বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিঝুম:-এই ভাইয়া ওঠ।আর কথ ঘুমাবি?ক টা বাজে খেয়াল আছে তোর?ভার্সিটিতে কখন যাবি?
আমি:-আরে যা তো তুই এখান থেকে।আরেকটু ঘুমাতে দে।এখনো সকাল হওয়ার অনেক সময় বাকী।যা বিরক্ত করিস না।
নিঝুম:-আচ্ছা যাইতাছি, কিছুক্ষণ পর কিছু ঘটলে আমি নাই।
আমি:-আরে যা তো।
কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম মাতার উপর কে যেন পানি ড়েলে দিছে।
লাপ দিয়ে ওঠে বললাম...
আমি:-শালার বিড়াল হিসু করার আর টাইম পাইলিনা না?!
সামিরা:-কি???আমি বিড়াল? (রাগি কন্ঠে)
আমি:-আরে তুমি!!?(অভাক হয়ে)তুমি কখন আসলা?আর আমি তোমাকে বলিনি বিড়াল কে বলেছি।
সামিরা :-তুমি আমাকে বল নাই না!এই পাকা দালানে বিড়াল কোথথেকে আসল শুনি?(রাগি মৌড়ে)
আমি:-ঔ হ্যা তাই তো!
ওই দিকে নিঝুম আমার এই আমতা আমতা ভাব দেখে হাসছে।ইচ্ছে করতেছে গিয়া ওরে একটা কিল বসাইয়া দিই।আমারে একবার ও বলল না যে সামিরা এসেছে।ঐ যে বাঁশ দেয়ার জন্য বলেনাই হারামী টা।
ওর দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলাম।আর এদিকে সামিরা আমার দিকে ইয়া বড় বড় চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে।
সামিরা :-এই যে তুমি আমার দিকে তাকাও, ওকে আমি নিষেধ করছি।আর আমি ওরে পাঠাইছি তোমাকে ড়েকে দেওয়ার জন্য।
আমি:-ইয়ে মানে....
সামিরা :-হয়ছে হয়ছে আর এত আমতা আমতা করতে হবে না। এখন যাও ওয়াস রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাও।আর তাড়াতাড়ি নিচে আস এক সাথে ব্রেকফাস্ট করব।
আমি:-তুমি ব্রেকফাস্ট করবা??(অভাক হয়)
সামিরা :-হ্যা কেন কোন সমস্যা??
আমি :-আরে না।
সামিরা :-তাইলে যাও।
আমি:-হুম।
এই বলে ওরা দুজন ই নিচে চলে গেল।
আমি সকালে তেমন ভারি কিছু খায়না। অবশ্য এর জন্য প্রতিদিন আম্মুর বকুনি খেতে হয়।আজ নিশ্চই নিঝুম হারামীটা আমারে স্বসানোর জন্য সামিরাকে ফোন করে নিয়ে আসছে।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম।সামিরা মনে হয় ওয়াস রুমে। নিঝুম একা পাইছি ধরলাম চুলে।এবার কই যাবি।এইটা বলতেই সামিরা হাজির।নিঝুমকে কানে কানে বললাম কাজটা তুই ভাল করিসনি,
নিঝুম:-কোন কাজটা?
আমি :-এই যে বাঁশ দিচ্ছিস। মনে হয় বাগানে তো একটা ও বাকী রাখলি না।
সামিরা :-এই পিশ পিশ করে কি বলা হচ্ছে শুনি হুম?
আমি :-কই কিছু না তো।
সামিরা :-আচ্ছা বস খাওয়া শুরু কর।
ওমা এই কি আমার সামনে দেখি কলা পাওরুটি, জেলি। আরো অনেক.....মনে হয় পুরো খাবার গুলো আমাকেই খেতে হবে।ইস কি ছিপায় পরলামরে বাবা।
আমি:-সামিরা আসলে আমি না! আমি সকালে তেমন কিছুই খায়না।
সামিরা :-তো?(রাগি চোখে)
আমি:-সো আমি এত সব খেতে পারবো না(ভয়ে ভয়ে)
নিঝুম:-খা ভাইয়া খা, ছিপায় পরলে অসম্ভব কে সম্ভব করা যায়।
আমি:-ঐ তুই চুপ কর। জাস্ট সর এখান থেকে।
সঙ্গে সঙ্গে নিঝুম কেমন যেন মুখটা কালো করে ফেলল, আর দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল।
সামিরা :-এই তুমি ওকে এভাবে বকলে কেন?থাক তোমাকে আর খেতে হবেনা আমি যাচ্ছি তুমি তাক(রাগি ভাবে)
এই বলে গজ গজ করে সামিরা বাইরে চলে গেল।
আমি:-আরে আরে এ কি মাইনকার ছিপাই পরলাম রে বাবা।
আর কিছু না ভেবে চলে গেলাম নিঝুমের রুমে। দেখছি পাগলিটা ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদছে। ইস আমি মনে হয় বেশিই বকে ফেললাম।
আমি:-সরি।
সাড়া নেই।
কাছে গিয়ে পাগলিটার সমনে গিয়ে বললাম আরে সরি বলছি তো।
নিঝুম :-সরি বললে হবে না।(কাঁদো কাঁদো কন্ঠে)
আমি:-তো কি করতে হবে শুনি।
নিঝুম:-আজ আইসক্রিম একটার জায়গায় দুটা আনতে হবে।
আমি:-ও কে বাবা, আনব এবার তো একটু হাস।
নিঝুম:-হা হা হা।
আমি :- চল এবার এক সাথে খাব।
নিঝুম:-দাঁড়া আপুকে ড়াকি।
আমি:-ও তো চলে গেছে।
নিঝুম :-না যায়নি, আমি আপুকে বাইরে থাকতে বলছি।হা হা হা
আমি:-তুই না!একটা আসলেই পাগল।আচ্ছা চল।
নিঝুম:-হুম চল।
নিচে গিয়ে দেখি সামিরা অপেক্ষা করছে।
আমাদের এই ঝগড়া আর তামাসা দেখে আম্মু হাসতেছে।
বাই দ্যা ওয়ে আমি শরীফুল, নিঝুম আমার আদরের ছোট বোন।আর সামিরা নিঝুমের আদরের ভাবি, ইয়ে মানে....কি করে যে বলি,আরে বুঝেননা কেন আমার ভবিষ্যৎ , আর বলতে পারবো না। না বুঝলে মুড়ি খান।
আমি নিঝুমকে আদর করে আনিকা বলেই ড়াকি।আনিকা আর সামিরার একদম গলায় গলায় ভাব।ওদের এ মিল দেখে আমার খুব ভাল লাগে। আর সবচাইতে বড় ভাল লাগে
আমি আনিকাকে যতটা না ভালবাসি তার চাইতে সামিরা ওকে বেশি ভালবাসে।যখনি সামিরাকে নিয়ে কোন শপিং এ যায় আগে ও আনিকার জন্যই শপিং করবে। আর আমাকে বলবে এই দেখতো এইটা নিঝুমকে খুব ভাল মানাবে তাই না?এক কথায় আমার চাইতে আনিকাকে মানে নিঝুমকে সামিরা বেশি কেয়ার করে।
আমার পাগলি বোনটার প্রতিদিন একটা চাওয়া তাকে আর সেটা হল আইসক্রিম।
বড় হয়েছে কিন্তু এখনো ছোটবেলার অভ্যাসটা রয়ে গেছে।আমি ও প্রতিদিন ওর জন্য টাকা না থাকলেও ধার করে হলেও আইসক্রিম আনি।আর এতেই ও খুব খুসি।
নিজে টিউশনি করি নিজের খরচ নিজেই করি।বাবা একজন শিক্ষক বেতন যা পায় তা দিয়ে খুবভালই চলে আমাদের ছোট সংসারটি।এখন নিজে বড় হয়েছি বাবার কাছ থেকে টাকা চাইতেও কেমন যেন লজ্জা লাগে।
আজ আমার কলিজার ঠুকরা বোনটাকে দেখতে একটা ভাল সম্মন্ধ এসেছে। আমার বোনটা আমাকে ছেড়ে অন্য অচেনা বাড়ীতে চলে যাবে।এইটা ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছিড়ে যাচ্ছে।কেমন যেন খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।তাই নিজের রুমে লাইট অফ করে বসে বসে ভাবছি কখন যে আমার পাগলিটা বড় হয়ে গেল ভাবতেও পারিনি।
এইসব ভাবছি আর নিজের অজান্তেই চোখের জল ফেলছি।আজ আমার পাগলিটা ও আমার রুমে একবারের জন্য ও আসেনি।হয়ত ও অ এইসব ভেবে কষ্ট পাচ্ছে।এর ভেতর সামিরা অনেকবার কল দিয়েছিল কল রিসিভ করিনি। ভাল লাগছে না তাই।অবশেষে ফোনে না পেয়ে সোজা বাড়ীতে চলে এল।
আমার রুমের বাইরে থেকে কে যেন নক করতেছে দরজাটা খুললাম।দেখি সামিরা।
সামিরা :-এই তোমাকে কতবার কল করছি? রিসিভ করনাই কেন?
আমি:-এমনি, ভাল লাগছিল না তাই।
সামিরা :-কেন ভাল লাগছে না শুনি??
আমি:-এমনি।
সামিরা :-আমি বুঝেছি, বোনের জন্য মন খারাপ না?আরে দেখতেই তো আসছে বিয়ে তো আর এখন হচ্ছে না।আর নিঝুম তো বড় হয়েছে তাই না, সম্মন্ধ তো আসবেই!এতে মন খারাপের কিছু নেই।
আমি সামিরার কাদে মাতা রেখে কিছুক্ষণ চোখের জল রাশি ফেললাম, আর বললাম কে আমাকে প্রতিদিন ঘুম থেকে ড়েকে তুলবে?কে আমার কাছে আইসক্রিমের বাইনা ধরবে।কে আমাকে বই খাতা গুছিয়ে দিয়ে বলবে যা ভার্সিটিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।........
আজ আমার পাগলিটার বিয়ে।আমি ওর একমাত্র ভাই ওর বিয়েতে আমার অনেক দ্বায়িত্ব, তবে কেন যেন কোন কাজ ই আমার হাত দিয়ে আসছে না।আমি কেমন জানি পাগল হয়ে গেছি। পাগলের মত কি যেন খুঁজতেছি।কিন্তু পাচ্ছি না।
আজ সামিরাকে ও অর্স্পির পরির মত লাগছে। কিন্তু কেন যেন ওর প্রতি তেমন একটা ভুক্ষেপ করছি না। ও সেটা খেয়াল করেছে।
আমি নিজের রুমে বসে আছি। হঠাৎ দেখলাম সামিরা আমার রুমে।
সামিরা:-তোমার কি হল? আজ তোমার বোনের বিয়ে, কোথায় কাজ করবে তা না রুমে এসে বসে আছ।
আমি:-যাও তো ভাল লাগছে না।
সামিরা:-তোমাকে না নিয়ে যাব না।আচ্ছা তোমার বোনের সুখ ই তো তোমার সুখ তাই না!?
আমি:-হুম।
সামিরা :-তো মন খারাপ করার কি আছে?দেখবে ও খুব সুখি হবে।
আমি:-তুমি কি করে জানলে যে ও সুখি হবে।
সামিরা :-কারন নিঝুমের সাথে যার বিয়ে হচ্ছে তাকে সে ভালবাসে। আর ও অ নিঝুমকে খুব ভালবাসে।
আমি:-আচ্ছা তাই না কি?কই আমাকে তো একবার ও বলেনাই।
সামিরা:-তুমি ওর বড় ভাই, তাই হয়ত লজ্জায় বলে নাই।আমি ওর থেকে সব শুনে
নিঝুমকে আর ওর বরকে একটা রেস্টুরেন্টে আসতে বলি।ছেলেটাকে আমার দেখতে শুনতে ভাললেগেছে।তাই ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলে তোমাদের বাড়ীতে আমি সম্মন্ধ পাঠায়।ব্যাস হয়ে গেল সব কিছু।
আমি:-আচ্ছা তলে তলে এত কিছু যাচ্ছে অথচ আমি জানিনা।
সামিরা :-জানলে কি আর সারপ্রাইজ হত??
আমি:-হুম,বুঝলাম।তো আমাদেরটা কখন পাঠাবে শুনি?
সামিরা :-কি???আমি পাঠাবো যে? না তুমি পাঠাবে যে?
আমি:-ঔ আচ্ছা তাই তো!হি হি হি।
সামিরা :-হি হি হি, আচ্ছা নিচে চল সবাই ওয়েট করছে।
আমি :-হুম চল।
এবার বিদায়ের পালা...
পাগলিটাকে বিদায় দিতে গিয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।আমার পাগলিটা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।আমিও।
ওর বরকে বললাম ভাই তোমার কাছে আমার একটাই রিকুয়েস্ট তুমি আমার এই পাগলি বোনটাকে প্রতিদিন একটা করে আইসক্রিম কিনে দিবা।
আচ্ছা ভাইয়া।
পাগলিটাকে বিদায় দিয়ে রুমে বসে বসে কাঁদছি।আর ভাবিছি ওর সাথে দুষ্টু-মিষ্টু ঝগড়া গুলোর কথা। এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম নিজেও জানিনা।
সকালবেলা পাগলিটা আবার শুরু করছে....
নিঝুম:-এই ভাইয়া ওঠ।ওঠ বলছি বেলা ক টা বাজে খেয়াল আছে তোর?
আমি লাপ দিয়ে ওঠে....
আমি:-নিঝুম তুই!?(অভাক হয়ে)তুই কখন আসলি।তুই ঠিক আছিস তো। আমি স্বপ্নে দেখছি না তো?
নিঝুম:-হুম ভাইয়া আমি একদম ঠিক আছি।আর স্বপ্নে না বাস্তবে।জানিস ভাইয়া কাল ওখানে যাওয়ার পর থেকে তোকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।তাই আমি সবাইকে বুঝিয়ে তোকে দেখতে এই সকাল সকাল চলে এলাম।আর আমাকে কে এনেছে জানিস?
আমি:-কে?
নিঝুম:-আঙ্গুল দিয়ে ইসারা করে দেখিয়ে বলল, সামিরা আপু।
আচ্ছা তোরা কথা বল আমি আম্মু কে গিয়ে চমকিয়ে দেই।
আমি:-ধন্যবাদ।
সামিরা :-হয়ছে হয়ছে আর ড়ং করতে হবে না।যাও তাড়াতাড়ি ফ্রেস হও ব্রেকফাস্ট একসাথেই করব।নইলে আবার মাতায় পানি ড়ালব।
আমি:-ওরে বাবা ঠান্ড়া বেশি। পানি ড়ালতে হবেনা যাইতাছি।
সামিরা :-হি হি হি,যাও এবার।
আমি সামিরার কপালে আলতো করে একটা চুমু এঁকে দিই।
সামিরা লজ্জাপেয়ে বলল যাহঃ দুষ্টু।হি হি হি।
**********সমাপ্ত***********& কাল্পনিক ****
বেছে তাকুক আমাদের ভাই বোনের অটুট বন্ধন,আর মিষ্টি মধূর ভালবাসা।
উৎসর্গ:-আমার ছোট বোন নিঝুমের জন্য।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now