সোজা চলে আসলাম রুমে, কল করলাম সিনিয়র গোলাম মাওলা ভাইকে, মেস চেঞ্জ করবো ফারিহা যেনো আমার নাগাল না পায় আর গোলাম মাওলা ভাইকে ভয়েও জিজ্ঞাস করার সাহস পাবে না আমি কোথায় থাকি অন্যরা জানবেই না। ভাইকে বলার পর সব ম্যানেজ করে বিকালেই মেস চেঞ্জ করে ফেললাম আর ৭ দিন ধরে ক্লাসেও যাই না মোবাইল অফ। মাওলা ভাই পড়া বোঝাই দিতেন উনি ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট এর ৩ বর্ষে ফার্স্ট বয় সুতরাং সুবিধাও হতো শেষে দেখলাম ২০ দিন হয়ে গেলো চুল দাড়িতে আমি একাকার। চুল দাড়ি সমেত গেলাম ক্যাম্পাসে অনেকে দেখে চিনতে পারে নাই দেখে ভালোই লাগলো। মিশনে ঠিকই চিনে ফেলসে জড়িয়ে ধরে কেদেই দিলো বললাম চুপ থাক কাউকে কিছু বলার দরকার নাই। ক্লাস করতাম পিছনে কোনায় বসে ফারিহাকেও দেখতাম লুকিয়ে বেশ আনন্দেই আছে। শুনলাম সেই বায়োলজির ভাইয়ার সাথে বেশ দহরমমহরম শুনে খুশি প্রকাশ করলাম কিন্তু বুকে ব্যাথাটাও অনুভব করলাম পরীক্ষা আসলো পরীক্ষা দিলাম বেশ লুকিয়ে লুকিয়ে কঠোর অধ্যবসায় করে ১ম হইলাম ফারিহা নাকি অবাক সে বিশ্বাসই করতে পারছে না আমি কখন পরীক্ষা দিলাম কখন কি করলাম। মিশন একদিন ওকে সব বলে দিলো ও নাকি মাথা নামিয়ে শুনলো হা না কিছুই বলছে না। তার প্রায় ১ সপ্তাহ জ্বরে শয্যাগত হইলাম মাওলা ভাই ক্লাস বাদ দিয়া আমাকে সেবায় ব্যাস্ত আসলে কিছু কিছু মানুষ জীবনে আসে যারা ভাইয়ের মতোই হয়। সুস্থ হয়ে মিশন আর ভাই মিলে চা খাচ্ছিলাম হঠাৎ করেই ফারিহা এসে আমার পাশে বসে পড়লো আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলাম না, মাঝে মাঝে কাছের মানুষের অবহেলাগুলো অপমানের চাইতেও তীব্র হয়। ফারিহা : তুই কই ছিলি এতো দিন? মোবাইল বন্ধ কেনো? মেসে নাকি থাকিস না কোথায় থাকিস? আমি : কোনটারই উত্তর জানি না। ফারিহা : এমন কেনো করছিস? অনুষ্ঠানে একা রেখে কই গেলি? আমি : আমিই একা ছিলাম তাই চলে এলাম সেখান থেকে, তুই তোর গেস্টের সাথেই ছিলি। আমি আসি.... বলেই দ্রুত চলে আসলাম, ভাই রুমে আসলো প্রায় ১ ঘন্টা পর এসেই হাক ছাড়লো মাওলা : ভালোবাসি বলে দিলেই পারিস..... আমি : কে কাকে ভালো বাসে? দূর ভাই.... বাদ দিন। বেশিকিছুই বললো না আর, ইদানিং ফারিহা কাছে আসার চেস্টা করে কিন্তু দূরে সরিয়ে দিই দরকার নাই আবার অবহেলিত হওয়ার, ভালোবাসাগুলো নিরবে থাক প্রকাশ করে বিদ্রুপ হওয়ার পাত্র হবার ইচ্ছে নাই। ক্যাম্পাসে ওদের দুজনকেই মাঝে মাঝে দেখি আমি: বেশ মানিয়েছে ওদের মিশন : আর কতো লুকিয়ে থাকবি? আমি : যতদিন পারি ততদিন এভাবেই কেটে গেলো রেজেল্ট দিলো প্রথম হলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করলাম আর কনোদিকে মাথা ঘামাই নাই শুধু ছাত্রছাত্রী আর গবেষণা কাজ নিয়ে ব্যাস্ত বাবা মা বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগলো কিন্তু আমার রাগ আর জিদ দেখে চুপসে গেলো। একদিন পুরোনো কিছু জায়গায় যেতে ইচ্ছে করলো যেখানে ফারিহার সাথে যেতাম সময় কাটাতাম আবেশ গুলো এখনো তাজা হাত ধরে হাটা, চুল টেনে দেয়া, কিংবা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া। শুনলাম ওর বিয়ে হয়ে ঠিক হইসে ওই ভাইটার সাথেই খুশি হলাম, ও নিজেই দাওয়াত দিয়েছিলো কারড দিতে চাইলে মানা করলাম। ফারিহা : কিছু বলবে আর? আমি : হুম! ভালো থেকো, ওকে দেখে রেখো ফারিহা : আরো কিছু বলার ছিলো মনে হয়? আমি : সময়ের কথা অসময়ে বললে কনো লাভ নেই। ফারিহা : মিশন সব বলেছে আমায়...... আমি : আমি কিছুই বলিনি আর বলবো না, নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে ঘর করবে এটাই কামনা করতাম যার কারনে সার্থপরের মতো ভালোবাসা দাবী করি নাই। ফারিহা : নতুন করে জীবন শুরু করো আমি : দরকার নেই বাঁচার মতো সম্বল আমার আছে। হাত ধরে হাটা, কাধে মাথা রেখে কেউ একজন ঘুমিয়ে যেতো, চুল টেনে দিতো, আবার দিনশেষে অবহেলা করতো। আর কি লাগে বেচে থাকার জন্য। ফারিহা : ............ আমি : যাও বাসায় যাও বিয়ের আগে সাবধানে থাকতে হয় বাহিরে থাকা ভালো না। ফারিহা : আসবে না.......??? আমি : নুনের ছিটা নিতে চাই না ভালো থেকো। জীবনে একজন ছিলো আর কেউ না আসি। হনহন করে চলে আসা আর পিছু ফিরে তাকালাম না। আকাশের দিকে চেয়ে আছি মেঘের খেলা দেখছি, স্বপ্নদের ছোটাছুটি , যেনো জীবনের ব্যাস্ততাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের জীবনের স্বপ্ন গুলো মেঘের মতো আপন মনে ছুটে যায় কিন্তু একসময় বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে, ছেড়ে যেতে পারে না এ পৃথিবী যেনো এরা মেঘের কারাগারে বন্দী। -লেখক - Mohammad Sajjad Ibn Rashid


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now